মুঠোফোনে ধারণ করা কিছু ফটোগ্রাফি
আ মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
অনেকদিন থেকেই আমি ফটোগ্রাফি পোস্ট করি না, তাই আজ আমার পুরনো ফটোগ্রাফির অ্যালবাম থেকে কিছু ছবি বেছে নিলাম পোস্ট করব বলে। আমি নদীমাতৃক এলাকায় বসবাস করি তাই মাঝে মাঝেই নৌকা ভ্রমণ করা হয় আর নদীতে গেলে ফটোগ্রাফির অভাব থাকে না ফোনের গ্যালারিতে। এর আগেও আমি ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়ে আপনাদের মাঝে পোস্ট করেছিলাম, সেই ছবিগুলো আপনাদের কাছে ভালো লেগেছিল তা আপনাদের মতামত দেখেই বুঝেছিলাম। আশা করি আমার আজকের শেয়ার করা ফটোগ্রাফিগুলোও আপনাদের ভালো লাগবে।
ব্রহ্মপুত্র নদ রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত। এই নদের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানায় নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে যেতে হয়। ব্রহ্মার পুত্র নাম থেকে এ নদীর নামকরণ করা হয়েছে ব্রহ্মপুত্র। এই নদের পূর্ব নাম ছিল লৌহিত্য। হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের কাছের জিমা ইয়ংজং হিমবাহ থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্ত।
যাইহোক বন্ধুরা তাহলে চলুন দেরি না করে ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আসা যাক, আশা করি প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফি আপনাদের ভালো লাগবে।
ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশের বৃহত্তম নদ। এই নদের মধ্যে দিয়েই কুড়িগ্রাম জেলার শেষ দুটি থানা রৌমারী ও রাজিবপুর যেতে হয়। চিলমারী বন্দর থেকে নৌকায় চেপে এই শেষ দুটো থানায় যেতে হয়। যাত্রিবাহি নৌকা দিয়ে যাওয়ার সময় এমন অনেক ছোট নৌকা চোখে পরে, এগুলো হলো জেলেদের নৌকা। এই নৌকায় করে জেলেরা সারাটাদিন মাছ ধরে আর সন্ধ্যায় বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যায়৷ এই জেলেদের বসবাস এই নদীর চরগুলোতে আর মাছ ধরাই এদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস।
এই ফটোগ্রাফিটি ধারণ করেছিলাম চিলমারির বন্দরে। এই বন্দর থেকেই যাত্রীবাহী নৌকাগুলো ছাড়ে। বন্দরে দাঁড়িয়ে যাত্রীবহি নৌকা গুলো ছাড়তে দেখতে বেশ ভালই লাগে। তাছাড়া নদীর বিশুদ্ধ হাওয়া যখন গায়ে এসে লাগে তখন গা টা কেমন শীতল হয়ে যায় আর মনের ভিতর দোলা দিয়ে ওঠে শীতল বাতাস গায়ে লাগার আনন্দ। যারা নদীমাতৃক এলাকায় বসবাস করে তারা এই আনন্দটা ঠিক ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারে।
এই নদীতে যাত্রীবাহী নৌকা গুলোর পাশাপাশি ড্রিজার নৌকাগুলোও চলাচল করে। এই নৌকা গুলোর কাজ নদীর বালি তোলা। এই নৌকা গুলো যখন বালি তোলে তখন নৌকা গুলো পানির নিচে একদম ডুবে থাকে দেখতে অন্যরকম মনে হয় আমি তো প্রথমবার দেখে ভেবেছিলাম নৌকাগুলো একদম ডুবে গিয়েছে কিন্তু পরে জানতে পারলাম যে এই নৌকাগুলো বালি তুললে এরকমই পানির নিচে ডুবে চলাচল করে। প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে প্রচুর টাকার বালি অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো হয়, এটাও এই এলাকার লোকজনের এক প্রকার জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম।
