রুই মাছের ঝটপট ঝাল ঝাল ভূনা রেসিপি
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন বন্ধুরা ? আশা করি সবাই বেশ ভালই আছেন। আমিও কিন্তু আপনাদের দোয়ার বরকতে বেশ ভাল আছি। এ মূহূর্তে যে যেখান থেকে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির মাধ্যমে আমাদের সাথে সম্পৃক্ত আছেন সবাই কে জানাই আমার প্রাণ ঢালা অভিনন্দন আর ভালবাসা। আমি মাকসুদা আক্তার। আমি একজন বাংলাদেশী ব্লগার। আর আপনাদের মাঝে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত।
মন খারাপের দেশেই আমার বসবাস। জীবনে মনটাকে আর স্থির রাখতে পারলাম না। আসলে পরের অধীনে নিজের গরদান বলিদান দিলে কি আর স্বাধীনতা থাকে? তাই তো মন বেচারাও ছটফট করতে থাকে কষ্টের নোনা জলে। কি আর করার এই ভাবেই জীবনকে এগিয়ে নিতে হবে সামনের দিকে। আমার মনের মত তো আর পৃথিবী হবে না । বরং আমাকেই পৃথিবীর মানুষের মত করে চলতে হবে। জানিনা ঠিক বললাম নাকি বেঠিক।
তবে মন খারাপ হউক আর যাই হউক পেট বাবাজি তো আর মনের কথা বুঝে না। তার চাই খাবার আর খাবার। আর তাইতো প্রতিদিন একবার হলেও রান্না ঘরের চূলায় একটু আধটু গুতাগুতি করতেই হয়। তো মন খারাপ নিয়েই প্রতিদিন হালকা পাতলা কিছু না কিছু রান্না করে খাচ্ছি। আমার মন খারাপের সেসব রান্নার মাঝ খান হতে আপনাদের জন্য একটি ছোট রেসিপি রেখেছি। আশা করি আপনাদের কিছুটা হলেও ভাল লাগবে।
বন্ধুরা বড় বড় মাছের মধ্যে রুই মাছ কিন্তু আমরা সবাই খেতে বেশ পছন্দ করি। তবে আমি আবার রুই মাছটা ভূনা খেতেই বেশী পছন্দ করে থাকি। তাই তো ঝটপট রান্না করার জন্য রুই মাছের একটি সুস্বাদু রেসিপি করে নিলাম। আর রেসিপিটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য সেই কবে থেকে ভাবছি। অবশেষে শেয়ার করার সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিলাম।
★ টমেটো
★রুই মাছ
★লবণ
★হলুদ গুড়া
★মরিচ গুড়া
★আদা রসুন বাটা
★কাঁচা মরিচ
★তেল
★পেঁয়াজ কুচি
★জিরা গুড়া
ধাপ-১
প্রথমে মাছগুলো লবন দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর ধুয়ে নেওয়া সেই মাছগুলো কে সামান্য লবন আর হলুদ, মরিচ গুড়া দিয়ে মেরিনেট করে নিতে হবে।
ধাপ-২
এবার চূলায় একটি পাত্রে পরিমান মত তেল দিয়ে তেলটা কে ভাল করে গরম করে নিতে হবে। তারপর গরম হওয়া তেলের মধ্যে মেরিনেট করা মাছগুলো একে একে ভাল করে ভেজে নিতে হবে।
ধাপ-৩
এবার মাছগুলো ভাল করে লাল লাল করে ভাজা হয়ে গেলে ভাজা মাছগুলো আলাদা একটি পাত্রে উঠিয়ে নিতে হবে।
ধাপ-৪
এবার মাছ ভাজা সেই তেলের মধ্যে পরিমান মত পেঁয়াজ এবং সামান্য লবন দিয়ে লাল লাল করে ভেজে নিতে হবে।
ধাপ-৫
এবার ভেজে নেওয়া সেই পেঁয়াজ গুলোর মধ্যে একে একে আদা রসুন বাটা, হলুদ গুড়া, মরিচ গুড়া আর সামান্য লবন দিয়ে ভাল করে নেড়ে নিতে হবে। যাতে করে মসলার কাচাঁ গন্ধটা না থাকে।
ধাপ-৬
এবার ভেজে নেওয়া সেই মসলার মধ্যে পরিমান মত পানি দিয়ে মসলার উপর তেল না উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ধাপ-৭
এবার কষানো মসলার মধ্যে আগে থেকে কেটে রাখা টমোটো গুলো দিয়ে নেড়েচেড়ে ভাল করে মসলার সাথে মিশিয়ে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
