নদীর দ্বিতীয় রূপ // পর্ব - ২ // ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য।

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

হ্যালো আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম/আদাব। সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন আশা করছি। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার ব্লগ লেখা শুরু করছি।

প্রথম পর্ব: নদীর দ্বিতীয় রূপ // পর্ব - ১

20220309_160933.jpg
20220309_155438.jpg
নদীর তীর থেকে নেমে আমি সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলাম। আমি কৌতুহল থেকে নিচের দিকে নামলাম এটা দেখার জন্য যে নদী কত দূরে আছে। সেখানে গেলেই আমি বুঝতে পারব সব মিলিয়ে কত বড় এরিয়া গতবছর বন্যার মৌসুমে খরস্রোতা নদীর তাণ্ডবে ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একদিকে নদী তীরবর্তী লোক গুলো যেমন নদী ভাঙ্গনের ফলে ভিটেমাটি সব হারিয়ে একপ্রকার নিঃস্ব হয়ে আছে। ঠিক অপরদিকে নদী ভাঙ্গনের ফলে জেগে ওঠা চরে যেসব জায়গায় বন্যা পরবর্তীতে পলিমাটি জমেছে। সেইসব এলাকায় আবার কৃষকরা বিভিন্ন মৌসুমী ফসল ফলিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য চেষ্টা করছে। # এভাবে হাটতে হাটতে আমি সম্ভবত দেড় থেকে দুই কিলোমিটার বালুরচর এর উপর দিয়ে হেঁটে এসেছি। আজকের দিনটা ছিল প্রখর রৌদ্রোজ্জ্বল প্রচন্ড রোদের কারণে চরের বালুগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল মনে হচ্ছিল চারিদিকটা যেন তাদের উত্তাপে পুড়ে যাচ্ছে। বালুচর এর উপর দিয়ে হাটতে হাটতে আমার অনেক ভালো লাগার কিছু দৃশ্য দেখলাম যা চোখে পড়ার মতো। চরের বেশ কিছু জায়গায় পলিমাটি জমা হওয়ার কারণে সেখানে কৃষকেরা বেশকিছু মৌসুমী ফসলের চাষ করে।

20220309_154120.jpg
20220309_153702.jpg

আমি এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি নদীর তীর থেকে এখানে আসতে আমার কম করে হলেও ৩০ মিনিট লেগেছে কিন্তু এখনো আমি নদীর দেখা পেলাম না। নদীর দেখা না হলেও এই জায়গায় এসে আমি অনেক ভালো লাগার কিছু দৃশ্য দেখতে পেলাম। বালুচরের যে অংশে পলিমাটি জমেছে সেখানে কৃষকেরা আলু চাষ করেছিলেন আলু বস্তাবন্দী করার পর এখন তারা পরিকল্পনা করছে এখানে বাদাম লাগানোর। চিন্তা করতেও ভালো লাগে এই চরের মধ্যে কৃষকেরা বছরে দুইবার ফসল ফলাচ্ছে।

20220309_153457.jpg
20220309_153518.jpg
20220309_153800.jpg

নদী তীরবর্তী কৃষকেরা কখনো দিন মজুর নিয়ে কাজ করে না তারা সপরিবারে জমিতে কাজ করে ফসল ফলায়। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম তারা জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রখর রৌদ্রের মধ্যে সপরিবারে কাজ করছে। আমি সামনে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই এখানে কি লাগাবেন তারা আমাকে বলল এখানে বাদাম লাগানোর জন্য জমি তৈরি করছি। একই জমিতে আলু উৎপাদন করে ঘরে তুলেছে তারপর জমি প্রস্তুত করে এখন বাদাম লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

20220309_154902.jpg20220309_154857.jpg
20220309_152824.jpg20220309_152628.jpg
20220309_152621.jpg20220309_152531.jpg

এই অংশে কৃষকেরা অনেক গুলো মিশ্র ফসলের চাষ করেছে দেখে খুব ভালো লাগলো। আমি প্রথমদিকে বেশকিছু জমিতে পেঁয়াজের চাষ লক্ষ্য করলাম জমিতে পেঁয়াজ গুলো প্রায় উঠিয়ে নেয়ার মতো সময় হয়ে গেছে পেঁয়াজ উঠিয়ে তারা সেখানে অন্য ফসল লাগাবে। সামনেই আমি আরো কিছু মসলা জাতীয় গাছ দেখতে পেলাম এখানে মিশ্রভাবে বেশকয়েকটি মুক্তার চাষ করেছে। গাছ গুলোতে খুব সুন্দর ফুল এসেছে দেখে আমার খুব ভালো লাগলো কারণ আমি এর আগে এরকম মশলার গাছ আগে কখনো দেখিনি। এখানে পেঁয়াজের পাশাপাশি ধনিয়া তিশি কালোজিরা সহ বেশ কয়েকটি মসলার গাছ লাগানো হয়েছে।

20220309_153129.jpg
20220309_153056.jpg

এখানে অনেক বড় জায়গা জুড়ে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে ভুট্টা কাজগুলো বেশ কয়েকটি জমিতে সারিবদ্ধ ভাবে লাগানো দেখতে খুব ভালো লাগলো। ভুট্টার প্রত্যেকটি গাছে ৩ থেকে ৪ টা করে কলা বের হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে ভুট্টার ফলন খুব ভালো হবে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম ভুট্টা উঠানোর পর সেই একই জমিতে পাট চাষ করা হবে ভাবতে ভালোই লাগে।

