একজন অসহায় নারীর গল্প-শিক্ষার মূল্য আজ কোথায়?
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন বন্ধুরা ? আশা করি সবাই বেশ ভালই আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে বেশ ভালই আছি। তবে সময়টা কেন জানি ভাল যাচেছ না।
আজকে মনটা বিষণ খারাপ। অনেক টেনশনের মধ্য দিয়ে জীবন যাচ্ছে। মনে হচেছ ভুলটোজার দিয়ে সব কিছু গুড়িয়ে দেই। আমার মনে হয় চাকুরীজীবী হওয়ার চেয়ে গৃহিনী হওয়াটাই বেশ ভাল। তার কারণ চাকুরী হলো একটা প্যারা। কখন যে কি ঘটে যায় বলা মুশকিল। আমার মনে হয় বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার বেশ অবনতি হয়েছে। জানিনা এটা যুগ যুগ ধরে চলবে কিনা। তবে এতটুকু বুঝতে পারছি এ সমাজে অসহায় মানুষ গুলোর টিকে থাকা দায়।
বর্তমানে চাকুরী মানে তোষামোদি, তেলবাজি আরও কত কি? কিন্তু যোগ্যতার বিচার এখানে হয় না। তেলের হিসাব হয় বেশী বেশী। যে যত তেলবাজ তার ক্ষমতা তত বেশী। কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে যারা মিথ্যা কে সত্য বলতে পারে না। যারা মিথ্যা বলে কাউকে খুশি করতে জানেনা। অথবা যারা নিজের অস্থিত্ব কে বিসর্জন করতে জানেনা। তাদের জীবনে নেমে আসে কাল বৈশাখী ঝড়।
ছবি সোর্স
Made By-@maksudakawsar
রুনা ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স এবং এলএলবি কমপ্লিট করেছে। পারিবারিক টানাপোড়েনে তাকে নিজের ক্যারিয়ার বাদ দিয়ে বাবার অফিসে সরকারী চাকুরী নিতে হয় একজন কেরানীর পোস্টে। যেখানে মাত্র এইচ এস সি পাশ করলেই একটি কেরানীর চাকুরী মিলে। সেখানে রুনা নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিসর্জন দিয়ে এই চাকুরী টি নেয়। অবশ্য রুনার সাথে যাদের চাকুরী হয় তাদের কেউ এইচ এস সি এর উপর শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়। হয়তো বা রুনা চাইলে হতে পারতো একজন আইনজীবী, হতে পাড়তো অধ্যাপিকা বা একজন ব্যাংকার। কিন্তু পারিবারিক কারনে পরিবারের দিকে তাকিয়েই তাকে নিতে হলো বাবার অফিসে একজন কেরানীর চাকুরী। রুনা তার মেধা আর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি বসদের কাছে অনেক প্রিয় হয়ে উঠেন। যা নিয়ে তার অফিসের কিছু দুষ্টু কলিকরা তার প্রতি একটু বিরুপ হয়ে উঠে। যেহেতু রুনা কোন বিনিময় ছাড়াই মানুষের কাজ করে দেয়, তাই তার জন্য অফিসের বাকী স্টাফদের সমস্যা হতে শুরু করে। তাই বাকী স্টাফরা উঠে পড়ে লাগে রুনাকে সরানোর জন্য। কিন্তু তারা বাড়ে বাড়ে ব্যর্থ হয়ে যায়।
রুনা সারা জীবনই নিজেকে সৎ পথে চালানোর এক বিশাল শপথ নিয়েছে। তাই রুনা সরকারি চাকুরী করলেও গা ভাসিয়ে দেয়নি কোন অৎ পথে। চাকুরী জীবনের প্রথম হতে সে দেখে আসছে অফিসের পরিবেশ তেমন ভাল না। এখানে কেউ কাউকেই মান্য করে না। ফাইভ পাশ করা একজন পিয়নের কথায় চলে একটি সেকশন। যেখানে অফিসের বসেরা সেই পিয়ন কে তোষামদ করে চলে। শুধু মাত্র তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য।
রুনা যেহেতু সিম্পল জীবন যাপন করতে পছন্দ করে তাই সে সবসময়ই খুব কমদামী পোশাক পড়েতে বেশ পছন্দ করে। বেশী দামী কোন কিছুই কিনে পড়া বা বিলাসিতা করা সে কখনওই পছন্দ করেন না। এ নিয়েও তার অফিস কলিংদের কাছে শুনতে হয় নানা ধরনের কথা। এদিকে রুনার পারিবার কে দেখা শুনার জন্য একটু দেরীতেই বিয়ে করেতে হয় রুনাকে। এই বিয়ে নিয়েও তাকে অনেক কথা শুনতে হয় অফিস কলিকদের কাছে। কিন্তু রুনা এ নিয়ে কোন প্রতিবাদ করেন না। বদলীর ভয়ে। কারন সব ক্ষমতার মালিক তো তারাই।
এভাবে দিনের পর দিন যায়। দুষ্ট মানুষগুলো রুনাকে অনেকবার সেখান থেকে বদলী করতে চাইলেও পারে না। কারন রুনার বসেরা তাকে বেশ ভাল জানে। কিন্তু না ভাল মানুষ তো আর সব সময় থাকে না। এক সময় রুনার অফিস থেকে সব ভাল মানুষগুলি চলে যায়।এক সময় দুষ্ট লোক গুলো রুনাকে বিভিন্ন ভাবে ডিসষ্টাব করতে লাগলো। একসময় রুনা প্রতিবাদি হয়ে উঠে। তাদের সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শুরু করে দেয়। কিন্তু কি আর করবে রুনা কার কাছে অভিযোগ করবে। অফিসে আসে কিছু দুষ্ট অফিসার। যারা টাকার জন্য নিজেদের অস্থীত্ব বিক্রি করে দেয় অফিসের সে সব দুষ্ট মানুষের কাছে।
তখন দুষ্ট লোক গুলো রুনার বিষয়ে অফিসারদের কান ভাড়ি করতে থাকে। এক সময়ে অফিসারা রুনার বিষয়ে একশন এ্যাকশন নেওয়ার জন্য আরও উপর মহলে সত্য মিথ্যা বানিয়ে বলে। যার কারনে রুনা কে আর সে অফিসে রাখা হয় না। অনত্র্য পাঠানো হয়। আর এসব দেখে অফিসের সেই দুষ্ট কর্মচারীগুলো মহাখুশিতে নাচঁতে থাকে।
Hello, friend!
