শীতের আমেজ।
আজ - ২৮ই, কার্তিক |১৪২৯ , বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।
যাই হোক, অন্য সকলের মত শীত কাল আমার পছন্দের ঋতু গুলোর মধ্যে একটি। শীত আসলে কেমন যেন এক অন্যরকম আমেজ শুরু হয় চারিদিকে। নতুন শাকসবজি, পিঠা পুলি, এই সবকিছু যেন শীত কাল টাকে ভিন্ন এক আমেজে রূপ দেয়। এছাড়া ও শীতকালের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিয়ে-শাদী। শীতকালকে বিয়ে সিজন বললেও কিন্তু কোন অংশে ভুল হবে না। সারা বছর ধরে যতগুলো না বিয়ের অনুষ্ঠান হয় এই শীতকালে এসে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যদি ও আপাতত আমাদের পরিবারের কাছের মানুষদের এবারের শীতে কোন বিয়ের অনুষ্ঠান নেই তবে পাড়া-প্রতিবেশী কিংবা পরিচিত কিছু মানুষদের বিয়ের দাওয়াত রয়েছে অনেকগুলো ।
আসলে শীতকালটাই হচ্ছে আনন্দ করার একটি উপযুক্ত সময় কেননা এখানে গরমের কোন প্যারা নেই। খাওয়া-দাওয়ার এবং অন্যে সবকিছুতেই মধ্যে অন্যরকম একটি শান্তি পাওয়া যায়। তাই সাধারণত যেকোনো অনুষ্ঠান কিংবা আয়োজন শীতকালেই করা হয়ে থাকে।
শীতপ্রধান দেশ গুলোতে সাধারণত দেখা যায়। শীত আসলেই তারা গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। তবে আমাদের মতো দেশগুলোতে উল্টা চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। শীত আসলেই আমাদের মধ্যে শুরু হয় আমেজ উৎসব বেড়ানো, ঘোরাঘুরি । তবে তারা গ্রীষ্মকালের ওই সময় এগুলো বেশ উপভোগ করে। সেক্ষেত্রে আমরা এই সময়গুলোতে গরমে অতিষ্ঠ বোধ করি।
যাই হোক, শীতকালে সবথেকে ভালো লাগার একটি জায়গা হচ্ছে গ্রাম। গ্রামে একমাত্র প্রকৃত শীত এবং শীতের আমেজ গুলো উপভোগ করা যায়। শীতকালে খেজুরের গুড়, পিঠা, ক্ষেতের তরতাজা সবজি, পুকুরের মাছ এই সবকিছু ভাবতেই অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করে নিজের মধ্যে। আমার তো ইচ্ছে করে প্রতি শীতে ছুটে যায় গ্রামে। তবে সময় এবং সুযোগের অভাবে সেটি আর হয়ে উঠে না । প্রতিবার অনেক আশা নিয়ে থাকি শীতকালে গ্রামে বেড়াতে যাব। গ্রামের বাড়ির আত্মীয়স্বজনদের সাথে কিছু ভালো সময় কাটাবো। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনোভাবেই সেটি হয়ে ওঠেনা। এবারও খুব ইচ্ছা আছে পরিবারের সকলকে নিয়ে শীতের এই সময়টাকে উপভোগ করতে গ্রামে যাব তবে এবার ও মনে হয় না যাওয়া হবে। আমার বেড়াতে যাওয়ার যে কোন প্ল্যান শুরুর দিকে সব কিছু ঠিক থাকলেও শেষে এসে কেন জানি প্ল্যানটা ক্যান্সেল হয়ে যায়। যাইহোক এবারের শীতে গ্রামে যাব কি যাব না সেটা ঠিক নেই তবে আপাতত ঢাকায় যাব বেড়াতে এটা শিওর।
ছোটবেলায় শীতকালটা ছিল অন্যরকম একটি সময়। বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভালো রেজাল্ট করা, নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়া, নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এসব ভয় বিধি এবং ভালো- মন্দের অনুভূতির মধ্যে দিয়ে কাটতো শীতকালটা। সময়ের সাথে সাথে সে সবকিছু এখন পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর শীতকাল আসলে পরীক্ষার কোনো চাপ নেই, ভালো রেজাল্টের কোনো সুযোগ নেই নতুন ক্লাসে ভর্তি হাওয়া কিংবা নানার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার সেই আনন্দটুকু আর নেই।
বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্টের আগের সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতাম কি হবে না হবে। রোল নাম্বার এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো কিনা। পরে যখন ভালো একটি রেজাল্ট কিংবা রোল নাম্বার এগিয়ে আসতে তখন নিজের মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দ কাজ করতো। আসলে তখনকার সময়ে আনন্দটুকু কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এখন লাখ টাকা দিল সে আনন্দে পাওয়া যায় না। যাই হোক, শৈশব বড়ই অদ্ভুত যা সুন্দর কিছু স্মৃতি হয়ে থাকে জীবনে আর প্রতি পদে পদে সেইসকল স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দেয়।
যাইহোক এই সুন্দর শীতের সিজনটাকে সকলের উপভোগ করুন। পরিবারকে সময় দিন এবং প্রয়োজনে ঘুরতে বেরিয়ে যান। তো আজ এ পর্যন্তই। সকলে ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন। এখানেই শেষ করছি আমার আজকের আলোচনা। অন্য কোন দিন আবারও অন্য কোন বিষয় নিয়ে হাজির হব। আল্লাহ হাফেজ।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ভাইয়া আমিও শীত কিছুটা অনুভব করছি আজ দুইদিন ধরে। তবে আমি আজকেই লেপতো স্বপ্ন নিয়ে ফেলেছি কারণ মাঝরাতে কাঁথায় শীত মানে না। আর শীতকালের এক সময় আপনি যা বলেছেন সেই অনুভূতিগুলো আমারও হতো। বার্ষিক পরীক্ষা দেওয়া পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়া নানুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সব যেন এখন বিলীন হয়ে গেছে। শীতের আমেজ এখন আর ওইরকম ভাবে উপলব্ধি করতে পারি না।
শীত এখনও অনুভব করছি না।হয়ত কিছু দিনের মধ্যে পরবে।ভাইয়া আপনার মত আমারও এমন অনুভুতি কাজ করতো।এক্সাম,রেজাল্ট,নানুর বাড়ি, দাদা বাড়ি যাওয়া।সময়গুলো অনেক ভাল ছিল।শীতকালে একটু শীতের কষ্ট, এছাড়া সবকিছুতেই ভাল লাগা কাজ করে। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য। অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
ভাইয়া কি শীত আসলে লেপের পাশাপাশি তোষকও গায়ে দেন নাকি🤣।আর শীত তো চলেই এলো,এবার বলেন আপনার বিয়েটা কবে খাব?কতদিন বিয়ে খাই না, হা হা।যাই হোক আসলেই গ্রামের শীত মানেই অন্যরকম আনন্দ। খেজুরের রসের পিঠা ও আছেই,তাছাড়া সন্ধ্যার দিকে বাজারের ভাজাপোড়া খাওয়া,আরো কত কি।আসলেই লাখ টাকা দিলেও হারানো দিনগুলো ফেরত পাওয়া যাবে না।আপনার লিখাগুলো পড়ে মনে হচ্ছে, আমি আগের জায়গায় ফিরে গিয়েছিলাম।ভালো লাগলো।ধন্যবাদ
বাংলা ষড়ঋতুর মধ্যে শীত হয়তো বাঙালিদের কাছে অনেক প্রিয়। শীতের সময় গ্রাম অঞ্চলে খেজুরের রস পিঠাপোলের আয়োজন চলে। এবার মনে হচ্ছে ছোট্ট একটু বেশি পড়বে। তাইতো আমি শীতের নামে নিলাম।
শীতের আমেজ ছোটবেলায় একরকম ছিলো। এখন আরেকরকম। তবে আমার শীত মানেই এখন কোনরকমে জিম থেকে ফিরে ঈশতোষ্ণ গরম জলে স্নান করে, ফীল স্লিভ জামা পরে লেপের তলায় বসে গরম গরম কফি খাব আর সিনেমা দেখব। আমার যে কি আনন্দ লাগে, বলে বোঝাতে পারব না। শীত আমার প্রিয় ঋতু। মনে হয় সারা বছর এমন ওয়েদার থাকলে কি মজাই না হত।
একদম সঠিক কথা গুলোই বলেছেন ৷ আসলে শীত কাল এলে আমাদের বাংলাদেশ ব্যস্ত সময় বেশি পড়ে যায় ৷ আর ভাই কি বলেন আমরা গ্রামে তো অলরেডি লেপ বেড় করে ফেলেছি ৷ সকাল থেকে দুপুর পযন্ত কুয়াশা ৷
তবে এটা ঠিক শীত কালে বিয়ে হোক বা কোনো অনুষ্ঠান বেশ চমৎকার লাগে ৷ এই সময়টাতে নিত্য নতুন শীতের পোশাখ পড়ে বিয়ে বাড়ি যাওয়া ৷ দারুন লাগে আপনি চমৎকার টপিক তুলে ধরেছেন ৷
ধন্যবাদ
শীতকাল মানেই আনন্দের।বিয়ে খাওয়ার ব্যাপার তো আছেই তারপর বেড়ানোর মজা।আর গ্রাম আমার ও খুবই পছন্দের।ভাইয়া আমি তো আজ লেপ তোষক নামিয়েই নিলাম।একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া, ছোটবেলার অদ্ভুত আনন্দ কোনো কিছুর বিনিময়ে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।আর শীতকাল আসলেই বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতো আর মামাবাড়ি লম্বা ছুটি কাটানো। ভালো লাগলো আপনার লেখা পড়ে।,ধন্যবাদ ভাইয়া।