নাটক রিভিউ- ঈর্ষা নাটকের রিভিউ
ঈর্ষা নাটকের রিভিউ
ঈর্ষা নাটকের রিভিউ
আসসালামু আলাইকুম
আসসালামু আলাইকুম
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আবার চলে আসলাম আপনাদের জন্য নতুন একটি নাটকের রিভিউ নিয়ে আশা করি আমার আজকের নাটকের রিভিউটিও আপনাদের কাছে বেশ ভাল লাগবে।
কর্মব্যস্তময় জীবন আমার। চাকুরী, সংসার, আত্নীয় স্বজন আর আপনাদের কে নিয়ে কেটে যায় নিজেকে একটু প্রশান্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে। সত্যি বলতে এবার ঈদের ছুটিতে বেশ কয়েকটি নাটক দেখা হয়েছে ইউটিউবে। তাই ভাবলাম যে তার মধ্যে একটি নাটক এর কাহিনী আপনাদের সাথে শেয়ার করি। আমার মত আপনারাও একটু মজা পান এই আর কি। হি হি হি।
প্রাপ্তি: YouTube
| নাটক | ঈর্ষা | |
|---|---|---|
| পরিচালক | সৈয়দ শাকিল | |
| অভিনয়ে | অপূর্ব, কেয়া পায়েল, সমু চৌধুরী, সামান্তা পারভেজ এবং আরও অনেকে | |
| দেশ | বাংলাদেশ | |
| ভাষা | বাংলা ভাষা | |
| প্রচার | ২০২৩ | |
| সময় | ৪২ মিনিট | |
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
নাটকটির শুরুতেই দেখা যায় যে, কেয়া পায়েল এবং অপূর্ব দুজনেই ঝগড়া করছে। কেয়া পায়েল এবং অপূর্ব দুজন স্বামী স্ত্রী। তারা ঝগড়া করছে যাতে কেউ কারো জিনিস না ধরে। এ বলছে এটা আমার তুমি ধরবা না , সে বলছে এটা আমার তুমি ধরবা না। এর রকম করতে করতে একটি কেয়া পায়েল হাতে চলে আসে।তখন দেখা যায় যে শাড়ীটি তাদের দুজনের টাকায় কেনা তাই শাড়ীটিকে দু ভাগ করে দুজনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। তাদের ঝগড়ার এক পর্যায়ে কেয়া পায়েল এর বান্ধবী চলে আসে। কেয়া পায়েল না দেখে বান্ধীর কপালে ব্যাগ ছুড়ে মারে। এর মধ্যে অপূর্ব রুম থেকে বের হয়ে চলে যায়।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
অপূর্ব আর কেয়া পায়েল এর এ অবস্থা দেখে বান্ধবী কেয়া পায়েল কে বুদ্ধি দেয় যে অপূর্ব কে ডিভোর্স দিয়ে দিতে। তাই কেয়া পায়েল এর বান্ধবী তার পরিচিত একজন ব্যারেস্টারের কাছে কেয়া পায়েল কে নিয়ে যায়। ব্যারিস্টার আবার সব কথা ভুলে যাওয়া মানুষ। তাই এখানে কিছু হাস্যকর ঘটনার উপদ্রব হয়। তারপর ব্যারিস্টার কেয়া পায়েল কে বলে অপূর্ব এর বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা ও জঘন্য অভিযোগ এনে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য। কিন্তু কেয়া পায়েল অপূর্ব এর বিষয়ে কোন মিথ্যা অভিযোগ আনবে না। তখন ব্যারিস্টার কেয়া পায়েল এর কাছে জানতে চায় তাহলে কেন সে অপূর্ব কে ডিভোর্স দিতে চান। কেয়া পায়েল সব খুলে বলেন তাকে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
কেয়া পায়েল বলেন যে অপূর্ব একজন মেধাবী ছাত্র হওয়ার পর ও সে কিছুই করতে পারছে না। অথচ কেয়া পায়েল এর চাচাতো বোন বিয়ের পর পর কয়েকটি ফ্লাট কিনেছে, তাদের কে দাওয়াত করেছে। এমনকি অপূর্বের যে বন্ধু খারাপ ছাত্র ছিল সে ও গাড়ী কিনে ফেলেছে। আবার তাদের পাশের ফ্লাটের ভাবীও অনেক কিছু করে ফেলেছে। কিন্তু অপূর্ব বলেন এসব তার দ্বারা সম্ভব নয়। সে সৎ থেকে যা করতে পারে। আর যা হবে এমনি এমনি হবে। এর জন্য এত টেনশন করার দরকার নেই। এই নিয়ে তাদের মাঝ ঝগড়া লাগে প্রতিনিয়ত। সব কথা শুনে ব্যারিস্টার বলেন এ কারনে তো কোর্ট ডিভোর্স করাবে না। ডিভোর্স এর জন্য লাগবে উপযুক্ত কারন। তাই তিনি কেয়া পায়েল কে বুদ্ধি