আমরা হুজুগে বাঙালি।।
বাংলাতে শেয়ার করো তোমার মনের অনুভূতি
হ্যালো
আমার প্রিয় স্টিমিট বাসি,কেমন আছেন সবাই। আশা করছি সবাই অনেক ভাল আছেন। আজকে আমি আবার আপনাদের মাঝে হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোষ্ট নিয়ে। আজকে বর্তমান সময়ের কিছু আলোচিত বিষয় নিয়ে কথা বলেবো।
আমার আজকের ব্লগের টাইটেল দেখেই বুঝতে পারছেন কি বলতে যাচ্ছি। গত এক দুই বছর ধরেই আমাদের দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাগলা ঘোড়া ছুটেই চলছে। কেউ তার লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। আর যারা লাগাম টেনে ধরবে তারা তো টেনে ধরছেই না বরং সেটা নিয়ে রীতিমত তামশা করছে। তারা বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট,শরীরের ঘাম,পেটের যন্ত্রনা নিয়ে উপহাস করে। তারা বলে আমরা নাকি বেহেস্তে আছি। আমরা স্বর্গবাসি। বাংলাদেশের কিছু কিছু মানুষ সুদ,ঘুষ, শোষন,দুর্নীতি,টেন্ডারবাজি করে এতটাই টাকা জমিয়েছে যে, তাদের কাছে অর্থের মূল্য একেবারেই মূল্যহীন। ডিমের হালি ১ হাজার টাকা হলেও এদের সমস্যা নেই, আলুর কেজি ৫০০ টাকা হলেও সমস্যা নেই, চালের কেজির দাম ১ হাজার হলেও সমস্যা নেই, তেলের দাম/সোনার দাম সমান হলেও সমস্যা নেই। তাদের মতে দ্রব্যমূল্য, বাজার, অর্থনীতি সবই ঠিক আছে।
তারা আবার দেশের অর্থনীতিবিদ,আইন বিশারদ হয়ে টিভি চ্যানেলে বক্তব্য দেয় এগুলো নাকি মুদ্রাস্ফীতির কারনে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারনে হচ্ছে। যে জাগায় সিন্ডিকেট হচ্ছে সেখানে হাত দেওয়া যাবে না। আমরা জনগনের চিন্তা মাথায় রেখে তাদেরকে ঘর নির্মান করে দিচ্ছি,টিসিবির পন্য রাস্তায় বিক্রয় করছি,সংকট হলে আমদানি করবো। এই বক্তব্য দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ। তাদের এই কথা গুলো শুনলে গা জ্বলে। হালাল টাকা নিয়ে জীবনে কোন দিন বাজারে যায়নি তো তাই মুখ দিয়ে এসব কথা বের হয়। তাদের কাছে সিন্ডিকেট কোন অপরাধ না। দিনে দুপুরে কাচাঁ মরিচ, আলু,ডিম,পেয়াজ,মাংস,তেল,লবন,সবজি নিয়ে ডাকাতি হচ্ছে সেটা তাদের চোখে পড়ে না।
প্রতি বছর রাজধানী শহর ঢাকাতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে শত শত লোক মারা যাচ্ছে। রাষ্টীয় ক্ষমতাকে ক্ষুটি করে বসে থাকা সরকারি চাকরদের কাছে তার উত্তর জানতে চাইলে বলে, আমরা প্রতিদিন মশার ঔষুধ দিচ্ছি,আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করছি। এদিকে ডেঙ্গু হয়ে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, হাসপাতাল গুলোতে ডেঙ্গু রোগির কারনে পা ফেলার জায়গা নেই। আবার কিছু কিছু চাকর বলে ডেঙ্গু মশা নাকি প্লেনে করে বিদেশ থেকে আসে। কত বড় আহম্মক চিন্তা করেন।
দেশে এত কিছু হচ্ছে আর আমরা বাঙ্গালীরা পড়ে আছি হাসিনা বাইডেনের সেলফি নিয়ে। আজ কাল সাংবাদিকরাও নিজেদের সাংবাদিকতার মূল চরিত্র ভুলে গিয়ে সরকারকে খুশি করার জন্য নিউজ করে। হাসিনা মুদির সাথে হেটেছে নাকি পিছনে হেটেছে,হাসিনাকে ইন্ডিয়াতে কে রিসিপ করলো আর বাইডেনকে কারা এসে রিসিপ করলো এসব নিউজ করে। শুধু তাই নয় কিছু দিন আগে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল মাক্রোঁ এসেছে। তার প্রথম জল পানে কিসের জুস ছিল,তার ডিনারে, ব্রেকফাষ্টে কি কি ছিলো এসব নিউজ করে। সেলফি,বাইডেন আর মাক্রোঁর নিচে চাপা পড়ে গেল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি,মুদ্রাস্ফীতি,ডেঙ্গু সব কিছু।
কোন সাংবাদিক এখন পর্যন্ত কোন মন্ত্রী এমপি বা প্রধান মন্ত্রীকে জিঙ্গেস করার সাহস পায় না যে, ক্ষমতায় বসে থেকে কেন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছেন না,কেন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রনে করতে পারছে না, কেন সিন্ডকেট ভাঙ্গা যাচ্ছে না,কেন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। আসলে সমস্যাটা কোথায়..? কারা সিন্ডিকেটের পিছনে জাল বিছিয়ে রেখেছে। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ফান্স থেকে দশটা এয়ারবাস কেনা কেন জরুরী। প্রথম স্যাটালাইটের কোন খবর নাই দ্বিতীয় স্যাটালাইট কেন পাঠাতে চাচ্ছে। প্রথম স্যাটালাইটের সুফল মানুষ কি পেয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। উপরের কর্মকর্তা বা নেতাদের কাছে জনগনের টাকার হিসাব কেউ চাইতে সাহস পায় না। এগুলো সাংবাদিকরা খুজে বের করবে। মাক্রোঁ কেন হঠাৎ বাংলাদেশে এসে আবার তরিগরি করে চলে গেল। তার পিছনে কারন কি..। এয়ারবাস কেনার টাকা কার মাধ্যমে ফান্সে যাবে। সিন্ডিকেটের মূল কোথায় সেটা সাংবাদিকরা খুজে বের করবে। এসব নিউজ না করে সেলফি,আমরার জুস আর ব্রেকফাষ্ট নিয়ে নিউজ করে। আর আমরা হুজুগে বাঙালিও এসব নিউজের পিছনে পরে মূল সমস্যা গুলোর কথা ভুলে যায়।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা,ডিজাইন করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
এইসব কথা বললে তো চাকরি থাকবে না ভাইয়া। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই খারাপ কিন্তু এইসব কথাগুলো বলার সাহস কারো নেই। তাই হয়তোবা সাংবাদিকেরা এইসব বিষয়গুলো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে প্রশ্ন করে না।
জী ভাইয়া মুখলে মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেয়। ধন্যবাদ।