দেশী মুরগীর দেশীয় স্বাদের রেসিপি
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম/আদাব। সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন আশা করছি। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার ব্লগ লেখা শুরু করছি।
ভিন্ন রকম বলার ছোট্ট একটু কারণ আছে। আমরা সব সময় মুরগি মাংস ভুনা করে খাই। কিন্তু ছোটবেলায় যখন গ্রামে যেতাম তখন দেশি মুরগি কম মসলা ব্যবহার করে পাতলা ঝোল খেতাম। আসলে আগে গ্রামে প্রত্যেকটা বাসায় এভাবেই মুরগি রান্না করত। কেন জানিনা আজকে হঠাৎ করে আমার সেই আগের মত পাতলা ঝোলের দেশি মুরগির মাংস খেতে ইচ্ছা করলো। ইচ্ছা করলে কি হবে অনেক চেষ্টা করেও ওইরকম করে তৈরি করতে পারলাম না। আমাদের যেরকম অভ্যাস স্পাইসি ভুনা সেরকম না হলেও কিছুটা পাতলা হয়েছে। দেশি মুরগির মাংস রান্নার রেসিপিটি শুরু করছি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| দেশী মুরগী | মাঝারি দুইটা |
| সয়াবিন তেল | পরিমাণমতো |
| লবন | স্বাদমতো |
| পেঁয়াজ | ৩-৪ টা |
| কাচা মরিচ | ৭-৮ টা |
| জিরা গুঁড়া | ১ টেবিল চামচ |
| ধনিয়া গুঁড়া | ১ টেবিল চামচ |
| পাঁচফোড়ন গুঁড়া | ১ চা চামচ |
| শুকনা মরিচের গুঁড়া | ১ টেবিল চামচ |
| গরম মশলা | পরিমাণমতো |
| আদা বাটা | ১ টেবিল চামচ |
| রসুন বাটা | ১ টেবিল চামচ |
| তেজপাতা | ৩-৪ টা পাতা |
| হলুদ গুঁড়া | পরিমাণমতো |
রন্ধন প্রণালী:
প্রথমে মুরগি দুটোকে কেটে পছন্দ মত পিস করে নিয়েছি। তারপর পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে আলাদা একটি পাত্রে রেখে দিয়েছি।
এখন চুলায় করায় বসিয়ে দিয়ে তেল গরম করে নেয়ার পর সেখানে কাঁচামরিচ ও পেয়াজকুচি ঢেলে দিয়েছি।
কেটে ও ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখা মাংসের টুকরাগুলো কড়াইতে ঢেলে দিয়েছে। তারপর মাংসের মধ্যে পরিমানমত হলুদ গুঁড়া দিয়েছি।
লবণ ছাড়া তো কোন কিছু খাওয়া কল্পনাই করা যায় না তাই প্রয়োজনীয় স্বাদমতো কিছুটা লবণ মাংসের মধ্যে দিয়ে দিয়েছি।
এখন করাইতে পরিমাণ মতো এক টেবিল চামচ আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়েছি।
তারপর সেই মিশ্রণের মধ্যে কয়েকটা তেজ পাতা দিয়েছি।
তারপর মাংসের সাথে সবগুলো উপকরণ খুব ভালোভাবে মিশিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিয়েছি। খেয়াল রাখতে হবে যেন মসলাগুলো ভালোভাবে মাংসের সাথে মিশে যায়।
কিছুক্ষণ কষিয়ে নেয়ার পর অল্প পরিমাণ শুকনা মরিচের গুঁড়া দিয়েছি।
প্রয়োজন মত জিরা গুড়া, ধনিয়া গুড়া ও পাঁচফোড়ন গুড়া কড়াইতে দিয়ে দিয়েছি।
এখন কড়াইতে মাংসগুলোর মধ্যে প্রয়োজন মত গরম মসলা দিয়ে মেখে নিয়েছি। তারপর মাংসগুলো ভালো করে কষিয়ে নিয়েছি।
মাংসগুলো কিছুক্ষণ ভালো করে কষিয়ে নেয়ার পর ঝোলের জন্য পানি দিয়েছি। যেহেতু আমার ইচ্ছা ছিল আজকের মাংসটা পাতলা ঝোল করব তাই একটু ঝোলের পানি বেশি দিয়েছিলাম।
জলে পানি দেয়ার পর ভালো করে রান্না হওয়ার জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিয়েছি। এভাবে ১৫-২০ মিনিট রান্না হওয়ার পর ঝোল কমে আসলে নামিয়ে নেব।
কিছুটা ঝোল কমে গিয়ে যখন তেল ভেসে উঠেছিল তখন বুঝতে পারলাম না হয়ে গিয়েছে। তাই কিছুটা ঝোল রেখে নামিয়ে নিয়েছি। তবুও আমার ইচ্ছার চেয়ে ঝোল একটু বেশি কমে গিয়েছিল।
পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত:
অভ্যাস কি আর সহজে পরিবর্তন করা যায়। আমার ইচ্ছা ছিল সেই ছোটবেলায় যেরকম গ্রামে গিয়ে দেশি মুরগির পাতলা জল খেয়েছিলাম সেরকমভাবে আজকে রেসিপি করব। করতে চেয়েও ঝোল কিছুটা কমে গিয়েছিল। যাইহোক আজকের রান্নাটা আমার কাছে অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি ভালো লেগেছে। এর কারণটা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারবোনা। ভালো লেগেছে জাস্ট এটুকুই বলতে পারি। মাঝে মাঝে আপনারা বাসায় এরকমভাবে ট্রাই করতে পারেন। গতানুগতিক আমরা যেরকম ভুনা মাংস খাই মাঝে মাঝে সেখান থেকে একটু সরে আসলে মন্দ হয় না।
