মামার অস্ত্রোপচারের দিন
নমস্কার বন্ধুরা,
মামাকে সোমবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই তখনই ডাক্তাররা জানিয়ে দিলো মঙ্গলবার সকাল সকাল বেশ কিছু টেস্ট করিয়ে তারা পরের চিকিৎসার দিকে এগোবেন। টেস্ট গুলো করার পরেই তারা মূলত হার্টের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হবেন। তাদের ধারণা যে হার্টে ফুটো দেখা গিয়েছে তবে ঠিক কিনা সেটা তারা একমাত্র ইকো-কার্ডিওগ্রাফি টেস্ট করার পরেই বুঝতে পারবে। সোমবার রাতটা কোনো ক্রমে কাটিয়ে দিয়ে যথারীতি মঙ্গলবারে টেস্ট হলো এবং ডাক্তারদের ধারণাই সঠিক বেরোলো। হার্টের ভালভ ফেটে গেছে। ডাক্তাররা আরো জানালেন যে হাতে দুটো অপশন আছে হয়তো মাইক্রো সার্জারিতেই ঠিক হয়ে যাবে আর তা না হলে ওপেন হার্ট সার্জারি করলেও করতে হতে পারে। মঙ্গলবার রাত নাগাদ ডাক্তার জানিয়েই দিলেন তারা বুধবার মেডিক্যাল টিম বসিয়ে পরবর্তী সার্জারির সময় ঠিক করবেন।
যথারীতি বুধবার দুপুর বেলা লাগাদ ডাক্তাররা জানিয়ে দিলেন যে সার্জারি করতেই হবে এবং সার্জারির সময়ও দিয়ে দিলেন, বৃহস্পতিবার সকালবেলা। সার্জারির কথা শুনলেই কেমন যেন ভয় লাগে। কিন্তু কিছুই করার নেই ডাক্তারদের কথা মতোই চলতে হবে। রাত ভোর নানান চিন্তা করে কাটিয়ে বৃহস্পতিবার খুব সকালেই হাসপাতাল থেকে আমাদের ফোন এলো। আমাদের জানানো হলো হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ার জন্য, রোগীকে তারা অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছে যেতেই নানা কাগজপত্রে সই সবুদ করা শুরু হলো। আসলে একটা অপারেশন করার আগে পরিবার থেকে সই করিয়ে নেওয়া হয় যাতে কোন কারনে অপারেশন চলা কালীন কোনো সমস্যা বা কোনো কিছু হলে তার দায় কর্তৃপক্ষ নেবে না। ডাক্তার রা মাইক্রো সার্জারি করা ঠিক মনে করেছেন। সেই সই সাবুত করতে প্রায় ঘন্টাখানেক লেগে গেল। সাড়ে আটটার সময় মামাকে সি সি ইউ তে নিয়ে চলে গেলো।
তারপরের ঘন্টা দেড়েক যে কিভাবে কাটলো সেটা বোঝাও গেল না। যখন কর্তৃপক্ষের থেকে বেলা দশটার দিকে ডাক্তারের সাথে দেখা করতে যেতে বললো তখন বোঝা গেলো অপারেশন হয়ে গেছে। ডাক্তার সার্জারি সফল হবার কথা জানালেন। যেখানে ফুটো হয়েছিলো ডাক্তাররা সফলতার সাথে সেটাকে বুজে দিতে পেরেছেন। ডাক্তারের কথা গুলো শুনতেই বেশ খানিকটা চিন্তা মাথা থেকে নেমে গেলো।
ডাক্তারের সাথে কথা হবার কিছু পরেই মামাকে নরমাল বেডে দিয়ে দিলো। আমরাও মামার সাথে দেখা করে নিলাম। সোমবার রাত থেকেই চিন্তায় মাথায় ঘুরছিল যে পরবর্তী কি হয় কিন্তু অপারেশনে হয়ে যাওয়ার পরে সেসব চিন্তা চলে গিয়ে বিশাল স্বস্তি পাওয়া গেল।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আপারেশনের পর আপনার মামা ভালো আছে জেনে বেশ ভাল লাগলো। অপারেশন করার পুর্বে পরিবারের সদস্যদের যে কি দুশ্চিন্তা হয় তা কেবল তার স্বজনরাই জানে। তবে ভাল খবর যে, আর আপনার মামাকে অপেন হার্ট করতে হবে না। অনেক অনেক শুভ কামনা আপনার ও মামার জন্য।
মঙ্গলবার থেকে যখন জানতে পারলেন আপনার মামাকে হয় ওপেন সার্জারি করতে হবে নয়তো ,মাইক্রো সার্জারি করতে হবে তখন থেকে চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত মাইক্রো সার্জারি করা হলো এটা খুবই ভালো হয়েছে। কারণ ওপেন সার্জারি আরও বেশি ভয়ানক বলে আমার মনে হয়। শেষ পর্যন্ত আপনার মামার সার্জারি ভালো ভাবে হয়েছে আর তিনি সুস্থ আছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো।
তবে একটা মজার বিষয় ছোটবেলায় যখন বইয়ের পাতায় এই অস্ত্রোপচারের বিষয়টা দেখতাম ,তখন আমার বারবারই মনে হতো ডাক্তাররাও অস্ত্র পাচার করে দিচ্ছে ,এরাও তো তাহলে ক্রিমিনাল, হাহাহা।