CAPTAIN তামিল মুভি রিভিউ
আ মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
কয়েকদিন থেকে ব্যস্ত থাকার কারণে মুভি দেখা নাটক দেখা অনেকটা কমে এসেছে, কিন্তু আজ রাতে সময় করে একটা মুভি ডাউনলোড করে দেখি। মুভিটির নাম হল ক্যাপ্টেন, এটি একটি তামিল মুভি। আমার কাছে মুভিটি বেশ ভালই লেগেছে তাই ভাবলাম মুভি প্রেমীদের জন্য মুভিটি রিভিউ করে ফেলি আশা করি আপনাদেরও এই মুভিটি দেখতে বেশ ভালই লাগবে।
মুভিটি রিভিউ করার পাশাপাশি মুভিটি সম্পর্কে কিছু তথ্য আমি আমার পোস্টে যোগ করে দেব যাতে করে মুভি সম্পর্কে আপনাদের আরো বেশি ধারণা পেতে সুবিধা হবে। এই মুভিটি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে হিন্দি ডাবিং এও এভেলেবেল রয়েছে আপনারা চাইলে সেই ওয়েবসাইটগুলো থেকে এই মুভিটি খুব সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
এই মুভিটি অন্যরকম একটি প্রাণী এবং মানুষের যুদ্ধ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ধরনের মুভিগুলো দেখে আলাদা রকম একটা মজা পাওয়া যায়। আশা করি আপনাদের এই মুভিটি দেখতে বেশ ভালই লাগবে তাহলে চলুন দেরি না করে মুভিটি রিভিউ দেখে আসা যাক।
"CAPTAIN"
| সিনেমা | CAPTAIN |
|---|---|
| পরিচালক | শক্তি সৌন্দর রাজন |
| রচয়িতা | শক্তি সৌন্দর রাজন |
| প্রডিউসড বাই | কে. মাধন |
| অভিনয়ে | আরইয়া, ঐশ্বরিয়া লাক্সমি, কাভিয়া সেটটি, সিমরান, হরিশ উথামান, |
| মিউজিক | ডি. ইমমান |
| সিনেটগ্রাফি | ইউভা |
| ফিল্ম এডিটিং | প্রদীপ ই. রাঘব |
মুভির প্রথম সিনেই আমরা দেখতে পারব একটি গাড়িতে করে কিছু মানুষজন জঙ্গলের ভেতরে যায় যেই জায়গাটির নাম সেক্টর-42, কিছু দূর যাওয়ার পরেই গাড়িটিকে আমরা আর দেখতে পাইনা, কিন্তু গাড়িটিকে দেখতে না পেলেও সেই গাড়িটি যেদিকে গিয়েছিল সেদিক থেকে গাড়িতে থাকা লোকজনের চিৎকার আমরা শুনতে পাই।
তারপর কিছুক্ষণ পর আমরা সেই গাড়িটিকে আবার দেখতে পাই কিন্তু গাড়িতে থাকা মানুষগুলো কেউ জীবিত ছিল না, তারা সকলেই গাড়িটির চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়েছিল।
তারপর একটি যুদ্ধে আমরা কিছু ইন্ডিয়ান আর্মির পাঁচজনের একটি টিম দেখতে পাই সেটা হল আমাদের মুভির হিরোর টিম। এই সিনে আপনারা হিরোর টিমের সাথে টেররিস্ট টিমের যুদ্ধ দেখতে পারবেন যেখানে হিরো টিম অনেকগুলো টেররিস্টদের মেরে জয় লাভ করে।
সেক্টর-42 খুবই ভয়ংকর একটি জায়গা ছিল সেখানে কি হচ্ছে কেনই বা সেখানে মানুষ গেলে আর ফিরে আসছে না এই রহস্যের উদঘাটন করার জন্য আমাদের হিরো টিমকেই বেছে নেয়া হয় কারণ তাদের টিমটি ছিল অনেক শক্তিশালী।
সবকিছু প্লান মোতাবেকই হয়ে যায় তারপর সেই দিন চলে আসে যেদিন হিরো টিমকে সেক্টর-42 তে যেতে হবে। তারা অস্ত্র এবং বাকি সরঞ্জাম নিয়ে সেক্টর-42 এর দিকে রওনা হয়। তারা প্রথমে ভেবেছিল তারা ভালোভাবেই সেখান থেকে ফিরে আসতে পারবে কিন্তু পরের সিনেই তাদের ধারণাটা একদমই পাল্টি খেয়ে যায়।
আগেরবার যারা সেক্টর-42 তে এসেছিলো ঠিক তাদের মতই অবস্থা ভেতরি অর্থাৎ আমাদের মুভি হিরোর টিমের সাথে ঘটে। কিন্তু এবার ব্যাপারটা একটু অন্যরকম হয়েছে এবার শুধু টিমের একজন মারা যায় বাকি সবাই বেঁচে যায়। এখানেই আমরা সেই প্রাণীকে দেখতে পাই যেই প্রাণীর জন্যই সেক্টর-42 তে আসা এতটাই বিপদজনক।
এই প্রাণীটির নাম হল মিনোটরস, এই প্রাণীটি মানুষ এর কাছাকাছি এসে এমন একটি কেমিক্যাল স্প্রে করে যেই কেমিক্যাল এর কারণেই মানুষের সেই সময়ের স্মৃতি একদম গায়েব হয়ে যায়। এবং সেই টিমের একজনকে সেই মিনোটরস সম্মোহিত করে যেন সেই টিমের সকলকেই সে মেরে ফেলে। কিন্তু এখানের ব্যাপের টা কিছুটা অন্যরকম হয় যার কারণে এই টিমের শুধু একজনই মৃত্যুবরণ করে।
