একটি বদ অভ্যাসের পরিবর্তন।
আজ- ১৯ই ভাদ্র , | ১৪২৯ , বঙ্গাব্দ | শরৎকাল ||
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধূলার প্রতি আমার আলাদা রকমের একটা টান ছিল ।বিশেষ করে ক্রিকেটের প্রতি। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলা এবং ক্রিকেট খেলা টিভিতে দেখা আমার বড় ধরনের একটা অভ্যাস ছিল। ছোটবেলায় আমি যেই গ্রামে বড় হয়েছি সেখানে বিদ্যুৎ এর কোন ব্যবস্থা ছিলনা। কিন্তু তবুও ক্রিকেটে যে কোন ম্যাচ হলে জেনারেটর দিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ গুলো দেখার ব্যবস্থা থাকত। এরপর যখন কয়েক বছর পর পার্মানেন্টলি শহরে চলে আসি তখন ক্রিকেটের প্রতিটা ম্যাচ আমি টিভিতে দেখতাম। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ ছাড়াও লিগের ম্যাচ গুলো ও আমি মিস করতাম না। একপ্রকার ধরতে গেলে এটি নেশার মতো হয়ে গিয়েছিল।
এক কথায় বলতে গেলে আমি ক্রিকেট খেলার বড় একজন ভক্ত হয়ে গেলাম। আর স্বাভাবিক ভাবেই আমার সবচেয়ে পছন্দের দল ছিল বাংলাদেশ। আর পছন্দের খেলোয়াড় ছিল সাকিব আল হাসান।
বাংলাদেশের খেলা ছাড়াও যে কোন ক্রিকেট ম্যাচ আমি অধীর আগ্রহে টিভিতে দেখতাম। আমার এখনো মনে পড়ে, আমি যখন এস এস সি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম ২০১২ সালে, ওই সময় আইপিএল চলছিল, রাতে আইপিএলের ম্যাচ গুলো দেখার জন্য আমার পড়ালেখা সব আমি বিকেলের দিকে কমপ্লিট করে ফেলতাম। যাতে রাতে আই পি এল এর ম্যাচ দেখতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই এখন আপনারা বুঝতে পেরেছেন আমি কতটা ক্রিকেটপ্রেমী ছিলাম। কিন্তু কথায় আছে মানুষের বয়স যত বাড়ে, ততই মানুষ বাস্তবতা বুঝতে পারে। কিছুদিন আগ পর্যন্ত আমার এই ক্রিকেট খেলা দেখার অভ্যাস টা ছিল। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই, আমার অনেক প্রিয় অভ্যাস যেভাবে হারিয়ে গেছে ঠিক তেমনি ভাবে ক্রিকেট খেলা দেখার অভ্যাসটাও চলে গিয়েছে ।
এখন আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি জীবনে যে এত ক্রিকেট ম্যাচে দেখেছি এতে কি আমার নিজের কোন উপকার হয়েছে? নাকি এটা শুধুই মাত্র সময় নষ্ট করেছি। এ পর্যায়ে এসে আমি একটি বিষয় উপলব্ধি করতে পারছি। আমি যদি আমার এই সময়গুলো অন্য কোন ভাল কাজে ব্যয় করতাম। তাহলে হয়ত আমি নিজেকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করতে পারতাম। বিশেষ করে যদি এই সময় আমি আরো বেশী প্রোগ্রামিং , কোডিং প্র্যাকটিস করতাম। তাহলে হয়তো আমার প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ারটা আমি আরও বেশ সমৃদ্ধ করতে পারতাম। এটা সত্য কথা যে আমার বাংলা ব্লগে যুক্ত হওয়ার পর থেকে আমার জীবনে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।
