বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসতবাটী গৌরী কুঞ্জ
নমস্কার বন্ধুরা,
বাঙালির কাছে ঘাটশিলা যে কারণে বিখ্যাত সেটা অবশ্যই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আরেকটা বিষয় অবশ্যই ঘাটশিলার সাথে বাঙালির এক আত্মিক সম্পর্ক করে দেয় তা হল একে এই শহরে মূলত বাংলা ভাষাভাষী মানুষেরই বসবাস। কাজকর্মের সন্ধানে আসতে থাকা বিভিন্ন বাঙালিরা সিংভূমের বহু জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে তার মধ্যে এই ঘাটশিলা শহরটিতেও বহু বাঙালি বসত করে। যারা এখনো পর্যন্ত বসবাস করে। তাছাড়া ঘাটশিলাকে অনন্য করে তার পাহাড় এবং সূবর্ণরেখা নদী। রেলওয়ে ওয়েটিং রুমে কিছুক্ষণ রেস্ট নেওয়ার পরে বেরিয়ে পড়লাম ঘাটশিলা ভ্রমণের দ্বিতীয় অংশে। যেহেতু আগেই একটা দ্বিচক্র যান ঠিক করে রেখেছিলাম সেজন্য ঘর থেকে বেরিয়ে দ্বিচক্রযানের চালকের সাথে একবার পরিচিত হয়ে নিলাম।
দ্বিচক্র যানটিতে চেপে কিছু দূরে প্রথমে তার খাদ্য নেওয়া হল, ফের শুরু হলো যাত্রা। যদিও আমার প্রথম গন্তব্য ছিল ঘাটশিলা শহরের ভেতরে। অনতি দূরেই, বাংলা ভাষার অন্যতম উপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাটি, গৌরী কুঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জন্মানো এই শ্রেষ্ঠ বাঙালি তার জীবনের একটা বিশাল অংশ এই ঘাটশিলা শহরেই তার গৌরী কুঞ্জতে কাটান। এখানেই লেখেন তার বিখ্যাত সব উপন্যাস এবং এই শহরের সাথে ভালোবাসায় জীবনের শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত এখানে কাটিয়ে দেন। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকালই প্রকৃতির সাথে এক নিদারুণ সম্পর্ক ছিল। সেই কারণে হয়তো ১৯৩৮ সালে উনি পাকাপাকিভাবে ঘাটশিলা শহরে চলে আসেন। এবং এখানে বসেই অপরাজিত, চাঁদের পাহাড় এবং আরণ্যকের মতন উপন্যাস লেখেন।
পথে যেতে যেতে বহু জিনিসই মাথায় ঘুরছিল তবে বেশি সময় কাটলো গুগল ম্যাপে আমার দ্বিচক্রযানের চালককে রাস্তা বুঝিয়ে দিতেই। যখন শেষমেষ অনেক গলি ঘুরে গৌরী কুঞ্জের সামনে পৌছলাম তখন যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল বিখ্যাত সব উপন্যাসের অংশগুলো। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কয়েকটা উপন্যাস পড়েছি এবং তার উপন্যাস নিয়ে বানানো ও সিনেমা গুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি। তাই যখন গৌরীকুঞ্জের সামনে পৌছালাম তখন ভিন্ন রকম অনুভূতি কাজ করছিল। গুটি গুটি পায়ে প্রবেশ করে গেলাম লেখক যেখানে জীবনের একটা সময় কাটিয়েছেন, সেইসব ঘর দেখতে।
বাড়িটিকে কয়েক বছর আগে কিছু উপন্যাস ভালোবাসা মানুষজন পুনরুজ্জীবন করেন। তারাই রক্ষাবিক্ষণের একটা বিশাল অংশের দায়ভার গ্রহণ করে লেখকের বাড়িটিকে নতুন করে জীবন দেন। হাতেগোনা দু তিনটে ঘর সেই সাথে রয়েছে লেখকের স্মৃতি। এই ঘর সে ঘর ঘুরছি আর সবখানেই রয়েছে উপন্যাসিকের স্মৃতি বিজড়িত ব্যবহৃত বহু জিনিস। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহার করা ধুতি ও ফতুয়া এখনো পর্যন্ত দেওয়ালে রয়েছে তাছাড়া রয়েছে বিভিন্ন উপন্যাসের পান্ডুলিপি। লেখকের স্মৃতির কিছু জিনিস যেমন রয়েছে তেমনি ঘাটশিলা এবং সিংভূমের বহু সুপরিচিত জিনিসও গৌরিকুঞ্জে রাখা আছে। সম্পূর্ণটা আমার মতো এক সাধারন পাঠকের কাছে অনেক বড় পাওনা।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS