লাইফ স্টাইল পোস্ট- নিজের জন্য কিছু কসমেটিকস্ কেনাকাটার অনুভূতিঃ

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন আমার প্রিয় সহযাত্রী ভাই বোনেরা? আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। আশা করি সবার দিনটা ভাল কেটেছে। আজকে আপনাদের সবার মাঝে আমার আরও একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আজ আমি একটি লাইফ স্টাইল পোস্ট নিয়ে আপনাদের সবার মাঝে হাজির হয়েছি।আশা করি আপনাদের সবার কাছে অনেক ভালো লাগবে। তাহলে চলুন আজ আমার লাইফ স্টাইল পোস্ট দেখে আসি কেমন হয়েছে।


image.png

সকল প্রাণের প্রিয় কমিউনিটি পরিবারের প্রতি রইল শুভ রাত্রি। সাথে অফুরন্ত ভালোবাসা। আবারও আমি আমার ব্লগ শুরু করতে যাচ্ছি সবার সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবনের কামনা নিয়ে। বেশ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থতার মধ্যে সময় কেটেছে। তবুও আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে। হয়তো ঠিকভাবে পারিনি। তবে ইনশাআল্লাহ, আজ থেকে আবার হাজারো চেষ্টায় আপনাদের সামনে নিজেকে তুলে ধরব।

image.png

আমি অসুস্থ হই বা যাই হোক, জীবন থেমে থাকতে পারে না। জীবনকে চলতে হবে জীবনের নিজের গতিতে। আর আমি যদি থেমে যাই, তাহলে সেই গতি হারিয়ে যাবে। তাই জীবনের প্রয়োজনে যত কষ্টই আসুক না কেন, জীবনকে চলতেই হবে—এটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। আর সেই বিশ্বাসেই বারবার জীবনের ঝড়-ঝাপটাকে অতিক্রম করে চলার চেষ্টা করি। এমনই এক জরুরি কাজের প্রয়োজনে আমাকে কয়েকবার মিরপুর যেতে হয়েছিল। আর ঢাকা শহরের রাস্তার অবস্থা যেমন, মিরপুর থেকে খিলগাঁও আসতে সময় লেগে যায় বেশ। তাই একটু স্বস্তির জন্য এবং সময় বাঁচাতে আমি বেছে নিই বিখ্যাত মেট্রোরেল। আর এতে আমি অন্তত এক ঘণ্টা সময় বাঁচাতে পারি। আজ সেই মেট্রোরেল ভ্রমণের গল্পই শোনাব আপনাদের। আশা করি, আমার মত আপনাদেরও ভালো লাগবে এমন মুহূর্ত।

image.png

আপনারা নিশ্চয়ই মেট্রোরেলের কথা শুনেছেন। ঢাকায় যারা থাকেন, হয়তো অনেকেই ইতোমধ্যে ভ্রমণও করেছেন এতে। আমিও অনেক শুনেছি। কিন্তু যেহেতু আগারগাঁও থেকে দিয়াবাড়ি পর্যন্তই এখন পর্যন্ত চালু, আমি এখনো এই যানবাহনে উঠিনি। অবশ্য অফিস কলিগদের সাথে অনেকবার প্ল্যান করলেও হয়ে উঠেনি। তবে একটা বিষয় সত্যি, আমি যেহেতু ঘুরতে ভালোবাসি, আমার কলিগরা প্রায় প্রতিদিনই আমাকে মেট্রোরেলে না উঠা নিয়ে ট্রল করে। এমনকি দুইদিন আগেও প্ল্যান করেছিলাম দিয়াবাড়ি গিয়ে মজা করে আবার ফিরব। কিন্তু আফসোস, তা আর হলো না। তাই এবার মনে মনে ঠিক করেছিলাম, যাই হোক, এবার অন্তত একবার মেট্রোরেলে উঠবই। এটাই ছিল আমার ভাবনা।

image.png

দুই দিন আগে একটি জরুরি কাজে মিরপুর রূপনগরে যাই। যদিও শরীরটা ভালো ছিল না। কাজ শেষ হয় বিকেল ৪টায়। তখন যদি বাসে উঠতাম, তাহলে রাত ৮টা হয়ে যেত খিলগাঁও পৌঁছাতে। তাই সময় বাঁচানো আর কলিগদের ট্রল থেকে বাঁচতে ঠিক করলাম, আগে আগারগাঁও যাব মেট্রোরেলে, তারপর দেখা যাবে কী করা যায়। রূপনগর থেকে রিকশায় উঠে চলে এলাম পুরবী সিনেমা হলের সামনে। সেখানেই মেট্রোরেল স্টেশনে ঢুকলাম। স্টেশনে ঢুকতেই চোখে পড়ল বিশাল টিকিট কাউন্টার এলাকা। এখানে দুই ধরনের কাউন্টার আছে। এক ধরনের প্রিপেইড কার্ডধারীদের জন্য, আরেকটি নগদে টিকিট কেনার জন্য। আমি নগদে টিকিট কেনার লাইনে দাঁড়ালাম। আমার সিরিয়াল এলো। ভাবলাম টাকা দিলে টিকিট পেয়ে যাব। দুইটি টিকিটের দাম দিলাম—পুরবী থেকে আগারগাঁও ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা। কিন্তু টিকিট দিল না, বরং দিল ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মতো দেখতে দুটি কার্ড! আমি তো খুশিতে আত্মহারা! ভাবলাম পরদিন অফিসে গিয়ে এই কার্ড দেখিয়ে ট্রল বন্ধ করব।

image.png

তারপর সেই কার্ড পাঞ্চ করে ভিতরে ঢুকে গেলাম। অবশ্য মেট্রোরেলে উঠতে হলে এসকেলেটর দিয়ে উপরে উঠতে হয়। আমরাও তাই করলাম। এরপর শুরু হলো অপেক্ষা। ওমা! দুই মিনিটের মধ্যেই চলে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেল! একদিকে রেল দেখে যেমন অবাক হলাম, তেমনি অবাক হলাম স্টেশনের বিশাল জায়গা আর সুন্দর পরিবেশ দেখে। যেন বিদেশের কোনো স্টেশনে এসে পড়েছি!

image.png

রেলের দরজা খুলে গেল, আমরা ঢুকে পড়লাম। ভিতরের পরিবেশ ছিল ঠাণ্ডা, ঝকঝকে আর প্রশান্তিময়। লোকাল বাসের ভিড়, ঠেলাঠেলি, বিরক্তিকর থেমে থেমে যাওয়া—কিছুই নেই। আমি ভিতরের পরিবেশ উপভোগ করছিলাম, সাথে বাইরের শহর দেখার আনন্দ ছিল অতুলনীয়। মনে হলো, জীবনে এই প্রথম ঢাকায় এমন আরামদায়ক কোনো যানে উঠলাম। যদিও রাস্তায় দুইটি স্টেশনে থামল, কিন্তু তা এক মিনিটেরও কম সময়ের জন্য। ভিতরে সুন্দর হ্যান্ডেল আর সিটও ছিল। আমার মনে হলো মাত্র ১০ মিনিটেই আগারগাঁও পৌঁছে গেছি। অথচ বাসে এলে ৫০-৬০ মিনিট লাগত।

image.png

তবে নেমে ভাবলাম, ফেরার সময় আবার কীভাবে পাঞ্চ করব বুঝিনি। সেই কার্ডগুলো ফেরত দিয়ে যন্ত্রে ঢোকাতে হয়। পরে ছবি তোলার জন্য অনেক অনুরোধ করে আবার দুইটি কার্ড হাতে নিয়ে ছবি তুললাম। তারপর সিএনজিতে খিলগাঁও এলাম মাত্র ৩০ মিনিটে। ফেরার পথে ভাবছিলাম—এই মেট্রোরেল কবে কামালাপুর পর্যন্ত যাবে! তাহলে প্রতিদিন অফিস যাওয়া এত সহজ হয়ে যেত! বিশ্বাস করুন, প্রতিদিন বাসে যেতে আমার খুব কষ্ট হয়, বিশেষ করে জ্যামের জন্য। পিঠে ব্যথা ধরে যায় বসে থাকতে থাকতে।

image.png

image.png

আজ এখানেই শেষ করছি। সামনে আবার নতুন কিছু নিয়ে ফিরে আসব। আজকের এই লেখাটি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। আপনাদের মন্তব্যই আমার অনুপ্রেরণা।

কেমন হয়েছে আজ আমার লাইফ স্টাইল পোস্টটি। আশা করছি আপনাদের সবার কাছে আমার পোস্টটি পড়েও অনেক ভালো লেগেছে। সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবেন সে পর্যন্ত আগামীতে আবার নতুন ব্লগ নিয়ে আপনাদের মাঝে চলে আসবো ইনশাল্লাহ। আল্লাহ হাফেজ।

❤️❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️❤️

image.png

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 63787.74
ETH 1852.24
USDT 1.00
SBD 0.39