ভ্রমণ // ঐতিহাসিক মুজিবনগর ভ্রমণের পঞ্চম পর্ব
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (৩০-০৮-২০২৩)
আসসালামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধু গন আশা করি আপনারা অনেক ভালো আছেন । আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @kibreay001 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি ঐতিহাসিক মুজিবনগর ভ্রমণের পঞ্চম পর্ব। গত কোরবানির ঈদের কিছুদিন পরে আমাদের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মিলে আমরা ঐতিহাসিক মুজিবনগর ভ্রমণ করতে গিয়েছিলাম। আসলে দুইটা বাইক নিয়ে আমরা মুজিবনগর ভ্রমণ করতে বের হয়েছিলাম। একটি বাইক চালাতে ছিল আমার দুলাভাই আরেকটি বাইক আমি নিজে চালাতে ছিলাম। ঈদের হয়তো চার থেকে পাঁচ দিন পরেই আমরা গিয়েছিলাম। আমরা মোট ছয় জন সদস্য গিয়েছিলাম মুজিবনগর ভ্রমণ করতে। আপনারা উপরের ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এবং বাংলাদেশের মধ্যে যেভাবে যুদ্ধ হয়েছিল তার কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছে এখানে। বর্তমানে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী বলা হয় এই মুজিবনগর শহরকে। সেখানে আমরা সবাই মিলে সেই দিন বেশ সুন্দর সময় উপভোগ করেছিলাম........
প্রথমেই আমরা বাইক নিয়ে সরাসরি চলে গিয়েছিলাম মুজিবনগর এর আম বাগানের মধ্যে বাইক রাখার জন্য। আসলে সেখানে অনেক আগের বিরাট বড় বড় আম গাছ রয়েছে। সেখানে আমরা বাইক রাখার পরে পাশে অনেক সুন্দর জিনিস সামগ্রী বিক্রয় করতে ছিল কিছু লোক। তারপরে সেগুলো আমরা বেশ সুন্দরভাবে ঘুরে দেখতে থাকলাম। সেখান থেকে কিছু ছবি সংগ্রহ করেছিলাম আপনাদের মাঝে শেয়ার করব বলে। আসলে আমাদের সাথে আমার ছোট্ট খালামণি ছিল যেকোনো জিনিস দেখলেই শুধু নিতে মন চায় তার। তারপরে আমরা সেখানে এভাবেই ঘুরে দেখতে থাকলাম।
এবার আপনারা উপরে ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আমি অনেক সুন্দরভাবে একটি কাঠের বাড়ী এর ছবি তুলে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছে। কাঠের বাড়ীটার নাম দেওয়া হয়েছে চাঁদের বাড়ী। আসলে আমার খালামণি বাড়ীটা দেখার পরেই নেওয়ার জন্য অনেক অস্থির হয়ে পড়ে। দোকানদারের কাছ থেকে দাম জিজ্ঞেস করলাম দোকানদার দাম বলেছিল ৪০০ টাকা। পরে ওই বাড়ীটা আমরা দোকানদারের কাছ থেকে কিনেছিলাম ২৮০ টাকায়। তখন আমার খালামণি বেশ খুশি হয়েছিল। এভাবে আমরা বেশ কিছুক্ষণ সেখানে ঘোরাঘুরি করেছিলাম।
এবার আপনার উপরের ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আমি অনেক সুন্দর ভাবে আমাদের সবার ছবি তুলে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। যেখানে মানচিত্র তৈরি করা আছে তার অনেক উপরে উঠেছিলাম সেখান থেকে ছবিটা তোলা হয়েছে। আমাদের পেছনে জায়গা গুলোতে কিভাবে যুদ্ধ হয়েছিল এইসব সামগ্রী তৈরি করা হয়েছে। আসলে এগুলো দেখতে বেশ ভালোই লাগে। তার কিছুক্ষণ আগ মুহূর্তে আমরা সবাই বাদাম কিনে খেয়েছিলাম। আসলে সেই দিন বেশ সুন্দর সময় উপভোগ করেছিলাম।
আসলে তারপরে আমরা সবাই মিলে দুপুরের খাওয়া দাওয়ার জন্য আবারো বাইরে চলে আসি। একটি জায়গায় বসে আমরা দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে নিয়েছিলাম। তেমন কোন কিছুই পাওয়া গিয়েছিল না ভালো খাবার। চটপটে আর ফুচকা খেয়েছিলাম সেখানে আমরা। আমার কাছে চটপটি খেতে বেশ ভালোই লাগে। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুজিবনগর।
এবার আপনারা উপরে ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে যুদ্ধ করেছিল তার কিছু দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। আসলে সেগুলো আমি অনেক দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম ভিতরে প্রবেশ করা নিষেধ ছিল। তাই অনেক দূর থেকে আমি একটি সেলফি তুলে রেখেছিলাম আপনাদের মাঝে শেয়ার করব বলে। আসলে জায়গা গুলো দেখলে সেই ১৯৭১ সালের কথা মাথায় আসে কিন্তু কিভাবে যুদ্ধ হয়েছে সেই সমস্ত দেখতে পারিনি তাই এগুলো দেখেই বেশ ভালো লাগে।
আপনারা এবার উপরে ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের উপর অনেক অত্যাচার করেছিল সেই সময়। বাঙালি সৈন্যদের ধরে নিয়ে গিয়ে চোখ বেঁধে গুলি করে হত্যা করেছিল সেই সময়। সেই দৃশ্য আপনাদের মাঝে আমি অনেক সুন্দর ভাবে আমার মোবাইলে ক্যামেরা বন্দী করে শেয়ার করেছি। আসলে ১৯৭১ সালের কথা মাথায় আসলে সেই শহীদদের কথা বেশ মনে পড়ে। যেসব মানুষ আমাদের দেশের জন্য যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছে তাদেরকে সকলকে জানাই আমার পক্ষ থেকে স্যালুট। আশা করি পোস্টটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে। সকলের মতামত নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা রইল।
| শ্রেণী | মুজিবনগর ভ্রমণ |
|---|---|
| ডিভাইস | Redmi not 8 / oppo f21s pro |
| লেখক | @kibreay001 |
| লোকেশন | মুজিবনগর, মেহেরপুর |
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি বর্তমানে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে ঘোরাঘুরি করা। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Twitter link
খুবই সুন্দর একটি জায়গায় ভ্রমণ করেছেন আপনি৷ এই জায়গার কথা শুধু বইয়ে পড়া হয়েছে৷ কখনো এই জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হয়নি৷ আপনি এই মুজিবনগর এর বিভিন্ন স্থাপনাসমূহ প্রকাশ করেছেন এবং আপনি আপনার অনুভূতিও খুবই ভালোভাবে শেয়ার করেছেন৷ আমিও চেষ্টা করবো এই স্থানে ভ্রমন করার জন্য৷
ঠিক বলেছেন ভাই আপনি এই জায়গার নাম বইয়ে অনেক জায়গায় পাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর হলো ১৯৭১ সালের সমস্ত ঘটনাগুলি এই জায়গাটায় যেন ঘটেছে এমন একটা দৃশ্যের পটভূমি তৈরি করা হয়েছে। সবাই মিলে মুজিবনগরে দারুন কিছু সময় কাটিয়েছো ভাগ্নে। তোমাদের এই সুন্দর মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ মামা এত সুন্দর ভাবে আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।
মুজিবনগর দুবার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে । এই জায়গাটি ভালোভাবেই ঘুরে দেখেছি। খুবই সুন্দর যেটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই সকল শহীদদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় বিভিন্ন সেক্টরের পরিকল্পনা গুলো খুব সুন্দর ভাবে মানচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
আপনি এই জায়গা দুইবার দেখতে এসেছেন জানতে পেরে বেশ ভালো লাগলো ভাই। যদি এবার কখনো আসেন তাহলে অবশ্যই ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। ধন্যবাদ মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।
মেহেরপুরে অবস্থিত মুজিবনগর ঐতিহাসিক একটি স্থান। এই মুজিব নগরেই ১৯৭১ সালে অস্থায়ী সকার গঠন করা হয়েছিল। এখানে বসেই যুদ্ধের সময় ১১ সেক্টরের খোঁজখবর আদান প্রদান করা হতো। আপনারা যখন সেখানে ঘুরতে গেছেন তখন প্রচন্ড রোদ ছিল। যায়হোক আপনার পোষ্টের মাধ্যমেও অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম। ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন ভাই আপনি এই মুজিবনগরে ১৯৭১ সালে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছিল। ধন্যবাদ মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।