ভ্রমন পোস্টঃ- নতুন রাজপুত্রের ঈদ কেনাকাটায় আড়ং এ কাটানো কিছুটা সময়
আসসালামু আলাইকুম
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন বন্ধুরা? ঈদ ঈদ আমেজে সবাই বেশ ভালই আছেন মনে হয়। তাই না? ঘরের সবার জন্য কেনাকাটা করতে করতে জীবন শেষ। কারন যে গরম পড়েছে চারদিকে খুব বেহাল দশা। রাতের ঘুম যেন হারাম হয়ে গেছে। তো আর কি করার এর মধ্যেই তো আমাদের কে চলতে হবে। এই আর কি?
বন্ধুরা আসছে পবিত্র ঈদ। চারদিকে যেন বইছে ঈদের বন্যা। আর এই ঈদের বন্যার সাথে আরও একটি নতুন আনন্দ আমার জীবনের সাথে যুক্ত হয়ে গেল। ভাবছেন সেটা কি? বলছি ধৈর্য্য ধরেন। আসলে পৃথিবীতে এমন কিছু সম্পর্ক থাকে যে গুলোর কোন ব্যখ্যা হয় না। এই সম্পর্কগুলো হৃদয়ের সাথে মিশে থাকে যুগের পর যুগ। কিছু কিছু সম্পর্ক গড়ে উঠে মনের গভীর হতে। আর কিছু কিছু মানুষ যেন আপন না হয়েও আত্মার চেয়েও আপন।
তেমনি একটি সম্পর্ক হলো সনি আপুর সাথে আমার। আর এই সম্পর্কের গল্প না হয় আর একদিন করবো আপনাদের সাথে। আপুর সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। আপু এবার দ্বিতীয় সন্তানের মা হলো। এই তো গত শুক্রবার পৃথিবীর আলো কে আরও আলোকিত করে দিতে আপুর ঘরে আকাশ থেকে নেমে এলো এক রাজপুত্র। আর এই রাজপুত্র আসার সংবাদটি যেন আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সংবাদ। যেই মূহুূর্তে শুনলাম যে আমাদের রাজপুত্র চলে এসেছে তখনই বের হয়ে গেলাম আমাদের রাজপুত্র, রাজপুত্রের মা আর রাজপুত্রের বোনের জন্য কিছু ঈদ কেনাকাটা করার জন্য।
ছবি সোর্স
Made By-@maksudakawsar
একেতে শুক্রবার। তার উপর আবার ঈদের মার্কেট। তাই বেশী ঝামেলা না করে চলে গেলাম মগবাজার আড়ং এর আউটলেটে। বাপরে বাপ মানুষের মাথা মানুষ খায়। আমি ভেবেছিলাম রাজপুত্রের শপিং করার পাশাপাশি আমার উনার পাঞ্জাবীর শপিং টা করে ফেলবো। তাই চলে গেলাম পাঞ্জাবীর ফ্লোরে। সেখানে যেয়ে তো আমি অবাক। একে তো গরম তার উপর মানুষের ভিড়। গরমে অতিষ্ট হয়ে গেলাম। কিন্তু এর মধ্যেই আড়ং এর যে পাঞ্জাবী দেখলাম তা আর আমার পছন্দ হলো না। কে জানে সবাই কি পাঞ্জাবী কিনে নিচ্ছে। আমার চোখে তো ভালই লাগলো না। তাই সময়ের অপচয় না করে পাঞ্জাবী কেনা স্টপ করে দিয়ে চলে গেলাম। রাজপুত্রের জন্য কেনা কাটা করতে।
তবুও আড়ং এর পোশাক বলে কথা। দাম যাই নেয় নিবে। তাই তো কয়েকটি স্টল ঘুরে ঘুরে খুজঁতে খুঁজতে নার্বিশ্বাস উঠে গেছে আমার। আমি জিজ্ঞেস করলাম নিউব্রণ পোশাক কোন গুলো। আমাকে দেখিয়ে দিলো এক বছরের বাচ্চাদের স্টল। আসলে যে ভিড় কি শুনতে কি শুনেছে আল্লাহই জানে। তো আমি তো সেখানে থেকে ঘুরে ঘুরে বেশ সুন্দর কয়েকটি পোশাক নিয়ে নিলাম। আর বিল পরিশোধের জন্য চলে গেলাম। ভাগ্যিস, বিল কাউন্টারে প্রচুর ভিড় থাকায় নিজে একবার ড্রেস গুলো দেখতে যেয়ে বুঝতে পারলাম যে, ড্রেসগুলো রাজপুত্রের হাজী মোহাম্মদ মোহসিন হবে। তাই দৌড়ে গেলাম। আর প্রিয় রাজপুত্রের জন্য নিউব্রণ পোশাক কয়েকটি নিয়েও নিলাম। ও বন্ধুরা আড়ং এর পোশাক কিনার আর একটি কারন হলো রাজপুত্রের মা আবার আড়ং এডিকটেড।হি হি হি
