মুরগির জন্য ছাগল হারালো।।
হ্যালো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই, আশা করছি সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন। সবার সুস্বাস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে নতুন একটি ব্লগ শুরু করছি। আজকে একটি শিক্ষনীয় পোষ্ট শেয়ার করবো। যে ব্যাক্তি লোভ সামলাতে না পরে তার ধ্বংস অনিবার্য। আজকের পোষ্টের শিক্ষা এটাই। চলুন বিস্তারিত বলছি।
আপনারা সবাই জানেন যে এখন বর্ষাকাল। নদনদী আর খাল বিলে বর্ষার পানিতে থৈ থৈ করছে। আমাদের গ্রামের চার পাশে সীমানা হিসাবে রাস্তা রয়েছে। গ্রামের যে কোন জায়গা থেকে যে দিকে ইচ্ছা যেতে পারবে, এমর পাকা রাস্তা রয়েছে। আর স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা,বিশ্ববিদ্যালয় থাকার কারনে রাস্তা গুলো সবসময় পাকা থাকে। আমাদের গ্রামটা কুমিল্লা সিলেট মহাসরকের সাথে অস্থিত। গ্রামের প্রথমে, মাঝখানে ও শেষে তিনটি বাস স্টেশন রয়েছে। এক গ্রামে তিনটি বাস স্টেশন তার মানে বুঝতেই পারছেন গ্রামটা মোটামুটি অনেক বড়। গ্রামের চার পাশেই ধান ক্ষেতের মাঠ। সেই মাঠের উপর দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে রাস্তা গিয়েছে। বর্ষার সময় সেই রাস্তা গুলো দেখতে অনেক ভাল লাগে। কারন রাস্তার দুই পাশে পানি মাঝখান দিয়ে রাস্তার অন্যরকম একটি ব্যাপার।
আমাদের গ্রামের পশ্চিম পাশের ধান খেতের উপর দিয়ে শিকারপুর গ্রামে একটি রাস্তা গেছে। ঐ গ্রামের সাথে আত্বীয়তার বন্ধনের ফলে দুই গ্রামের মানুষই রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকে। যার জমির উপর দিয়ে রাস্তা গেছে ঐ জমির মালিক আবার রাস্তার কিনারে কলা গাছ, নারিকেল গাছ,আম গাছ সহ সবজির চারা রোপন করেছে। যার যার জমির সীমানা বরাবর সে সে গাছ লাগিয়েছে। গাছ লাগানোর ফলে রাস্তা যেমন ভাঙ্গে নাই আবার পরিবেশটাও সুন্দর হয়েছে। ঐ রাস্তা দিয়ে রাতের বেলাও দুই গ্রামের ছেলেরা হাটাহাটি করে।
গত পরশুদিন সোমবার রাত দশটার দিকে আমাদের গ্রামের কিছু ছেলে পেলে ঐ রাস্তার ব্রিজের উপর আড্ডা দিতেছিলো। একদিকে বিদ্যুৎ নেই অন্য দিকে মেঘলা আকাশ তাই রাস্তাটা মোটামুটি অন্ধকার ছিল। আবার অন্য দিকে মানুষ জনও কম ছিল। রাত সাড়ে দশটার দিকে শিকারপুর গ্রাম থেকে একটি মটর সাইকেলে করে তিনজন মানুষ আমাদের গ্রামের দিকে আসতে ছিল। মাঝ রাস্তায় এক কলা বাগানের পাশে এসে মটর সাইকেলটা থেমে হেড লাইট বন্ধ হয়ে গেল। এই দৃশ্যটা আবার আমাদের গ্রামের ছেলে পেলে গুলো লক্ষ করেছে। তাদের মধ্যে এক জন বললো মটর সাইকেলের হেড লাইট অফ হয়ে থেমে গেল কেন, এখানে তো কোন বাড়িঘর নেই। তাছাড়া তারা আড্ডা দিলে খালি জায়গার এসে আড্ডা দিবে। কলা গাছের কাছে কেন..।
ঐ ছেলেটা সবাইকে নিয়ে বললো চল সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখি তারা কি করে। তারা সবাই গিয়ে দেখে এক জন মটর সাইকেলে বসে আছে দ্বিতীয় জনের হাতে একটি বড় কলার ছড়ি আর তৃতীয় জন আরেকটি কলার ছড়ি কাটতেছে। এমন সময় আমাদের গ্রামের ছেলে পেলেরা চোর চোর বলে দৌড়ে গেল। আমাদের গ্রামের ছেলেদেরকে দেখে চালক মটর সাইকেল নিয়ে পালানোর সময় একটু সামনে গিয়ে ইন্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে মটর সাইকেল ফেলেই দৌড় দিয়েছে। আর বাকি দুইজনকে ধরে ফেলেছে। তাদেরকে ধরার পরে আশে পাশের আরো মানুষজন এসে জড়ো হয়েছে। সবাই মিলে কলা চোর দুইজনকে এমন মার মারছে যা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সারারাত গ্যারেজের মধ্যে রশি দিয়ে বেঁধে রেখেছে। পরের দিন আমাদের গ্রামের মেম্বর চেয়ারম্যান আর তাদের গ্রামের মেম্বর চেয়ারম্যান সহ চোর ছেলেদের গার্জিয়ান এসে বিচার করে ক্ষমা চেয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে। সারারাত শক্ত ভাবেই মেরেছে যার ফলে চোর গুলো বাড়ি যাওয়ার পরিবের্ত হাসপাতালে যেতে হয়েছে। আর মটর সাইকেলের কোন পার্টস কে নিয়েছে সেটা কেউ জানে না। আমি এই খবরটি প্রথম ফেসবুকে পায়,তারপর গ্রামের ফ্রেন্ডের কাছে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানতে পারলাম।
