নাটক রিভিউ- মায়ের মোবাইল নাটকের রিভিউ
আসসালামু আলাইকুম
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন বন্ধুরা ? আশা করি আপনারা বেশ ভালই আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে এবং আপনারদের দোয়ায় বেশ ভালই আছি। আমি মাকসুদা আক্তার । তবে আপনাদের মাঝে@maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। সবসময়ই আমি চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে ভিন্নধর্মী কিছু উপহার দেওয়ার জন্য। কারন একই রকমমের জিনিস সপ্তাহের প্রতিদিন আপনাদের ভাল নাও লাগতে পারে।
কর্মব্যস্তময় আমাদের জীবন। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর আমাদের সবার জীবনে দরকার একটু শান্তি আর স্বস্থির পরশ। আর এই স্বস্থির জন্য মানুষ খুঁজে নেয় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম। কেউ গান পছন্দ করে, কেউ নাটক দেখতে পছন্দ করেন। আবার কেউ বা মুভি দেখতে পছন্দ করেন। আর আপনারা যারা এর কোনটাই করার সময় পান না, তাদের জন্য আমি নিয়ে এসেছি একটি সুন্দর নাকটের রিভিউ। আশা করি এতে করে আপনাদের দুধের সাধ কিছুটা হলেও ঘোলে মিটবে। হি হি হি।
প্রাপ্তি: YouTube
| নাটক | মায়ের মোবাইল | |
|---|---|---|
| পরিচালক | মেহেদি হাসান জনি | |
| অভিনয়ে | অপূর্ব, সাবেরী আলম, সারিকা, তাসনিয়া ফারিন আরও অনেকে | |
| দেশ | বাংলাদেশ | |
| ভাষা | বাংলা ভাষা | |
| প্রচার | ২০২২ | |
| সময় | ৪১ মিনিট | |
| প্লাটফর্ম | মাছরাঙ্গা টেলিভিশন |
অপূর্ব এর জন্মদিন আজ । তাই তাকে তার প্রেমিকা তাসরিন ফারিন মোবাইলে উইস করছে। এদিকে অপূর্ব এর মা রাতে তার রুমে দুধের গ্লাস নিয়ে ঢুকলে অপূর্ব তার মাকে জিজ্ঞেস করে তার যে আজ কে জম্মদিন সেটা কি তার মা ভুলে গিয়েছে নাকি। অপূর্ব এর মা সাবেরী আলম বলে না আমি ভুলবো কেন, সবার আগে আমি তোকে ফেসবুকে উইস করেছি। একথা শুনে অপূর্ব বেশ অবাক হয়ে যায়। এর মধ্যে অপূর্ব এর বোন তাকে গিফট দিতে ঘরে আসলে অপূর্ব বলে আমাদের বাসা তো আজকাল হাইটেক অনলাইন হয়ে যাচ্ছে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এদিকে সকালে সাবেরী আলম নাস্তার টেবিলে বলে সে তার স্কুল জীবনের বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাচ্ছে। আর তার এই স্কুল জীবনের বান্ধবীকে সে ফেসবুকের মাধ্যমে খুজে পেয়েছে। তখন অপূর্ব তার মাকে বলে যাও। তবে তোমার কি মনে হচ্ছে না যে তুমি আমাদের কে একটু কম সময় দিচ্ছো। তার মা সাবেরী আলম বলেন যে আসলে তোরা একটু কম কাজে ব্যস্ততো তাই তোদের এমন মনে হচেছ। কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলে দেখবি সবঠিক হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকে তাদের জীবন।< /div>
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
সাবেরী আলম তার বন্ধু বান্ধব আর ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়। ছেলে মেয়ে কোথায় আছে, কোথায় আছে, কি খাচ্ছে এসব যেন খোঁজ করার যেন সময় হয়ে উঠে না সাবেরী আলমের। এমনকি ফোনে কথা বলতে বলতে বা ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকতে থাকতে মাঝে মাঝে ভুলেই যায় যে, তার সন্তানরা তাকে ফোন দিচেছ বা দরজায় কড়া নাড়ছে। আর মায়ের এসব আচরণ অপূর্ব আর তার বোন কে খুব ভাবিয়ে তোলে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এমন কি বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা করা আর ফেসবুক নিয়ে এতই আসক্তি হয়ে পড়ে যে, তার মেয়ের জন্য বিয়ের পাত্র দেখার কথাও সে অনলাইনে করতে বলে। যে কথা শুনে অপূর্ব খুব রেগে যায়। অপূর্ব বলে আসলে তোমাকে আমার মোবাইল কিনে দেওয়া ভুল হয়ে গেছে। সাবেরী আলম বন্ধু বান্ধবের সাথে গেট টু গেদার নিয়ে এত ব্যাস্ত লাইভ লিড করে যে, বাসায় রান্না বান্না টা ও ঠিক মত করা হয়ে উঠে না।আবার তার সন্তানদের কে সময়ও দিতে পারে না। এসব কিছু তার সন্তানদের ভাবিয়ে তুলছে দিনের পর দিন।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