তারপর রাজপুত্রের পোশাক কিনা হয়ে গেলে আমরা চলে গেলাম ক্যাশ কাউন্টারে বিল পরিশোধ করার জন্য। যে ভিড় প্রায় আধঘন্টা লাইনে দাঁড়ানো লাগলো। লাইনে দাড়াঁলে কেউ কাউকেই ছাড় দিতে চায় না। চায় না দিতে কোন স্পেস। কি যে এক যন্ত্রণা। দেখতে দেখতে আমার সিরিয়াল চলে আসলো। হায়রে কপাল ক্যাশ কাউন্টারের যে ম্যানেজার সে তো বেশ স্লো। আবার তার কাছে নাকি খুচড়া টাকা কমে গেছে। তাই আমার দেওয়া এক হাজার টাকার নোট গুলো নিয়ে আমাকে বাকী টাকা ফেরত দিতে বেশ সময় নিল। কি যে যন্ত্রণা। আমার মনে হয় ঈদের শপিং করাও বেশ যন্ত্রনাদায়ক।তবে একটি স্বস্থির বিষয় হলো যে, যেহেতু এসি মার্কেটে শপিং করেছি, তাই গরমের তান্ডব থেকে কিছুটা হলেও স্বস্থিতে থোকতে পেরেছিলাম। ভাবুন তো, নন এসি শপিং মলে শপিং করলে কি অবস্থা হতো। তারপর রাজপুত্রের অন্য কেনাকাটা করার জন্য চলে গেলাম অন্য শপিং এ। সে বিষয়টি আবার না হয় অন্য কোন পোস্টে আলোচনা করবো।
সবাই আসলে ছোটদের প্রতি একটু দুর্বল থাকে তাদের কিউটনেস সবাইকে মুগ্ধ করে। আপনার বোনের ছেলের জন্য কেনাকাটা করেছেন আর সেটা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।
ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আপনাদের তো দেখি একসঙ্গে দুই আনন্দ। পরিবারের নতুন সদস্য এসেছে আবার সামনে ঈদ। ঈদের সময় আমি আড়ং এ একদমই ঢুকি না। কারণ আড়ং এর যে কোনো শোরুমে ঈদের সময় দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। তার উপরে বিল দিতে গেলে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়। যাই হোক তারপর আপনি নতুন রাজপুত্রের জন্য ড্রেস কিনতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো।
অনেক ভিড় ঠেলে যুদ্ধ করে নতুন রাজপুত্রের জন্য পোশাক কিনে নিয়ে আসলাম।
প্রথমেই রাজপুত্রের জন্য অনেক শুভ দোয়া রইল। তার জীবন সুন্দর হোক। তবে নিউবর্ণ বেবির ড্রেসগুলো বড় হবার কথা৷ ওর জন্য জিরো সাইজ লাগত।ঈদ জন্য এত ভিড়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে আপনাকে,সবাই তাদের প্রিয়জন দের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত।ধন্যবাদ আপনার অভিজ্ঞতা গুলো শেয়ার করার জন্য।
না না ভাইয়া নিউ ব্রন বেবির ড্রেসগুলো বড় হবে না।
