পুজো পরিক্রমা ২০২৩ : সংকেত ক্লাব
নমস্কার বন্ধুরা,
পুজো পরিক্রমায় তারপর হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে গেলাম সংকেত ক্লাবের দিকে। ত্রিধারা ক্লাবের ঠিক পাশের গলির ভেতর দিয়ে অল্প কিছুটা দূর হাঁটলেই সংকেত ক্লাব। বিগত বছরে সূবর্ণজয়ন্তী বৎসর পার করে আসা সংকেত ক্লাব প্রতিবছরই নানান ধরনের ঐতিহাসিক জায়গাকে মাথায় রেখে তাদের মন্ডপটা বানিয়ে থাকে। এই বছরও তাদের মন্ডপটা মূলত এক ঐতিহাসিক স্ট্রাকচার ঘিরেই বানানো। সেই স্ট্রাকচারটি হলো আমেরিকার গভর্নর হাউজ।
রাত বাড়ার সাথে সাথে ঠান্ডা অনেকটাই বেড়ে গেছিল। তবে অষ্টমীর রাতে প্রচুর মানুষের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে যেন ঠাণ্ডা খুব একটা গায়ে লাগছিল না। তাছাড়া পূজোর মাঝে মাত্র একটা দিন বাকি। তার আগেই পুরোটা শেষ করে নিতে হবে। ত্রিধারা ক্লাব থেকে ৬০০-৭০০ মিটার হেঁটে পৌঁছে গেলাম সংকেত ক্লাবে। ৫১ তম বর্ষে পদার্পণ করে সংকেত ক্লাব তাদের থিম আমেরিকান গভর্নর হাউজের অনুযায়ী বানিয়েছে। মন্ডপে যখন পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে রাত্রি দশটা বাজে অথচ মন্ডপের সামনে ভিড় দেখলে সেটা বোঝা সম্ভব ছিলো না।
ভিড়ের মাঝে ধীরে ধীরে মন্ডপের ভেতরে প্রবেশ করে গেলাম। মন্ডপের বাহিরের সজ্জা করা হয়েছে কাঠের কাজের উপরে। যার উপরে বার্নিশ করা কারণে আরো বেশি ফুটে উঠেছে। আমেরিকার ঘরবাড়িগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাঠের ব্যবহার করা হয় যেটা সংকেত ক্লাব নিজেদের পুজো মন্ডপের সব কিছুতেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে। সর্বত্রই প্রচুর পরিমাণে কাঠের কাজ করা হয়েছে বিশেষ করে কাঠের বিটের উপরে সুন্দরভাবে তারপিন তেলের বার্নিশ করে সেটাকে খুব ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমায় বা টিভিতে আমরা আমেরিকার বিভিন্ন ধরনের সরকারি গভর্নর হাউজ গুলো দেখি তাদের অন্তরে যেভাবে কাঠের কাজ করা থাকে সংকেত ক্লাবের মন্ডপের ভেতরটাও ঠিক তেমনি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। যেটা আসলেই খুব সুন্দর লাগছিল। মন্ডপের ঠিক মাঝে জায়গা হয়েছে বিশাল বড় এক ঝাড়বাতির। ঝাড়বাতি এবং কাঠের কাজের মন্ডপের ভেতরের আবহাওয়াটা এক দারুন আবহ সৃষ্টি হয়েছিল।
মন্ডপের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন জগৎ জননী মা দুর্গা। এখানেও মা দুর্গার প্রতিমা বনেদিয়ানার উপরেই। তবে এইখানে মন্ডপের অন্দরের সাথে মিল রেখে প্রতিমার সজ্জা অনেকটা কাঠের রঙে করা হয়েছে।
দাদা ভিড়ের মধ্যে এমনিতেই ঠান্ডা অনেক কম লাগে। যাইহোক সংকেত ক্লাব তো দেখছি দূর্গা পূজা উপলক্ষে এককথায় দুর্দান্ত আয়োজন করেছে দাদা। থিম অনুযায়ী তারা চমৎকার ভাবে আমেরিকার গভর্নর হাউজ বানিয়েছে। মন্ডপের মাঝখানে থাকা ঝাড়বাতিটা দেখে তো চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। প্রতিটি ফটোগ্রাফি দারুণভাবে ক্যাপচার করেছেন দাদা। সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ করলাম সম্পূর্ণ পোস্টটি। যাইহোক এতো সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।