কুড়িগ্রাম থেকে দিনাজপুর ট্রেন ভ্রমণ - পর্ব ১
আ মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
দীর্ঘদিন থেকেই প্লান করছিলাম বন্ধুরা সহ কোথাও ট্রেন ভ্রমণে যাবো কিন্তু যাওয়া হয়ে উঠছিলো না। আসলে অন্যান্য কাজ নিয়ে এতোটাই ব্যাস্ত থাকতে হয় যে কোথাও ঘোরার প্লান করলেও যাওয়া হয় না। কিন্তু এবার আমরা ঠিক করলাম এবার কোথাও না কোথাও ট্রেন ভ্রমণে যাবই। ট্রেন ভ্রমণে যাওয়ার আগে এক বন্ধুর সাথে কথা হয়েছিল তার নাকি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে একটা কাজ রয়েছে, তাই সেই বন্ধুকেও ডাকলাম আমাদের সাথে দিনাজপুর অব্দি ট্রেন ভ্রমনে যাওয়ার জন্য। আর সেও রাজি হয়ে গেল আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য। আমরা তিনজন মিলে বেরিয়েছিলাম ট্রেন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে।
আমরা যেদিন ট্রেন ভ্রমণ করব ঠিক করেছিলাম সেদিনের আগের দিন আমরা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলাম, ট্রেন কখন যাবে না যাবে এগুলো শোনার জন্য। তো রেল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানালো সকাল ৭ টার দিকে একটা আন্তঃনগর ট্রেন পার্বতীপুর অব্দি যায় সেটা করে আমরা পার্বতীপুর অব্দি গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে আমাদের দিনাজপুর যেতে হবে। আমরা তিনজন স্টেশনে বসেই ঠিক করলাম এই ট্রেনে করেই আমরা পার্বতীপুর অব্দি যাব তারপর। পরিকল্পনা গুছিয়ে নিয়ে আমরা যে যার বাড়িতে চলে গেলাম।
পরের দিন আমরা সকাল সকাল স্টেশনে, সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম ট্রেন আসতে আরো অনেকটা সময় লাগতে পারে। কি আর করার স্টেশনে বসে বসে আমরা তিন বন্ধু সময় কাটাতে থাকলাম। আমি বাসা থেকে নাস্তা করে আসিনি তাই সেখানেই এক হোটেলে নাস্তা সেরে নিয়েছিলাম। স্টেশনে একটি ক্যান্টিন ছিল আমরা সেখানে বসে সময় কাটাচ্ছিলাম আর চা খাচ্ছিলাম। ট্রেন আসতে এতটা সময় লাগাচ্ছিল যে আমাদের সেখানে বসে থাকতে আর ভালো লাগছিল না তাই আমরা সেখান থেকে উঠে গিয়ে প্ল্যাটফর্মের ধারে গিয়ে বসে পরি।
১ নং প্ল্যাটফর্মের এই দিকটায় এসে আমরা তিন বন্ধু বসে সময় কাটাচ্ছিলাম। অনেকক্ষণ বসে ছিলাম মাঝে টিপটিপ করে বৃষ্টি ও পড়ছিল, খুব জোরে বৃষ্টি না আসায় আমরা সেখানেই বসে ছিলাম। বসে বসে সেখানে গান শুনতে বেশ ভালই লাগছিল।
তিন বন্ধু মিলে সেখানে বসে গান শুনতে বেশ ভালই লাগছিল, যেহেতু ট্রেন আসতে দেরি হবে সেহেতু কি আর করার বাসায় তো আর ফিরে যাওয়া যাবে না আর বাসায় ফিরে গেলে ট্রেন ধরতে পারবো না এটা আমরা নিশ্চিত তাই বাসায় না গিয়ে আমরা সেখানেই বসে সময় কাটাতে লাগলাম।
দেখতে দেখতেই স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম টা কেমন ভরে উঠলো। ট্রেনে ভ্রমণ করা সস্তা এবং নিরাপদ হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই ট্রেন ভ্রমণি পছন্দ করে। এই স্টেশন থেকে কেউ যাবে রংপুর কেউ যাবে পার্বতীপুর কেউ যাবে দিনাজপুর কেউবা যাবে ঢাকা, সবাই সবার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ট্রেনের জন্য বসে আছে।
দীর্ঘক্ষণ প্লাটফর্মে সময় কাটানোর পর অতঃপর অন্তঃনগর ট্রেন স্টেশনে এসে হাজির হয়। ট্রেনটিকে দেখে সত্যি বেশ ভালই লাগছিল কারণ এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকতে কারোরই ভালো লাগেনা। আমরা আগেভাগে ট্রেনে উঠিনি কারণ এক স্টাফ বলেছিল আগে ট্রেনের ভেতরটা পরিস্কার করা হবে তারপর যাত্রীরা উঠবে তাই আমরা বাহিরেই বসে ছিলাম।
ট্রেন নিয়ে ছোট থেকে আমার ভীষণ কৌতুহল, ছোট থেকেই আমি ট্রেন ভ্রমণ করতে ভীষণ ভালোবাসি। তাই হাঁটতে হাঁটতে আমরা ট্রেনের সামনের দিক থেকে গেলাম কিভাবে ট্রেনের ইঞ্জিন ঘুরিয়ে আবার বগীর সাথে যুক্ত করা হয় তা দেখার জন্য।