এটাও বালিতলা ড্রিজার নৌকা, এই নৌকাটিকে এত বড় দেখাচ্ছে কারণ এই নৌকাটি এখনো বালি তোলেনি। বালি তোলার পর প্রায় পুরো নৌকাটি পানির নিচে ডুবে থাকে। তখন নৌকাটিকে দেখতে কেমন আজব মনে হয়। ছবিটি তুলেছিলাম এমনিই, কিন্তু পরে এই ছবিটি দেখার পর আমার কাছে একটু অন্যরকম মনে হয়েছে তাই এই ফটোগ্রাফিটি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করলাম।
নৌকা ভ্রমণ করার সময় নৌকার পিছনে বসে যেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। নৌকার পেছনে বসে গেলে চারিদিকে পরিবেশটা খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায় , তবে নৌকার পিছনে একটাই সমস্যা সেটা হল নৌকার ইঞ্জিনের বিকট শব্দ। তবে কিছুক্ষণ বসে থাকলে কোন সমস্যা মনে হয় না। আমি আমার জীবনে যতবার নৌকা ভ্রমন করেছি ততবারই নৌকার পিছনে বসেই গিয়েছি। এই ছবিটি নৌকার পিছনে বসেই ধারণ করা।
আমি যেদিন নৌকা ভ্রমন করছিলাম সেদিন আকাশটি দেখতেও ভীষণ সুন্দর লাগছিল। উপরে নীল আকাশ নিচে ঢেউ খেলানো নদী আর নদীর উপর দিয়ে ছোট-বড় অনেক নৌকা চোখের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে এগুলো বসে দেখতে কতই না ভালো লাগে। একদম অন্যরকম একটা অনুভূতি যারা কখনো নৌকা ভ্রমণ করেনি তারা এই অনুভূতিটা বুঝতে পারবে না, তবুও আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি আমার নৌকা ভ্রমণের আনন্দ যতটা পারি আপনাদের মাঝে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
নদীতে যখন পানি কম থাকে তখন নৌকা ভ্রমণ করার সময় নদীর মাঝে এরকম অনেক ছোট বড় চর চোখে পড়ে। এরকম বড় চরগুলোতে মানুষ বাস করে, আর ছোটগুলোতে সেই বড় চর গুলোর মানুষ তাদের গবাদি পশু কে সারাদিন ছেড়ে দিয়ে রাখে ঘাস খাওয়ার জন্য। এটা এমনি একটি চরের অংশের ফটোগ্রাফি।
চিলমারী বন্দর থেকে রৌমারী যাওয়ার পথে এটাই এই নদীতে সব থেকে বড় চর, এই চরে অনেক মানুষের বসবাস এই চরের ভেতর একটি বাজারও রয়েছে। এই নদীতে এই চরই সব থেকে বড় হয় এই চরের নাম হলো বড় চর। আমি কখনো এই চরটিতে নামিনি কিন্তু এরা কিভাবে জীবন যাপন করে তা মানুষের কাছে শুনেছি, সত্যিই অনেকটা ভিন্ন আমাদের জীবন যাপনের সাথে তাদের জীবন যাপনের ধরন।
চিলমারী বন্দর থেকে কিছুটা দূর যাওয়ার পরেই নৌকা থেকে বন্দরের এই ছবিটি ধারণ করা। ঘাট থেকে কিছুটা দূর যেতেই ঘাটের দৃশ্যটা একদমই পরিবর্তন হয়ে যায় আগের মত আর কিছুই মনে হয় না। সবকিছুই কেমন অন্যরকম হয়ে যায়। আর নৌকা ভ্রমণ করার সময় এই ধরনের দৃশ্যগুলো দেখতে ভীষণ ভালো লাগে।
যাই হোক এই ছিল আমার আজকের ফটোগ্রাফি পোস্ট, আশা করি আমার ধারণা করা ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের ভালো লেগেছে। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই পোস্টে আসার জন্য। আপনাদের সাথে আবারো দেখা হবে আমার নতুন কোন এক পোস্টে, সে অব্দি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।
| YouTube |
|---|
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
https://twitter.com/mahir4221/status/1579507863478996994?t=_SXzj57YlVpRV0P3hzWZZQ&s=19
ভাইয়া আপনার তোলা ফটোগ্রাফি গুলো চমৎকার হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদী এবং চিলমারির বন্দরের তোলা প্রতিটি ফটোগ্রাফি অসম্ভব সুন্দর। ব্রহ্মপুত্র নদীর আগের নাম যে লৌহিত্য ছিল সেটা আমার জানা ছিল না। আপনার পোস্ট থেকে অনেক কিছুই জেনে নিলাম। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর এই পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন এবং অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আমার পোস্ট থেকে আপনি অজানা কিছু জানতে পেরেছেন জেনে ভিষণ ভালো লাগলো।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
শুভ কামনা রইলো।
আপনি খুব সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের বেপারে বই-পুস্তকে অনেক পড়েছি আমি কিন্তু আজ আপনার পোস্টের মাধ্যমে দেখতে পেলাম। ছবিগুলো অনেক সুন্দর তুলেছেন। নদীর কিছু সুন্দর চিত্র আমাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমি মাঝে মাঝেই ব্রম্মপুত্রে নৌকা ভ্রমণে যাই, নদীর ওপারে আমার খালার বাসা৷
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
শুভ কামনা রইলো 💞
মুঠোফোনে ধারণকৃত আপনার নদীর ফটোগ্রাফি গুলো সত্যিই অত্যন্ত সুন্দর ছিল। আপনি প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফির সাথে সুন্দর ভাবে বর্ণনা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। আমার বাংলা ব্লগে আপনার ব্লগিং শুভ হোক।
আপনার ভালো লেগেছে শুনে খুবই খুশি হলাম ভাইয়া।
ধন্যবাদ ❤️
অনেক দিন পর ফটোগ্রাফি পোস্ট করলেও একদম মন মাতানো ফটোগ্রাফি দিয়েছেন ভাইয়া, ফটোগ্রাফি গুলো দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলো, অসাধারণ কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন, এরি সাথে নদী বিষয়ে অনেক তত্ত্ব জানতে পারলাম, সব মিলিয়ে পোস্টি পরে খুবই ভালো লাগলো, শুভকামনা রইলো আপনার জন্য ভাইয়া।
আপনাদের এতো সুন্দর মতামত দেখেই অনুপ্রাণিত হই ভাইয়া।
ধন্যবাদ, শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য। 🥰
বাড়ির আশাপাশে সেরকম নদী নেই। সেজন্য নৌকা ভ্রমণ খুব একটা করা হয় না। আমি নিজেও বেশ অনেকদিন ফটোগ্রাফি করি না। ব্রক্ষপুএ নদীর ফটোগ্রাফি গুলো চমৎকার হয়েছে ভাই। বেশ দারুণ।
আমি মাঝে মাঝেই নৌকা ভ্রমণ করি ভাই। ভালই লাগে।
আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
আপনি মুঠোফোনে এত সুন্দর ফটোগ্রাফি ধারণ করেছেন যা আসলে সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে আর ফটোগ্রাফির বিষয়টি নির্বাচন করা সবচাইতে আপনার ভালো হয়েছে।এত সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
আপনার মূল্যবান মতামত দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু৷
শুভ কামনা রইলো।
একদম ঠিক কথা বলেছেন যে নদীর কাছে গেলে ছবি তুলতে তুলতে ফোনের গ্যালারি অনেক ভরে উঠে। আমিও গ্রামে গেলে নদীর ছবি তুলি। আপনার ছবি গুলো দারুন। আকাশ এর কারনে ছবি গুলো আরো বেশি সুন্দর লাগছে।
আসলেই ভালো লাগে ভাইয়া নদীর ছবি তুলতে। এখনো অনেক ছবি আছে গ্যালারিতে। পরে কোন একদিন সব ছবি শেয়ার করবো আপনাদের মাঝে। ধন্যবাদ ভাইয়া।