দেয় যে অপূর্ব এর বিরুদ্ধে মিথ্যে পরকীয়ার নাটক সাজাতে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এদিকে কেয়া পায়েল তার বান্ধবী যদিও তাদের একজন বান্ধবী কে দিয়ে অপূর্ব এর সাথে মিথ্যা অভিনয় করাতে চায় কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না। কারন অপূর্ব তাকে পাত্তায় দেয় না। বরং সেই মেয়েটিকে পুলিশে দিতে চায়। তখন মেয়েটি ভয়ে পালায়। এদিকে কেয়া পায়েল এর বান্ধবীি হঠাৎ হাত ভেঙ্গে ফেলে । যেহেতু বান্ধবী হোস্টেলে থাকে তাই কেয়া পায়েল তাকে বাসায় নিয়ে আসে। এক সময়ে কেয়া পায়েল এর মাথায় ঢুকে তার এই বান্ধবী কে দিয়েই সে অপূর্ব এর সাথে পরকীয়া প্রেমের অভিনয় করাবে। কিন্তু কেয়া পায়েলের বান্ধবী কিছুতেই রাজি হয় না। এক পর্যায়ে কেয়া পায়েলের অনেক অনুরোধের কারনে সে রাজি হয়।তারপর কেয়া পায়েল তাকে শিখিয়ে দেয় যে কি করে অপূর্ব কে ইমপ্রেস করতে হবে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
তাই তার বান্ধবী অপূর্ব কে নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে বাহিরে যায়। একসময়ে অপূর্ব এর সাথে তার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা একত্রে বাহিরে যায়, ফুচকা খায়। আর এসব দেখে কেয়া পায়েল হঠাৎ জেলাসি ফিল করে। সে অপূর্বের সাথে কাটানো তার ভাল বাসার সময় গুলো কে কল্পনা করতে থাকে। এক সমযে সে তার বান্ধবী কে বাসা থেকে চলে যেতে বলে। কিন্তু তার বান্ধবী তাকে বলে না আমি যাবো না তুই যাবি। তুই তোর স্বামীকে ডিভোর্স দিবি আর আমি সংসার করবো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি লেগে যায়। এর মধ্যে সেখানে অপূর্ব চলে আসে। অপূর্ব কেয়া পায়েল কে বকাবকি করলে কেয়া পায়েল অপূর্ব কে বলে এখন আমাকে তোমার ভাল লাগছে না, না? না লাগুক আমাকে নিয়ে তোমার সংসার করতে হবে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এরই মধ্যে সেখানে চলে আসেন সেই ব্যারিষ্টার। ব্যারিষ্টার। সে ঢুকেই সেখানে ভুলভাল বকতে থাকে। তখন কেযা পায়েল তাকে ধমক দেয়। একসময়ে কেয়া পায়েল জানতে চায় যে ব্যারিষ্টার কি করে অপূর্ব কে চিনে। তখন ব্যারিষ্টার সব কিছু কেয়া পায়েল কে সব খুলে বলে। যা নাটকটি তে কল্পনায় দেখানো হয়। দেখা যায় যে, কেয়া পায়েল এর বান্ধবী অপূর্ব কে নিয়ে সেই ব্যারিষ্টার এর কাছে যান। তখন ব্যারিষ্টার সাহেব তাদের কে অভিনয় করতে বলেন। কেয়া পায়েল এর বান্ধবী প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে যায়।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
সব শুনে কেয়া পায়েল তার বান্ধবী কে মারতে আসে। কেন সে লুকালো। তখন তার বান্ধবী বরে যে দেখ আমি যদি না করতাম, তখন অন্য কোন মানুষের পাল্লায় পড়ে তো তোদের ডিভোর্স হয়ে যেত । তখন তোর কি হতো। এর মধ্যে ব্যারিষ্টার সাহেব আবার ভুলভাল বকতে থাকলে কেয়া পায়েল তাকে ধমক দেন। আর এর মধ্য দিয়েই শেষ হয়ে যায় ঈর্ষা নাটকটি।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
নাটকটির মধ্যে সকল স্বামী স্ত্রীদের জন্য বা সমাজের সকল মানুষের জন্য একটি ম্যাসেজ রয়েছে। আর তা হলো পরের উন্নতি দেখে কখনও ঈর্ষা করতে হয় না। পৃথিবীতে সবার ভাগ্য এক নয়। আর সব মানুষের দ্ধারা সব কাজ সম্ভব নয়। আল্লাহ যাকে যতটুকু দিয়েছেন তাই নিয়ে আমাদের সন্তুষ্ট থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। শুধু শুধু পরশ্রীকাতর হয়ে সংসারে অশান্তি করলে তাতে করে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই আমাদের উচিত ভালবাসার মানুষটির যা আছে যতটুকু আছে তাই নিয়ে সুন্দর একটি ভালবাসার ঘর তৈরি করা। তাহলেই সংসারে শান্তি থাকবে।
