এলোমেলো আলোকচিত্র : বর্ষা পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা,
প্রায় খরা পরিস্থতি কাটিয়ে অবশেষে বর্ষার আগমন হলো। আর বর্ষার আগমনের সাথে সাথে চারপাশের আবহাওয়াটা হয়ে উঠলো বেশ মনোরম।
মাঝেমধ্যে মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি আর মাঝেমধ্যে মেঘ কেটে গিয়ে পরিষ্কার আকাশ। মেঘ রোদের দুইয়ের মাঝে আলো-আঁধারির খেলাটা বেশ জমে উঠেছে। মেঘের সাথে রোদ্দুরের খেলাটা আমার বেশ ভালোই লাগে, আমার মতো আপনাদের অনেকেরই হয়তো ভালো লাগে। সে না হয় আরেক দিনের গল্প কিন্তু আজকে খেপে খেপে বৃষ্টির মাঝে আমি বেরিয়ে পড়ছিলাম কিছু ছবি তোলার উদ্দেশ্যে।
বর্ষায় মনোরম আবহাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির ফোঁটা পেয়ে চারপাশটা আরো সবুজ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পর চারপাশটা এতটাই সুন্দর হয়ে ওঠে যে ছবি না তুললেই নয়।
দুপুর বেলায় হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি হলো। ঠিক যত তাড়াতাড়ি বৃষ্টি এলো ঠিক তত তাড়াতাড়িই বৃষ্টি নিরুদ্দেশও হয়ে গেলো। সাথে নিয়ে গেলো গরম ভাবটা। সকাল থেকে যেটুকু গরম পড়েছিল সেগুলো টেনে নিয়ে বেপাত্তা। আমিও বৃষ্টি থামাতে গেলাম বাইরের দিকটায়। নজর গেলো সোজা গাছগাালির ফাঁকে। অদ্ভুত ভাবে তখনও চারিদিকে মেঘের অন্ধকার থাকলেও ঠিক গাছগাালির মাঝটায় অল্প মেঘ কেটে গিয়ে আলো ঠিকরে পড়ছে। সে মায়াবি এক দৃশ্য।
খানিক বাদ থেকে আবার বৃষ্টি শুরু হলো। অঝোরে বৃষ্টি। থামার কোনো সম্ভাবনা নেই তাই বারান্দায় বসে বৃষ্টি দেখতে দেখতেই সময় কাটাচ্ছিলাম হঠাৎ চোখটা টিনের চালের দিকে গেলো। এক টিনের জল আরেক টিনে গড়িয়ে পড়ছে। সময়টাকে ফ্রেম বন্দী করে নিলাম।
সন্ধ্যার খানিকটা আগে বাইরে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। উঠোনে থাকা কসমস ফুলটার দিকে নজর গেলো। গেরুয়া কসমস ফুলটার উপরে বৃষ্টির ফোটা গুলো খুব সুন্দর লাগছিলো। বেশি রোদ থাকলে তবেই কসমস ফুল ভালো করে ফোটে তবুও মনে হলো সেও যেন আজকের বৃষ্টির জলে পরিতৃপ্ত।
অল্প দূরেই ছিলো সারাবছর ফুটতে থাকা নয়নতারা। টানা খরা পেয়ে সে যেন খুবই দূর্বল হয়ে পড়েছিলো। কাছে গিয়ে বেশ মায়া লাগলো। বেচারা অনেকদিন জল না পেয়ে কেমন যেন নরম হয়ে গেছে। নরম হয়ে গেলে কি হবে! নিজের সৌন্দর্য্যতা বেশ ধরে রেখেছে।
শেষমেশ বেরিয়ে পড়লাম আশেপাশটা ঘুরে দেখতে। অল্প কাঁদা মাড়িয়ে পৌঁছে গেলাম মূল রাস্তায়। হেঁটে হেঁটে দু পা এগোতেই আকাশের দিকে আমার নজর চলে গেলো। তখন আকাশে মেঘ নেই বললেই চলে। সূর্য্য আস্ত যাওয়ার মুহূর্তে। পেজা তুলোর মতো মেঘরা পশ্চিম কোনায় ঘুরছে। ভাবটা যেন বৃষ্টির মেঘ বলতে কিছুই তারা জানে না।
সন্ধ্যে হওয়ার মুখে ঘরপানা হলাম। কখন যে বৃষ্টি আসে তার কোনো ঠিক নেই। বাড়িতে ঢুকতেই চোখে আলোর ঝিলিক লাগলো। তাকিয়ে দেখি টিউবলাইটের আলোতে পাতার উপরের জল চকচক করছে। দেখতে বেশ লাগছিলো তাই এটাকেও ফ্রেম বন্দী করে ফেললাম।