তারপর একদিন দুই ভাই বোন মিলে চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে তার মায়ের মোবাইল তারা চুরি করে লুকিয়ে রাখবে। আর জিজ্ঞেস করলে বলবে তারা দেখে নাই। তাই একদিন তারা মোবাইলটি সরিয়ে ফেলে। আর সাবেরী আলম বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। কিন্তু সাবেরী আলম বুঝে ফেলে যে মোবাইল তার সন্তানরা সরিয়ে ফেলেছে। এসব বিষয় নিয়ে অপূর্ব তার মায়ের সাথে রাগারাগি করে। তারা তার মাকে বলে তুমি অনেক বদলে গেছ। তুমি এখন ফেসবুক, ফ্রেন্ড আর অনলাইন নির্ভর হয়ে গেছ। আমাদের জন্য তোমার সময় কোথায়। আমরা ভাল নেই। তুমি তো আমাদের কোন খোঁজ খবর রাখোনা। এসব কথা শুনে সাবেরী আলম স্তব্দ হয়ে যায়।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সাবেরী আলম কে বাসার কোথাও খঁজে পাওয়া যায় না। খোঁজা খুঁজি করে সাবেরী আলম কে পাওয়া না গেলেই তার মোবাইল আর একটি চিঠি পাওয়া যায়। যেটা সে তার সন্তানদের জন্য সে রেখে গেছে। সাবেরী আলম তার চিঠিতে সন্তানদের কে মনে করিয়ে দেয় যে, তাদের এমন আচরণে সে কোন কষ্ট পায় নাই। কিন্তু সে সময়গুলো তখন সাবেরী আলমের কেমন কেটেছে। তা তার সন্তানরা জানে?
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
যখন অপূর্ব এর জম্মদিনে বিশাল বাজারের লিস্ট করে রান্না বান্না করে মা বসে থাকতো। আর অপূর্ব রাতে বাসায় ফিরে বন্ধদের সাথে খেয়ে আসার অজুহতে সে খাবার খায় না। সাবেরী আলম রাতে বাসায় একা থাকার কারনে মেয়েকে বাসায় আসার জন্য ফোন দিয়ে মেয়ে বিরক্ত বোধ করে।যখন মায়ের একাকিত্ব জীবনে তার সাথে গল্প করার জন্য তার সন্তানদের সময় থাকে না। তখন অপূর্ব আর সারিকা বন্ধুবান্ধব আর অনলাইন নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। আর মায়ের একাকিত্ব গুচানোর জন্য মাকে এনড্রয়েড ফোন এনে দিয়ে তাতে ফেসবুক একউন্ট করে দেওয়া হয়। তাই সে তার চিঠিতে লেখে আমি এসব ইচ্ছে করে করেছি। দেখতে চেয়েছি তোদের কেমন লাগে। সাবেরী আলমের এসব কথা চিঠিতে পড়তে পড়তে অপূর্ব আর সারিকা সেসব কথা কল্পনা করতে থাকে।
এখন অপূর্ব আর সারিকা তাদের নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। তারপর তার মা বাসায় ফিরে আসলে তারা মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। তারা বলে মা তুমি ছাড়া আমরা ভাল থাকতে পাড়বো না। সাবেরী আলম বলে মা সন্তানদের উপর রাগ করে থাকতে পারে না। আর এভাবেই নাটকটি শেষ হয়ে যায়।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
নাটকটির রিভিউ করতে গেলে আমি প্রথমেই বলবো যে, আমার মনে হয় নাটকটি সমাজের সে সকল সন্তানদের জন্য যারা অনলাইন, বন্ধুবান্ধব আর নিজের ব্যস্ততার জন্য বাবা মায়ের একাকিত্ব সময়ে তাদের কে সঙ্গ দিতে চায় না। বিরক্ত বোধ করে। আসলে আমাদের প্রত্যেকের বুঝে নেওয়া দরকার যে বাবা মা কখনও সন্তানের কাছে কিছু চায় না। শুধু চায় একটু সময় আর ভালবাসা। যেটা কোন ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যম পূরণ করতে পারে না। পরিচালক নাটকটির মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন মা বাবকে কোন এনড্রয়েড বা সামাজিক মাধ্যমে ব্যস্ত রেখে নয় বরং ভালবাসা আর একটু সময় দিলেই তারা আমাদের উপর খুশি।
