$PUSS নিয়ে আমার এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা ও ভুল থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা।
$PUSS নিয়ে আমার এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষালাভ
ফিরে এলাম পুস ম্যানিয়ায়। পুস নিয়ে উন্মাদনা দিনে দিনে বাড়ছে। আমরাও আমাদের ব্লগে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে জড়িয়ে রয়েছি পুসের সাথে। প্রতিদিন সবার ব্লগে কখনো কবিতা, কখনো গদ্য, কখনো ছবি আবার কখনো ক্লে আর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেখছি ও পড়ছি পুস সংক্রান্ত। কিন্তু আজ আমি আমার এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করব। আমার বাংলা ব্লগে একেবারেই নতুন হওয়ায় সমস্যাও হয় বিভিন্ন বিষয়ে। সবটা যে এত কম সময়ে শিখে নেওয়া যাবে তা কখনো হয় না। সম্ভবও নয়। কারণ ব্লগ অ্যাক্টিভিটি থেকে শুরু করে ক্রিপ্টো কারেন্সির হাল হকিকত, সবটা এই দুই তিন মাসে শেখা কখনোই সহজ বিষয় নয়। তাও @abb-school এ ক্লাস করার সুবাদে এবং ব্লগের অ্যাডমিন ও মডারেটরদের সাহায্যে এবং সর্বোপরি নিজের প্রবল ইচ্ছেয়, জেনে গেছি অনেকটাই। তবু এখনো প্রচুর পথ চলা বাকি। দীর্ঘমেয়াদি কাজ করার ইচ্ছে নিয়ে যেখানে আসা, সেখানে জানবার কোন তাড়াহুড়োও নেই। তাই ধীরে সুস্থে সুন্দর করে জেনে তারপর কাজ করাই সবথেকে ভালো। আমিও তাই ধীরে ধীরে সবকিছু জানবার পর প্রবেশ করেছি ক্রিপ্টো দুনিয়ায়। আর সেখানে আসা থেকেই দেখছি অনেক রকম বৈচিত্র্যের বাহার।
প্রথমদিকে বুঝতে একটু অসুবিধা হলেও দু একদিন পরে STEEM কে TRX এ কনভার্ট করে বেশ কম মূল্যেই কিনে নিয়েছিলাম পুস। আর তারপর থেকেই এর উর্ধ্বগতি আমাকে অবাক করে দিয়েছে বারবার। অ্যাডমিন প্যানেলের পরামর্শ অনুযায়ী হোল্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েই পুস টোকেন কিনেছিলাম। কিন্তু ওই যে আমার চঞ্চল মন। কী ভাবতে যে কী ভাবি আর তারপর কী করি তার হিসাব যেন নিজের কাছেই নেই। তারমধ্যেই হু হু করে দাম কিছুটা বাড়ার হরে হঠাৎ একদিন পুসের দাম নিম্নগামী হয়ে গেল অনেকটা। আমিও দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ভাবলাম অন্তত কিছু পরিমাণ বিক্রি করে Trx করে নিয়ে রাখি আবার। কারণ দাম আরো কমে গেলে তখন আবার কেনার চিন্তা ভাবনা করব। তাই যেমন ভাবনা তেমন কাজ। হঠাৎ করে কিছু পরিমাণ টোকেন বিক্রি করার বাটনে ক্লিক করে দিলাম। পাসওয়ার্ড দিয়ে সবটা করেও ফেললাম৷ কিন্তু তখন কপাল এতই সুপ্রসন্ন, যে এনার্জি না থাকার কারণে আমার সেলটি কার্যকর হলো না। প্রায় দেড় ঘন্টা অর্ডার পরে রইল। তারপর আমি নিজেই ক্যানসেল করলাম ট্র্যানসাকশন।
আসলে কোনদিনই ক্রিপ্টো মার্কেটের খুব একটা ধারণা ছিল না। আর ভুল থেকেই মানুষ শেখে। তাই প্রচলিত শেয়ার বাজারে টাকা রাখার অভিজ্ঞতা দিয়ে ক্রিপ্টো মার্কেটে বেচাকেনা করলে খুব মুশকিল। আমি যে ভুলটা করতে গেছিলাম, তার পরেপরেই আমার ধারণা বদলে যায়। দেখতে থাকি সামান্য নেমে গেলেও পরে আবার রকেটের গতিতে বাড়তে থাকে পুসের দাম। কিন্তু আমার স্টকে থাকা পুস বিক্রয় হলো না কেন, বা পরে এটি বিক্রয় হয়ে যাবে কিনা সেই বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম তখন। তাই সাথে সাথে যোগাযোগ করলাম আমাদের ব্লগের প্রিয় অ্যাডমিন ও মডারেটরদের সাথে। প্রথমে @kingporos ভাই ও তারপরেই দাদা এসে আমার ভুল চিন্তাভাবনাগুলোর