পার্কিংলটে বিপত্তি: পর্ব ৭
নমস্কার বন্ধুরা,
পার্কিংলটে বিপত্তি: পর্ব ৬ এর পর....
অফিস জয়েন করার পরেই রাতুলের এক কলিগ তাকে বলেছিল যে অফিসের বহুতলটির একদম নীচের তলায় নামা নিষেধ। যদিও সেকথা জানার পরে রাতুল কখন এ তলায় নামেনি, আসলে তার কখন এই তলায় নামার প্রয়োজনটাই পড়েনি। এমনকি আজকে ভুল করে নামবার আগ পর্যন্ত সে এই তলায় আসা কেন বা কি কারণে নিষিদ্ধ সেটা জানতো না। তাই আচমকা নেমে চারপাশটা অন্যরকম লাগলো তার। কেমন যেন অদ্ভুত স্যাঁতস্যাঁতে ব্যাপার আছে।
আর পুরো ফ্লোরে আলো বলতে লিফটের গেটের মুখটাতে যে কটা লাইট জ্বালানো আছে। সেই আলোতেই বিভিন্ন অফিসের পুরনো চেয়ার টেবিল আর খারাপ হওয়া প্রিন্টার গুলো দেখা যাচ্ছে। সেগুলোর উপরে ধুলোর আস্তরণ দেখে রাতুল বুঝলো যে, এই ফ্লোরে অনেকদিন হলো কেউ নামে না। বাকি পুরো ফ্লোর জুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার, অল্প দূরেই কিছু দেখা যাচ্ছে না।
কি আর করার ভুল যখন হয়েই গিয়েছে। ওদিকে লিফটাও নেই যে সেটাতে চট করে উঠে পড়বে। তাছাড়া মাত্র অল্প কয়েকটা সিঁড়ির পরেই উপরের ফ্লোরের দরজাটা দেখা যাচ্ছে। তাই সিঁড়ি দিয়ে ওঠাই স্থির করলো রাতুল।
ছোটা ছোটো কয়েকটা সিঁড়ি ভাঙতেই দরজার কাছে পৌঁছে গেলো। তারপর শুরু হলো সিঁড়ির দরজা টানাটানির পালা। রাতুল নানাভাবে দরজাটাকে খোলার চেষ্টা করলো। গায়ের পুরো শক্তি লাগিয়ে দিল তবুও দরজাটা এক চুলও নড়লো না। তার মনে হলো কেউ ওপার থেকে সজোরে দরজাটাকে টেনে রেখেছে। এখন লিফট ছাড়া তার কাছে অন্য কোনো উপায় রইলো না। রাতুল তাই ফের লিফটের জন্য সিঁড়ি দিয়ে নামা শুরু করলো।
দুটো সিড়ির ধাপ নেমেছে হঠাৎ করে লিফটের গেটের চারপাশের আলো গুলো নিভে গেল। আলো চলে যাওয়ার আকস্মিকতায় রাতুল অল্প যেন ভয় পেয়ে গেলো। ভয় কাটিয়ে পকেট থেকে সে মোবাইলটা বের করে ফ্লাশ লাইটটা জালিয়ে নিলো। মোবাইলের আলো জালতেই তার সামনে দিয়ে কে যেন এক দৌড়ে ফ্লোরের অন্ধকার দিকটাতে চলে গেলো। তবে মানুষ হাঁটার মতন আওয়াজ পাওয়া গেলো না।
অথচ রাতুল বেশ ঠাহর করতে পারলো যে কেউ একজন পাশ থেকে হেঁটে বেরিয়ে গেলো। রাতুল হাঁক পাড়লো,
-কে ওখানে?
এই গল্পের আগের পর্ব গুলো পড়া হয়নি দাদা। তবে এই পর্বটি পড়ে বেশ ভয়ানক গল্প মনে হচ্ছে। নিশ্চয়ই পার্কিংলটে ভূত পেত্নী রয়েছে। ভূতের গল্প পড়তে আমার বরাবরই ভীষণ ভালো লাগে। তবে রাতুল কলিগের কথা না শুনে একেবারে নিচের তলায় নেমে বিপদে পড়ে গেল। এরপর কি হলো সেটা জানার আগ্রহ অনেকাংশে বেড়ে গিয়েছে। আশা করি পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই শেয়ার করবেন। অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
অফিসের বহুতলের নিচে নামা নিষেধ কথাটি রাতুলের একদম খেয়াল ছিলনা। সিড়ি ভেঙে দরজার কাছে পৌঁছলে খুব চেষ্টা করেও পারলো না দরজা খুলতে।এমন মনে হচ্ছিল কেউ একজন দৌড়ে গেল।রাতুল পকেট থেকে ফ্ল্যাশ লাইট অন করে হাক পাড়লো ।বেশ ভয়ানক গল্প ছিল ভাইয়া, রাতুল কি আর বেরোতে পারবে সেখান থেকে জানতে পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।