নদীর দ্বিতীয় রূপ // পর্ব - ২ // ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য।
হ্যালো আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম/আদাব। সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন আশা করছি। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার ব্লগ লেখা শুরু করছি।
আমি এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি নদীর তীর থেকে এখানে আসতে আমার কম করে হলেও ৩০ মিনিট লেগেছে কিন্তু এখনো আমি নদীর দেখা পেলাম না। নদীর দেখা না হলেও এই জায়গায় এসে আমি অনেক ভালো লাগার কিছু দৃশ্য দেখতে পেলাম। বালুচরের যে অংশে পলিমাটি জমেছে সেখানে কৃষকেরা আলু চাষ করেছিলেন আলু বস্তাবন্দী করার পর এখন তারা পরিকল্পনা করছে এখানে বাদাম লাগানোর। চিন্তা করতেও ভালো লাগে এই চরের মধ্যে কৃষকেরা বছরে দুইবার ফসল ফলাচ্ছে।
নদী তীরবর্তী কৃষকেরা কখনো দিন মজুর নিয়ে কাজ করে না তারা সপরিবারে জমিতে কাজ করে ফসল ফলায়। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম তারা জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রখর রৌদ্রের মধ্যে সপরিবারে কাজ করছে। আমি সামনে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই এখানে কি লাগাবেন তারা আমাকে বলল এখানে বাদাম লাগানোর জন্য জমি তৈরি করছি। একই জমিতে আলু উৎপাদন করে ঘরে তুলেছে তারপর জমি প্রস্তুত করে এখন বাদাম লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই অংশে কৃষকেরা অনেক গুলো মিশ্র ফসলের চাষ করেছে দেখে খুব ভালো লাগলো। আমি প্রথমদিকে বেশকিছু জমিতে পেঁয়াজের চাষ লক্ষ্য করলাম জমিতে পেঁয়াজ গুলো প্রায় উঠিয়ে নেয়ার মতো সময় হয়ে গেছে পেঁয়াজ উঠিয়ে তারা সেখানে অন্য ফসল লাগাবে। সামনেই আমি আরো কিছু মসলা জাতীয় গাছ দেখতে পেলাম এখানে মিশ্রভাবে বেশকয়েকটি মুক্তার চাষ করেছে। গাছ গুলোতে খুব সুন্দর ফুল এসেছে দেখে আমার খুব ভালো লাগলো কারণ আমি এর আগে এরকম মশলার গাছ আগে কখনো দেখিনি। এখানে পেঁয়াজের পাশাপাশি ধনিয়া তিশি কালোজিরা সহ বেশ কয়েকটি মসলার গাছ লাগানো হয়েছে।
এখানে অনেক বড় জায়গা জুড়ে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে ভুট্টা কাজগুলো বেশ কয়েকটি জমিতে সারিবদ্ধ ভাবে লাগানো দেখতে খুব ভালো লাগলো। ভুট্টার প্রত্যেকটি গাছে ৩ থেকে ৪ টা করে কলা বের হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে ভুট্টার ফলন খুব ভালো হবে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম ভুট্টা উঠানোর পর সেই একই জমিতে পাট চাষ করা হবে ভাবতে ভালোই লাগে।
প্রখর রোদের মধ্যে এভাবে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার হাঁটার পর আমি যখন নদীর দেখা পেলাম না তখন ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসলাম। ফেরার সময় হাঁটতে হাঁটতে শুধু কৃষক ভাইদের কথা বেশি মনে পড়তে লাগলো। নদী ভাঙ্গনের ফলে নদী তীরবর্তী এই কৃষক ভাইয়েরা সবকিছু হারিয়ে আবার এই নদীকে কেন্দ্র করে তাদের জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য কি হলো অক্লান্ত পরিশ্রম করে চরাঞ্চলে ফসল ফোলাচ্ছে। কিছুদিন আগেও এই নদীতে যখন সর্বস্ব হারিয়ে কিভাবে জীবন অতিবাহিত করবে ভাবছিল। মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে সেই বালুচরে পলিমাটি জমে যাওয়ার কারণে এই নদিকেই কেন্দ্র করেই তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
