আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২৩, (পর্ব ২) দা এশিয়াটিক সোসাইটি
নমস্কার বন্ধুরা,
বইমেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা মাত্র হাতের বাঁ দিকে যেটা আমার নজরে এলো সেটা ছিল "দা এশিয়াটিক সোসাইটি কলকাতার" স্টল। স্যার উইলিয়াম জোনস এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পাওয়া দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি আঠেরোশো শতাব্দী থেকেই ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে চলেছে। ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম জোনস তৎকালীন কলকাতা সুপ্রিম কোর্টে কনিষ্ঠতম বিচারক হিসেবে যোগদানের পরে ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহাসিক পান্ডুলিপি গুলো পুনরুদ্ধারের চিন্তাভাবনায় এগিয়ে আসেন। সেই সূত্র ধরে ১৭৮৪ সালে জোনসের হাত ধরে "দা এশিয়াটিক সোসাইটি কলকাতা" প্রতিষ্ঠা লাভ পায়। উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় ভাষা সংস্কৃতি এবং ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে চলা। যদিও ভারতীয় সভ্যতা নিয়ে গবেষণা চললেও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ বছর ধরে কোনো ভারতীয় সেখানে স্থান পাননি। সেটার পরিবর্তন আসে ১৮২৯ সালে যখন পাঁচজন ভারতীয়র জন্য এশিয়াটিক সোসাইটির দ্বার উন্মুক্ত করা হয়।
বর্তমান সময়ে ভারত সরকারের আর্থানুকুল্যে চলা এই সংস্থাটি ভারতের ঐতিহাসিক পুঁথি পুনরুদ্ধারে ব্রতী হয়ে আছে। দা এশিয়াটিক সোসাইটি স্টলটা দেখামাত্রই চটপট সেখানে ঢুকে পড়লাম কিছু পুরাতন পান্ডুলিপি দেখার আশায়।
স্থলটিতে ঢোকার পরেই ভারতের পৌরাণিক পান্ডুলিপির সাথে মধ্যযুগীয় ইতিহাসের বহু অংশ নজরে আসে। আমি ঢুকেই চারিদিকের বিভিন্ন পান্ডুলিপি গুলো এক এক দেখতে শুরু করলাম। ভারতের পৌরাণিক ইতিহাসের সাক্ষ্য প্রমাণ যেন সশরীরে উপস্থিত। স্টল জুড়েই সংস্কৃত ভাষা, তিব্বতীয় ভাষা, পালি ভাষার যেন অদ্ভুত মেলবন্ধন। সংস্কৃতের লেখা দেবী মাহাত্ম্য, ধরণী সংগ্রহ পান্ডুলিপি যেমন জ্বলজ্বল করছিল। ঠিক তার পাশেই তিব্বতীয় ভাষায় লেখা বৌদ্ধ ধর্মের বিশেষ কিছু পান্ডুলিপি বর্তমান।
পাশের দেওয়ালে যেতেই তরজমা-এ-মহাভারত এবং তরজমা-এ-ভাগবত গীতা নজরে এলো, যা আকবরের সময়ে সংস্কৃত থেকে পারসি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল। ঠিক তার পাশেই ছিল সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত্রম ও কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য চরিতামৃত পাণ্ডুলিপির অংশবিশেষ। আর পাশের দেওয়ালে যেতেই পেলাম আইন-এ-আকবরীর অংশ। আর শিবাজী মহারাজের রাজ্যভিষেকের পান্ডুলিপি।
টুকরো টুকরো ইতিহাসের অংশ আমার সামনে। যেগুলোর গুরুত্ব সীমাহীন। ছুঁয়ে দেখা যাবে না, তাই শুধু মনোমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |