যারা টিউশনি করেন, তারা সাবধান থাকবেন।।
হ্যালো বাংলাভাষাভাষী স্টিমিট পরিবার,
কেমন আছেন সবাই,আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। জীবন চলার পথে আমাদের জীবনে কত ঘটনা ঘটে থাকে। কিছু ঘটনা কান্নার আবার কিছু ঘটনা থাকে হাসিঁর। আজকে এমনি একটি হাসিঁর ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। গল্পটি মনযোগ সহকারে পড়লে অনেক মজা পাবেন। চলুন শুরু করা যাক।
আমি ভার্সিটিতে পড়ার সময় নিউশনি করেই আমার পড়ার খরচ সহ হাত খরচ চালাতাম। যারা ভার্সিটিতে পড়ে সাধারনত ৬০% স্টুডেন্ট আমার মত এমন ভাবে টিউশনি করেই তাদের হাত খরচ চালায়। টিউশনি করার জন্য কোন কন্ডিশন বা শর্ত ছিল না। যখন যে কোন ক্লাশের স্টুডেন্ট পেতাম,তাকেই পড়াতাম। ভার্সিটির তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় খুব ছোট একটি বাচ্চাকে টিউশন পড়াতে গিয়ে একটি মজার ঘটনা হয়েছিল, যা মনে পড়লে আজও আমার হাসিঁ পায়।
বাচ্ছাটা পড়তো চতুর্থ শ্রেনীতে। আমি অংক, ইংরেজি সহ সব সাবজেক্টই পড়াতাম। তো একদিন স্টুডেন্ট কে পড়াচ্ছি এমন সময় তার পিচ্ছি ছোট ভাই আসলো হাতে একটি প্রাণ ললিপপ চকলেট নিয়ে। এসে আমাকে বলে ,কাও তুমি এটা কাও। কয়েক বার না করলাম, যে আমি চকলেট খাবো না তারপরও শোনে না। পিচ্চিটা চকলেট আমার মুখে লাগিয়ে আবার বলে কাও কাও, এটা কাও। তার জোরাজুড়ির কারনে আমার মুখ মেখে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমি কামড় দিয়ে অর্ধেকটা চকলেট মুখে নিয়ে নিলাম। আমি শিওর না নিলে আমার মুখ নোংরা করে ফেলতো ।
আমি চকলেট চিবাচ্ছি আর পড়া দেখিয়ে দিচ্ছি। পিচ্ছিটা একবার তার চকলেটের দিকে তাকাচ্ছে আরেক বার আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছে। আমার খাওয়া শেষ, এমন সময় পিচ্চির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখে পানি টলমল করছে। পিচ্চিটা দুই হাত দিয়ে আমার মুখ খোলার চেষ্টা করছে। কি বিরক্ত কর অবস্থা। না খেলেও জ্বালা, এখন খেয়েছি তাতে ও জ্বালা। পরে বাধ্য হয়ে হাঁ করলাম। ও মুখের ভিতরে তাকিয়ে দেখে মুখে চকলেট নেই। খেয়ে ফেলেছি, এটা ওর বুঝতে দেরি হয়েছে কিন্তুু ভ্যাআআআআআ করে কেদেঁ উঠতে দেরি করে নাই।
পাশের রুম থেকে স্টুডেন্টের মা বলতেছে, কি হইছে রবি ( রবি আমার স্টুডেন্টের নাম ) সানী কান্দে কেন ? রবি ডাইরেক্ট বলে দিলো, যে স্যার সানীর চকলেট খেয়ে ফেলেছে। এই কথা শুনে মনে হলো আমি চকলেট না বিষ খেয়েছি। কি লজ্জার ব্যাপার। স্টুডেন্টের আম্মু এসে পিচ্ছিটাকে নিয়ে গেলো। কান্নার শব্দ বেড়েই চলেছে, বেড়েই চলেছে, স্টুডেন্টের দাদা দাদী পাশের রুমে গিয়ে জিজ্ঞেস করছে, কি হইছে দাদা ভাই ? স্টুডেন্টের আম্মু বলে দিলো,যে সানীর চকলেট স্যার খেয়ে ফেলেছে। এই কথা শুনে নিজেকে তখন ফাঁসির আসামি মনে হচ্ছিলো।
এর পর আসলো স্টুডেন্টের কলেজ পড়ুয়া বড় বোন , সেও জেনে গেলো, যে সানীর চকলেট স্যার খেয়ে ফেলেছে। নিজেকে তখন বিরাট বড়ো অপরাধী/ আসামী মনে হতে লাগলো। তখন মন চাইছে ফ্লোর ভাগ করে নিচে পড়ে যায়। এর পর এলো কাজের মহিলা সেও জেনে গেলো, যে সানীর চকলেট স্যার খেয়ে ফেলেছে। কাজের মহিলা তো বলেই ফেললো কাইন্দো না বাবু স্যার কে মাইর দিমু। এই কথা শুনে ঐ বাড়িতে থাকতেও পারছিলাম না আবার বেরও হতে পারছিলাম না।