| পরিচালনা | ১০ |
|---|---|
| কাহিনী | ১০ |
| অভিনয়ে | ১০ |
ভাল থাকবেন , সুস্থ্য থাকবেন।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আপু আপনার এত সুন্দর নাটক রিভিউ পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এর আগে এই নাটক দেখা হয়নি কিন্তু আপনার রিভিউ পড়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম। সত্যিই তো নিজেদের ব্যস্ততার জন্য বাবা মায়ের একাকিত্ব সময়ে তাদের কে সঙ্গ দেওয়া হয়না।আমরা তখন বাবা-মার কষ্ট বুঝিনা কিন্তু যখন তারা আমাদের সময় দিতে চায় না তখন ঠিকই তাদের উপর রেগে যাই। সবসময় বাবা-মা কে সময় দেওয়া উচিত।কারণ তাদের ও তো একটা ইচ্ছে থাকে আর সেই ইচ্ছে গুলো পূরণ করা উচিত। ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপু নাটকের রিভিউ আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমারও বেশ ভাল লাগলো। ধন্যবাদ আপু আপনাকে। সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
নাটকের কাহিনী আসলেই অনেক ভালো লাগলো। অপূর্বের নাটক এমনিতেই আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। এই নাটকে মায়ের গুরুত্বটা কতটা তা বুঝতে পেরেছি। এত সুন্দর একটি নাটক আমি একসময় দেখে নেব।
ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর এবং গঠন মূলক মন্তব্য করার জন্য।
আপু নাটকটি আমি অনেক আগেই দেখেছি।আমার অনেক ভাল লেগেছে।আসলে বর্তমানের চিত্র এই নাটকটিতে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।আজকাল ছেলেমেয়েরা মা - বাবার কোন খবর রাখেনা। নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে। খুব সুন্দর হয়েছে নাটকটি।আপনি নাটকের রেটিং একদম ঠিক দিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ করার জন্য।
যাক তাহলে কমন পড়ে গেল। আপনিও আমার মত নাটকটি দেখেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
অনেক সুন্দর একটি নাকট রিভিউ করেছেন ৷ নাটকটি আমি এর আগেও দেখেছি ৷ অনেক সুন্দর একটি গল্প নিয়ে নাটকটি তৈরি ৷ আমারও বেশ ভালোই লেগেছে ৷ যাই হোক সুন্দর ভাবে নাটকটি রিভিউ করেছেন ৷ অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য
ধন্যবাদ আপনাকেও সুন্দর আর চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
অনেক সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপু। এখনকার সময় ছোট থেকে বড় সবাই ফোন হাতে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। পরিবারকে এবং মা বাবাকে তারা এখন সময় দিতে পারে না। এই নাটকের মধ্যে শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে
ধন্যবাদ আপু সুন্দর এবং চম]কার একটি মন্তব্য করার জন্য।
নাটক দেখতে ভালোই লাগে তবে ধৈর্য্যের অভাবে দেখিনা।একদিন সময় করে দেখে নিব নাটকটি।আপনার রিভিউ পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো আপু।ধন্যবাদ আপনাকে এতো সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
জি আপু পাড়লে সময় করে নাটকটি দেখলে ভালই লাগবে।
ঠিক বলেছেন যারা নাটক দেখার সময় পায় না তাদের জন্য রিভিউ গুলো ভাল উপভোগ করার মত। খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। অপূর্ব আমার পছন্দের অভিনেতার মধ্যে অন্যতম। নাটকের প্লট আমার খুব ভাল লেগেছে। বর্তমান এর মডার্ন ছেলে মেয়েদের বাস্তব চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের পাল্লায় পরে বাবা মা আত্মীয় স্বজনের কথা ভুলেই যায়। খুব সুন্দরভাবে রিভিউ লিখেছেন। ধন্যবাদ আপু।
জি ভাইয়া আমি তো মাঝে মা্ঝে ভাবি। হাইরে অন লাইন।