This post has been upvoted by the Steemgoon curation team.
Thank you for sharing content and contributing to the STEEM blockchain.
If you would like to support us, please consider witness voting for @steemgoon.witnez witness!, your vote is very important to us!.
সমাজের সৎ লোকের কোন অস্তিত্ব নেই সৎ কাজের কোন মর্যাদা নেই সব কিছু হচ্ছে টাকার খেলা এবং মিথ্যা আর তেলবাজি।যে যত বেশি মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তরিত করতে পারে এবং তেলবাজি করতে জানে সেই বেশি টিকে থাকে এই সমাজ ব্যবস্থায়।অবশেষে মিথ্যার লড়াইয়ের জয় হলো এবং তারা সফল হলো রুনাকে অফিস থেকে বদলি করে।বেশ ভালো লেগেছে আপনার সুন্দর কথাগুলো শেয়ার করার জন্য।
জি আপু এখন শুধু মিথ্যার জয় হচ্ছে।
আসলে এখন তো সৎ মানুষের কোন মূল্যই নেই। যার কারণে অসৎ এর সংখ্যা একটু বেশি বেড়ে গিয়েছে। রুনা নিজেকে সারা জীবন সৎ থাকার জন্য শপথ নিয়েছে কিন্তু অফিসের কিছু দুষ্টু এবং খারাপ কলিগদের জন্য পারেনি। সৎ মানুষ হলে কি খারাপ। ঠিকই বলেছেন তাহলে শিক্ষার কি মূল্য রইলো সমাজের কাছে এবং জাতির কাছে। এটা জেনে ভীষণ ভালো লাগলো রুনা এখন নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছে এবং খুবই সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করছে। আজকের লেখার টপিক কিন্তু অসাধারণ ছিল।
না আপু রুনা কোন নতুন জব পায়নি. রুনার অন্য অফিসে বদলি হয়েছে।
এরকম গল্প গুলোর মাধ্যমে বাস্তবের অনেক ঘটনা এবং সত্যি কথা জানা যায়। যেমন রুনার ব্যাপারে বেশ ভালই কিছু বিষয় জানতে পারলাম। এখন তো সৎ মানুষের থেকে অসৎ এবং খারাপ মানুষদের সংখ্যা একটু বেশি। আর অসৎ মানুষগুলো চায় সৎ মানুষগুলো যেন চলে যায়। যার কারনে আমাদের সমাজে এবং জীবনে অনেক কিছুই চলে আসে। রুনাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। যার কারনে খারাপ লাগলো। সে এখন তাহলে নতুনভাবে চাকরি পেয়ে জীবন যাপন করছে। ভালই লাগলো শুনে।
ভাইয়া এটা গল্প না এটা বাস্তব সত্য একটি ঘটনা।
আপনার পোস্টে পড়ে অনেক খারাপ লাগলো। রুনা একজন গেজুয়েট লোক। অথচ সেই তার বাবার অফিসে কেরানির চাকরি করতেছে। একটা প্রবাদ আছে একজন লোক যখন উপরে উঠতে চায় তখন দুষ্ট লোকগুলো তার লেজটি ধরে টেনে নিচে নামাতে চাই। যে দুষ্ট লোক গুলো উনার পিছনে লেগেছে তারা কেউ তার যোগ্য না। আর অযোগ্য লোক গুলো সব সময় এই কাজগুলো করে অন্যের ক্ষতি করতে চায়। অনেক সুন্দর মূল্যবান একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
কিন্তু কি দুঃখ জানেন আপু? অযোগ্য লোকেদেরই দাম সমাজে দাম বেশি।
আপু রুনার মত হাজার হাজার নারী নিজের শিক্ষার মান রক্ষার্থে লড়াই করে যাচ্ছে। অনেক সময় তারা সফল হচ্ছে আবার অনেক সময় ব্যর্থ হচ্ছে। সততা রুনার জন্য অভিশাপ নয়। রুনারা যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যর্থ হয় তবে শেষে তাদেরেই জয় হয়। ধন্যবাদ আপু।
আল্লাহ জানে কি আছে রুনার কপালে?
এটা গল্প হলেও আমাদের সমাজে এরকম অসংখ্য রুনা রয়েছে যারা এরকম পরিস্থিতির শিকার হয়ে যায়। এই রুনারা সত্যিই প্রতিবাদ করতে পারেনা আর প্রতিবাদ করলে বিপদে পরে যায়।
ভালো লিখেছেন গল্পটা।
এটা কোন গল্প না ভাইয়া এটা বাস্তব সত্য ঘটনা।