আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২৩ (পর্ব ৩)
নমস্কার বন্ধুরা,
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার গেট নাম্বার ১ থেকে প্রবেশ করে সোজা এশিয়াটিক সোসাইটির স্টলে ঢুকে ছিলাম। যেখানে মূলত ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক সব পুথির সম্ভার ছিলো। এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে বেরোতেই এক নম্বর গেটের কাছে খানিক দূরেই ছিলো বইমেলার ফুড কোর্ট তবে যেহেতু সবেমাত্র বইমেলায় প্রবেশ করেছি তাই সেদিকে যাওয়ার জন্য মন ডাক দিলেও সামনে দিকে এগিয়ে যাওয়া শ্রেয় মনে করলাম।
সামনে এগোতেই দেখি সেটা দুই নাম্বার গেটে বেরোনোর রাস্তা। আর তার ঠিক উল্টোদিকেই বসেছিল মুক্তমঞ্চ। এ বছরের মুক্ত মঞ্চের যার নামাঙ্কিত করা হয়েছিল তিনি আমাদের সকলের খুব পরিচিত এক চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার। শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, দাদার কীর্তি দেখেনি এমন বাঙালি খুব কমই আছে। ভারত সরকারের পদ্মশ্রী প্রাপ্ত এই চিত্র পরিচালক ২০২২ সালের জুলাই মাসে গত হয়েছেন তাকে উৎসর্গ করেই এ বছরের কলকাতা বইমেলার মুক্ত মঞ্চ তৈরি। যখন মঞ্চেরকল কাছে পৌঁছেছি তখন নানা ধরনের আলোচনা চলছিলো। হাতে বিশেষ সময় ছিল না তাই মুক্তমঞ্চের সামনে আর দাঁড়ায়নি।
মুক্ত মঞ্চের ঠিক উল্টো দিকেই ছিল গেট নাম্বার ২ আর তার পাশে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ছোটখাটো প্রকাশনী গুলো। স্টল গুলোর মধ্যে ছিলো ইউথ হোস্টেল অফ ইন্ডিয়া, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, অন্নপূর্ণা পুস্তকালয়, আর্য সমাজ, অনিমা প্রকাশনী, বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ আরো বেশ কিছু প্রকাশনী। ইচ্ছে ছিল ছোটখাটো স্টল গুলোতে অল্প হলেও ঢু মারার কারণ অনেক পুরনো গল্পের সংস্করণ এই সমস্ত প্রকাশনী গুলো রাখে।
ঘুরতে ঘুরতে অন্নপূর্ণা পুস্তকালয়ে রঘু ডাকাত এবং জিম করবেট সমগ্র দেখে আমার একবার খুব ইচ্ছে হলো গিয়ে ঢুকে আসি। কিন্তু ভিড় দেখে খুব একটা সাহস হলো না।
বিগত কয়েক বছরে প্রকাশনী সংস্থা গুলোর বেশ কিছুটা পট পরিবর্তন হওয়ার জন্য ছোটখাটো এই প্রকাশনী গুলো অনেকটাই মার খেয়েছে। তবুও তাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা যেন বইমেলায় বারবার উঠে আসে। দু-একটা স্টলে যদিও ঢুকলাম কিন্তু পছন্দসই কিছু পেলাম না কিন্তু এই জায়গাতে বেশ খানিকটা সময় চলে গেল। আসলে ঘুরে ঘুরে বই দেখতে দেখতে সময় যে কখন হাত থেকে বেরিয়ে যায় সেটা ঠাহর করতে পারিনি। ওদিকে হাতে অল্প সময় নিয়ে আসা তাই এগিয়ে গেলাম বইমেলার সামনে স্টল গুলোতে।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার খুবই পরিচিত একজন।যদিও তার শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, দাদার কীর্তি দেখেছি কিনা মনে পড়ছে না।যাইহোক মুক্তমঞ্চটি তার নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছিল জেনে ভালো লাগলো।এটা ঠিক বলেছেন দাদা,বই দেখতে দেখতে সময় ফুরিয়ে যায় চোখের নিমিষেই।তাই বইমেলায় হাতে অনেক সময় নিয়ে যেতে হয়।আশা করি আপনি ও বিভিন্ন বই কিনেছেন,ধন্যবাদ আপনাকে।
দুটোই দেখা উচিত। ভালো লাগবে।
আমার মাথার ভিতরেও এই ব্যাপারটা বেশ ঘুরপাক খাচ্ছিল বইমেলায় গিয়ে।
আর তুমি সময়ের কথা বলছো, আমি তো দুপুর তিনটের সময় গিয়ে কখন যে আটটা বেজে গেছিল বুঝতেই পারিনি, এত দ্রুত সময় চলে গেছিল।
সত্যিই। তিন ঘন্টা ছিলাম সেদিন। টুক করে বেরিয়ে গেলো সময়।
এরপর যখন আসবে তখন অনেকটা সময় নিয়ে আসবে দাদা তাহলে একসাথে ঘুরা যাবে। হি হি...
এই বছর কেন জানিনা আমারও খুব বেশি একটা বই পছন্দ হলো না। আগের বছর বেশ কিছু বই কিনেছিলাম তবে এ বছর শুধু ঘোরাঘুরি করে বাড়ি চলে এসেছি।