শৈশবের ফেলা আসা দিনগুলির স্মৃতি - "ভূতের ভয়ে বাবার বুকে ঘুমানো"
আসসালামু আলাইকুম
আসসালামু আলাইকুম
"ভূতের ভয়ে বাবার বুকে ঘুমানো" |
|---|
শুভ সকাল প্রিয় আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি পরিবার। সকলের সুস্থ্য জীবন, সুস্থ মন আর সুস্থ্য দেহ কামনা করে আজ আবার চলে আসলাম নতুন আরও একটি ব্লগ নিয়ে আপনাদের মাঝে । জীবনটা যে কোন দিকে দিয়ে পার হয়ে যাচেছ, কোন দিক দিয়ে বয়ে যাচেছ সময় সেটা বোঝার সময় নেই। সকাল গড়িয়ে বিকেল, আর বিকেল গড়িয়ে সকাল এভাবেই শেষ হয়ে যাচ্ছে জীবনের প্রতি মূহূর্ত। শুধু রয়ে যাচ্ছে জীবনের ফেলে আসা স্মৃতি গুলো। আর এই স্মৃতিগুলোর কিছুটা হয়তো বা আনন্দের। আবার কিছুটা হয়তো বা বেদনার।
কোথায় গেল সেই ছেলেবেলা? যে ছেলেবেলায় মায়ের হাতে গোসল না করলে মন ভরতো না। যে ছেলেবেলায় বাবাকে জড়িয়ে ধরে না ঘুমালে ঘুম আসতো না। যে ছেলেবেলায় বাবা অফিস হতে ফেরার সময় ব্যাগ ভরে পছন্দের জিনিসগুলো নিয়ে আসতো আমাদের জন্য। এখন তো শুধু আমরাই আছি। আর সব হয়ে গেছে স্মৃতি। তবে ভুলতে পারবো না সে সময় গুলো। আর চাইলেও ভোলা যায় না। ধন্যবাদ @rme দাদা কে এমন সুন্দর একটি সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। যেখানে আমরা অনায়াসেই আমাদের ছেলেবেলার সোনালী সময় গুলো তুলে ধরতে পারি অকাতরে। প্রিয় বন্ধুরা আজও আসলাম আপনাদের মাঝে ছেলেবেলার নতুনকিছু স্মৃতি নিয়ে। আশা করি আমার আজকের স্মৃতিগুলোও আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
আমার বাবা সরকারি চাকুরী করার সুবাধে আমরা থাকতাম সরকারি বাস ভবনে। তো আমাদের কোয়াটারের চারদিকে অনেক গাছপালা ছিল। আর আমাদের বাসার ঠিক পেছনে বড় একটি তালগাছ ছিল। ছেলেবেলায় শুনতাম যে সে গাছে নাকি অনেক খারাপ জিনিস এর বসবাস। যদিও কখনও নিজের চোখে দেখা সুযোগ হয়নি। কিন্তু প্রতিনিয়ত এই গাছ নিয়ে অনেক কথা শুনতাম। গভীর রাতে নাকি এই গাছে জীন ভূতেরা নাচানাচি করে, গান গায়, হাসাহাসি করে আরও কত কি। তো বেশ ভয় পেতাম সেই গাছটি দেখলেই।
ছেলেবেলায় যদিও আমি এসব কিছু নিজের চোখে দেখি নি। তবুও এসব নিয়ে আমারও আছে কিছু স্মৃতি আছে। আর আমার সেই সব স্মৃতিগুলো কিন্তু আজও মাঝে মাঝে মনে হলে গা শিউরে উঠে। আমরা থাকতাম দোতালায়। কোয়াটারে মোট ৩২টি ফ্লাট ছিল। আর ৩২টি ফ্লাটের মধ্যে ৪টি সিড়ি ছিল। আবার প্রতিটি সিড়ির ভিতর দিয়ে মানে চার তলার উপরে খোলা ছাদ ছিল। আমার আজও মনে পড়ে ছেলেবেলার সে সময়ের কথা। কতদিন রাতে যে ভয়ে বাবাকে কুচকে ধরে ঘুমিয়েছি সেটা বলার নয়।ভয়ে কুচঁকে থাকতাম।
আর ভয় পাবো নাই বা কেন বলেন তো। রাতে তো ঘুমাতে পারতাম না। কারন আমাদের সিড়ি দিয়ে প্রতিদিন খরম পড়ে এসব জিনিস আসা যাওয়া করতো। ও কিযে আওয়াজ সে খরমের। আজও কানে ভাসে। ঠক ঠক ঠক ঠক। আর যখন এমন ঠক ঠক আওয়াজ শুনতাম তখন ভয়ে বাবা কে জড়িয়ে ধরতাম। আবার কিছু রাত গভীর হলেই শোনা যেত নুপুরের আওয়াজ। কারা যেন নাচানাচি করছে। আবার পাটা পোতায় মসলা বাটার শব্দ, হাসাহাসি আর কান্নার আওয়াজ। সত্যি কিন্তু এসব ঘটনা। কেউ আবার মিথ্যা বা গল্প মনে করেন না যেন। এরকম ভাবে অনেক সময় কেটে গেল।
একদিন রাতে কারেন্ট নেই। তো আমার বড় ভাই আর চাচা সিড়ি দিয়ৈ উঠে আসছে। এমন সময় কে একজন রাস্তা আটকে দাড়াঁলো। সে আমার চাচাকে বলল তার হাতের নিচে দিয়ে যেতে। অবশ্য আমার চাচা ছিল বেশ বুদ্ধিমান এবং সাহসী। তো চাচা আর তার কথায় সায় না দিয়ে পকেটে রাখা দেশলাই টি জ্বালিয়ে দিলো। বাস আর কিছু চোখে পড়েনি।আমার ভাই তো অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিল। শুনেছি সাদা পোশাক পড়া আর ইয়া লম্বা দেখতে নাকি কে ছিল তখন।এরপর বড় ভাই কখনও সিড়িঁ দিয়ে একা একা উপরে উঠতো না।