পরিবারের নতুন সদস্যের জন্য আড়ং থেকে কেনাকাটা করলেন।সনি আপুর সাথে আপনার সম্পর্কের গল্প অন্য কোনো পোস্ট থেকে তাহলে জানতে পারবো। আড়ং এ তো ভিড় দেখিনা আমি এমনি সময়।ঈদের জন্যই এরকম ভিড় হয়েছে।ধন্যবাদ আপু সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আর বইলেন না আপু । আড়ং এর পাঞ্জাবির শোরুমেতো ঢুকাই যায় না।
দু দু বার করে পোশাকের মার্কেটে আগুন সবকিছুর দাম যেন এক মুহূর্তেই বেড়ে গিয়েছে।।
আমাদের কুষ্টিয়ায় এবার ঈদের আগেই প্রথমবারের মতো আড়ং এর শোরুম বসলো তবে এত পরিমান ভিড়, ভির ঠেলে সবকিছু মন মতো দেখে করায় করা কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।
আপনিও দারুন ভাবে মার্কেট করে ফটোগ্রাফির সাথে সুন্দর কথা উপস্থাপন করেছেন খুবই ভালো লাগলো ধন্যবাদ।
কি যে গরম আর ভিড় এর মধ্যে মার্কেট করাও যেন একটা দুর্ভিসহ জীবন যাপন করা।ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
পরিবারের নতুন সদস্যের জন্য কেনাকাটা করার মজাটাই আলাদা। আড়ং থেকে কেনাকাটা করেছে। একটু দাম বেশি হলেও আমার কাছে আড়ং থেকে কেনাকাটা করতে ভালো লাগে ঈদের সময় আড়ংয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশি কষ্টকর মনে হয়। যাইহোক অবশেষে নতুন রাজ পুত্রের জন্য কেনাকাটা করতে পেরেছেন যেন ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
জি আপা আমারও তাই মনে হয় একটু বেশি দাম নিলেও আড়ং থেকেই কেনাকাটা করাই বেটার।
আসলে যেহেতু সামনেই ঈদ তাই এখন বর্তমান মার্কেট গুলোতে ভিড় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর হ্যাঁ মার্কেটে সব থেকে কঠিন কাজ হচ্ছে ভালো জিনিস পছন্দ করা। কোন জিনিস যেন পছন্দ হতেই চায় না। আপনার উনার জন্য একটি পাঞ্জাবি কিনতে গেলেন তাও আপনার পছন্দ হলো না। যাই হোক এই গরমে ভিড়ের মধ্যে লড়াই করে আপনি যে ভালোভাবে শপিং করতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো। যাই হোক রাজপুত্রের জন্য শুভকামনা রইল ধন্যবাদ।
লড়াই করে আর শপিং করতে পারলাম কোথায়? পাঞ্জাবি তো কিনতে পারলাম না।
প্রথমে সনি আপুর বাচ্চার জন্য অনেক দোয়া রইল। তবে ঠিক বলেছেন আপু কিছু কিছু সম্পর্ক রক্তের চেয়েও বেশি গভীর হয়। যাক ছোট বাবুর জন্য কেনাকাটা করার জন্য মার্কেটে গেলে। আর আপু আপনার উনার জন্য পাঞ্জাবি কিনার জন্য গেলেন। আসলে আপু মার্কেটে গেলে মাথা নষ্ট হয়ে যায়। এত গরম অপরদিকে জিনিসগুলোর দাম এত বেশি। যাক আপনি কষ্ট করে হলেও শপিং করে ফেললেন। তবে ১ হাজার টাকার নোট গুলো দিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলো বাকি টাকা গুলো নেওয়ার জন্য। অনেক সুন্দর করে পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
না না আপু শপিং শেষ করতে পারি নাই। এখনও অনেক কেনাকাটা বাকি আছে।