এখন আমার ফেসবুকে ঢোকা হয় কালেভাদ্রে। সারাদিনের সময় কাটে, ডিস্কোর্ড, টেলিগ্রাম এবং স্টিমিট এ। আর বাকি যে সময়টা থাকে সেটি প্রোগ্রামিংয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। কেননা জীবনে বেঁচে থাকার জন্য অর্থ অপরিহার্য। আর আমার এই জীবন ধারণ করার অর্থটা আসে স্টিমিট থেকে আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে। এটাকে আমি এখন আমার পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তবে পরিশেষে আরো কিছু কথা বলতে চাই। আমার বাংলা ব্লগ যে শুধুমাত্র আমাকে অর্থ দিয়েছে তা নয়। আমার জীবনের অনেক পরিবর্তন এ আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে হয়েছে। আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে আমি পেয়েছি দাদার মতো একজন মহৎ মানুষ ।ওনাকে আসলে যতই দেখি ততই অবাক হই। আসলেই কে বর্তমান পৃথিবীতে এমন মানুষ আছেন? যিনি কিনা অন্যের জন্য এতটা ভাবেন। এছাড়াও ব্ল্যাক দাদার মতো একজন বন্ধুসুলভ বড় ভাই পেয়েছি। সুমন ভাইয়ের মত একজন বন্ধু পেয়েছি। হাফিজ ভাই, শুভ ভায়ের, উইংক্লেস ভায়ের মত বড় ভাই পেয়েছি। এছাড়াও অনেক মডারেটর ভাই বোনদের পেয়েছে। তাই এখন আমার সব চিন্তা ধারা ধ্যান-ধারণা, ভবিষ্যৎ সবই আমার বাংলা ব্লগ কে ঘিরে।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
ভাইয়া আপনার এই কথাগুলোর সাথে সহমত পোষণ করছি। পুরনো দিনের অনেক অভ্যাস আজ হারিয়ে গেছে। হয়তো অনেক সময় মোবাইল ফোনে সময় নষ্ট করতাম কিংবা ফেসবুকে সময় নষ্ট করতাম। কিন্তু বর্তমানে যখন একটু ফ্রি থাকি তখনই স্টিমিটে নিজের কাজগুলো করার চেষ্টা করি। আর আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়েছি যেখানে অর্থ উপার্জন করতে পারি। এছাড়া এমন কিছু মানুষদেরকে আমাদের পাশে পেয়েছি যাদের কাছে সবসময় আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে দাদার মতো একজন মানুষ পেয়েছি এবং এডমিন ভাইদের এবং মডারেটর ভাই-বোনদের মতো মানুষদেরকে পেয়েছি। সত্যি সময়ের সাথে সাথে আমাদের অভ্যাসগুলো বদলে গেছে। এখন আমরা আমার বাংলা ব্লগের মাঝেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছি। আশা করছি ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।
আসলেই স্টিমিট আমার বাংলা ব্লগ এ যারা আছেন আমি মনে করি সবার জীবনেই কম বেশি পরিবর্তন এসেছে এখানে আসার পর আমিও আমার জীবন কে নতুনভাবে দেখতে পাচ্ছি। একটা সময় ছিল বেঁচে থাকার সবটুকু ইচ্ছে আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ এ আসার পর আবার নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করছে। ভাইয়া আপনার জীবনের অভ্যাসের পরিবর্তন করতে পেরেছেন বলেই আজ এত ভালো একটা স্থানে আছেন। মন থেকে আশীর্বাদ করি আগামীতে আরও অনেক অনেক ভালো পর্যায়ে যেন যেতে পারেন। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আসলে যে কোন কাজে জড়িয়ে গেলে আমাদের অনেক বদ অভ্যাস গুলোই হারিয়ে যায়। যে বদ অভ্যাস গুলো আমাদের সময় নষ্ট করত সে সময়কে আমরা বিভিন্নভাবে কাজে লাগাতে পারি। আমার বাংলা ব্লগে যুক্ত হওয়ার পর কমবেশি সবার জীবনে পরিবর্তন এসেছে। অর্থের জন্য আমরা কাজ করলেও অর্থের পাশাপাশি আমরা খুব ভালো একটি পরিবার পেয়েছি। আমারও অনেক বদ অভ্যাস অযথা সময় নষ্ট করা অনেকটাই কমে গেছে। আপনার অনুভূতিগুলো শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আমিও আপনার সাথে একমত।আগে ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যেতো শুধু শুধুই ফেসবুক চালাতে চালাতেই।ভালো ও লাগতো।কিন্তু এখন এসব ভালোলাগেনা।চিন্তার জগৎ এ বেশিরভাগ এখন স্টিমিট,আমার বাংলা ব্লগ,ডিস্কোর্ড,আপনারা,পড়াশোনা।