পরে হিরো কে সবকিছু জিজ্ঞাসা করা হলে সে কাউকেই বিশ্বাস করাতে পারে না যে তার সেই টিমমেট একদম নির্দোষ ছিল। ভেতরি হাতে ভীষণভাবে আঘাত পেয়েছিল ফলে অনেকদিন সে রেস্টে থাকে।
পরে পুনরায় সেক্টর-42 এর প্রজেক্টি আনলক করা হয় এবং ভেতরির টিমকে নির্বাচন করা হয় এই প্রজেক্ট টি কমপ্লিট করার জন্য। কারণ তার টিমটি ছিল ভীষণ শক্তিশালী এরকম শক্তিশালী প্রাণীর সাথে মোকাবেলা করার জন্য তাদের মতো একটি টিমেরই প্রয়োজন।
তারা প্রাণ মোতাবেক প্রথমবার যখন জঙ্গলের ভেতর যায় তখন সেই প্রাণী অর্থাৎ মিনোটরস এর সম্মুখীন হয়। সেই মিনোটরস সবাইকে সেই কেমিক্যাল স্প্রে করে অজ্ঞান করতে পারলেও ভেতরিকে অজ্ঞান করতে পারে না, পরে এটা নিয়ে রিসার্চ করে জানা যায় যে ভেতরি ব্যথা নিবারণের জন্য মরফিন ব্যবহার করত তাই তার উপর সেই প্রাণীর কেমিক্যাল এর কোন প্রভাব পড়েনি।
এবং প্রথমবার তারা যেই মিনটোর্সকে মেরে ল্যাবে নিয়ে এসেছিল সেই মিনোটরস কে রিসার্চ করে তারা অনেক কিছুই জানতে পারে। তারা প্রথমে ভেবেছিল তারা সেই মিনোটরস কে মারতে সক্ষম হয়েছিল কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারে তাদের এই ধারণা একদমই ভুল ছিল আসলে সেই মিনোটরসের ব্রেইন মাথায় ছিল না তাই তাকে মাথায় আঘাত করে মারা সম্ভব হয়নি। পরে সেই মিনোটরস অন্য মিনোটরসের সিগনাল পেয়ে সেখান থেকে পালাতেও সক্ষম হয়।
তারপর তারা সকলে মিলে আবার জঙ্গলে যায় মিনিটরস কিংকে দেখার জন্য। এবং তারা সেই মিনিটরস কিং এর কাছ থেকে তারা অনেক পাওয়ারফুল বায়ো রেডিও সিগনালও পায়। এতেই তারা বুঝতে পারে এই মিনিটরস কিভাবে মারা সম্ভব।
তারপর ভেতরি তার টিমকে নিয়ে আবার জঙ্গলে যায় মনিটরস কিংকে মারার জন্য , ভেতরি মনিটরস কিংকে মারতে সক্ষম হয় কিন্তু সে তখন বুঝতে পারে আসলে এটা কিং নয় , এটা ছিলো মিনোটর্স কুইন । এই কুইন তার ডিম পাহারা দিচ্ছিলো। ভেতরি এও বুঝতে পরে তাকে যে মেয়েটি এই মিশনে এনেছিলো সেই মেয়েটি তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই মিশনটি শুরু করেছিল।
প্রথমের দিকে এই মুভিটি আমার কাছে কিছুটা বোরিং মনে হয়েছিল, কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে বুঝতে পারছিলাম এটা সত্যিই দারুন একটি মুভি। আপনারা যারা এই মুভিটি এখনো দেখেননি তারা অবশ্যই দেখে নেবেন আশা করি আপনাদের কাছে ভীষণ ভালো লাগবে।
| • ৪.৫/১০ |
|---|
| অভিনয় | ৯/১০ |
|---|---|
| কাহিনী | ৯/১০ |
| সব মিলিয়ে | ৯.৫/১০ |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Twitter Link
আপনি খুব সুন্দর একটি তামিল মুভি রিভিউ করেছেন। আগে প্রায় সময় ইংলিশ, হিন্দি এবং তামিল মুভি দেখতাম কিন্তু এখন ব্যস্ততার কারণে ছবি তেমন একটা দেখা হয় না। আপনার পোস্ট দেখে মনে হচ্ছে ছবিটি বেশ সুন্দর। ঘটনাগুলো অতি রোমাঞ্চকর সময় পেলে অবশ্য দেখে নেবো। এত দুর্দান্ত মুভি রিভিউ করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
আমিও ব্যাস্ত থাকি তবুও চেষ্টা করি দেখার। ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামত দেয়ার জন্য। শুভ কামনা রইলো।
সত্যি বলতে প্রথম দিকটায় বেশ বোরিং লাগছিল কিন্তু পরে যখন কাহিনী পড়তে শুরু করলাম তখন দারুন লাগলো। আর এধরনের মুভি আমার কাছে দেখতে দারুন লাগে। এখানে যে প্রানীটি দেখানো হয়েছে বেশ ভয়ংকর দেখতে আর কিভাবে সিগন্যাল পেয়ে পালিয়েছিল ভাবা যায়। দেখতে হবে মুভিটি।
জি ভাইয়া এই মুভিটি স্বচক্ষে দেখলে আরো বেশি ভালো লাগবে। অবশ্যই দেখবেন আশা করি আপনার কাছে মুভিটি দারুণ লাগবে৷