তারপর ট্রেনের ইঞ্জিন লাগানো দেখা শেষ করে প্লাটফর্মের দিকে আবার গেলাম তখনই ট্রেন ছাড়ার ঘন্টি বেজে উঠলো তাই আমরা নিচে আর দেরি না করে ট্রেনে উঠে পড়ি। উঠেই প্রথমে এসি বগির দিকে গেলাম, দুঃখজনক ব্যাপার সেদিকে কোন সিট ফাঁকা ছিল না। তাই অন্য বগিতে গিয়ে একটা ভালো সিট দেখে আমরা বসে পড়লাম।
তারপর কুড়িগ্রাম এর সীমানা ছাড়িয়ে আমরা কিছুটা গ্রামের দিকে চলে গেলাম, গ্রামের দিকে যেতেই ট্রেনের জানালা দিয়ে বাহিরে তাকাতে সত্যি ভীষণ ভালো লাগছিল। বাসা থেকে ভুলবশত হেডফোনটা ছেড়ে গিয়েছিলাম হেডফোনটা নিয়ে গেলে হয়তো গান শুনতে শুনতে সুন্দর বাহিরে দৃশ্য উপভোগ করা যেত। যাই হোক কি আর করার যেহেতু নিয়েই আসিনি এভাবেই গান ছাড়াই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছিলাম।
দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই ঘন্টা ট্রেন ভ্রমণ করার পর আমরা পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনে পৌঁছে গেলাম। এখানে থেকে ডিরেক্ট দিনাজপুরের ট্রেন অনেকক্ষণ আগেই ছেড়ে গিয়েছে তাই আমাদের অন্য পথে এবার দিনাজপুর অব্দি যেতে হবে।
আমার এর পরের পোস্টে আপনারা দেখতে পারবেন আমি কিভাবে পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন থেকে দিনাজপুর অব্দি গেলাম। আশা করি আমার এই পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই পোস্টে আসার জন্য। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।
| YouTube |
|---|
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
এই পার্বতীপুর স্টেশনটা দেখলাম কয়েক বছর পর। তোমার মারফতে দেখলাম তাই বেশি ভালো লাগছে। ট্রেন ভ্রমণ সত্যিই আনন্দদায়ক।
পরের পর্বে দেখি কিভাবে দিনাজপুর যাও ✨
এইতো ভাইয়া লিখতে বসবো এখন।
ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামত দেয়ার জন্য। ❤️
আমার কাছে সবচেয়ে সেভ এবং আরামদায়ক কেবলমাত্র ট্রেন জার্নি বলেই মনে হয়। ট্রেন জার্নি করতে আমার খুব ভালো লাগে। আপনার তিন বন্ধু মিলে ট্রেন জার্নি করতে দেখে অনেক ভালো লাগলো। ভাইয়া অনেক ভালো সময় কাটিয়েছেন। আশাকরি আগামী পর্বে আপনাদের ফিরে আসার গল্প জানতে পারবো
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

কুড়িগ্রাম থেকে দিনাজপুর ট্রেন ভ্রমণ এর গল্প শেয়ার করেছেন দারুন হয়েছে। ট্রেন ভ্রমণ করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। চমৎকার ভাবে উপস্থাপনা করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া
কুড়িগ্রাম থেকে দিনাজপুর ট্রেন ভ্রমণ গল্পটি সত্যি অনেক চমৎকার এবং মজার ছিল ।পড়েবেশ আনন্দ পেলাম অনেক সুন্দর একটি গল্প আজ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে ট্রেন ভ্রমণ করতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে ।আর সেই ট্রেন ভ্রমণের কাহিনী নিয়ে আজ আপনি একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
ট্রেনে ভ্রমণের মজাটাই অন্যরকম। আপনি খুবই সুন্দর সময় পার করেছেন। আর এই ট্রেনে ভ্রমণের ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ফটোগ্রাফি গুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো।
আমার মনে একটা বড় কষ্ট হলো আমি এখনো কোনো জায়গায় যাওয়ার জন্য ট্রেন ভ্রমন করি নাই। আপনার পোস্ট পড়ে খুবই ভালো লাগলো। তবে ইচ্ছা আছে ট্রেন দিয়ে কোথাও যাওয়ার।
https://twitter.com/mahir4221/status/1560721752124055553?t=87abNGKj7EgkomCnMJzKQA&s=19
ট্রেন ভ্রমণে গিয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। মাঝে মাঝে যদি ভিন্ন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হওয়া যায় তাহলে বেশ ভালই লাগে। যাইহোক আশা করছি পরবর্তী পর্বে আরো নতুন কিছু জানতে পারবো এবং নতুন কিছু আমাদের মাঝে তুলে ধরবেন। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
অনেক সুন্দর ভাবে আপনি আপনার ভ্রমন কাহিনীটি আমারদের মাঝে তুলে ধরেছেন। যা আমার কাছে অনেক অনেক সুন্দর লেগেছে।