নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎসর্গ করে লেখা একটি কবিতা।
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎসর্গ করে লেখা একটি কবিতা
মুর্শিদাবাদ নিয়ে দীর্ঘ কাজ করার সুবাদে বেশ কয়েকবার মুর্শিদাবাদ শহরে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে যে জায়গাটি আমাকে সব থেকে টেনেছিল সেটি হল নবাব সিরাজউদ্দৌলার কবর। অর্থাৎ খোশবাগ। মুর্শিদাবাদে ভাগীরথী গঙ্গার উল্টোদিকে খোশবাগ অবস্থিত। সেই অঞ্চলে গেলে আমি একটু অন্যরকম টান অনুভব করি। আসলে যাঁকে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব বলে উল্লেখ করা হয়, তাঁর কবর বাংলার ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য জায়গা। আর তাই সেই জায়গার সঙ্গে মিশে আছে দীর্ঘ ইতিহাস।
আমি যখন খোশবাগে গিয়েছিলাম, তখন সেই জায়গার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছিলাম অনেকটা। তাই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎসর্গ করে একটি কবিতা লিখেছিলাম। সেই দাপুটে নবাবের একাকী একলা নিজের মত শুয়ে থাকা আমার মধ্যে এক অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি করে। যে নবাবকে হত্যা করবার জন্য একসময় ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল মুর্শিদাবাদ, সেই নবাবের এখন কেমন নীরবে শুয়ে থাকা। আমি যখন খোশবাগে প্রবেশ করি তখন সম্পূর্ণ অঞ্চল জুড়ে শুধুমাত্র আমি একা। আমার সামনে কবরের মাটিতে শুয়ে রয়েছেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার একসময়ের একচ্ছত্র অধিপতি নবাব সিরাজউদ্দৌলা। আর সেই অনুভূতি থেকেই লিখিত কবিতাটি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম ব্লকের পাতায়।
অচেনা যুদ্ধপথে
---- কৌশিক চক্রবর্ত্তী
তবু শুয়ে আছ
নির্মাণের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমা-
অজানা প্রাসাদ ভেঙে শুনিয়েছ গভীর সানাই...
কেউ বলে ভাগীরথীর অধিকার কেড়ে
সংবাদ জমিয়েছ তুমি-
জমিহীন অন্ধকার ছুঁয়ে অসংযত দ্রোহের পাঁচিল-
দেহটুকু ভাগ হল
গাঢ় হল সীমান্তের বিষ-
ঘাসে ঘাসে সেই শব্দে মৃত ঘাম
ঘেরাটোপে শুয়ে তাও মেঘাচ্ছন্ন নজির বিস্ময়...
ছুঁয়ে আছি রূপকথার বিধিপথ-
যেটুকু বাড়ছে ঋণ
তার বুকে ছেঁড়া সঙ্গোপন...
যুদ্ধের অচেনা ভোরে যখন তুমি চেয়েছিলে মাঠ
আমিও হেঁটেছি কোনো রাজপথে
তখনই অদেখা চোখে সহস্র হারানো ইটে
তোমার হাতে তুলে দিয়েছি প্রাসাদের নগ্ন অধিকার।
(নবাব সিরাজউদ্দৌলার সমাধি, খোসবাগ, মুর্শিদাবাদ)
🙏 ধন্যবাদ 🙏
(১০% বেনিফিশিয়ারি প্রিয় লাজুক খ্যাঁক ও ৫% এবিবি চ্যারিটিকে)
--লেখক পরিচিতি--
কৌশিক চক্রবর্ত্তী। নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। পেশায় কারিগরি বিভাগের প্রশিক্ষক। নেশায় অক্ষরকর্মী। কলকাতায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতার আলো পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দুই বাংলার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকা ও দৈনিকে নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই সাতটি৷ তার মধ্যে গবেষণামূলক বই 'ফ্রেডরিক্স নগরের অলিতে গলিতে', 'সাহেবি কলকাতা ও তৎকালীন ছড়া' জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাহিত্যকর্মের জন্য আছে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার মধ্যে সুরজিত ও কবিতা ক্লাব সেরা কলমকার সম্মান,(২০১৮), কাব্যলোক ঋতুভিত্তিক কবিতায় প্রথম পুরস্কার (বাংলাদেশ), যুগসাগ্নিক সেরা কবি ১৪২৬, স্রোত তরুণ বঙ্গ প্রতিভা সম্মান (২০১৯), স্টোরিমিরর অথর অব দ্যা ইয়ার, ২০২১, কচিপাতা সাহিত্য সম্মান, ২০২১ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
ধন্যবাদ জানাই আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যবন্ধুদের৷ ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
https://x.com/KausikChak1234/status/1899736920357318800?t=tQ-1D4d1VvWRzsjaHsf03w&s=19
Daily tasks-
বাহ্ আপনি দেখছি চমৎকার অচেনা যুদ্ধপথে কবিতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও হারানো অধিকার প্রতীকি ভাষায় ফুটে উঠেছে। যুদ্ধ, সীমান্ত, ও ধ্বংসের চিত্র কবিতার বেদনাময় সুরকে গভীর করে তোলে। শেষ পঙক্তিতে ইতিহাসের নগ্ন সত্য আমাদের সামনে মেলে ধরা হয়, যা হারানো গৌরবের এক নিঃশব্দ সাক্ষী। ধন্যবাদ
কবিতাটি পড়ে এমন সুন্দর করে তার বিশ্লেষণ করায় অনেক ভালো লাগলো আপু। আপনার মন্তব্যটি আমার কবিতার সৌন্দর্যকে আরো ফুটিয়ে তুলেছে
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎসর্গ করে লেখা একটি কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।কবিতাটি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎসর্গ করে লেখা হয়েছে, যা বাংলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। কবিতাটিতে নবাবের জীবন, সংগ্রাম এবং তাঁর নির্মম পরিণতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার ভাষা ও ভাবনা খুবই আবেগপ্রবণ এবং ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে। সর্বোপরি আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা
কবিতাটির বিশ্লেষণ করে এত সুন্দর একটি সুচিন্তিত মতামত দিলেন বলে ভীষণ ভালো লাগলো ভাই। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে একটি কবিতার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার চেষ্টা করেছি। আমার প্রচেষ্টা আপনার ভালো লাগায় আমি খুবই আনন্দিত।
আপনার থেকে শুনেছিলাম আপনার কয়েকবার মুর্শীদাবাদ যাওয়ার কথা। সম্ভবত বইটা লেখার জন্য গিয়েছিলেন। কবিতা টা চমৎকার হয়েছে ভাই। বাস্তবের উপর ভিত্তি করে অসাধারণ ভাবে তুলে ধরেছেন কবিতা টা। সবমিলিয়ে চমৎকার ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে।।