রাজমনি পিরামিড এবং বাংলার তাজমহল ভ্রমণ (২য় পর্ব)
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা ,আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে রাজমনি পিরামিড এবং বাংলার তাজমহল ভ্রমণের ২য় পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছি। আগের পর্বে আপনারা পড়েছিলেন যে,আমরা ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চের ফটোগ্রাফি করে, রাজমনি প্রোডাকশন এর শুটিং স্পট দর্শন করতে গিয়েছিলাম। প্রথমে ঢুকেই আমরা দেখতে পাই জায়গাগুলো বেশ সুন্দর। যেদিকে তাকাই সেদিকে শুধু বিভিন্ন রংয়ের সমারোহ। শুটিং করার জন্য দেয়ালে খুব সুন্দর সুন্দর পেইন্টিং ও ডিজাইন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যানার লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল
রাজবাড়ীর লক্ষী বউ,কালো মেয়ে,পূজার পর বিয়ে এই ধরনের ব্যানারগুলো।
চারিদিকে রঙ বেরঙের পেইন্টিং দেখে চোখ দুটি একেবারে জুড়িয়ে গিয়েছিল। যাইহোক আমি কয়েকটি ফটোগ্রাফি করেছিলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। তারপর আমরা চলে গেলাম বেহুলার বাসর ঘর দেখতে। সেখানে গিয়ে প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করলাম। তাই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম সেখানে। ভিড় কিছুটা কমে যাওয়ার পর, আমরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বেহুলার বাসর ঘর দর্শন করলাম। ভেতরে প্রবেশ করা নিষেধ ছিল, তাই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ফটোগ্রাফি করে নিলাম। কিছুক্ষণ গভীরভাবে তাকিয়ে খেয়াল করলাম, খুব নিখুঁতভাবে বেহুলার বাসর ঘর তৈরি করা হয়েছে।
অল্প একটু সামনে যেতেই দেখলাম যে রাজমনি সিনেমা হলের প্রবেশ গেইট। আমরা সিনেমা হলের ভিতরে প্রবেশ করলাম। দেখলাম যে ভিতরে বসে অনেকে বাংলা ছায়াছবি দেখছে। একজনের কাছে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম যে, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে বাংলা ছায়াছবি প্রদর্শনী করা হয় সেখানে। যাইহোক আমরা সিনেমা হলে না বসে,দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অল্প কিছুক্ষণ ছায়াছবিটা দেখে, তারপর সেখান থেকে বের হয়ে গেলাম। এরপর আরও কিছুক্ষণ রাজমনি পিরামিডের ভিতরে ঘুরাঘুরি করে, আমরা বের হয়ে গেলাম বাংলার তাজমহল দেখার উদ্দেশ্যে।
অনেকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার ফলে হালকা ক্ষুধা পেয়েছিল। তাই আমরা একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে বসে হালকা খাওয়া দাওয়া করে তাজমহলের উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করলাম। ৫ মিনিট হাঁটার পর আমরা বাংলার তাজমহলের গেইটের সামনে পৌঁছে গেলাম। গেইটের সামনে গিয়ে আমি আশেপাশের ফটোগ্রাফি করলাম। যেহেতু তাজমহলের প্রবেশ টিকেট আগে থেকেই আমাদের কাছে ছিল, সেজন্য আমরা সরাসরি তাজমহলের ভিতরে প্রবেশ করলাম। গেইটের ভিতরে ঢুকার পর আমি দুটি ফটোগ্রাফি করে নিলাম এবং তারপর আমরা সামনের দিকে যেতে লাগলাম বাংলার তাজমহল দর্শনের উদ্দেশ্যে। তবে আজকে আর নয়। সেগুলো পড়ার জন্য আপনাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে পরের পর্ব পর্যন্ত।
পোস্টের বিবরণ
| ক্যাটাগরি | ভ্রমণ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy Note 20 Ultra 5g |
| তারিখ | ৩.৩.২০২৩ |
| লোকেশন | w3w |
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের কাছে পোস্টটি কেমন লাগলো, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাল্লাহ দেখা হবে পরের পর্বে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার পরিচয়
🥀🌹আমি মহিন আহমেদ। আমি ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলায় বসবাস করি এবং আমি বিবাহিত। আমি দক্ষিণ কোরিয়াতে দীর্ঘদিন ছিলাম এবং বর্তমানে বাংলাদেশে রেন্ট-এ- কার ব্যবসায় নিয়োজিত আছি। আমি ভ্রমণ করতে খুব পছন্দ করি। তাছাড়া ফটোগ্রাফি এবং আর্ট করতেও ভীষণ পছন্দ করি। আমি স্টিমিটকে খুব ভালোবাসি এবং লাইফটাইম স্টিমিটে কাজ করতে চাই। সর্বোপরি আমি সবসময় আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে ইচ্ছুক।🥀🌹
যদিও আগের পর্ব পড়া হয়নি, তাই লোকেশনটা খুব বেশি বুঝতে পারিনি।তাজমহল বলতে কি সোনারগাঁও তাজমহল নাকি?।যায় হোক রং বেরঙের ছবি দেখতে বেশ ভালোই লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে
জি আপু সোনারগাঁও তাজমহল। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
তাজমহলের জায়গাটা অনেক সুন্দর। ছবিগুলো দেখতে অসাধারণ লাগছে। আসলে বেহুলার বাসর ঘর ও তাজমহল বেশ ভালোই দর্শন করেছেন। পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
জি আপু জায়গাটা আসলেই খুব সুন্দর। পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই পাবেন ইনশাল্লাহ। প্রশংসনীয় মন্তব্যের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
এখনো পর্যন্ত তাজমহল যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু আপনার মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি এটাই ভালো লাগলো। বিশেষ করে বেহুলার বাসর ঘর এমনকি তাজমহলের পুরো জায়গাটা কিন্তু খুবই সুন্দর। আর আপনার ফটোগ্রাফি গুলো কিন্তু বেশ সুন্দর হয়েছে। বেশ ভালই উপভোগ করেছেন দেখছি। এ ধরনের জায়গাগুলো ঘুরতে ভীষণ ভালোই লাগে।
জি আপু এ ধরনের জায়গা গুলো ঘুরতে আসলেই ভীষণ ভালো লাগে। সবমিলিয়ে বেশ ভালোই উপভোগ করেছি। সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে সাপোর্ট করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।
রাজমনি পিরামিড এবং বাংলার তাজমহল ভ্রমণ এর প্রথম পর্ব আমি পড়েছিলাম তাই আজকে দ্বিতীয় পর্ব পড়ে আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। প্রথম পর্বে অনেক রকমের সৌন্দর্যতা দেখেছি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। আজকে দ্বিতীয় পর্বে তো দেখছি আরো অসম্ভব সুন্দর কিছু দৃশ্য দেখলাম। বেহুলার বাসর ঘর এর সৌন্দর্যতা দেখে তো আমি একেবারে মুগ্ধ।
আপনি দুটি পর্ব ই পড়েছেন, জেনে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। এতো সুন্দর প্রশংসনীয় মন্তব্যের মাধ্যমে, আমাকে উৎসাহিত করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন সবসময়।
আপনার রাজমনি পিরামিড এবং বাংলার দ্বিতীয় তাজমহল ভ্রমণ আপনার স্ত্রীকে নিয়ে প্রথম পর্ব পড়েছিলাম।দ্বিতীয় পর্ব টিও আমার ভালো লেগেছে।এখানে আবার বাংলা ছায়াছবি ও প্রদর্শন হয় প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে।বাঙ্গালার ঐতিহ্য নিয়েই বাংলার দ্বিতীয় তাজমহলটি ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্ব দুটো আপনি পড়েছেন,জেনে খুব খুশি হলাম আপু। আশা করি সবসময় এভাবেই সাপোর্ট করে যাবেন সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।