শিক্ষা-
দুইশো টাকার কলার জন্য দুই লাখ টাকার মটর সাইকেল জলে গেল। মান সম্মান আর মাইরের কথা বলে লাভ নেই। এই জন্যই টাইটেল দিয়েছি মুরগির জন্য ছাগল হারালো। লোভ এমন একটি জিনিষ যেটা নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে ধ্বংস অনিবার্য। কি দরকার ছিল অন্য মানুষের কলার দিকে নজর দেওয়ার। বাজারে কি কলার অভাব ছিল। তাছাড়া তারা যদি দৌড় না দিতো তাহলে কিন্তুু এত গুরুতর অবস্থা হতো না। যায়হোক সবাই যে কোন বিষয়ে লোভকে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করি। সবাইকে ধন্যবাদ।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা,ডিজাইন করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
এই ধরনের চরিত্র হীন মানুষের আশা-আকাঙ্কার কথা শুনলে এবং জানলে সত্যি অবাক লাগে। সামান্য ২০০ টাকার কলার জন্য নিজের সম্মানটুকু নষ্ট করলো। আসলে এদের হীন মানসিকতার কারণেই এই অবস্থা শায়েস্তা করেছে জেনে ভালো লাগলো।
জী ভাইয়া সামান্য একটি জিনিষের জন্য মান সম্মান সব শেষ। ধন্যবাদ।
বেশ ভালো এবং শিক্ষনীয় একটি টপিক্স নিয়ে আজ আপনি পোস্ট শেয়ার করলেন। বলে না অতি লোভে তাতি নষ্ট। আর এই ক্ষেত্রে সেটােই হলো। সামান্য ২০০ টাকার জন্য যা করলো তাতে তো সম্মানও গেল আবার মটর সাইকেলের অবস্থা... হি হি হি। অনেক সুন্দর লেখেছেন।
জী আপু লোভ সামলাতে না পারলে যা হয় আর কি। ধন্যবাদ।
দুর্ভাগ্য কখন কাকে কোন বিপদে ফেলাবে তা বলা বড় মুশকিল। এই দেখুন না কলা চোরগুলো কলা চুরি করে নিয়ে যেতে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল। চুরি করার মুহূর্তেই কি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনটা বন্ধ হতে হলো। আসলে এটি ছিল চোরগুলোর দুর্ভাগ্য। আর এমন দুর্ভাগ্য হয়তো না হলে চোর গুলো কখনো শায়েস্তা হতো না। কি দরকার বাপু, মাত্র ২০০ টাকার কলার জন্য পাবলিকের হাতে মার খাওয়া। একদিকে মোটরসাইকেল গেল, অন্যদিকে মান সম্মানও গেল সেই সাথে ফ্রিতে পেল গণপিটুনি। যাই হোক ভাই, আপনার শেয়ার করা গল্পটি বেশ শিক্ষণীয় ছিল শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
জী ভাইয়া মটর সাইকেল এক সময় হবে কিন্তুু সম্মানটা তো আর ফিরে পাবে না। ধন্যবাদ।
বিপদ কখন কার জন্য কিভাবে আসে তা বলা মুশকিল।আসলে এটি চোরের দুর্ভাগ্য চুরি করার সময় মোটরসাইকেলের ইঞ্জিল বন্ধ হয়ে গেল। ২০০ টাকার কলার জন্য লোকজনের হাতে মার খেয়েছে। এবং মানসম্মানও হারাতে হয়েছে । এবং মোটরসাইকেল ও চলে গেল। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার শেয়ার করার গল্পটি পড়ে আমার কাছে বেশ ভালো লাগলো।
জী আপু চালকটা কিন্তুু পালিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু ভাগ্য তাকে বিপদে ফেলে দিলো। যেকম কর্ম তেমন ফল। ধন্যবাদ।
কলা চুরি,এটা আসলেই কেমন একটা ব্যপার।২০০ টাকার কলার জন্য মানসম্মান তো গেলোই আবার মোটরসাইকেল সাথে পিটুনি তো আছেই। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ কতো কি যে করে,আর তার জন্য ভুগতে হয়।এখানে চোরের দুর্ভাগ্য সাথে কর্মফল দুটোই ছিল।আগে হয়তো এর থেকে আরও বড় চুরি করেছিল।তাই এই অবস্থা।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
জী আপু লোভের শাস্তি পেয়েছে। ধন্যবাদ।