অসাবধানতার মূল্য...
নমস্কার বন্ধুরা,
মৃত্যু কথাটা শুনলেই সবার মনটা কেমন যেন ভার হয়ে আসে। ছোট্ট এই শব্দের মধ্যে অনেক গভীরতা লুকিয়ে রয়েছে। আসলে হয়তো আমরা কেউই শব্দটার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। কিন্তু ওই যে কথা আছে, "জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা রবে"। জন্মালে আমাদেরকে মরতেই হবে এটা এক অবধারিত বিষয় তবে আমরা সেটা মন থেকে মেনে নিতে পারি না। আজ হঠাৎ এরকম কথা বলছি কেন? শুনতে অবাক লাগলেও আমি এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম যেখানে কিছুক্ষণের জন্য হলেও হয়তো মৃত্যুকে খুব কাছাকাছি থেকে দেখতে পেলাম যদিও পরক্ষণেই ঘটনা ক্রম বুঝে হেসে ফেলেছি।
হেঁয়ালি না করে শুরু থেকে বলছি। কাজ কর্মের জন্য আমি সাধারণত বাসে যাতায়াত করে থাকি। তবে বাসে প্রতিনিয়ত চলাচল করলেও কখনো অ্যাক্সিডেন্টের সম্মুখীন হইনি। নিদেনপক্ষে আজ যে ঘটনার সম্মুখীন হলাম সেরম কিছুই ঘটেনি। যথারীতি অন্য দিনের মতন আজকেও বাসে চড়েই কাজের দিকে রওনা হয়েছি তবে অন্যান্য দিন খুব সকাল সকাল বেরোলেও আজ দুপুর বেলা নাগাদ বেরোতে হয়েছে। বাসে উঠে দেখি মোটামুটি ভীড়। বসার জায়গা নেই। বাস তুলনামূলক খুব ধীরে ধীরে চলছিল।
বাসের গতি দেখে মনে মনে ভাবছিলাম যাত্রা পথ ৪৫ মিনিটের সেখানে হয়তো এক ঘন্টার উপরেই লেগে যাবে। মনের কথাটা যেন খানিকক্ষণ এর মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেল। বাস ধীরে ধীরে এক স্টপেজে দাঁড়ানোর পর হঠাৎ করেই ঘটনাটা নিমেষে ঘটে গেলো। স্টপেজ দেওয়ার পর বাস চলতে শুরু করে দিয়েছে। সেই সময়ে বাসের কন্ডাক্টার প্যাসেঞ্জার তুলবে বলে দুবার প্যাসেঞ্জার প্যাসেঞ্জার বলে হাঁক পাড়লো তবে বাস ড্রাইভার সেদিকে খুব একটা ভ্রুক্ষেপ না দিয়েই বাস চালাতে থাকলো। যদিও গতিবেগ খুবই ধীরে ছিল। বাস না থামায় কন্ডাক্টার চিৎকার করে উঠলো কিন্তু তবুও কোনো পাত্তা নেই। এসব দেখে সামনের দিকে বসা এক ছেলে উঠে গিয়ে চালকের গায়ে ধাক্কা দিলে বাস চালক কোনো ধরনের সাড়া শব্দ না করেই সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লো।
বাস কন্ডাক্টার জ্ঞান হারিয়েছে বুঝতে পেরে ছেলেটি উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে সজোরে ব্রেক করলো। বাসে থাকা বেশিরভাগ যাত্রী সামনের দিকে হুড়মুড়িয়ে পড়লো। আমিও ব্যতিক্রম নয়। আচমকা ঘটে যাওয়ার পর যাত্রীরা নিজেদের সামলিয়ে চালকের দিকে ছুটে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করতে শুরু করলো। উত্তর না পেয়ে কন্ডাক্টর চালকের মুখে জলের ঝাপটা দিতেই তার জ্ঞান ফিরে এলো। জ্ঞান ফিরে আসার পর চোখ মুখ ধুয়ে চালক ফের বাস ছেড়ে দিলো। যদিও মাঝে বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার বাস থেকে নেমেও গেলে আমি বসার জায়গা পেয়ে গেলাম। আসলে আর কিছু নয় ভরদুপুর বেলায় মারাত্বক ধীরে ধীরে বাস চলার জন্য বাসচালক নিজেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। বাস ধীরে চলায় যাত্রী ঘুমিয়ে পড়ে বলে শুনেছি তবে চালক যে ঘুমিয়ে পড়ে সেটা প্রথমবার দেখলাম। আরেকটু হলেই বাস চালকের অসাবধানতার মূল্য সবাইকে গুনতে হতো। এবারের মতো বেঁচে গেলাম। মনে মনে একটু হেসেও নিলাম।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
