আলিপুর চিড়িয়াখানা : পর্ব ৬
নমস্কার বন্ধুরা,
ইমু পাখির সাহসিকতা দেখে এক পা দু পা করে এগোতেই সামনে বড় একটা পোস্টারে বাঘ গন্ডারের ছবি দেখে মনে মনে খুশি হয়ে গেলাম। তবে মামাদের পাত্তা না পেয়ে একটু দুশ্চিন্তা ছিল তাই সেখান থেকেই তাদের ফোন করে জানলাম যে তারা বাঘ দেখছে। আমিও পড়িমরি করে বাঘ দেখবো করে দৌড় দিলাম। পথেই তাদের পেলাম, পাশাপাশি খাঁচাতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুয়ে। হঠাৎ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখে আমি অল্প হকচকিয়ে গেলাম। দাঁড়িয়ে পটাপট ছবি তুলে ফেললাম। পাশাপাশি কয়েকটা খাঁচায় তারা ছিল বটে তবে বেশিরভাগের চেহারাই জীর্ণ, যেন অনেক কয়েক বছর তাদের ঠিকঠাক খাওয়া হয়না।
বাঘ দেখে কয়েকটা বাচ্চার আবার উচ্ছাসের শেষ নেই তারা পারলে প্রায় ঢিল ছুড়ে মারে। আমি বিশেষ উচ্যবাচ্য না করে সেখান থেকে কেটে পড়লাম। জায়গাটা খুব একটা ভালো না বাচ্চাগুলোর ঢিল খেয়ে যদি মামারা তেড়ে আসে, তখন কি হবে? জানি সামনে বড় বড় লোহার গ্রিল রয়েছে কিন্তু সেগুলো তাদের আটকাতে পারবে কিনা সে নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া না খেতে পেয়ে তাদের সরু চেহারার গুলো যদি রডের মাঝখান দিয়ে ফাক গলিয়ে বেরিয়ে আসে। হাঃ হাঃ। আসলে আর কিছুই নয়, মামাদের দেখা না পেয়ে আরো ঝটপট সামনে এগিয়ে গেলাম আরকি।
অল্প সামনে এগোতেই দেখি মামারা দাঁড়িয়ে কিছু একটা দেখছে। আরো অনেকেই সেই দিকে তাকিয়ে। বুঝলাম সেখানেও কোনো না কোনো প্রাণী রয়েছে। ওমা! কাছে গিয়ে দেখি সাদা বাঘ। প্রথম দেখাতে সাইবেরিয়ান বাঘ বলে মনে হলো পরে যখন তার খাঁচায় সাটা পোস্টার দেখলাম, তখন ধারণাটা বদলে গেল। রয়েল বেঙ্গল টাইগারই তবে খুবই রেয়ার প্রজাতির সাদা রঙের।
গরমে শুধু হাঁসফাঁস করছে আর ছায়ার চারপাশটা ঘুরঘুর করছে। তবে দূর থেকে হলেও বুঝলাম বাঘের চেহারাটা কম করে হলেও ৮ থেকে ৯ ফুট উচ্চতা হবে। অথচ দূর থেকে বিশেষ কিছুই বোঝার উপায় নেই।
হাঁটার মধ্যে অদ্ভুত রাজকীয় ব্যাপার আছে যেটা দূর থেকেও স্পষ্ট।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
একটি বাঘের যে পরিমাণ খাবারের প্রয়োজন চিড়িয়াখানার লোকজন মনে হয় সে পরিমাণ খাবার দেয় না। সব জায়গায় একই অবস্থা বাঘ গুলোকে দেখা যায় একেবারে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পরে আছে। বেশ ভালো বলেছেন দাদা না খেয়ে এমন অবস্থা হয়েছে যে গ্রিল দিয়ে বের হয়ে যাবে হা হা হা। সাদা বাঘটি ৮-৯ ফিট উঁচু দেখেতো বোঝা যাচ্ছে না। এত লম্বা বাঘ সামনে দেখলে তো অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। অবশেষে আপনি আপনার আসল মামাদের খুঁজে পেয়েছেন জেনে ভালো লাগলো।
বাঘ আপনার আসল মামা দাদা? তা যাই হোক অবশেষে আপনি তো দেখছি আপনার আসল মামাদের খুজেঁ পেলেন। কিন্তু বাঘ গুলো কে দেখে বেশ কাহিল মনে হচেছ্। আসলে পর্যাপ্ত খাবার না পেলে যা হয় আর কি। না খেতে খেতে বাঘগুলোর অবস্থাও খারাপ। এদের অবস্থা দেখার মত যেন কেউ নেই।
প্রিয় দাদা, আপনার ভ্রমণ করা আলিপুর চিড়িয়াখানার ষষ্ঠ পর্বটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। দাদা আপনার পোস্টে আজকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার সম্পর্কে লেখাগুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। দারুন একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।