বন্ধুদের সাথে মাছ শিকার 🎣 করার আনন্দঘন মুহূর্ত।
১৭শ্রাবণ , ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
০১জুলাই , ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৩মহররম ১৪৪৫ হিজরী
মঙ্গলবার।
বর্ষাকাল।
আসসালামু আলাইকুম,আমি মোঃআলী, আমার ইউজার নাম @litonali।আমি বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আমার আজকের পোস্ট শুরু করছি
আমাদের গ্রাম্য ভাষায় একটি কথা আছে, কাঁচা আম আর তাজা মাছের লোভ নাকি মানুষ সামলাতে পারেনা। ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরার প্রতি আমার খুব নেশা। বাড়ির পাশে নদী হওয়াতে হাত দিয়ে জাল দিয়ে বরশি দিয়ে সব ভাবে মাছ শিকার করেছি নদীতে। গত বছরে বর্ষার সময়ও তিন কেজি ওজনের একটা রুই মাছ মেরেছিলাম জাল দিয়ে। একদিন মাছ পেয়ে সেই লোভে লোভে প্রায় প্রতিদিনই যেতাম বন্ধুদের সাথে জাল নিয়ে মাছ ধরতে। আসলে নদীতে সাঁতার কাটতে মাছ ধরতে নৌকা চালাতে খুবই ভালো লাগে আমার আর সবথেকে বড় কথা হল এটা ছোটবেলা থেকে অভ্যস্ত ছিলাম। নদীতে এই মাছ ধরতে চেয়েছিলাম তবে যে পরিমাণ রোদ ও গরম সইবার মত নয়। নদীতে না গিয়ে আমরা সাঁতার জন মিলে আমাদের বাড়ির পাশে এক ছোট ভাইয়ের পুকুরে মাছ শিকার করেছিলাম প্রায় তিন ঘন্টা ধরে বরশি দিয়ে। তার কিছু আলোকচিত্র এবং কিছু স্মৃতি বিজড়িত গল্প আজ আপনাদের মাঝে তুলে ধরব।
🐟🐟
বড়শি দিয়ে হোক জাল দিয়ে হোক আর হাত দিয়ে হোক পানিতে নেমে মাছ ধরার মজাটাই অন্যরকম। মাঝে মাঝে দু একটা মাছ পেলে মাছ ধরার প্রতি আগ্রহটা আরো বেড়ে যায়। মাছ ধরতে হলে অবশ্যই বড়শিতে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন। বড়শিক্ষক হিসেবে আমরা আটা এবং চকলেট কেক ব্যবহার করেছি। চকলেট কে কে এক ধরনের লোভনীয় সেন্ট থাকে যার কারণে মাছ ধরা অনেক সুবিধা হয়। উপরের ফটোগ্রাফি তে আপনারা মাছ মারার টোপ দেখতে পাচ্ছেন।
🐟🐟
একা একা মাছ ধরতে গেলে কিন্তু কোন মজা হয় না। এজন্য বেশ কয়েকজন মিলে আমরা পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করি। প্রথমে ভেবেছিলাম এই ভোর দুপুর বেলা বড়শিতে মাছ ধরবে কিনা। তবে সোহাগদের পুকুরে এত পরিমাণ মাছ বড়শি ফেলতে দেরি কিন্তু মাছ উঠাতে দেরি হয় না। তবে নদীতে মাছ ধরতে গেলে অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন হয় বড়শি ফেলে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় মাছ ধরার জন্য।
🐟🐟