সেই একই কথা আমার মনেও বাসা বেধেছে যে এতদিনে দেখেছি বাস চালক বাস চালায় আর প্যাসেঞ্জার ঘুমায় কিন্তু আপনার এই পোস্টে দেখছি তার বিপরীত হয়েছে। যাইহোক তেমন কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা হয়নি এটাই ভাগ্যের বিষয়।
আমিও তো তাই দেখলাম। পরে যদিও ভীষণ হেসেছি
পৃথিবীতে মানুষ আসার পরে কেউই চাই না এই সুন্দর পৃথিবীকে ছেড়ে যেতে। কিন্তুু এই মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে আজ অথবা কাল। আর এটাই চিরন্তন সত্য। বাস চলা অবস্থায় যদি ড্রাইভার অজ্ঞান হয়ে যেত তাহলে বড় বিপদ হতে পারতো। আপনাদের ভাগ্য ভালো ছিল। তবে এমন ঘটনা প্রথম আজ শুনলাম। বাসে চড়লে প্যাসেঞ্জার ঘুমায় আর এখন দেখি ড্রাইভার ঘুমিয়ে গেছে। সৃষ্টিকর্তা বাঁচিয়ে রাখলে কেউ মারতে পারে না এটা তার বড় প্রমাণ।
পাশের ছেলেটি উপস্থিত বুদ্ধি না খাটালে অন্যকিছু হতে পারতো।
দাদা, এরকম অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে গাড়ি চালকেরা গাড়ি চালাতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বিশেষ করে যে সমস্ত গাড়িচালকরা অতিরিক্ত রাত জাগে এবং পরের দিন গাড়ি চালাতে শুরু করে, তাদের ক্ষেত্রেই এমনটা বেশি হয়ে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত যে আপনারা সকলেই অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন এজন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট কৃতজ্ঞতা জানাই। সকল গাড়িচালক ড্রাইভারদের সচেতন হওয়া উচিত এবং গাড়ির যাত্রীদেরও সচেতন হওয়া উচিত।
ঠিকই। লরি বা যারা রাতের বাস চালান তাদের মধ্যে এই সমস্যা সবচাইতে বেশি।
মৃত্যু জীবনের সর্বশেষ আর অন্তিম নাম ৷ কারণ পৃথিবীতে প্রতিটি জীবের মৃত্যু হবে এটাই স্বাভাবিক আর এটাই বাস্তব ৷ যেমনটা বললেন যে জন্মিলে মরিতে হবে অমর কেহ নাই ঠিক তেমনি ৷
আসলে মৃত্যু কখন কিভাবে ঘটবে তা আসলেই বলা যাবে না ৷ তবে আপনার বাসে থাকা ঘটনাটি যতটা স্বাভাবিক ভাবছেন ততটা নয় ৷ কারণ একটি বাস ড্রাইভার যখন ঘুমিয়ে পড়বে গাড়িটির সম্পূর্ণ কন্ট্রোল টা সে হারিয়ে ফেলবে ৷ আর এটাই হতে পারে সবচেয়ে বড় বিপদ হতে পারতো গাড়ি উল্টে কিংবা কোন জায়গায় লাগিয়ে যেত ৷ তাহলে কি হতো ভাবুন তো ৷
গাড়ি কোথাও ধাক্কা মারলেই তো বড়ো বিপদ হয়ে যেতো।
আমার মনে হয় এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য গাড়ী চালোনার কিছু শক্ত নিয়ম কানন তৈরি করা উচিত। যাতে করে ড্রাইভার রা গাড়ীতে ঘুমাতে না পারে। আর যাত্রীরা গাড়ীতে শান্তিতে ঘুমোতে পারে। যাক বাবা অনেক বড় বিপদ থেকে বেচেঁ গেলেন।
নিয়ম করেও তো লাভ নেই। ড্রাইভারের ঘুম হয়নি বোধ হয়।