সংশোধন করিয়ে দেয় তখনই। ক্রিপ্টো কেনা বেচার নিয়ম এবং সঠিক সময়কাল নিয়ে দাদা খুব সুন্দর করে কয়েকটি বিষয় বুঝিয়ে দেন আমায়। আমিও সেই সুযোগে নিজেকে একটু শিক্ষিত করে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করলাম না। কারণ শিখতে বরাবরই ভালো লাগে। আর তা যদি একেবারে নতুন জিনিস হয় তবে তো কথাই নেই। বর্তমানে আমি ওয়ালেটে সম্পূর্ণ পুস hold এ রেখে দিয়েছি। আর প্রতিদিন দেখছি ক্রিপ্টো ভালুয়েশন উঠানামা করবার দৃশ্য। যে ভুল একবার করতে করতে বেঁচে গেছি, তা আবার করব? কস্মিনকালেও না। তাই এখন আর তাকাইও না পুসের দিকে।
নিজে সাধ্যমত অ্যাকটিভ থাকতে চেষ্টা করি ব্লগে। সারাদিনের প্রচুর কাজের ব্যস্ততায় হয়তো সেভাবে পেরে উঠি না, কিন্তু মনন মানসে মিশে গেছে আমার বাংলা ব্লগ এবং ব্লগের প্রথম মিমি কয়েন পুসের কথা। তাই সম্পূর্ণ পুস আমার ওয়ালেটে উজ্জ্বল। তাই একবার যে ভুল করতে গিয়ে ঈশ্বরের কৃপায় তা হয়নি, সেই ভুল আবার কেউ করতে চায়? কথাতেই আছে না, ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়।
এখন আমি প্রতিদিন নিয়ম করে পুস কয়েনের প্রমোশন করি টুইটারে ও ব্লগে। পুস নিয়ে লিখি এবং নিয়ম করে পরিচর্যা করি আদরের পুসের। পুরো ব্যাপারটাই অভ্যাসের মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়েছি। কারণ এই কয়েন আমাদের নিজেদের। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এখন সবাই যত্ন করে হোল্ড করে রেখে দিন পুসকে৷ তাতেই লাভ৷ আমাদের অ্যাডমিনরা একটা কথা বলেন। তার অর্থ হল-
সমজদারোকে লিয়ে ইশারাই কাফি হোতা হে।
(৫% বেনিফিশিয়ারি এবিবি স্কুলকে এবং ১০% বেনিফিশিয়ারি প্রিয় লাজুক খ্যাঁককে)
--লেখক পরিচিতি--
কৌশিক চক্রবর্ত্তী। নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। পেশায় কারিগরি বিভাগের প্রশিক্ষক। নেশায় অক্ষরকর্মী। কলকাতায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতার আলো পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দুই বাংলার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকা ও দৈনিকে নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই সাতটি৷ তার মধ্যে গবেষণামূলক বই 'ফ্রেডরিক্স নগরের অলিতে গলিতে', 'সাহেবি কলকাতা ও তৎকালীন ছড়া' জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাহিত্যকর্মের জন্য আছে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার মধ্যে সুরজিত ও কবিতা ক্লাব সেরা কলমকার সম্মান,(২০১৮), কাব্যলোক ঋতুভিত্তিক কবিতায় প্রথম পুরস্কার (বাংলাদেশ), যুগসাগ্নিক সেরা কবি ১৪২৬, স্রোত তরুণ বঙ্গ প্রতিভা সম্মান (২০১৯), স্টোরিমিরর অথর অব দ্যা ইয়ার, ২০২১, কচিপাতা সাহিত্য সম্মান, ২০২১ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
ধন্যবাদ জানাই আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যবন্ধুদের৷ ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
অভিজ্ঞতা যেমনই হোক তা শিক্ষা এনে দেয়৷ তোমার এই ঘটনাগুলোর সাথে আমি এতো বেশি পরিচিত যে আলাদা করে কি বলব বুঝে পাচ্ছি না৷ যাইহোক আশা করব বুঝে পদক্ষেপ ফেলার৷
পুস আশির্বাদ নিয়ে আসছে৷ চাপ নেই৷
ঠিক কথা। পরে বুঝতে পারি বুঝে চলা কত দরকার। সত্যিই তুই সবটার সাথেই ভীষণ পরিচিত।
https://x.com/KausikChak1234/status/1833694083359133990?t=p-Ll8Qeg5c2bboQcUqgpCQ&s=19