তিনটা বর্ষী নয়জন মানুষ বরশী নিয়ে কারাকারি মাছ ধরার জন্য। তবে পর্যায়ক্রমে আমরা সবাই একে একে মাছ ধরেছিলাম। প্রথম বসে ফেলাতেই বড়শিতে যে মাছটি উঠেছিল তেলাপিয়া সেটি আসলে একটি কাকতালীয় ঘটনা ছিল। সচরাচর মাছ ধরতে গেলে মাছের গালে বেঁধে উপরে উঠে আসে। কিন্তু এমনভাবে বড়শিতে টান পড়েছে মাছের গালে না বেঁধে মাছের পেটে বেঁধে উঠে এসেছে মাছ 🎏। প্রথম যখন মাছটা বড়শিতে উঠেছে সবাই মিলে এত জোরে চিৎকার মেরেছি। সবাই মনে করেছে অনেক বড় একটি মাছ ধরেছি বোধ হয়। সব থেকে বড় অবাক হয়েছি মাছের পেটে বেঁধে মাছ উঠে এসেছে।
🎏🐟
একটা একটা করে মাছ উঠছিল আর আমরা সবাই অনেক জোরে জোরে চিল্লাপাল্লা করছিলাম। আসলে অনেক জনা মিলে একসাথে যে কোন কাজ করলে এরকম ভাবেই মজা হয়। মাছ ধরার সময় সবাই অনেক গল্প এবং ফানি কথার মাধ্যমে অনেক আনন্দ উপভোগ করেছি। পুকুরে এত পরিমাণ মাছ যে বরসি ফেলতে দেরি মাছ ওঠাতে দেরি হচ্ছিল না। উপরের ফটোগ্রাফিতে দেখতে পাচ্ছেন আমি অনেকগুলা বড়শিতে ঝুলন্ত অবস্থায় মাছের ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছি। সবাই যদিও মাছ ধরাতে এক্সপার্ট নয় তারপরেও সবাই খুব ভালই মাছ বড়শিতে উঠিয়েছে।
🎏🐟
আমাদের ধরা মাছের মধ্যে এটি হচ্ছে সবথেকে বড় নাইলোটিকা। এই মাছটি ও বড়শিতে কাকতালীয়ভাবে উঠেছে গালে না বেঁধে চোখের পাশ দিয়ে বরশি বেঁধে গিয়েছিল। আমরা দুজন বাদে আমাদের সাথে আমার বন্ধুরা যারা মাছ শিকার করছিল সবাই এর পূর্বে কখনো এরকম ভাবে মাছ শিকার করেনি। এজন্য যখন খুব ভালো মাছ শিকার হচ্ছিল তারা খুব খুশি হচ্ছিল এবং জোরে জোরে কথা বলছিল চিল্লাচিল্লি করছিল।
🎏🐟
মাছ ধরার যে কাকতালীয় ঘটনা আমাদের সাথে বেশি ঘটেছে এ দিন। কেননা পুকুরে খাবারের তুলনায় মাছের সংখ্যা বেশি। এজন্য অল্প কিছু খাবার দিয়ে চার দিয়েছিলাম যার কারণে এত পরিমাণ মাছ সেখানে লেগেছিল যে বরশি ফেলতে দেরি হচ্ছিল কিন্তু টানে টানে মাছ উঠতে দেরি হচ্ছিল না। কখনো বা মাছের গায়ে কখনো বা চোখে কখনো বা মাছের কাঁটার সাথে সুতা পেচায়ে মাছ উঠে আসছিল। তেমনি দেখতে পাচ্ছেন এটি একটি শিং মাছ। এই মাসের কাটায় বেঁধে উঠে এসেছে পানি থেকে। তবে এই মাছটি আমরা ধরেছিলাম না কেননা মাছের পেট ভরা ডিম ছিল। সুতায় জড়িয়ে উঠে আসার পরে মাছটি কেউ আমরা সারাতে যাচ্ছিলাম না কেননা এই মাছের কাঁটায় অনেক বিষ। এই মাছগুলো দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমন মজা তবে এর কাটা খুবই মারাত্মক। এদিন কি হয়েছিল জানিনা মাছ ধরার চেয়ে কাকতালীয় ঘটনাগুলোই বেশি ধরেছে। মাছ ধরতে ধরতে কোন এক সময় যখন আমরা ফাঁকা বরশি পানিতে ফেলছিলাম তখনও বড়শিতে মাছ উঠছিল। এমনকি কলাপাতা টপ হিসেবে ব্যবহার করেও আমরা মাছ ধরেছি।
🎏🐟