আজ আমি এখানে এসেছিলাম আমার সাপ্তাহিক ট্যুর হিসেবে এটা কাজের তদারকি করার জন্য। এই দিকটায় বেশ কয়েক মাস আসা হয়নি। আজ এসে নদী ভাঙ্গনের কথা শুনে আমার কৌতূহল জাগে এখানকার নদী তীরবর্তী লোকদের জীবন জাপান সম্পর্কে জানার। তাই প্রখর রোদের মধ্যে নদীর বালুচরে হাঁটতে হাঁটতে আমি কিছু ফটোগ্রাফি করেছি। সবকিছু হারিয়ে আবার তাদের ঘুরে দাঁড়ানো চেষ্টা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আশা করছি আমার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে এখানকার বাস্তব চিত্র গুলো পড়ে আপনাদেরও ভালো লাগবে।
বন্ধুরা আজ আর লিখছিনা। অন্য কোনদিন অন্যকিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে আসবো। আজকের জন্য বিদায় নিচ্ছি। সবার জন্য শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।
| ডিভাইস | স্যামসাং গ্যালাক্সি A ১০ |
|---|---|
| পোস্টের ধরন | ফটোগ্রাফি |
| ফটোগ্রাফার | মাইদুল ইসলাম |
| লোকেশন | w3w location |
ভাই আপনার তো সহ্য ক্ষমতা অনেক মনে হচ্ছে। এই সময়ে চরের মধ্যে বালি তে হাটা যে কতটা বিশ্রী একটা ব্যাপার তা অনেকেই জানেনা। যাই হোক আমাদের দেশের নদী গুলোর এখন এই অবস্থা। গ্রীষ্মে নদী শুকিয়ে খালের আকার ধারণ করে আবার বর্ষায় শুরু হয় প্রচণ্ড ভাঙ্গন আর বন্যা। আল্লাহই জানে ভবিষ্যতে কি হবে। ভালোই লাগলো আপনার পোস্টটি। শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য
দূর থেকে লক্ষ্য করছিলাম চরের মধ্যে কিছু লোকজন কাজ করছে সেই কৌতূহল থেকেই হাটতে শুরু করি।ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য শুভকামনা রইল।
বাহ!! খুবই সুন্দর একটা পোস্ট শেয়ার করেছেন ভাই। অনেক ভাল লেগেছে আমার কাছে। সবগুলো ফটোগ্রাফি অসাধারণ ছিল। নদীর একটা সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাইয়া 💞💞
নদী কখনো আশীর্বাদ আবার কখনো হাহাকার। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
নদী অঞ্চলের মানুষদের জীবন অনেক কঠিন হয়। বন্যার সময় একজন বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম তাদের করুণ অবস্থা আমাকে অনেক ব্যথিত করেছিলো। তবে আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া। ভালোবাসা নিবেন।❤️
ঠিক বলেছেন বন্যার সময় তাদের কষ্ট অনেক বেশি।ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
আপনি অসাধারণ একটা পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। দেখে আমার খুবই ভালো লাগলো। চিএগুলি খুবই সুন্দর হয়েছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই ধরনের পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য। শুভকামনা রইল।
নদীর তীরে সময় কাটাতে বেশ ভালই লাগে।আপনাদের অঞ্চলের ওই নদীর তীরবর্তি অঞ্চলটি অনেক সুন্দর।নদীর তীরের অঞ্চলের দৃশ্যগুলো দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেল।আপনার সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
নদী তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আসলেই অনেক সুন্দর। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
আমারো এই রকম মাঝে মাঝে আনমনে ঘুরাঘুরি করতে ভালোই লাগে । তবে আপনার ভ্রমণ প্রকৃতির মাঝে ছিল বিশেষ করে গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং গ্রামীণ মানুষের জীবন জীবিকা খুব কাছ থেকে দেখেছেন । বেশ রোমাঞ্চকর ছিল । আমার কাছে আপনার সাপ্তাহিক ট্যুরের অনুভূতিটা বেশ ভালোই লেগেছে । শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।
দূর থেকে নদী ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের কর্মযজ্ঞ দেখে কৌতূহল জাগে। আর তাই প্রখর রোদের মধ্যে বালুচরে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার হেঁটে দেখতে গিয়েছি। আপনার মন্তব্য পড়ে নতুন করে উজ্জীবিত হলাম। ধন্যবাদ ভাইয়া পাশে থাকার জন্য।