কিশানগঞ্জ ছেড়ে চললাম কলকাতা
নমস্কার বন্ধুরা,
কিশানগঞ্জ এর পাঠ চুকিয়ে আমি চললাম কলকাতা। বেশ কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করার পরে অবশেষে কিশানগঞ্জ এর কাজের সমাপ্তি হলো। মূলত কিশানগঞ্জ ক্রিমিনাল কোর্টে আমার কাজ ছিলো। কোর্ট এর কাজ সেরে বিকেলে অত্যন্ত এক নিরস অথচ শান্তিপূর্ণ পার্কে কিছুটা সময় কাটিয়ে পরদিন সকাল বেলাতেই বেরিয়ে পড়লাম। ঠিক ছিলো যে কিশানগঞ্জ এর কাজটা একদিনই সেরে যাবে আর হলোও তাই। কাজের ব্যাপারে খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয়নি, দিনের দিন কাজ সেরে পরদিন সকালে ট্রেনের টিকিট। যেটা আগেই কেটে রেখেছিলাম। আর টিকিটটা সকালের ট্রেনে কাটার কারণ ছিলো রাতের দিকের টিকিট না পাওয়া। আদপে এদিকে রাতের ট্রেনের টিকিট পাওয়া অনেকটা নদীতে সোনা পাওয়ার মতন। অন্তত মাস দুয়েক আগে কাটতে পারলে তবেই টিকিটের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। সে সব কথা ভেবেই আমি দিনের বেলাতেই যাওয়া স্থির করেছিলাম।
ট্রেন ছিল সকাল দশটা পঞ্চাশ মিনিটে। তবে পূর্বেই একটা অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেন যে আধঘন্টা লেট চলছে সেটা আমি দেখে চলছিলাম। তাই যেখানে আমার স্টেশন যাওয়ার উচিত ছিল সাড়ে দশটার অনেক আগেই সেখানে আমি ঘর থেকে বেরোলাম দশটা বেজে ত্রিশ মিনিটে। স্টেশনের উদ্দেশ্যে বেরোতেই কেমন যেন আমার চিন্তা বাড়তে থাকলো। হয়তো একটু দেরি করেই ফেললাম। ঝটপট তাই টোটো পেতেই চরে বসলাম।
টোটো অর্ধেক রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে পড়লে আমার চিন্তা আরো বাড়তে থাকলো। ওদিকে বারবার চেক করছিলাম ট্রেন কতদূর এলো। আসলে এতক্ষন ট্রেন লেটের সময়টাই শুধু দেখছিলাম কত কিলোমিটার দূরে রয়েছে সেটা দেখিনি। ট্রেনের দূরত্ব দেখতেই আমার সমস্ত চিন্তা কেটে গেল। ট্রেনটা 15 মিনিট লেট দেখালেও স্টেশন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল তাই বুঝতেই পারছিলাম যে ট্রেন কমপক্ষে আধ ঘন্টা লেট তো হবেই।
স্টেশন পৌঁছতেই ফাঁকা জায়গা দেখে বসে পড়লাম। প্রায় ৩০ মিনিট বসে থাকার পর ট্রেন চলে এলো আমিও ট্রেনে চেপে আমার জানলার ধারে বসে পড়লাম। ট্রেনে উঠতেই শুরু হলো আরো লেট হওয়ার পালা। আধ ঘন্টা লেট কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন্টাখানেকের লেটে রূপান্তর হলো। ট্রেন কিছুদূর গিয়েই থেমে যায়। দেখতে দেখতে এভাবেই বেলা গড়িয়ে দুপুরে দুটো বেজে গেলো।
দুপুর দুটো পেরোতেই ট্রেনটা যেন একটু নড়ে চড়ে বসলো। আমিও সেই সুযোগে দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম। ট্রেনে আমার সবচেয়ে পছন্দের খাবার, ডিম সিদ্ধ। দু খানা ডিম সিদ্ধ নিয়ে বেশ আয়েশ করে খেয়ে নিলাম।
আমার খাওয়া শেষ হতেই ট্রেন যেন দেহে বল পেলো। সাধারণ গতিবেগের তুলনায় অনেক বেশি গতিতে ট্রেন চলতে শুরু করল। আমি ট্রেনের জানালার হাওয়া খেয়ে আর বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে দিলাম। ট্রেনে বসে থাকতেই আবহাওয়াটা যে গরম হচ্ছিলো সেটা ঠাহর করতে পারলাম। তখনই বুঝলাম যে কলকাতার খুব কাছাকাছি এসে পড়েছি। ঠিক তাই। সন্ধ্যা হতে হতে কলকাতায় ঢুকে পড়লাম। তখন ব্যস্ত শহরে লোকাল ট্রেন ক্লান্ত মানুষদের নিয়ে পাশ দিয়ে ছুটে চলেছে। আর আমি আরেক ট্রেনে চেপে সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে শহরে ঢুকছি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
কিশানগঞ্জে আইনি প্রক্রিয়ার কাজ শেষে ট্রেনে যাত্রা করার মুহূর্তের গল্পটি দারুন ছিল দাদা। আপনার মত আমারও অনেক বড় হয়েছে ট্রেন অনেক দূরে থাকলেও মনে হয় ট্রেনকে অনেক কাছেই চলে এসেছে। মনের ভিতর একটা ভয় সংশয় থেকেই যায় যাই হোক অবশেষে ভালোভাবে ট্রেনে উঠে যাত্রাটা করেছেন। ট্রেনের মধ্যে ডিম খেয়েছেন শক্তি পেল ট্রেন অনেকবার হাসলাম কথাটি পড়ে।
জীবন মানেই যেন ছোটাছুটি আর কাজের লড়াই। এক দিকের কাজ সামলে নিয়ে অন্যদিকে যাওয়া। কিংবা প্রয়োজনের তাগিতে ছোটাছুটি করার মাঝে যেন জীবন চলছে। ট্রেনের টিকেট কাটা ছিল তাই তো সুবিধা হয়েছে। যাইহোক ভালো ভাবে সব সমস্যা মিটিয়ে বাসায় ফিরেছেন জেনে ভালো লাগলো দাদা।
জীবনে প্রথমবার শুনলাম যে কেউ ট্রেন কোথায় আছে এটা দেখতে দেখতে ঘর থেকে বেরিয়েছে। হা হা হা... লোকাল ট্রেন গুলো খুব বেশি একটা দেরি করে না তবে এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো মাঝেমধ্যে বেশ দেরি করে।
এই কথা শোনার পরে তো আমার ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি বায়োলজির সব লজিক উল্টাপাল্টা হয়ে যাচ্ছে।😂