আজকের মতো এটুকুই থাক। আবার দেখা হবে আগামীকাল অন্য কোনো ব্লগে। ভালো থাকুন। আনন্দে থাকুন। ধন্যবাদ।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আপনার ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আমার অনেক ভালো লাগলো। খুব সুন্দর ভাবে ফটোগ্রাফি করেছেন। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি ছিল অসাধারণ।
জি দাদা বেশ কিছুদিন যাবৎ অনেক খারা গেল। গরমে জীবনটা একদম শেষ হয়ে গেছে। এখন আবার বর্ষা শুরু হচ্ছে। ভালই লাগতাছে, চারপাশে খুব সুন্দর একটি মনোরম পরিবেশ তৈরী হয়ে গেছে। আজকে আপনি আমাদের মাঝে মনমুগ্ধকর কিছু ফটোগ্রাফি তুলে ধরেছেন দাদা। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি আমার খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো এবং সন্ধ্যা বেলার ফটোগ্রাফিটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাদা।
টিনের চালের উপর ঝুম বৃষ্টির আওয়াজ শুনতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। বারান্দা থেকে উঠানো আপনার ফটোগ্রাফিটি জাস্ট মনোমুগ্ধকর। ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো জাস্ট অসাধারণ ছিল। এক কথায় আপনার সবগুলো ফটোগ্রাফি মুগ্ধ করার মত ছিল।
ঠিক বলেছেন দাদা যখন পানি হয় তখন আকাশের পরিচিতি অন্যরকম। আসলে বেশ কয়েকদিন খারার থাকার কারণে পানির কোন দেখায় পাইনি। আমাদের এলাকার মানুষ পানির করার কারণে মাঠের পাট জাগ দিতে পারছেন। অবশেষে পানি দেখা গেছে।
আপনার মত আমারও খুবই ভালো লাগে এই খেলাটা যখন আকাশে বৃষ্টি হয় কিছুক্ষণ পরেই আবার রোদ উঠে যায় ।তখন পরিবেশটা একদম স্বচ্ছ হয়ে ওঠে । অনেকদিন পরে বর্ষার পানি পেয়ে গাছের পাতাগুলো সজিব হয়ে উঠছে ,নয়নতারা ফুল পেয়েছে তার সজিবতা ।
সবগুলো ছবি অনেক সুন্দর ছিল তবে এই সুন্দর ছবিগুলোর মধ্যেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বলতে গেলে মেঘের ছবিটা সবচেয়ে বেশি সুন্দর ছিল। শেষ বেলায় যদি বৃষ্টি হয় তাহলে বৃষ্টি শেষে আকাশে সাধারণত এরকম সুন্দর মেঘ লক্ষ্য করা যায়।
অনেক সুন্দর সুন্দর আলোকচিত্র আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন খুবই ভালো লাগলো দেখে বিশেষ করে মেঘ এবং ফুলের ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন শুভেচ্ছা রইল দাদা।
আপনার প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফি অনেক সুন্দর হয়েছে দাদা। এইসব ফটোগ্রাফি করতে যেমন ভালো লাগে, তেমন ফটোগ্রাফি গুলো দেখতেও অনেক ভালো লাগে। বৃষ্টি ভেজা ফুল, গাছ, গাছের পাতা এসব ফটোগ্রাফি আমার সব থেকে বেশি ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে দাদা সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
সত্যি ই ভাইয়া বৃষ্টি এখন কিছু না কিছু হচ্ছে সব জায়গাতে। আপনার ফটোগ্রাফি ভাল লেগছে। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।
দাদা বর্ষা এবার ঠিকই আসলো তবে অনেক দেরিতে। আমাদের এদিকে এবার বৃষ্টির এত অভাব যে খাল বিল পুকুর নদী নালাগুলো এখনো পানি শূন্য। আপনার পোস্ট থেকে ভালো একটা আইডিয়া পেলাম। বর্ষা নিয়ে একটা ফটোগ্রাফী সিরিজ করব চিন্তা করছি। শুভকামনা রইল আপনার জন্য। ও আপনার ফটোগ্রাফি গুলো সত্যিই অসাধারণ হয়েছে।