গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবি // নাটক রিভিউ
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (২৮-০৭-২০২৩)
| নাটকের নাম | গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবি |
|---|---|
| পরিচালক | ওসমান মিরাজ |
| অভিনয় | জোভান, তানজিন তিশা |
| দৈর্ঘ্য | ৪৩ মিনিট ০৫ সেকেন্ড |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ২০ জানুয়ারি ২০২২ ইং |
নাটকের শুরুতেই নায়ক এবং নায়কার দেখা হয়েছিল। নায়ক-নায়কা তারা দুজন অনেক আগে থেকেই তাদের মধ্যে ভালোবাসার একটা সম্পর্ক রয়েছে। নায়কার বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য ছেলে দেখা শুরু করেছে। নায়কা এসে নায়কের হাত ধরে তার বাবার কাছে নিয়ে যেতে চাই বলে তুমি বলবা আপনার মেয়েকে আমি বিয়ে করতে চাই। নায়ক বলে এখনো আমি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করতে পারি নাই তাই কিছুদিন পরে। তারপরেও আমার বড় ভাইয়ের বিয়ে না হলে কিভাবে আমি বিয়ে করি এ কথা বলে। নায় তারপরে বাড়ি গিয়ে তার বড় ভাইয়ের কাছে বিয়ের কথা জানতে চাইলে তার বড় ভাই থাপ্পড় মেরে বসে। পরে তার মা এসে সব কিছু ঝামেলা মিটিয়ে দেয়। আসলে নাটকটি বেশ রোমান্টিক একটি নাটক। আমি নাটকটি সম্পূর্ণ দেখা শেষ করেছি।
একটা রেস্টুরেন্টের মধ্যে বসে নায়কা কফি খেতে ছিল। সেখানে নায়কের একটা বন্ধু এসে হাজির হয়। আসলে নায়কের সেই বন্ধু নায়কাকে খুব বেশি পছন্দ করে। নায়কার কাছে নায়কের সম্পর্কে খারাপ খারাপ কথা বলতে থাকে। সেখানে হঠাৎ করে নায়ক চলে আসে এসে তার সেই বন্ধুকে দুই গালে দুইটা থাপ্পড় মেরে সেখান থেকে বের করে দেয়। আসলে নাটকটি বেশ মজার কাহিনী। তারপরে সেখানে নায়ক এবং নায়কা দুজন বসে গল্প করতে থাকে। নায়ক বলে আমার ভাইয়ের বিয়ে সামনে সপ্তাহে গতকাল মেয়ে দেখতে যাব। নায়কা তখন বলে ওঠে গতকাল আমারও একটা ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে। নায়ক বলে শুধুমাত্র তুমি আর একবার ছেলেপক্ষ সামনে গিয়ে বসো তারপর থেকে তোমার আর কোন ছেলে পক্ষের সামনে বসতে হবে না। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের বিয়েটা হয়ে গেলেও আমি বিয়ে করে ফেলব। আসলে নাটকটিতে বেশ মজার এবং হাসির কাহিনী রয়েছে।
এবার আপনাদের উপরের ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন নায়ক এবং নায়কের ভাই এবং তাদের মা বাবা সবাই মিলে মেয়ে দেখতে এসেছে। মেয়ে দেখতে আসার পরে নায়কের বাবা এবং নায়কার বাবার সেই ছোটবেলার বন্ধু দুজনের সাথে পরিচয় হয়ে তারা সে আনন্দে মেতে ওঠে। তারপরে রুমের মধ্যে গিয়ে বসে এবং তাদের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে। নায়ক তখন তার ভাইয়ের সাথে কথা বলতে থাকে বলে ভাইয়া এখনো মেয়ে নিয়ে আসছে না কেন। তারপরে নায়ক বাইরে গিয়ে নায়কার ফোনে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু ফোন বন্ধ দেখায়। নায়কের কপালে তখন দুশ্চিন্তা। তারপরে নায়ক হঠাৎ করে ছাদে যায় সিগারেট খাওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে দেখে একটি মেয়ে পিছন ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে তাকে নায়ক ভাবি বলে ডাকে। নায়কা তখন সামনের দিকে ঘুরে বলে হ্যাঁ আমি তো আপনার ভাবি। তারপরে নায়ক অবাক হয়ে দেখে তার গার্লফ্রেন্ড। নায়ক তখন বলে আমি আমার নিজের পায়ে কুড়াল মারতে এসেছি। তারপরে নায়ক জড়িয়ে ধরে বলে তুমি একটা কিছু করো বিয়ে ভাঙার যে কোন একটা ব্যবস্থা কর। তারপরে নায়কা নায়কের এক বন্ধুর কাছে ফোন দিয়ে ভালোবাসার অভিনয় করে এবং বিয়ে ভাঙ্গার প্ল্যান করে। আসলে নাটকটি বেশ রোমান্টিক এবং বেশ মজার একটি নাটক আমার কাছে মনে হয়েছে।
এরপরে নায়ক এবং নায়কা দিন একটা পার্কে বসে আছে। সেখানে হঠাৎ করে নায়কের সেই বন্ধুর দেখা। সেখানে নায়ক এবং নায়কা তার সেই বন্ধুকে ডেকে কান ধরে উঠবস করানোর জন্য শাস্তি দেয়। শাস্তি দেওয়ার কারণ হচ্ছে বিয়ে ভাঙ্গার জন্য নায়কার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে নায়কার নামে অনেক খারাপ খারাপ কথা বলেছে। সেই সাথে বলেছে আপনার মেয়ের একটা ভিডিও আছে আমার কাছে আমি সেই ভিডিওটা ভাইরাল করে দিব। তারপরে নায়কার বিয়ে ভেঙ্গে যায়। তার কিছুদিন পরে নায়কার বাড়ি থেকে এবং নায়কের বড় ভাইয়ের সাথে আবারও বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে বিয়ের জন্য আবারও সবাই গহনা গাটি কেনা শুরু করে। নায়ক তখন বাড়িতে গিয়ে বলে এই বিয়ে হবে না মেয়ের একটা সমস্যা আছে। তখন আবারও নায়কের বড় ভাই তখন একটা চড় মেরে বসে নায়কে। নায়ক তখন শেখান থেকে বের হয়ে যায়।
দেখতে দেখতে হঠাৎ করে নায়কের ভাইয়ের সেই বিয়ের দিন সামনে চলে আসে। নায়ক মন খারাপ করে ছাদে এসে বসে আছে। নায়কের ভাই বিয়ের জন্য পাঞ্জাবি পায়জামা পড়ে রেডি হয়ে নায়কে ডাকতে এসেছে। নায়ক তখনো মন খারাপ করে বসে আছে বলে আমি বিয়েতে যাব না তোমরা যাও। তারপরে নায়কের ভাই বলে তাহলে আমি মাকে গিয়ে বলে দিই আমার ভাইয়ের যে বিয়েতে মত নেই আমিও সেই বিয়ে করতে রাজি নই। তারপরে নায়ক হঠাৎ করে সেখান থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলে ভাইয়া তুমি আমাকে দশটা মিনিট সময় দাও আমি রেডি হয়ে আসছি। তারপরে সবাই বিয়ে বাড়িতে যাই নায়িকাও সাজার জন্য রেডি হয়েছে। নায়কার মা নায়কে গিয়ে মনে সান্তনা দেয় নায়কার অনেক মন খারাপ ছিল সেদিন দেখে বোঝা যাচ্ছে। আসলে শেষ পর্যন্ত নাটকের কাহিনী না দেখলে বোঝা যাবে না যে নাটকটি কত রোমান্টিক।
বিয়ের জন্য যখন সবাই প্রস্তুতি গ্রহণ করে বসেছিল তখন নায়ক তার আগ মুহূর্তে সেখান থেকে উঠে ছাদের উপরে চলে যায়। নায়কের বাবা তখন রেগে বলে তোমার ছেলে একটাও কাজের না নায়কের মাকে বলে। তারপরে নায়কা বলে আমি দেখছি আংকেল আপনারা এখানে বসেন। নায়কা ছাদে গিয়ে নায়কের সাথে সেখানে কথা বলে নায়ক বলে তুমি এখানে কি করতে এসেছ। নায়কা তখন বলে বিয়ের পিঁড়িতে বর কনে দুজনকে একসাথে বসে থাকতে হয় কাজী সাহেবের সামনে কবুল বলতে হয় তা না হলে কি বিয়ে হয়। তারপরে নায়কের বড় ভাই এসে বলে বিয়া আজকে আমার না আজকে তোমার বিয়ে। প্রেম করতে পারিস আর এইসব কথা বাড়িতে বলতে পারিস না নায়কের বড় ভাই তখন এই কথা বলে। তখন নায়ক নায়কাকে জড়িয়ে ধরে এবং ভাবি বলে ডেকে ওঠে। আসলে নাটকটি আমার কাছে বেশি রোমান্টিক একটি নাটক বলে মনে হয়েছে। বেশ মজার কিছু ঘটনা ছিল নাটকের ভেতরে।
আসলে নাটকটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে বর্তমান সময়ে নাটকটি দেখার মত একটি নাটক। আসলে এখনকার সমাজে ছেলে মেয়েরা তাদের ভালোবাসার কথা বাড়িতে জানাতে পারেনা এজন্য তাদের খুবই সমস্যার সম্মুখে পড়তে হয়। কিছু কিছু মানুষ আছে আবার বড় ভাইয়ের আগেই বিয়ে করে ফেলে নাটকটি তারই একটি উদাহরণ। আমার কাছে নাটকের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কাহিনী গুলো বেশ ভালো লেগেছে।
এই নাটকটিতে আমি আমার ব্যক্তিগত রেটিং পয়েন্ট দিতে চাই ১০/৯.০০
Link
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি বর্তমানে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে ঘোরাঘুরি করা। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/GKibreay/status/1684780440975241216?t=cJbOIr5WUX5Bvyd0-lvqAA&s=19
নাটকটির নাম শুনে খুবই মজা পেয়েছি নাটকের কাহিনী নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর। আর তানজিন তিশা ও জোভানের নাটক এমনিতেই অনেক সুন্দর হয়। নাটকের কাহিনী মোটামুটি ভালো লেগেছে আমি সময় করে দেখে নেব।
আপনি যেহেতু নাটকের নাম শুনে মজা পেয়েছেন তাহলে নাটকটি দেখলে সব থেকে বেশি ভালো হবে নাটকটি দেখতে বেশ রোমান্টিক ছিল আপু।
বা বা ভাগ্নে তুমি তো আজকে দারুন একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করেছ। গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবি। বাহ বেশ মজার নাটক তো। আসলে বর্তমানে যেসব নাটক গুলো হয় এই নাটকগুলো আমি খুব একটা দেখি না। কারণ এসব নাটকের মধ্যে কোন শিক্ষণীয় বিষয় নেই। অতীতে যেসব নাটকগুলো ছিল সেসব নাটকগুলোর প্রত্যেকটা নাটকের কোন না কোন শিক্ষনীয় বিষয় ছিল। ওই সময় যারা অভিনয় করতো তাদের অভিনয় গুলো খুবই চমৎকার ছিল। তুমি যে নাটকটি রিভিউ করছেন নাটকের আগে আমি দেখিনি তবে চেষ্টা করবো কোন একটা সময় দেখার জন্য।
আসলে মামা গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবি এই নাটকটি কিন্তু বর্তমান সময়ে খুব মার্কেট পেয়েছে। আসলে নাটকটির কাহিনীর সাথে নাটকটির নামের বেশ মিল রয়েছে। ধন্যবাদ মামা মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।
খুবই চমৎকার একটি নাটক রিভিউ আপনি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন আপনার এই নাটক রিভিউ পরে আমার খুবই ভালো লাগলো। আসলে বর্তমান সময়ে অনেকেই ভালোবাসার কথা ফ্যামিলিকে জানাতে পারেনা যার কারণেই হয়তো বা ভালোবাসাটা পূর্ণতা পায় না। যদিও নাটকটি এখন পর্যন্ত দেখা হয়নি তবে যদি কখনো সময় হয় অবশ্যই দেখবো। শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আসলে ভাই নায়ক ফ্যামিলিতে জানাতে পারেনা এটা হচ্ছে শুধু তার একটি বড় ভাই ছিল বড় ভাইয়ের বিয়ের আগে কি ছোট ভাইয়ের বিয়ের কথা বাড়িতে বলা যায় এজন্য বিয়ের কথা বাড়িতে জানাতে পারেনাই।
আসলে এখন ছেলে মেয়েরা তাদের ভালোবাসার সম্পর্কের কথাটা ফ্যামিলির কাছে একেবারেই বলে না। আর তাদের এই না বলার জন্যই তাদেরকে অনেক বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এটা কিন্তু সত্যি বেশিরভাগ ছেলেরা বড় ভাইয়ের আগে বিয়ে করে ফেলতে চায়। এবং কি বিয়ে করেও ফেলে। তবে যাই হোক গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবি এই নাটকটা এখনো আমার দেখা হয়নি। তাই ভাবছি সময় পেলে দেখে নেব।
ঠিক বলেছেন আপু আপনি ফ্যামিলিকে না জানানোর কারণেই এখনকার ভালোবাসা অনেকটাই অপূর্ণতা থেকে যায়। ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।
খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন আপনি। নাটকের রিভিউ পড়ে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। যদিও নাটকটি দেখা হয়নি তবে রিভিউ পরে বোঝা গেছে নাটকটি খুবই সুন্দর। সময় করে নাটকটি দেখে নেব। এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আপু যেহেতু আপনি এখনো নাটকটি দেখেননি অবশ্যই সময় পেলে নাটকটি দেখার চেষ্টা করবেন বর্তমান সময়ে নাটকটি বেশ মার্কেট পেয়েছে।
গার্ল ফ্রেন্ড যখন ভাবি! নামটাই তো বেশ মজার ।নাটক টিও মনে হয় খুব সুন্দর।রভিউ পড়ে খুবই ভালো লেগেছে।তানজিন তিশার নাটক আমার কাছে ভালই লাগে।আমি অবশ্যই একবার নাটকটি দেখে নিব সময় করে।আপনাকে ধন্যবাদ ভাইয়া ।
আপু আমিও অনেক নায়ক নায়িকার নাটক দেখেছি কিন্তু সব থেকে বেশি ভালো লাগে তানজিন তিশার নাটকগুলো আমার কাছে। ধন্যবাদ মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।
গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবি এই নাটকটা আমি গতকালকে দেখেছিলাম। আসলে মাঝে মাঝে বিনোদন নেওয়ার জন্য এরকম নাটকগুলো দেখতেও অনেক বেশি ভালো লাগে। তাই আমি মাঝে মাঝে চেষ্টা করি নাটক দেখার। এখন তো বেশিরভাগ ছেলেরা এরকমটাই করে, বড় ভাইয়ের আগে ছোট ভাই বিয়ে করে ফেলে। আর নিজেদের ভালবাসার কথা ফ্যামিলিকে না জানালে অনেক বেশি সমস্যা হয় তা এই নাটকটিতেই বোঝা গেছে।
আসলে ভাই নাটকটি দেখে আমিও বেশ মজা পেয়েছিলাম। এখনকার সমাজে বড় ভাইয়ের আগে ছোট ভাই বিয়ে করে ফেলে এটা কোন ব্যাপার নয় মনে হয়। আসলে সবকিছু ফ্যামিলিকে না জানাতে পারলে বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ধন্যবাদ মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।