বন্ধুরা আজ আর লিখছিনা। অন্য কোনদিন অন্যকিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে আসবো। আজকের জন্য বিদায় নিচ্ছি। সবার জন্য শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মনে করি দেশি মুরগি পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুব কমই আছে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে অনেক বেশি সুস্বাদু মনে হয়। আপনার এই দেশি মুরগির রেসিপি দেখে জিভে জল এসে গিয়েছে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ভাই আর দেরি করার দরকার নাই ঝটপট তৈরি করে ফেলুন।
দেশী মুরগীর দেশীয় স্বাদের রেসিপি দেখে তো জিভে পানি চলে এসেছে। চমৎকার ভাবে উপস্থাপনা করেছেন। দেখে তো লোভ সামলানো মুশকিল খেতে ইচ্ছা করছে। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া
আসলে ভাই দেশি মুরগি মাংসের স্বাদ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
ভাই আপনার দেশি মুরগির মাংস রেসিপি দেখে খুব খেতে ইচ্ছে হচ্ছে। আমার কাছে এভাবে একটু ঝোল খেতে খুব ভালো লাগে। আর ঠিক বলেছেন আগে গ্রামে এভাবে বেশি মুরগি দিয়ে পাতলা ঝোল করে রান্না করা হতো সেটা খেতে সত্যি অনেক সুস্বাদু ছিল। এভাবে মুরগির মাংস রান্না করে রুটি বা পরোটার সাথে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আপনি ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
মাঝে মাঝে পুরনো দিনের ওই খাবার গুলো কথা মনে পড়ে যায়। মনে হয় ওই সময় খাবারের টেস্ট একটু বেশি ছিল।
দেশি মুরগি স্বাদ সত্যি অতুলনীয়। সব মাংসের চেয়ে দেশি মুরগির মাংস খেতে আমার বেশি ভালো লাগে। আপনি দারুন ভাবে রান্নাটি পরিবেশন করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
দেশি মুরগির মাংস খেলে অন্য মুরগির মাংস আর খেতে ইচ্ছে করে না।
আসলে দেশি মুরগি খেতে অন্যান্য মাংসের থেকে বরাবরই অনেক সুস্বাদু এবং অন্যরকম একটি মজা হয়ে থাকে।। সকাল সকাল আপনার প্রস্তুত করার রেসিপিটি দেখেই জিভে জল চলে আসলো খেতে নিশ্চিত খুব মজা হবে।।
আবার দেশি মুরগির মাংসের ঝোল দিয়ে সকাল সকাল রুটি খেতেও বেশ মজা লাগে।
দেশি মুরগির মাংস টা কেমন যেন লাল লাল হয় দেখলেই বোঝা যায় অনেক টেস্টি হবে। আর ঠিক বলেছেন সব সময় মাংস ভুনা খেতে ভালো লাগে না মাঝে মাঝে মুরগির মাংসের পাতলা ঝোলটাও খেতে ভালোই লাগে ।আপনি আজকে খুব সুন্দর করে দেশি মুরগির মাংস রান্না করেছেন আমার কাছে তো দেখেই খেতে ইচ্ছা করছে। খুব সুন্দর কালার হয়েছে তরকারিটির।
একদম তাই আপু মনের কথাটা বুঝতে পেরেছেন। মাঝে মাঝে স্বাদের ভিন্নতা আনা উচিত।
মাঝে মাঝে অতীতে ফিরে গিয়ে স্মৃতিচারণ করা ভালো। মুরগির মাংসের রেসিপি টা বেল লোভনীয় লাগছে। দারুণ তৈরি করেছেন ভাই এবং অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।
আসলেই অতীতে খাবারের মান এখনকার চেয়ে অনেক ভালো ছিল।
দেশি মুরগির সাদ অতুলনীয়। আপনার রেসিপি দেখে আমার জিভে জল চলে আসছে। রেসিপির কালারটা যেমন সুন্দর আসছেএবং দেখে ও অনেক লোভনীয় লাগছে। অনেক ধন্যবাদ ভাই এতো ইউনিক একটি রেসিপি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য
আসলেই অন্যরকম টেস্ট পেয়েছিলাম খেতে।
দেশি মুরগী গোস্তর স্বাদই আলাদা। আসলে বর্তমানে জিনিস এর এত দাম বেড়েছে যে দেশি মুরগীর গোস্ত খুব একটা খাওয়া হয়না। তাছাড়া একেবারে দেশি মুরগী খুব একটা পাওয়া যায় না।আপনার তৈরি দেশি মুরগির গোস্ত রান্না রেসিপিটি দেখতে অসাধারণ লাগছে এবং খেতে নিশ্চয়ই খুব সুস্বাদু হয়েছিল। এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
এখনই খেয়ে নিচ্ছি ভাই সামনে কিনে খেতে পারব কিনা সন্দেহ আছে হি হি হি।
ঠিকই বলেছেন ভাই, যেভাবে দাম বেড়ে চলছে। এমন হতেই পারে। হা হা হা