জেনারেল রাইটিং-দুষ্ট বুদ্ধিতে কোচিং ছুটি নেওয়ার গল্প|
আসসালামু আলাইকুম
আমি @maria47।আমি একজন বাংলাদেশী। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন।আমিও ভালো আছি।আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির একজন সদস্য। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। আজকে আমি দুষ্ট বুদ্ধিতে কোচিং ছুটি নেওয়ার গল্প নিয়ে লিখতে যাচ্ছি। আশা করি সকলের কাছে ভালো লাগবে।
দুষ্ট বুদ্ধিতে কোচিং ছুটি নেওয়ার গল্প:

Source
দুষ্টামির কথা গুলো আমাদের চিরকাল মনে থাকে।আমরা যতই বড় হই না কেনো আমাদের জীবনে স্মৃতি হয়ে সেই ঘটনাগুলো থেকে যায়। আর যখন আমরা সেই ঘটনা গুলোকে ভাবি তখন নিজেরই বেশ লজ্জা লাগে এতটা দুষ্টামি করতাম। ছোটবেলায় আমরা একটু বেশি দুষ্টামি করে ফেলি। দুষ্টামির মাধ্যমে আমরা একবার সকলে মিলে কোচিং ছুটি নিয়ে ছিলাম।
আর কিভাবে দুষ্ট বুদ্ধি এটে কোচিং ছুটি নিয়েছিলাম সেই গল্প আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব।তখন আমরা ক্লাস ফাইভে পড়ি। আমরা বান্ধবী ছিলাম চারজন আর কোন মেয়ে ছিল না আর বাকি সবগুলো ছিল ছেলে। আমরা ছেলেদের তুলনায় কোন অংশে দুষ্টামিতে কম ছিলাম না। কিন্তু স্যারদের ও ম্যাডামদের তা কখনোও র বুঝতে দিতাম না।যদিও আমি তাদের সাথে সঙ্গ দিতাম এই জন্য ওদের সন্দেহ করলেও আমাকে তেমন সন্দেহ করতো না কেউ। আমি চুপচাপ করে দুষ্টামি তে অংশগ্রহণ করতাম যাকে বলে নীরবতায় অংশগ্রহণ।
আমরা যেহেতু ক্লাস ফাইভে ছিলাম যেহেতু দিনে এবং রাতে দুই বেলাতে কোচিং হতো। যখন আমাদের দিনের কোচিং টা শেষ হয়েছিল রাতে একটি এক্সাম নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কারো কোন রকম প্রস্তুতি ছিল না এক্সামের জন্য। সকলেই দ্বিধা করছিল এক্সাম দিতে। কিন্তু স্যার কিছুতেই মানতে চাচ্ছিল না।কারণ স্যার এক্সামটার কথা আমাদের দুই দিন আগে জানিয়েছিল। কিন্তু আমরা তেমন ভাবে বুঝতে পারিনি আজকেই নিবেন এক্সাম টা।কারণ স্যার কখনোই আমাদের সঠিক সময় জানিয়ে দিত না। হঠাৎ করেই আমাদের এক্সাম নিতো প্রিপারেশন ছাড়াই। কারণ আমাদের তিনি তো আগেই বলেছিলেন এটা আমাদের ব্যর্থতা।তিনি আগেই বলেছিল যে কোন সময় এক্সাম হতে পারে তোমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখো।
বিকেল বেলায় স্যার আমাদের বলেন তোমাদের সন্ধার পরেই সাতটা থেকে এক্সাম শুরু হবে মানে ফার্স্ট ক্লাস থেকে এক্সাম টা হবে। সকলেই বেশ চিন্তিত কারণ তার ছিলেন ভীষণ রাগী। একটা করে ভুলের জন্য একটা করে মার বরাদ্দ ছিল। ছেলেরা তো একদম চুপসে গিয়েছিল কারণ আজকে কারো রেহাই নেই। চার বান্ধবী মিলে একটি দুষ্ট পরিকল্পনা করি। বিকাল বেলায় যাতে সন্ধার আগে কোচিং ছুটি হয়ে যায়। গ্রামে যেহেতু কারেন্টের কোন ঠিক ঠিকানা নেই।যেকোনো সময় কারেন্ট চলে যেতে পারে। এই জন্য আমাদের কোচিং এ জেনারেটরের ব্যবস্থা ছিল। আমরা বুদ্ধি করেছিলাম জেনারেটরের একটা তার কেটে রেখে দিব। যাতে সন্ধ্যার পর আর কোন লাইট না জ্বলে। ঠিক তেমনটাই করলাম চারজনে মিলে। লাইনটি কাটার পর আমরা রুমে বসে ছিলাম। জেনারেটরের লাইনটা আমাদের কোচিংয়ের বাথরুম থেকে কাছেই ছিল। তাই বাথরুম যাওয়ার নাম করে সেখানে গিয়ে তার কেটে রেখে এসেছিলাম আমরা। সেটি কোনভাবেই বুঝতে পারিনি স্যাররা।