ভ্রমন পোস্টঃ- চাঁদ রাতে মেহেদী উৎসবে কাটানো কিছুটা সময়

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামু আলাইকুম

ঈদ মোবারক। কেমন আছেন সবাই? আশা করি পবিত্র ঈদের আমেজে পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালই সময় কাটাচ্ছেন। আমি কিন্তু বেশ ভালই আছি। এই আর কি চিল মুডে আছি। ঈদের আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছি। সে যাই হোক। আনন্দময় জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও আপনাদের সাথে কি একটু দেখা না করলে হয়। আর তাই তো আজ আবার চলে আসলাম। আমার ঈদ আয়োজনের একটি দিনের গল্প করার জন্য।

ঈদ আসে বছর ঘুরে। কিন্তু ঈদের এই আনন্দ উপভোগ করার জন্য আমাদের কত যে প্ল্যান কাজ করে। যদিও আমি সবার মত নয়। আমি সব সময়ই সাধারণ জীবন যাপন করতে বেশ পছন্দ করি। কিন্তু জীবন তো আমার এখন একার নয়। পাশের মানুষটার ভাল লাগা আর মন্দ লাগারও যে প্রাধান্য দিতে হয়। তার খুব ইচেছ আমি চাঁদ রাতে মেহেদী দু হাতে মেহেদীর সাজে নিজেকে সাজাই। কিন্তু আমার পক্ষে তো দু হাতে মেহেদী সাজে সাজা সম্ভব নয়। তাই তো আমাকে চাঁদ রাতে চলে যেতে হলো বেইলী রোডের চাঁদ রাত মেহেদী উৎসবে।

চাঁদ রাতের মেহেদী উৎসবে নিজেকে রাঙানো (1).png

ছবি সোর্স
Made By-@maksudakawsar

image.png

যেহেতু ঈদের দিন সকালে শ্বশুড়বাড়ী যাবো, তাই চাঁদ রাতে আমার তেমন কোন রান্নার আয়োজন ছিল না। আর সেই ফাঁকে রাত ১০.০০ টায় চলে গেলাম হাতে মেহেদী পড়তে। আগেই খোঁজ নিয়ে জানলাম যে একহাতে মেহেদী পড়ানো ১৫০/-। আর দু হাতে ৩০০/-। তবে সেখানে অনেক সিরিয়াল থাকে। সময় নিয়ে যেতে হয়। যাই হোক আমরা মেহেদী উৎসবে মেহেদী পড়তে গেলাম।

image.png

image.png

যাই হোক আমরা সেই মেহেদী উৎসবে যেয়ে পৌছালাম রাত ১০.৩০ মিনিট। কিন্তু কি আর বলবো বাপরে বাপ সেখানে যেয়ে তো দেখি প্রচুর সিরিয়াল। মানুষ আর মানুষ। সবাই মোবাইল থেকে মেহেদী ডিজাইন পছন্দ করে নিয়ে তারপর হাতে পড়ছে। আর এর জন্য আরও দেরী হচ্ছে। যদিও বেশ কয়েকটি স্টল রয়েছে সেখানে। চিন্তায় পড়ে গেলাম। কি যে করি। কখন যে সিরিয়াল পাই। ভাবলাম একটু ঘুরে আসি। তা্ই কিছুটা সময় একটু ঘুরে আসলাম। সেই গল্প আপনাদের সাথে আর একদিন করবো।

image.png

image.png

অবশেষে আমি সিরিয়াল যখন পেলাম তখন বাজে রাত ১২.৩০ মিনিট। অবশ্য এর মধ্যে কয়েকবার চলে আসতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু না আমাকে মেহেদী পড়তেই হবে। আর সেটা যত রাতই হোক। যাই হোক বসে পড়লাম একটি খালি চেয়ার দেখে। প্রথমেই মোবাইল দেখে আমি ডিজাইন পছন্দ করে নিলাম। অনেক গুলো ডিজাইনের মধ্যে একটি ডিজাইন আমার বেশ পছন্দ হলো। তাই বসে পড়লাম মেহেদীর রঙে নিজেকে সাজাতে।

