গল্প থেকে শিক্ষা | ১০% লাজুক খ্যাঁক এর জন্য
আশাকরি সকলেই সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সুস্থ আছেন এবং ভাল আছেন। সেই সাথে আশা করি আপনারা যেখানেই থাকুন না কেন পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো সময় কাটাচ্ছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে একটি বাস্তবমুখী গল্প শেয়ার করব। আশা করি আমার গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং বাস্তবতার সাথে কিছুটা মিল খুঁজে পাবেন।
করিম (কাল্পনিক চরিত্র) হঠাৎ বৃষ্টি দেখে মনে মনে হেসে উঠলো এবং মনে মনে কি যেন বিড়বিড় করতে থাকলো। দূর থেকে এঊ দৃশ্য করিমের বউ খেয়াল করল এবং সে মনে মনে ভাবতে থাকলো তার স্বামী কেন নিজে নিজে হাসছেন এবং মনে মনে কি সব বলছেন। করিমের বউ এর মনে মনে সন্দেহ তৈরি হলো। সন্দেহ হলো এই জন্য যে সে মনে করছে তাকে নিয়ে হয়তো করিম উল্টাপাল্টা কি সব ভাবছে এবং তাকে ঠকানোর কোনো চিন্তা-ভাবনা করছে। তাই সে সমস্ত কাজ ফেলে দিয়ে স্বামীর কাছে ছুটে গেল এবং জানতে চাইলো তার হাসির কারণ কি এবং নিজে নিজে কি সব বলছে।
যখন করিমের বউ করিমকে হাসির কারণ এবং নিজে নিজে কথা বলার কারন জিজ্ঞেস করল তখন করিম এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করল। কিন্তু নারী মন একবার যে জিনিস তার মনে সন্দেহ হিসেবে জন্ম নেয়। সেই জিনিসের রহস্য উদ্ধার না করা পর্যন্ত তাদের যুদ্ধ থেমে যায় না। যতক্ষণ না তারা সেই রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে ততক্ষণ তারা রাজ্যের সকল কিছু এক করে ফেলে। তাদের দ্বারা অসম্ভব কিছুই থেকে যায় না। তাই করিমের বউ করিমকে সেই ভাবেই অনুরোধ এবং চাপ দিতে থাকলো তার হাসির কারণ কি ছিল। বউয়ের অনেক অনুরোধ এবং চাপাচাপি কারণে এক সময়ে করিম হাসির কারণ এবং মনে মনে কথা বলার কারণ বলে ফেলল।
করিম বলল যখন বৃষ্টি হচ্ছে তখন বৃষ্টির পতিত হবার সাথে সাথে বুদবুদ তৈরি হতে থাকলো। এই বুদবুদ আঞ্চলিকভাবে ফুটকা নামে পরিচিত। এবং আঞ্চলিক ভাষায় একটি প্রবাদ ছিল ফুটকার সাক্ষী ফুটকায় দেয়।
করিম বলতে থাকলো খুব ছোটবেলার কথা আমরা দুই বন্ধু একসাথে চলাফেরা করতাম। আমাদের মধ্যে খুব ভাব ছিল। কিন্তু একটি বিষয় আমাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং সেই দ্বন্দ্বের জেরে আমি তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলে ছিলাম। এবং আমি তার লাশ পুতে ফেলেছিলাম কিন্তু কেউ কখনও আমাকে সন্দেহ করেনি এবং আমার কোনো সাজা হয়নি। আমি বেঁচে গিয়েছিলাম। অথচ আমাদের অঞ্চলে একটি প্রবাদ আছে ফুটকার সাক্ষী ফুটকায় দেয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত আসল খুনি কে কেউ তা জানো না এবং আমার কিছুই হলো না।
যাইহোক করিম এবং তার বউ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো। সেইসাথে করিম নিশ্চিন্তে বসবাস করতে থাকলো। তার অতীতের কাহিনী কেবলমাত্র তার প্রিয়তমা জানে এবং এই প্রিয়তমা কখনো তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে না। কারণ তার প্রিয়তমার সাথে তার রয়েছে আত্মার সম্পর্ক। যে সম্পর্কে ফাটল ধরার মতো নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে নারীর মন একবার কোন কিছুতে মনঃক্ষুণ্ণ হলে রাজ্যের যত অভিযোগ যেন রাজ্য দরবারে পৌঁছে যায়। কিছুদিন পর যেন তাই হলো। করিম এবং তার বউ এর মধ্যে মনোমালিন্য হল এবং করিম তার বউকে একটি থাপ্পর মারল। আর তাতেই করিমের বউ চিৎকার করে সাব্যস্ত করে সকলের কাছে বলতে থাকলো। এবং কুইন কে দোষী সাব্যস্ত প্রমাণ করে দিল।
গল্প থেকে শিক্ষা
সত্যি বলতে আমরা বাস্তবে এমন কিছু কাজ করি যা নীতিবিরোধী। এবং আমরা মাঝে মধ্যে মনে করি এই কাজ কখনোই অন্য কেউ জানতে পারবে না। আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য হাজার সত্যকে ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই সত্য কখনো থেকে রাখা যায় না। তা একসময় প্রকাশ পাবেই। কথায় আছে সত্যের জয় একদিন হয় নিশ্চয়ই। আমরা আমাদের চারপাশের কিংবা আমাদের জীবনের সব সত্যকে যতই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি না কেন একসময় সেই সত্য আমাদের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাই আমরা যদি মনে করি আমাদের সত্য কখনো প্রকাশ পাবে না কিংবা আমরা যদি মিথ্যার আশ্রয় নেই এবং মনে করি সেই মিথ্যা আমাদের বাঁচিয়ে নেবে। সেটা হবে বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমি মোঃ কাউছার হাসান। জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশী নাগরিক। তাই নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। কেননা এদেশের প্রকৃতির মাঝে আমার বেড়ে ওঠা এবং এদেশের বুকে আমার বসবাস। পেশায় একজন শিক্ষক। সব সময় নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পাই এবং সেইসাথে প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণ করার মাধ্যমে নিজেকে খুঁজে পাই।
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!