আমাদের একই সিড়িতে চারতলার একটি ফ্লাটে একজন বয়স্ক মহিলা কাজ করতো। তো তিনি প্রতিদিন সকাল বিকেল বিভিন্ন কাজে সিড়ি দিয়ে উঠা নামা করতো। একদিন উনি নাকি সিড়িতে খুব সুন্দর চকচকে একটি ঘটি পায়। তো সেই বয়স্ক মহিলা সেই ঘটিটি নিয়ে যায়। অবশ্য এর জন্য তার বাসার মালিকরা অনেক রাগারাগি করেছিল। তারা ভেবেছিল কার না কার জিনিস নিয়ে এসেছে। এই নিয়ে না বিরাট ঝামেলা হয়। কিন্তু সেই বয়স্ক মহিলা কারো কোন কথাই শুনেনি। সেই পিতলের ঘটিটি নিজের কাছে রেখ দেয়।
একদিন মহিলা নাকি স্বপ্নে দেখে তাকে কে বলছে সেই ঘটিটি তিনি যেন জায়গা মত রেখে দিয়ে আসে। আর মহিলা পরদিন ঘুম থেকে জেগে এসব কথা সবার কাছে বলে দেয় এবং সেই ঘটিটি জায়গা মত রেখে দিয়ে আসে। তখন এই বিষয়টি নিয়ে কোয়াটারের মধ্যে বেশ আলোচনা হতো। সন্ধ্যার পর কোন বাচ্চারা আর ঘর হতে বের হতো না। এভাবেই সময় যাচ্ছিলো। কিছুদিন পর সেই মহিলা বাড়িতে যায়। বাড়ি থেকে ফোন এসেছে জরুরী বাড়িতে যেতে হবে। কিন্তু আর্শ্চয্যের খবর হলো মহিলাটি বাড়িতে যাওয়ার দুদিন পরই পুকুরে ডুবে মারা যায়। তার লাশ পুকুরে পুতা অবস্থায় পাওয়া যায়। মানে তার মাথা নাকি মাটিতে পুতা ছিল। আর এসব কথা এলাকায় প্রচার হলে এলাকার সবাই বেশ ভয় পেয়ে যায়।
কিছুদিন পর এলাকার সবাই মিলে মসজিদের ইমাম সাহেবের সহায়তা নিয়ে সেই বড় তালগাছটি সহ কোয়াটারের অনেক গাছপালা কেটে ফেলে এবং এলাকার চারদিক দিকে বন্ধ করে দেয়। আর তারপর হতে আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা আর এলাকায় শোনা যায় নি। যদিও আমরা এখন আর সেখানে থাকি না। আজও আমার ছেলেবলার সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে গা শিউরে উঠে।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবার আসবো আপনাদের মাঝে নতুন করে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে। সকলের সুস্থ্যতা কামনা করে বিদায় নিচ্ছি। আর ও হ্যা কেমন লাগলো আমার আজকের শৈশবের কাহিনী। আপনাদের সুন্দর সুন্দর মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Tweeter
আয় হায় আপু! এগুলা কী শুনাইলেন। এখন তো মনে হচ্ছে আমারও আজকে রাতে ঘুম হবে না 🫣🫣🫣
আপু আমি তো অনেক রাতে ঘুমাইনি। এখন আপনারও একটু না ঘুমিয়ে থাকেন। হি হি হি। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
শৈশবে যে আপনার কতটা ভয়ে কেটেছে তা লিখাটি পড়লেই তা পরিস্কার বোঝা যায়। অবশ্য যা লিখেছেন তা শুনলে ভয় লাগারই কথা। এটা ঠিক যে মানুষের পাশাপাশি দুনিয়াতে জিন জাতি ও বসবাস করে। তাদের মধ্যে খারাপ জিন মানুষকে একা বা নির্জনে পেলে ক্ষতি করত।অবশ্য সে সময় গ্রামাঞ্চল বা শহরের অনেক জায়গায়ও কারেন্ট এবং লোকজন বেশি ছিল না।অসংখ্য ধন্যবাদ আপু, এত সুন্দর করে শৈশবের স্মৃতি আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।অবশ্য ভয়ও পাইয়ে দিয়েছেন আপু।🥹🥺
জি ভাইয়া ঠিকই বলেছেন, তখন কিন্তু জনবসতি খুবই কম ছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
আসলে ছোটবেলায় দাদীর মুখে ভূতের গল্প শুনেছি অনেক। তবে কখনো কিছু দেখিনি। আপনি যে ভয়ংকর ঘটনা শোনালেন আপু,এই অবস্থায় যে কেউ ভয় পাবে। আমি হলে তো কোয়ার্টার ছেড়ে দিতাম। প্রতিদিন এমন ভয়ভীতি নিয়ে থাকা সম্ভব নাকি। তবে এখন ভূত পেত্নীর আনাগোনা খুবই কম। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাইয়া কি করে কথা ছাড়ে বলেন? সরকারি কোয়াটার বলে কথা। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
সরকারি কোয়ার্টার হোক আর যা ই হোক কেনো,এমন ভয়ভীতি নিয়ে প্রতিদিন থাকা সম্ভব নাকি। যাইহোক ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।