অবশেষে যখন লাইট জ্বলছিল না তখন স্যাররা জেনারেটরের লোকের কাছে ফোন করেছিলেন। কোথায় সমস্যা এসে দেখে যাওয়ার জন্য।কিন্তু তারা জানায় আজকে আসতে পারবেনা। আমরাও এই যাত্রায় বেঁচে যাই এক্সাম টা দিতে হলো না।আর কারেন্ট ও ছিল না।আকাশেও বেশ কালো মেঘ জমে ছিল যেকোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে পরে কোচিং ছুটি হয়ে গিয়েছিল। আমরা তো বেশ খুশি হয়েছিলাম।তারপর সকলে যে যার বাড়িতে চলে যাই।আজ এই পর্যন্ত। ধন্যবাদ সবাইকে।
আমি মারিয়া মুক্তি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @maria47. আমি রান্না করতে ভালোবাসি। নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে আমার ভালো লাগে। আমি ঘুরতে যেতে অনেক পছন্দ করি।
ছেলেবেলায় আসলে আমরা সবাই-ই কমবেশি অনেক দুষ্টুমি করেছি। আপনার লেখা পড় সেইসব দিনের কথা মনে পড়ে গেলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
হ্যাঁ ঠিক বলেছেন ভাইয়া ছেলেবেলায় আমরা অনেক দুষ্টামি করেছি।যা এখনও মনে পড়ে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
বাহ্ আপনি তো বেশ চতুর ছিলেন আপু। সবাইকে সন্দেহ করলেও আপনাকে সন্দেহ করত না। তার মানে বোঝা যায় আপনি অনেক বুদ্ধিমান ছিলেন। পরীক্ষা না দেয়ার জন্য দারুন একটি বুদ্ধি করেছিলেন।যাইহোক ছোটবেলার আমাদের অনেক স্মৃতি রয়েছে যা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়। আপনার ছোটবেলার কাহিনীটি পড়েও ভালো লাগলো।
হ্যাঁ আপু আমাকে কেউ ধরতে পারতো না সকলেই শান্ত মেয়ে বলেই জানতো।ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
আপনি তো দেখছি বেশ চালাক প্রকৃতির ছিলেন।চুরি করে ধরা পড়তেন না।আসলে আপু ছোট বেলাটা সত্যি দুষ্টমির সময়।তবে আমরা যতটা মজা করেছি কিন্তু এখনকার বাচ্চারা মনে হয় এতটা মজা করতে পারে না। তারা শুধু ডিভাইস নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অনেক সুন্দর লিখেছেন আপু ধন্যবাদ আপনাকে ।
হ্যাঁ আপু আমরা যে দুষ্টামি বা মজা করেছি টা এখনকার বাচ্চারা এখন তেমন মজা করতে পারে না।ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
কি ভয়ংকর ভাবে কোচিং ফাঁকি দিয়েছেন আপু। আসলে ছোটবেলায় দুষ্ট বুদ্ধি যখন মাথায় চেপে বসে তখন কোনটা ভুল কোনটা সঠিক তা মাথায় আসেনা। জেনারেটরের তার কেটে দিয়ে কোচিং ফাকি বেশ ভালো বুদ্ধি এঁটেছিলে। ধন্যবাদ পোস্ট টি ভাগ করে নেয়ার জন্য।
ছোট বেলায় আমাদের মাথায় কোনো দুষ্টামির কথা চাপলে যতক্ষণ না সেই কাজটি করতাম সেটা মাথা থেকে নামতো না।ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
খুবই সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন আপনি। আসলে আমরাও ছোটবেলায় এরকম বুদ্ধি ব্যবহার করে বাসায় চলে আসতাম৷ কোচিং থেকে অনেকদিনই আমরা এভাবে চলে এসেছি৷ ধন্যবাদ এই সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য৷