জেনারেল রাইটিং-বাবার গাড়ি এক্সিডেন্ট।
আসসালামু আলাইকুম
আমি @maria47।আমি একজন বাংলাদেশী। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন।আজ মনটা ভীষণ খারাপ।কারণ আমার বাবা ভালো নেই।আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির একজন সদস্য। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি।কালকে বাবার গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়েছে। কিভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছিল সেই ঘটনা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে যাচ্ছি।
বাবার গাড়ি এক্সিডেন্ট:
Source
বাবা দুই দিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলেন।অবসর প্রাপ্ত আর্মি অফিসার দের মিলন মেলা ছিল। তাই ঢাকায় যেতে হয়েছিল।ঘুরাঘুরি করে ডাক্তার দেখিয়ে পরশু রাত ১২ টায় বাসায় আসে। মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বাবার সাথে রাতে ভালো ভাবে কথা হয় নি।সকালে উঠে দেখি বাবা বাসায় নেই।তবে কিছুক্ষন পরে ফিরে আসে।আমার মেয়ে তো ভীষণ খুশি হয় তার নানুকে পেয়ে।এরপর বাবা সকালের খাওয়া দাওয়া শেষ করে।আমিও মেয়েকে খাওয়াতে গিয়েছিলাম।কিন্তু মেয়ে আমার হাতে খাবে না সে নানুর হাতে খাবে।
পরে বাবা আমার মেয়ে কে খাওয়ায় দেয়।খুব হাসি খুশি ছিল দুজনে।এরপর বাবার একটা কাজের জন্য বের হয়ে যায়।মেয়ে তার নানুকে বিদায় দিয়ে আসে।বাবা যাওয়ার পর সবাই মিলে গল্প করছিলাম।কিছুক্ষণ পর দাদির ফোনে বাবা ফোন দেয়।ঐপাশ থেকে সবাই চিৎকার করছিল।আর বাবা আল্লাহ বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিল।বাবার কথা শুনে বাসার সবাই কান্না শুরু করে দিয়েছিল।এরপর ফোনের ওই পাশ থেকে কোনো সাড়া শব্দ আসছিল না।এরপর একজন লোক ফোনটা নিয়ে কথা বলে।তার মুখ থেকে সব ঘটনা শুনতে পারি। আব্বু মেইন রাস্তা থেকে মাটির রাস্তায় নামছিল।নিজের মতো বাবা যাচ্ছিল। তখন হাই স্পিডে থাকা একটি মোটরসাইকেল এসে পিছন থেকে বাবার মোটরসাইকেল এ লাগিয়ে দেয়। সেই মোটোসাইকেল এর ধাক্কা খেয়ে বাবা একদম গাড়ির নিচে পড়ে যায়। ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি সহ বাবার উপরে পড়ে যায়। মানে বাবা একদম দুটো গাড়ির নিচে পড়েছিল।ওইখান থেকে আশেপাশের লোকজন দৌড়ে এসে গাড়ির নিচ থেকে বাবাকে উঠায়। উঠানোর কিছুক্ষণ পর বাবা দাদিকে ফোন দেয়।আর কথা কান্না করতে করতে বাবা অজ্ঞান হয়ে যায়।ঐখানে থাকা একটি লোক কথা বলে আর সব ঘটনা খুলে বলে।
এরপর বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনারা কাউকে পাঠিয়ে দেন। আমাদের বাসা থেকে জায়গাটা অনেক দূরে ছিল। তাই খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছানো মত সময় হাতে ছিল না।কিন্তু আমার ফুপির বাড়ি কাছে ছিল।আবার আমার ফুফাতো বোনের হাজবেন্ড ওইখানেই ব্যবসা করতেন।তাই দুজনকে তাড়াতাড়ি ফোন দিয়ে জানানো হলে তারা দশ মিনিটের মধ্যে ঘটনা স্থলে পৌঁছে যায়।যাওয়ার পর আমাদের ফোন দিয়ে বিস্তারিত সব তথ্য জানায়।যদিও আমরা এখান থেকে রওনা দিয়েছিলাম। অনেকটা রাস্তা পর্যন্ত গিয়েছিলাম।কিন্তু কিছুক্ষণ পর আমার ফুপি যেতে নিষেধ করে। কারণ তারাই বাড়ি ফিরে আসছিল বাবাকে নিয়ে। সবাইতো খুবই কান্না করছিল।প্রায় ঘন্টাখানেক পর বাবাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।ওই খানকার লোকজন একটি অটো করে আমার ফুফি কে সহ পাঠিয়ে দেয়।আসার পর বাবার অবস্থা দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। এতটা খারাপ অবস্থা হয়েছিল যা বলতে বুঝাতে পারবোনা।যেই মানুষটি দুই ঘন্টা আগে হাসি খুশি ছিল তার সাথে এমন হবে কে জানতো সেটা।কখন কার জীবনে কি ঘটে তা কেউ জানে না।যদিও ওইখানে ব্যথার ইনজেকশন দিয়েছিল আর প্রাথমিক চিকিৎসা করেছিল।
বাসায় আসার পর ব্যাথায় আমার বাবা খুবই কান্না করছিল।ব্যথার কারণে নড়াচড়া করতে পারছিল না। সারারাত ব্যথায় একদম ঘুমাতে পারেনি।আজ ভোর বেলায় বাবাকে আবারও ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।এমন দুর্ঘটনার মুখে কখনো যেন কাউকে পড়তে না হয়।যদিও ছেলে দুটোকে ধরা হয়েছিল।কিন্তু আমার বাবা তাদের ছেড়ে দিতে বলেছিল।সবারই সবধানতা অবলম্বন করে গাড়ি চালানো উচিত। সবসময় গাড়ির স্পিড লিমিট মতো থাকা দরকার।যার পরিবারের সাথে এমন ঘটনা ঘটে তারাই শুধু কষ্টটা বুঝে।আর যে দুর্ঘটনার শিকার হয় সেই শুধু জানে কতটা যন্ত্রণা পেতে হয়।আমার বাবাকে যেনো মহান আল্লাহ দ্রুত সুস্থ করে দেন। আপনারা সকলে আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।তিনি যেন আবার আগের মত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন।ধন্যবাদ সবাইকে।
আমি মারিয়া মুক্তি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @maria47। আমি রান্না করতে ভালোবাসি। নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে আমার ভালো লাগে। আমি ঘুরতে যেতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়াও ছবি তুলতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। কোন ভিন্ন ধরনের কিছু দেখলেই আমি সেটির ছবি তুলে রাখি। নিত্য নতুন জিনিস বানাতেও ভীষণ ভালো লাগে। এছাড়াও নিত্য নতুন আর্ট করতে আমার খুবই ভালো লাগে।
Sort: Trending
[-]
maria47 (70)memberverified member 🇧🇩 last year