প্রখর রোদের মধ্যে এভাবে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার হাঁটার পর আমি যখন নদীর দেখা পেলাম না তখন ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসলাম। ফেরার সময় হাঁটতে হাঁটতে শুধু কৃষক ভাইদের কথা বেশি মনে পড়তে লাগলো। নদী ভাঙ্গনের ফলে নদী তীরবর্তী এই কৃষক ভাইয়েরা সবকিছু হারিয়ে আবার এই নদীকে কেন্দ্র করে তাদের জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য কি হলো অক্লান্ত পরিশ্রম করে চরাঞ্চলে ফসল ফোলাচ্ছে। কিছুদিন আগেও এই নদীতে যখন সর্বস্ব হারিয়ে কিভাবে জীবন অতিবাহিত করবে ভাবছিল। মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে সেই বালুচরে পলিমাটি জমে যাওয়ার কারণে এই নদিকেই কেন্দ্র করেই তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

আজ আমি এখানে এসেছিলাম আমার সাপ্তাহিক ট্যুর হিসেবে এটা কাজের তদারকি করার জন্য। এই দিকটায় বেশ কয়েক মাস আসা হয়নি। আজ এসে নদী ভাঙ্গনের কথা শুনে আমার কৌতূহল জাগে এখানকার নদী তীরবর্তী লোকদের জীবন জাপান সম্পর্কে জানার। তাই প্রখর রোদের মধ্যে নদীর বালুচরে হাঁটতে হাঁটতে আমি কিছু ফটোগ্রাফি করেছি। সবকিছু হারিয়ে আবার তাদের ঘুরে দাঁড়ানো চেষ্টা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আশা করছি আমার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে এখানকার বাস্তব চিত্র গুলো পড়ে আপনাদেরও ভালো লাগবে।

বন্ধুরা আজ আর লিখছিনা। অন্য কোনদিন অন্যকিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে আসবো। আজকের জন্য বিদায় নিচ্ছি। সবার জন্য শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।

ডিভাইসস্যামসাং গ্যালাক্সি A ১০
পোস্টের ধরনফটোগ্রাফি
ফটোগ্রাফারমাইদুল ইসলাম
লোকেশনw3w location

3q52Dkr5nBe3kDiHrk4F3qdzX6E5VuVcCcF7TDQDco37AUsMDxK7aJ1v5hKA8jfHHgL9ABnDXogr1.gif

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

Sort:  
 4 years ago 

ভাই আপনার তো সহ্য ক্ষমতা অনেক মনে হচ্ছে। এই সময়ে চরের মধ্যে বালি তে হাটা যে কতটা বিশ্রী একটা ব্যাপার তা অনেকেই জানেনা। যাই হোক আমাদের দেশের নদী গুলোর এখন এই অবস্থা। গ্রীষ্মে নদী শুকিয়ে খালের আকার ধারণ করে আবার বর্ষায় শুরু হয় প্রচণ্ড ভাঙ্গন আর বন্যা। আল্লাহই জানে ভবিষ্যতে কি হবে। ভালোই লাগলো আপনার পোস্টটি। শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য

 4 years ago 

দূর থেকে লক্ষ্য করছিলাম চরের মধ্যে কিছু লোকজন কাজ করছে সেই কৌতূহল থেকেই হাটতে শুরু করি।ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য শুভকামনা রইল।

বাহ!! খুবই সুন্দর একটা পোস্ট শেয়ার করেছেন ভাই। অনেক ভাল লেগেছে আমার কাছে। সবগুলো ফটোগ্রাফি অসাধারণ ছিল। নদীর একটা সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাইয়া 💞💞

 4 years ago 

নদী কখনো আশীর্বাদ আবার কখনো হাহাকার। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

নদী অঞ্চলের মানুষদের জীবন অনেক কঠিন হয়। বন্যার সময় একজন বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম তাদের করুণ অবস্থা আমাকে অনেক ব্যথিত করেছিলো। তবে আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া। ভালোবাসা নিবেন।❤️

 4 years ago 

ঠিক বলেছেন বন্যার সময় তাদের কষ্ট অনেক বেশি।ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

 4 years ago 

আপনি অসাধারণ একটা পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। দেখে আমার খুবই ভালো লাগলো। চিএগুলি খুবই সুন্দর হয়েছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই ধরনের পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 4 years ago 

ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য। শুভকামনা রইল।

 4 years ago 

নদীর তীরে সময় কাটাতে বেশ ভালই লাগে।আপনাদের অঞ্চলের ওই নদীর তীরবর্তি অঞ্চলটি অনেক সুন্দর।নদীর তীরের অঞ্চলের দৃশ্যগুলো দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেল।আপনার সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

 4 years ago 

নদী তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আসলেই অনেক সুন্দর। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

 4 years ago 

আমারো এই রকম মাঝে মাঝে আনমনে ঘুরাঘুরি করতে ভালোই লাগে । তবে আপনার ভ্রমণ প্রকৃতির মাঝে ছিল বিশেষ করে গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং গ্রামীণ মানুষের জীবন জীবিকা খুব কাছ থেকে দেখেছেন । বেশ রোমাঞ্চকর ছিল । আমার কাছে আপনার সাপ্তাহিক ট্যুরের অনুভূতিটা বেশ ভালোই লেগেছে । শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।

 4 years ago (edited)

দূর থেকে নদী ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের কর্মযজ্ঞ দেখে কৌতূহল জাগে। আর তাই প্রখর রোদের মধ্যে বালুচরে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার হেঁটে দেখতে গিয়েছি। আপনার মন্তব্য পড়ে নতুন করে উজ্জীবিত হলাম। ধন্যবাদ ভাইয়া পাশে থাকার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 65497.51
ETH 1783.48
USDT 1.00
SBD 0.42