আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে সরিষা ক্ষেতে ঘুরাঘুরি
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা ,আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। সরিষা ফুলের মৌসুম আসলেই আমি প্রতি বছরই সরিষা ক্ষেতে যাই ঘোরাফেরা করতে এবং ফটোগ্রাফি করতে। কারণ সরিষা ফুল আমার খুব পছন্দের। যেদিকে তাকাই সেদিকেই শুধু সরিষা ফুল আর সরিষা ফুল এবং মৌমাছিরা সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করার কাজে ব্যস্ত থাকে। এ যেন এক অপরূপ দৃশ্য এবং যা দেখে চোখ দুটো একেবারে জুড়িয়ে যায়। প্রায় প্রতিবছর নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার সাবদী যাই সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখার জন্য, তবে এ বছর সেখানে না গিয়ে অন্য জায়গায় সরিষা ফুল দেখতে গিয়েছিলাম। কয়েকদিন আগে আমার নানা শশুর বাড়িতে দাওয়াত ছিল এবং তাদের বাসা হচ্ছে আমাদের বাসার কাছাকাছি।
আমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে সকাল বেলা বাসা থেকে বের হয়েছিলাম, কারণ সকালের নাস্তায় বিভিন্ন ধরনের পিঠার দাওয়াতও ছিল সাথে। যাইহোক সকাল ১০টার দিকে তাদের বাসায় পৌছলাম। তারপর সবার সাথে কুশল বিনিময় করে আড্ডা দিতে লাগলাম। এরইমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পিঠা, যেমন:ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা, দুধ চিতই পিঠা এবং পাটিসাপটা পিঠা নিয়ে এলো। পিঠা গুলো সত্যিই খুব ইয়াম্মি হয়েছিল,যদিও আমি মিষ্টি জাতীয় জিনিস তেমন পছন্দ করি না। যাইহোক পিঠা খেয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম এবং আড্ডা দিচ্ছিলাম। আড্ডার ফাঁকে মামাতো শ্যালিকা হঠাৎ বলে উঠলো সরিষা ক্ষেতে ঘুরতে যাবে।
তারপর মামাতো ও খালাতো শ্যালক-শ্যালিকা ৪ জন এবং আামি ও আমার স্ত্রী সহ মোট ছয়জন রেডি হয়ে সরিষা ক্ষেতের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তাদের বাসা থেকে ১০/১৫ মিনিট হেঁটে গেলে সরিষা ক্ষেতে যাওয়া যাবে। আমরা সবাই হাঁটা শুরু করলাম এবং রাস্তায় একটা দোকান থেকে চকোলেট, চিপস,প্রাণ ডাল ভাজা, কোল্ড ড্রিংকস এবং পানি কিনে নিলাম। কারণ সরিষা ক্ষেতে তো কিছু পাওয়া যাবে না খাওয়ার জন্য। তো সেটা ভেবেই কিছু শুকনো খাবার নিয়ে নিলাম। কিছুক্ষণ হাঁটার পর দেখলাম সরিষা ক্ষেত,তবে সেখানে সরিষা ফুল খুব কম ছিল। তাই হাঁটতে হাঁটতে আরো সামনের দিকে যেতে লাগলাম এবং ফাঁকে ফাঁকে আমি কিছু ফটোগ্রাফি করে নিলাম।
যেতে যেতে চোখে পড়লো সরিষা ফুলের অনেক বড় ক্ষেত। তারপর আমরা সবাই সরিষা ফুলের ক্ষেতে নেমে পড়লাম। বেলা তখন ১২টার কাছাকাছি। যদিও শীতকাল তবে প্রচন্ড রোদ ছিল সেদিন। যাইহোক সরিষা ফুলের সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সরিষা ফুলের এমন সৌন্দর্য দেখে সবাই বেশ খুশি। আমরা সেখানে হাঁটতে লাগলাম এবং গল্প গুজব করতে লাগলাম। তারপর সবাই একটা জায়গায় বসে সাথে করে নিয়ে আসা শুকনো খাবার খেয়ে নিলাম।
তারপর আমি সরিষা ফুলের এবং চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজির ফটোগ্রাফি করে নিলাম। এমন তাজা তাজা সবজি দেখতে আসলেই বেশ ভালো লাগে। সরিষা ফুল দেখতে যেমন সুন্দর লাগছিল, তেমনি মৌমাছি দেখতেও বেশ সুন্দর লাগছিল। মৌমাছিরা সরিষা ফুলে বসে মধু সংগ্রহ করে আবার অন্য সরিষা ফুলে গিয়ে বসে। এ যেন মনোমুগ্ধকর অপরুপ এক দৃশ্য। যা দেখে যে কারোরই চোখে জুড়িয়ে যাবে। যাইহোক অনেকক্ষণ সেখানে ঘুরাঘুরি করার পর যোহরের আযান দিয়ে দিল, তাই ভাবলাম বাসায় চলে যাবো। তারপর আমরা সবাই বাসায় চলে আসলাম।
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের কাছে পোস্টটি কেমন লাগলো, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাল্লাহ দেখা হবে অন্য কোন পোস্টে।সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
| ক্যাটাগরি | ভ্রমণ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy Note 20 Ultra 5g |
| তারিখ | ১১.২.২০২৩ |
| স্থান | w3w |
দাওয়াত তো খেলেন সরিষা খেতে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করলেন। শুনে খুব ভালো লাগলো। গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশ গুলো খুবই চমৎকার। বিভিন্ন শাক সবজির ফটোগ্রাফি গুলো দেখে খুব ভালো লাগলো। মাঠের পর মাঠ সরিষা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এত চমৎকার পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
জি ভাইয়া দাওয়াতও খেয়েছি এবং সরিষা ক্ষেতের সৌন্দর্যও উপভোগ করেছি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও,সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য।
আপনার নানা শ্বশুরের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে দেখছি বেশ ভালোই মুহূর্ত উপভোগ করেছেন আপনি। সেই সাথে আপনার শ্যালক-শ্যালিকা দের সাথে সরিষা খেতে গিয়ে আরো ভালো মুহূর্ত উপভোগ করছেন। আসলে সরিষা ক্ষেত তোমারও ভীষণ পছন্দের তাই তো সরিষা ক্ষেতে যদি যাওয়া হয় তাহলে আর আসতে ইচ্ছে করেনা। আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনি দেখছি খুবই সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছেন। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো ও অসাধারণ ছিল বলতে হয়।
সরিষা ক্ষেতে গিয়ে খুব সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছি ভাইয়া। প্রশংসনীয় মন্তব্যের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পাশে থাকার জন্য, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।