ধাপ-৮
কিছুক্ষন পর ঢাকনা তুললে দেখা যাবে যে, টমোটোগুলো গুলে গেছে। তখন টমেটোর মধ্যে আগে থেকে ভেজে রাখা মাছগুলো দিয়ে একটু নেড়ে দিতে হবে। তারপর মসলার সাথে মাছগুলো কষানোর জন্য মাছগুলো কিছুক্ষনের জন্য ঢেকে দিতে হবে।
ধাপ-৯
কিছুক্ষন পর ঢাকনা তুলে মাছের মধ্যে পরিমানমত পানি আর কেটে রাখা কাঁচা মরিচ দিয়ে আবার ও একটু নেড়ে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিতে হবে।
শেষ ধাপ
কিছুক্ষন পর ঢাকনা তুলে মাছ ভূনার উপর ভেজে রাখা জিরা গুড়া দিয়ে একটু অপেক্ষা করতে হবে। আর কিছুক্ষনের মধ্যে হয়ে যাবে আমাদের আজকের রুই মাছের ঝটপট ঝাল ঝাল ভূনা রেসিপি।
তো তৈরি হয়ে গেল আমার আজকের রুই মাছের ঝটপট ঝাল ঝাল ভূনা রেসিপি। রেসিপিটি করার সময় আপনাদের জন্য ইউনিক এই রেসিপিটির প্রতিটি ধাপের ছবি তুলে নিয়েছি। যাতে করে আপনারাও বাসায় তৈরি করতে পারেন, মজাদার তেল ছাড়া টমেটোর টক। |
|---|
| ডিভাইস ও মডেল | Oppo A16 |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @maksudakawsar |
কেমন লাগলো আমার আজকের রেসিপি? জানাতে ভুলবেন না যেন। |
|---|
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ঠিক বলেছেন আপু যতই মন খারাপ হোক তবুও আমাদের রান্নাঘরে যেতে হয়। আসলে পেটের ক্ষুধা তো আর মন খারাপ বুঝবে না। তো যাই হোক রেসিপিটা অনেক সুন্দর ছিল। টমেটো দিয়ে মাছ ভুনা আমার কাছেও খেতে অনেক ভালো লাগে। ধন্যবাদ সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
মন খারাপের শহরের বাসিন্দা আমরা, এখন আর মন খারাপ লাগে না। সবকিছু অবলীলায় সয়ে গেছে আমাদের। খেতে হলে তো রান্না ঘরে যেতেই হবে আপু, কিচ্ছু করার নেই। যাক রুই মাছের রেসিপি বরাবরই আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। অনেক লোভনীয় ছিল আপনার রেসিপি।
আপু আমরা মাছে ভাতে বাঙ্গালি তাই যতই রাগ অভিমান করি না কেন,আপনি যদি এভাবে রুই মাছ ভুনা করে দাওয়াত দেন তাহলে কখনও দাওয়াত মিস করে আপনার মনে কষ্ট দিবো না,হি হি হি। রেসিপিটা ধারন হয়েছে, অনেক ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ আপু।
আমি রুই মাছ খেতে খুব পছন্দ করি। তারজন্য আমার বাসায় অন্য মাছের থেকে রুই মাছ বেশি আনা হয়। এভাবে রুই মাছের ঝাল ঝাল ভুনা খেতে আমার অনেক ভালো লাগে আমি প্রায় সময় এই রেসিপি তৈরি করি। আপনার রেসিপি দেখতে লোভনীয় দেখাচ্ছে। ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। ধন্যবাদ মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
হুটহাট মন খারাপ টা আসলেই অনেক বেশি কষ্টের যখন হঠাৎ করেই মন খারাপ হয়ে যায় কিন্তু এই মন খারাপের কারণ যদি না বোঝা যায় তাহলে নিজের মধ্যে এক অস্বস্তি কাজ করে। তবে আপনি খুবই চমৎকার একটি কথা বলেছেন মন খারাপ থাকলেও পেট বাবাজি তো আর মন খারাপের কথা বোঝেনা তাকে তো খাবার দিতেই হবে হাহাহা। যাইহোক মজাদার একটু রেসিপি রান্না করে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন বড় বড় রুই মাছ সকলেই অনেক বেশি পছন্দ করে।