আজ কয়েকদিন ধরে ভাবছি নাটকটি আমি দেখবো দেখার সময়ই করে উঠতে পারছি না । অল্প একটু দেখে রেখে দিয়েছিলাম। আজকে আবার আপনার রিভিউ দেখে নাটকটি দেখার ইচ্ছা রইল। অপূর্বর যে কোন নাটকই আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আপনি অনেক সুন্দর ভাবে নাটকটির দিয়েছেন।
আসলে সত্য কথা অপূর্বর যেকোনো নাটক বেশ সুন্দর লাগে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
ভাই আপনার সাথে কিভাবে যোগাযোগ করতে পারি। বা ফেসবুক লিংকটা দেওয়া যাবে।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভাই আপনি আজকে আমাদের শেয়ার করেছেন অপূর্ব ও কেয়া পায়েলর ঈর্ষা নাটক রিভিউ করে। আপনার শেয়ার করার নাটক দেখতে আমার কাছে বিশেষ করে অনেক ভালো লেগেছে। নাটকটির এত সুন্দর কাহিনী আমার কাছে বেশ মজার ছিল। ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটি নাটক শেয়ার করার জন্য।
পারলে সময় করে একবার দেখে নিয়েন নাটকটি আসলে বেশ মজার। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
আপনার এত সুন্দর নাটক রিভিউ পড়ে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। অপূর্বর যেকোন নাটক আমার কাছে খুব ভালো লাগে। তবে এখনো এই নাটক দেখা হয়নি। আপনার মতামত পড়ে বুঝতে পারলাম এই নাটকের কাহিনী খুবই সুন্দর। সত্যি সবার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তারজন্য যার যা কিছু আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। আমি অবশ্যই সময় পেলে অবশ্যই এই নাটক দেখবো। ধন্যবাদ।
জ্বী আপু সময় পেলে নাটক একবার দেখে নিবেন। আশা করি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
আপনার নাটকের রিভিউ টি দেখে সম্পূর্ণ নাটকটি
আরেকবার দেখার ইচ্ছা জাগলো। এই নাটকটি এর আগে দেখা হয়নি তবে নাটকটির কথা শুনেছি অনেক সুন্দর নাকি। অপূর্বর নাটক এমনিতেই আমার অনেক ভালো লাগে । ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
আপু সময় পেলে নাটকটি একবার দেখে নিয়েন। আশা করি বেশ ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
ঈর্ষা নাটক আমার দেখা হয়নি কিন্তু আপনার রিভিউ পড়ে ভালো লেগেছে। খুব সুন্দরভাবে নাটকের রিভিউ লিখে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। অপূর্ব এর নাটক আমার বরাবরই ভালো লাগে। এই নাটক এর রিভিউ পড়ে বুঝলাম ঈর্ষা করে আসলে উন্নতি করা যায় না বরং যার যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। ধন্যবাদ আপু।
ঠিক বলেছেন ভাই ঈর্ষা করে কোন উন্নতি করা যায় না। ধন্যবাদ আপনাকে।
ঈর্ষা নাটকটি আমি গতকালকে মনে হয় দেখেছিলাম। আসলে আমি এমনিতে অপূর্ব এবং কেয়া পায়েলের নাটকগুলো একটু বেশি দেখে থাকি। এই নাটকটি যখন আমি দেখেছিলাম আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছিল নাটকটি দেখতে। আর আজকে আপনার রিভিউ পোস্টের মাধ্যমে দেখে আরো বেশি ভালো লেগেছে। খুব সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ নাটকের রিভিউ লিখেছেন আপনি ভালোই ছিল বলতে হচ্ছে।
যাক তাহলে নাটকট আপনিও দেখেছেন। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।