জীবনে চলার পথে সতর্কতার বিকল্প নেই
আ মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
জীবনে চলার পথে সতর্কতার বিকল্প আর অন্য কিছু নেই। সর্তকতা অবলম্বন না করলে জীবনে ঘটতে পারে নানা রকম দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনাগুলো এড়িয়ে চলতে আমাদের সবাইকে হতে হবে সতর্ক। মনে করুন আপনি রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন তখন দূর থেকে একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে আপনার দিকে ছুটে আসছে, আপনি অথবা সেই গাড়ির চালক যদি সতর্ক না হয় তাহলে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা। এজন্যই আমাদের সকলের উচিত সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করা।
কিছুদিন আগে আমি আর আমার এক বন্ধু কোথাও ঘুরতে যাচ্ছিলাম, আমরা যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম সেই রাস্তাটি ছিল খুবই ব্যস্তগামী একটা রাস্তা। সেই রাস্তার সব বড় বড় গাড়ি-ঘোড়া চলাচল করে এবং তারা খুবই দ্রুতগতিতে চলাচল করে যার কারণে ছোট গাড়ি ঘোড়ার চলাচল করতে একটু কষ্টই হয়। আমরা দুজন মার্জনীয় গতিতেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক দূর যেতে যেতে হঠাৎ একটি গাড়ি আমাদের পাশ দিয়ে এমনভাবে ছুঁয়ে গেল সত্যি বলতে আমার জানে পানি ছিল না। আর একটু হলেই হয়তো আমাদের ঠুকে দিয়ে চলে যেত গাড়িটি। এখানে ব্যাপারটা এমন হলো আমরা ঠিকই সতর্ক ছিলাম তাই হয়তো এ যাত্রায় আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেই গাড়ি চালক মোটেও সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল না তার কারণেই হয়তো আমাদের ভয় পেতে হয়েছিল। বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।
রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় শুধু যে নিজেকেই সতর্ক থাকতে হবে তা কিন্তু না। দুর্ঘটনা অন্নের দেশেও ঘটতে পারে। তাই আমাদের উচিত সবসময় চোখ কান খোলা রেখে রাস্তাঘাটে চলাচল করা। এবং রাস্তাঘাটে আমরা যদি কাউকে অসতর্কভাবে চলাচল করতে দেখি তাহলে তাকে সতর্ক করতে হবে। হয়তো এর ফলেই বেঁচে যেতে পারে অনেকগুলো প্রাণ। আর একটা জিনিস আমাদের সবসময়ই মনে রাখতে হবে কখনোই জীবনের চেয়ে সময়ের মূল্য বেশি নয়। তাই আমরা কখনোই সময় বাঁচাতে গিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাবো না।
কিছুদিন আগের এক ঘটনা এখন আপনাদের বলি। অনেকেই হয়তো এই ঘটনাটি শুনেছেন। এক কোচিং সেন্টার থেকে সেই কোচিং সেন্টারের ছাত্র-ছাত্রী এবং কিছু শিক্ষকগণ মিলে দেখতে গিয়েছিল মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে। তারা ফেরার সময় তাদের সাথে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটে। তারা ফেরার সময় তাদের মাইক্রোবাস কে একটি ট্রেন এসে ধাক্কা দেয়। এর ফলে মাইক্রোবাসে থাকা ১১ জনই মৃত্যুবরণ করে।
এই দুর্ঘটনার ফলে ফাঁকা হয় ১১ টি মা-বাবার কোল, কেউ হারিয়েছে ভাই কেউ হারিয়েছে ছেলে কেউ হারিয়েছে বন্ধু। নিমিষেই ১১ টি জীবন সবার মধ্য থেকে চির বিদায় নিয়ে। কতই না কষ্ট হয়েছে তাদের পরিবার আত্মীয়-স্বজনদের। তাদের বয়সও খুব একটা বেশি ছিল না কিছুদিন পরই ছিল তাদের এসএসসি পরীক্ষা। আপনার হয়তো বুঝতেই পারছেন কি রকম বয়সের হবে তারা।