আসলে এমন আনন্দঘন মুহূর্ত আর এমন করে সবাই একসাথে আবার কবে হব জানিনা তবে এদিন যে মজা করেছি। স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে। সাঁতার জন মিলে একসাথে আনন্দ ফুর্তির মাধ্যমে মাছ ধরা আর বিভিন্ন গল্প করা সত্যিই অসাধারণ একটি সময় পার করেছি। বিশেষ করে পুকুরের চারি পাড় দিয়েছিল আমের গাছ। কাঁচা পাকা অনেক আম ছিল গাছে ইচ্ছেমতো সেটি খেয়েছি সাথে পেয়ারাও ছিল। প্রায় দু বছর পরে এরকম ভাবে সবাই একত্র হয়ে মাল ধরতে গিয়ে এতটা আনন্দিত হব আর এতটা ভালো সময় পার করতে পারব আসলে বুঝতেই পেরেছিলাম না প্রথমে। যাও গিয়েছিল আমার বড়শিতে বন্ধুদের সাথে মাছ ধরার আনন্দ কোন মুহূর্ত। আজ এ পর্যন্তই পরবর্তীতে দেখা হবে নতুন কোন পোস্টে।
লোকেশন:
ডিভাইসঃ Redmi Note 5
VOTE @bangla.witness as witness OR
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
ধন্যবাদ
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ভাই আজকেও মাছ ধরেছি অনেকগুলো। সেদিন মাছ ধরে খাওয়া হয়নি কিন্তু আজ ভাজি করে খেলাম দারুন ছিল। আপনি যেদিন উপস্থিত ছিলেন সেই দিন অনেক মাছ পেয়েছিলাম আজকে মাছের পরিমাণ কম ছিল তবুও অনেক মজা হয়েছে।
কপাল।
আজকে ও থাকলে খুব আনান্দ পেতাম।🐟😂😂😂
বন্ধুদের সাথে এইভাবে মাছ শিকার করার মজাটাই যেন অন্য রকমের। আমরাও মাঝে মাঝে এভাবে মাছ শিকার করে থাকি। আপনি তো দেখছি বড়শি দিয়ে শিং মাছ শিকার করে ফেলেছেন ভাইয়া।
আসলে ভাইয়া এদিন মাছ ধরতে গিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কাহিনী ঘটেছে আমাদের সাথে।
এর মাঝে মনে করেন শিং মাছ অন্যতম।
আপনার বন্ধুদের সাথে মিলে পুকুর থেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার খুব সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করেছেন। আপনাদের এভাবে মাছ ধরার দৃশ্য দেখে আমার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল।আমরা ভাইবোনেরা মিলে মাঝে মাঝেই পুকুর থেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতাম। এভাবে বড়শি দিয়ে মাছ ধরে সেই মাছ রান্না করে খাওয়ার মজাই কিন্তু আলাদা। যাই হোক আপনাদের সেই সময় কাকতালীয় ঘটনা ঘটেছে বলেই হয়তো আপনারা অনেক মজা পেয়েছেন। ধন্যবাদ এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
ঠিকই বলেছেন আপু এভাবে মাছ ধরতে খুব মজা লাগে।
তাছাড়া সবাই মিলে একসাথে হাসি ঠাট্টার মাধ্যমে সময়টা বেশ ভালো কেটে যায়।
আসলে এমন ঘটনা একদিন আমার কাছে ঘটেছিল ভাইজান। আমি একদিন মাছ ধরেছিলাম মাছের উল্টো দিকে বরশি বেঁধে অর্থাৎ মাছের মুখের বাইরে বেধে মাছ উঠে এসেছিল। যা হোক খুবই ভালো লেগেছে আপনার আজকের এই সুন্দর পোস্ট পড়ে।
আসলে ভাইয়া এরকম বিষয়গুলো সব সময় অনেক ইন্টারেস্টিং হয় ।এবং মনে রাখার মত।