ভাইয়া টিভিতে যেকোনো ধরনের ক্রিকেট খেলা দেখাতে কোন লাভ হয় না বরং অনেকগুলো সময় নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ক্রিকেট খেলা দেখার মধ্য দিয়ে দারুন একটি আনন্দ পাওয়া যায়, কখনো টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়, আর ওই মুহুর্তের অনুভূতিটুকু কখনোই ক্ষতির ভাগে ঠেলে দেওয়া ঠিক নয়। তবে ক্রিকেট খেলা দেখলে অনেকটা কাজ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হয় ফলে এক ধরনের ক্ষতিই হয়ে যায়। তবে ভাইয়া আমি এখনো ক্রিকেট খেলা দেখতে খুবই পছন্দ করি আজ রাতে আমার প্রিয় টিম ইন্ডিয়ার খেলা আছে ইনশাল্লাহ দেখব।
সত্যি বলতে ক্রিকেট কোনোকালেই আমার ততটা ভালো লাগত না। তবে আমি আমার পছন্দের দলের ফুটবল ম্যাচগুলো এখনো মিস করি না। তবে আপনার কথাগুলো আমারও কিছুটা হলেও চোখ খুলে দিল। একেবারেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সময় গুলো। কিছু কিছু অভ্যাস নিজের ভালোর জন্যই পরিবর্তন করতে হয় ঠিকই বলেছেন ভাই।।
সঠিক কথা বলেছেন ভাই। অযথা আমরা ক্রিকেট খেলা দেখে অনেকেই মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি। এই নিশা তুই আমারও ছিল। ক্রিকেট খেলা দেখতে গেলেই দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। আপনার যে অনুভূতি কি এটি ইষ্টিমিটের সকলেরই হওয়া উচিত। শ্রদ্ধা জানাই আপনার অনুভূতিকে।
এই স্বার্থের দুনিয়ায় কেউ কারো কথা চিন্তা করে না। কিন্তু আমাদের সকলের প্রিয় দাদা সবার কথা চিন্তা করে আমাদেরকে এই কমিউনিটি উপহার দিয়েছেন। আমরা এই কমিউনিটিতে কাজ করার মাধ্যমে অনেক ভাই বোন পেয়েছি। এছাড়া সম্মানিত সকল এডমিন ও মডারেটরদের প্রতি আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। একটা সময় আমিও অনেক ক্রিকেট খেলা দেখতাম। তবে বর্তমানে ব্যস্ততার কারণে সেটা আর সময় হয়ে ওঠে না। সময়ের সাথে সাথে অভ্যাসগুলো বদলে গেছে। কারণ সময়ের সাথে সাথে আমরা নিজেরাও বদলে গেছি। ভাইয়া আপনার জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো। ♥️♥️♥️
আপনার লেখা দেখে আমার ভাইয়ের কথা মনে পড়লো। আমআর ভাই তো খেলার হাইলাইট ও ছাড়তো না। সব দেখতো। বাবা টিভির প্লাগ লাগানোর বোর্ডের ফিউজ খুলে লুকিয়ে রাখত।তবে একটা লিমিট পর্যন্ত এই বিনোদন গুলোও প্রয়োজন আছে।আরেকটা বিষয় আপনার মতই আমিও রিয়েলাইজ করেছি যে স্টিমিটে আসার পর থেকে আমারও ফেসবুকে যাওয়াই হয় না। আপনি তো তার উপর অ্যাডমিন। চাপ কয়েকগুণ বেশী।
আমার এখনো একটা বদ অভ্যাস হয়ে গেছে ফেসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা থাকা, যদি ভার্সিটির কাজগুলো ফেসবুকে না হত তবে আমি ফেসবুকে ঢুকবে না, কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে হলেও আমি ঘন্টার পর ঘন্টা অন্য মানুষের পোস্ট কিংবা ভিডিও দেখি সময় নষ্ট করি পরবর্তীতে আমার নিজের কাছে খুব খারাপ লাগে। আমি এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি।