চিড়িং মাছের রেসিপি।
আজ - ৫ই ভাদ্র | ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শুক্রবার | শরৎকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আজ আমি আপনাদের সাথে চিড়িং মাছের রেসিপি শেয়ার করব।
ছবিঃ চিড়িং মাছ।
আমাদের দেশীয় ভাষায় এই মাছটিকে চিড়িং মাছ বলা হয়। এ মাছের সাথে সম্ভবত আমরা সকলেই পরিচিত নয়। তবে আমাদের চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ অঞ্চলের মানুষজনের কাছে খুবই জনপ্রিয় এই মাছ। তবে চট্টগ্রাম শহর অঞ্চলের মানুষরা এই মাছটি তেমন একটি খাইনা।
এই মাছ সামুদ্রিক অথবা পুকুরের কোন মাছ নয় কিন্তু । এটি মূলত ধান ক্ষেতের মধ্যে পাওয়া যায়। বর্ষাকালে যখন ধানক্ষেত গুলো পানিতে তলিয়ে থাকে তখন ক্ষেতের ওই পানিতে এই মাছটির দেখা মেলে। মাছগুলো গর্ত করে ক্ষেতের মধ্যে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে। আর এসব মাছ ধরতে ও বেশ কষ্টকর। কেননা বরশি কিংবা জাল দিয়ে মাছগুলোকে ধরা যায় না। আমার জানা মতে হাত দিয়ে মূলত মাছগুলোকে ধরতে হয় অথবা গ্রামের লোকজনরা হয়তো মাছ ধরার জন্য অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরি করে। যা সময় সাপেক্ষ ও কষ্টকর। এছাড়া মাছটি যেহেতু প্রাকৃতিক ভাবেই বড় হয় তাই মাছগুলো সাধারণত ছোট হয়ে থাকে। তবে এ মাছ খেতে খুবই সুস্বাদু। আর আমার তো এই মাছ খুবই পছন্দের। তবে গ্রামের তুলনায় শহরের দিকে এই মাছর বেশ চড়া দাম।
আমাদের বাসায় আমরা এ মাছটিকে যেভাবে রান্না করি তা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
- চিড়িং মাছ।
- আলু হলুদ।
- মরিচ।
- জিরা বাটা।
- রসুন বাটা।
- পেঁয়াজ।
- লবণ।
- তেল।
প্রস্তুত প্রণালীঃ
প্রথম ধাপঃ
- প্রথমে মাছগুলোকে কেটে ধুয়ে নেব। খুবই ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপঃ
- কেটে ধুয়ে রাখা মাছ গুলোর সাথে হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, জিরা বাটা, রসুন বাটা, লবণ ও পেঁয়াজ কুচি এই সকল উপকরণ দিয়ে দেবো।এরপর মসলা গুলোর সাথে মাছ গুলো ভালোভাবে মেখে নেব।
তৃতীয় ধাপঃ
- চুলাতে একটি পাত্র দেবো। এবার মাছগুলোর যে তেল গুলো রয়েছে সেগুলো দিয়ে দিব এবং সামান্য পরিমাণের সরিষার তেল দিবো।
চতুর্থ ধাপঃ
- তেল গরম হয়ে গেলে তেলের মধ্যে পূর্বের মসলা মেখে রাখা মাছ গুলো দিয়ে দিব। এরপর কিছুক্ষন মাছগুলোকে তেলের মধ্যে কষিয়ে নেব।
সর্বশেষ ধাপঃ
- এরপর মাছগুলো কষানো হয়ে গেলে মাছের মধ্যে পরিমাণমতো পানি দিয়ে দিব। এবং কিছুক্ষণ রান্না করবো। রান্না হয়ে গেলে ধনেপাতা ছিটিয়ে নামিয়ে নিব।
ব্যস তৈরি হয়ে গেল চিড়িং মাছের রেসিপি।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 100 SP | 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP |
আমি প্রথমে দেখে মনে করেছিলাম চিংড়ি মাছ আসলে সেখানে চিড়িং মাছ লেখা আছে ... আমাদের মধ্যে অনেকের এই ভুলটি হয়েছে...😁
ভাইয়া এই মাছের নাম যে চিংড়ি মাছ। এইটা আমার জানা ছিল না। হয়তো এলাকা ভেদে এই মাছের নাম আলাদা হতে পারে। তবে যাই বলুন। রেসিপিটা সুন্দর হয়েছে।
ভাবি, এটা চিংড়ি না চিড়িং মাছ, অনেক মজার মাছ। আপনাদের ওখানে পাওয়া গেলে, খেয়ে দেখিয়েন। অনেক মজা।
বুঝতে পারছি ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আমাদের মাঝে চিংড়ি মাছের রেসিপি শেয়ার করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য রেসিপির মাঝে চিংড়ি মাছ খুঁজে পেলাম না।
আপ্নারা সবাই ভুল পড়ছেন, এটা চিংড়ি না চিড়িং মাছ, অনেক মজার মাছ।
কেমনে কি ভাই?
এইটা চিংড়ি হইল কবে থেকে?
এটা না গলদা, না বাগদা চিংড়ি!
যাইহোক আশা করি এটা খুবই মুখরোচক ছিল।
ভাই চিংড়ি না ত চিড়িং মাছ, অনেক মজা, একদিন খেয়ে দেখিয়েন।
দাদা ,এটি চিংড়ি মাছ ।এই প্রথম শুনলাম।এটিকে আমরা জাতগুলে বা চামো মাছ বলি।আমি অবশ্য এই মাছ খাই না তবে আমার মা-বাবা এই মাছ খেয়ে থাকেন।ধন্যবাদ ভাইয়া।
এটা চিংড়ি না চিড়িং মাছ, অনেক মজার মাছ।
ভাইয়া আমি আপনার পোস্টটি প্রথমে দেখে মনে করেছি আপনি মনে হয় ভুল করেছেন, ভুলে মনে হয় চিংড়ি মাছ লিখেছেন, এখন দেখি সত্যিই এ মাছটির নাম চিংড়ি! অনেক সুন্দর হয়েছে আপনার রেসিপিটি।
রান্নাটা দেখে মনে হচ্ছে খুব সুন্দর হয়েছে...👌
খুব সুন্দর রেসিপি। কিন্তু সত্যি মাছটা আগে দেখি নাই। নাম টাও কেমন যেন অদ্ভূত চিড়িং। ধন্যবাদ এরকম একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও ধন্যবাদ।
🙂
ভাইয়া আপনার উপস্থাপনা অসাধারণ। সাথে মাছের রেসিপিটা ভালো লেগেছে যদি রংপুরে এসব মাছ পাওয়া যায় না
এই মাছ আগে দেখিনি ।তবে রান্না করা অবস্থায় ইটা যে খেতে সুস্বাদু হয়েছিল সেটা স্পষ্ট ।ধন্যবাদ এমন একটি মাছকে আমাদের সামনে পেশ করার জন্য ।