মাইক্রোবাসে করে তারা খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখে ফিরছিল । ফেরার সময় সামনেই একটি রেল লাইন ছিল কিন্তু রেল লাইনে ছিল না কোন গেট ম্যান। সেই রেলগেটে গেটম্যান নিয়োগ দেয়ছিল কিন্তু সে হয়তো আশেপাশে কোথাও গিয়েছিল তাই ট্রেন আসার আগে সে রেলগেটের গেট নামিয়ে দিতে পারেনি। এদিকে মাইক্রোবাসের চালক গেট খোলা দেখে নির্দ্বিধায় সামনের দিকে এগোতে থাকে তখনই সেই ট্রেন এসে নির্মমভাবে সেই মাইক্রো গাড়িকে দমিয়ে মুচিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যায়।
এই দূরবীনায় পুরো দোষটাই আমি সেই গেটম্যানকেই দিব। কারণ ট্রেন আসার আগে তার দায়িত্ব সেই রেলগেটের গেট গুলোকে নামিয়ে দেয়া। সে যদি সতর্ক থাকতো এবং গেট গুলো নামিয়ে দিত তাহলে হয়তো আজ ১১ জনের জীবন বেঁচে যেত। সেই গেটম্যানের অসতর্কতার কারণেই এই ১১ জনের জীবন হারাতে হয়।
এই ঘটনাটি হয়তো আপনারা অনেকেই জানেন কারণ দুদিন থেকে টিভি খুললেই এই ঘটনাটিই আমাদের সামনে আসছে। এই ঘটনাটি দেখার পর হয়তো আপনার বুঝতেই পারছেন যে আমাদের জীবনের সতর্কতার ভূমিকা কতটা উপরে। একজন মানুষ জীবনে সতর্কতার সাথে চলাফেরা না করলে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ।
যাইহোক আপনারা সবাই সবসময় সতর্কতার সাথে চলাফেরা করবেন, সব সময় এটাই মনে রাখবেন যে সময়ের থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আর রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় চোখ-কান অবশ্যই খোলা রাখবেন কারণ দুর্ঘটনা সবসময় যে নিজের দোষেই হবে তা কিন্তু না অন্যের দোষেও হতে পারে বিশাল আকারের দুর্ঘটনা। আর চোখ কান খোলা রাখলে আমরা এ ধরনের দুর্ঘটনাগুলো থেকে বেঁচে যেতে পারি।
তাহলে বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই আপনাদের সাথে আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোন, আশা করি আমার আজকের পোষ্টটি আপনাদের ভাল লেগেছে। আমার আজকের পোস্টটি আপনাদের কেমন লেগেছে তা কমেন্ট সেকশনে অবশ্যই জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।
| YouTube |
|---|
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
https://twitter.com/mahir4221/status/1556981343451377664?t=O5SfylxmDOCcvn2VB62ltA&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

একথা সত্য জীবনে চলার পথে সতর্কতা কোন বিকল্প নেই ।কিন্তু অন্যের অসতর্ক গতিবিধি অনেক সময় সতর্ক থাকলেও নিজেকে খেসারত দিতে হয়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে সদা সতর্ক থাকার চেষ্টা করা নতুবা জীবনের গড়ে যেতে পারে অনেক বড় অঘটন।
হুম ভাইয়া। আমাদের সকলের উচিত সব সময় সতর্কতাবিধী মেনে চলাচল করা, তাহলে কাউকে আর বিপদে পরতে হবে না।
সকল প্রকারের অঘটন থেকে পরিবেশকে মুক্ত রাখার জন্য আমাদের সকলের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সদা সতর্ক থাকা। কারণ বর্তমান পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সতর্ক থাকার কোন বিকল্প নেই। দারুন একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার গঠনমূলক মতামত দেয়ার জন্য। শুভ কামনা রইলো।