কাজের মহিলা সানীকে কোলে নিয়ে দোকানে যাচ্ছে , সানী তখন ও কাদঁছে,ভ্যাআআআ। রাস্তায় যদি কেউ জিজ্ঞেস করে সানী কান্দে কেন, কাজের মহিলা বলে দিবে , স্যার সানীর চকলেট খেয়ে ফেলেছে। আরো লোকের সঙ্গে দেখা হবে তারাও জানতে চাইবে সানী কান্দে কেন ? এভাবে সারা এলাকা জেনে যাবে , স্যার সানীর চকলেট খেয়ে ফেলেছে। আল্লাহ আমাকে তুলে নিয়ে যাও আর না হয় একটি মই ফেলো আমি নিজেই উপরে চলে আসি,হা হা হা।
ধন্যবাদ এতো মনোযোগ সহকারে গল্পটি পড়ার জন্য। গল্পটি আমার নয় । আমি যখন ভার্সিটির কুচিং করতাম ফার্মগেটে ফোকাসের মেইন শাখায়। তখন ক্লাসে স্যার গল্পটি বলে ছিলেন।
আজ এপ্রিলের দুই তারিখ তাই সবাইকে এপ্রিল ফুল বানিয়ে দিলাম,হা হা হা। 😂😂😂
বন্ধুরা আজকে এপর্যন্তই। কেমন হলো আজকের ফানি পোষ্টি। অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। মাঝে মাঝে ফানি পোষ্ট করলে ভালই লাগে। আবার দেখা নতুন কোন বিষয় নিয়ে। ততদিন পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
এপ্রিল ফুল বানান আর যায় বানান না কেন গল্পটি পড়ে কিন্তু বেশ মজা পেলাম। আমি তো পুরা হাসতে হাসতে শেষ। আসলে কিছু বাচ্চা এরকম হয়ে থাকে যাদের জিনিস খেয়ে ফেললেও দোষ আবার না খেলেও দোষ। যাইহোক আমার অবুঝ মন জানতে চাই আপনি আবার মিথ্যা বলছেন না তো যে গল্পটি আপনার নয়। 🤨
জী ভাইয়া বাচ্চাদের জিনিষ খেলেও সমস্যা না খেলেও সমস্যা। ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভাই আপনার পোস্টি পড়ার পরে আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো। আপনি ভার্সিটিতে পড়ার সময় টিউশনি করি আপনার পড়াশোনার খরচ চালাতেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। আপনি চতুর্থ শ্রেণীর একজনকে পড়াতেন তাও পোস্টের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। আপনি যে আপনার স্টুডেন্টদের চকলেট খেয়ে ফেলেছিলেন সত্যিই ব্যাপারটা কিন্তু অনেক মজার হয়। ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আপনাদের কাছে ভাল লাগলেই আমার স্বার্থকতা ধন্যবাদ ভাইয়া।
বাচ্চার চকলেট খেয়ে নিলে ত বাচ্চা কান্না করবেই। বাচ্চার মা, দাদা, দাদী, বোন , কাজের লোক সবাই জানাজানি হলে মান সম্মান যাওয়ার মতই অবস্থা। যাই হোক গল্প পড়ে আমার খুব ভাল লেগেছে এবং প্রচন্ড হাসি পেয়েছে। সেই কোচিং এর স্যারের নিজের বাস্তব ঘটনা এটি?
জী ভাইয়া স্যারের নিজের ঘটনা। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমি তো হাসতে হাসতে শেষ।কি যে অবস্থা হয়েছিলো সেই সময় আপনার বুঝাই যাচ্ছে। ছোট বাচ্চারা এমনই হয় ভাইয়া।প্রথমে খেতে বলবে পরে কান্নাকাটি শুরু করে দিবে।যাইহোক মজার একটি ঘটনা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
জী আপু প্রথমে কাও কাও পড়ে ভ্যাআআআআ,হা হা হা। ধন্যবাদ আপু।