image.png

image.png

প্রথমে আমার ‍দু হাতের উপরের দিকে মেহেদী লাগানো হলো । বাপরে বাপ। কি যে সময় লাগলো। আমার তো মাঝা কোমড়ের বারটা বেজে গেছে ততক্ষনে। কিন্তু কি আর করার মেহেদী পড়তে হবে। তাই আমিও পুতুলের মত বসে বসে মেহেদী পড়তে লাগলাম। কি যে নিখুঁত কারিগর তারা। কত যে ধৈর্য ধরে যে তারা মানুষের হাতে মেহেদী পড়ায়। এত কম টাকায় এত পরিশ্রম। আমার কিন্তু বেশ মায়া হচ্ছিল। তবে আপু গুলো বেশ ভাল। মেহেদী পড়াতে পড়াতে বেশ হাসির গল্পও করলো তারা। দেখতে দেখতে এক পাশে মেহেদী পড়ানো হয়ে গেল।

image.png

image.png

এরপর একে একে দু হাতের অপর পাশে মেহেদী পড়াতে লাগলো। ভাবছিলাম কেমন লাগবে দু হাত আমার দেখতে। এদিকে দেখি সেখানে যে কত মানুষ ছবি তুলছে। কেউ অনলাইন পত্রিকার। কেউ আবার ব্লগিং করার জন্য। তাই আমিও আমার উনাকে বললাম আপনাদের জন্য কিছু ছবি তুলে নিতে। তারপর এক সময় দেখি আমার দু হাতেই খুব সুন্দর করে মেহেদী পড়ানো শেষ হয়ে গেল। যদিও আমার মেজাজ টা গরম ছিল। তবুও মেহেদী হাতে নিজেকে দেখে কিন্তু মনটা বেশ ভাল হয়ে গেল।

image.png

তারপর বেশ কিছুটা সময় ওয়েট করতে হলো। কারন পেমেন্ট করার আগে মেহেদীর রং হয়েছে কিনা সেটা দেখে পেমেন্ট করতে হয়। তাই আমিও মেহেদী পড়ে নতুন বউয়ের মত কিছু সময় বসে রইলাম। মেহেদী শুকানো পর্যন্ত। তারপর কিছু সময় অপেক্ষা করে মেহেদীর রং দেখলাম। আপনারাও একটু দেখেন তো কেমন হলো আমার চাঁদ রাতের মেহেদী দিয়ে নিজেকে রাঙানো। তারপর পেমেন্ট করে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ২.৫০ বেজে গেল। হি হি হি।
কেমন লাগলো বন্ধুরা আপনাদের কাছে মেহেদীর রঙে নিজেকে রাঙানোর জন্য চাঁদ রাতে মেহেদী উৎসবে কাটানো কিছু সময়ের গল্প? আপনাদের মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।

❤️ধন্যবাদ সকলকে।❤️

@maksudakawsar

image.png

image.png

Sort:  
 3 years ago 

আমি শুনেছি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় প্রফেশনাল মেয়েরা হাতে মেহেদী পড়িয়ে দেয় কিন্তু এত ঘটা করে আয়োজন করে মেহেদি পড়ায় সেটা আজ আপনার পোস্ট পড়ে জানতে পেরেছি। রাত ১০:৩০ টা বাজে গিয়ে সিরিয়াল পেয়েছেন রাত ১২:৩০ মিনিটে তার মানে অনেক ভীড় ছিল। আপনার হাতের মেহেদী ডিজাইন অনেক সুন্দর লাগছে দেখতে। ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

ভীড় মানে সেরকম ভীড়। আমার তো মেজাজ খারাপ লাগছিল। কিন্তু কি আর করার

 3 years ago 

চাঁদরাতে মেহেদি পড়তে গিয়ে আপনাকে অনেকক্ষণ ভোগান্তিতে থাকতে হয়েছে।হাতে মেহেদি পড়তে গিয়েছিলেন ১০:৩০ বাজে আর সিরিয়াল পেয়েছিলেন রাত ১২:৩০ এ। এর ভিতর ও আপনি চলে আসতে চেয়েছিলেন কিন্তু ঈদ বলে কথা আপনাকে মেহেদী পড়তেই হবে। অনেক ভালো লাগলো আপনার মেহেদি রাঙানো হাত। আসলে মেয়েরা মেহেদি পড়ে ঈদের আনন্দটা বেশি ফুটিয়ে তোলে।

 3 years ago 

আরে আপু জানেন না আমি তো পড়তে চাই নাই। এই ঝামেলার মূল আপনার ভাইয়া। যত রাত হোক পড়তে হবে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 64352.12
ETH 1874.54
USDT 1.00
SBD 0.36