ডাই প্রজেক্ট- রঙিন কাগজ দিয়ে প্রজাপতি তৈরী।।
আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ-
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই,আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আজ আমি একটি ডাই পোষ্ট শেয়ার করবো। চলুন শুরু করছি।
বেশ কয়েকদিন ধরে চিন্তা করতেছি যে একটি ডাই প্রজেক্ট তৈরী করবো। কিন্তুু তৈরী করার মত সময় পাচ্ছিলাম না। অবশেষে গত শুক্রবারে অফিস বন্ধ থাকায় একটি প্রজাপতির ডাই প্রজেক্ট তৈরী করলাম। প্রজাপতি একটি ছোট প্রাণী যেটা বিভিন্ন জাগায় পাখির মত উড়ে বেড়ায়। বেশি অংশ ফুল গাছের মধ্যে বসতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে মানুষের শরীরেও বসে। প্রজাপ্রতির ডাই-টা তৈরী করার সময় ভেবেছিলাম পারবো কি না, আর দেখতে যেন কেমন হয়। তৈরী করার পরে দেখলাম অনেক সুন্দর হয়েছে। বেশি একটা সময় লাগে নাই। তবে গরমে কষ্ট করেছি। কারন এক তো দিনের বেলা প্রচন্ড রোদ উঠে আবার কাগজ দিয়ে ডাই তৈরী করার সময় ফ্যান চালালে কাগজ বাতাসের সাথে উড়ে যায়। যার ফলে ফ্যান বন্ধ রাখতে হয়েছে। যায়হোক প্রজেক্টটি তৈরী করতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে। এখন নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করছি।
- চার কালারের চারটি রঙিন পেপার
- স্কেল
- আঠা
- কাচিঁ
- কার্টার
- পেন্সিল
ডাই তৈরী করার বিবরণ নিম্নরুপ-
প্রথম ধাপ-
প্রথমে একটি এ-4 সাইজ রঙিন পেপার নিয়ে স্কেল দিয়ে চতুর্পাশে সমান মাপ নিয়ে পেন্সিল দিয়ে মার্ক করে কার্টার দিয়ে কেটে নিলাম। তারপর দুই কোণা বরাবর করে একটি ভাঁজ দিলাম।
দ্বিতীয় ধাপ-
তারপর চতুর্পাশে বরাবর করে একটি করে ভাঁজ দিলাম। রঙিন কাগজ দিয়ে ডাই প্রজেক্ট তৈরী করার মেইন কাজ হলো ঠিক ভাবে ভাঁজ দেওয়া। সঠিক ভাবে ভাঁজ টা না পড়লে প্রজেক্ট ঠিক ভাবে তৈরী হবে না।
তৃতীয় ধাপ-
এই পর্যায়ে মাঝখানের অংশটা ভিতরে দিকে ঢুকিয়ে রকেটের মত করে নিলাম। এই ভাঁজটা করতে সব থেকে বেশি কষ্ট হয়েছে,সময়ও লেগেছে । মূলত এই প্রজেক্টা হলো ভাঁজের খেলা।
চতুর্থ ধাপ-
তারপর মাঝখান দিয়ে আরেকটি ভাঁজ দিয়ে ত্রিভুজ আকৃতি করে নিলাম। তারপর কাঁচি দিয়ে গোল করে একটি কোণা কেটে নিলাম। কমও কাটা যাবে না আবার বেশিও কাটা যাবে না।
পঞ্চম ধাপ-
কোণাটা কাটার পরে একটি ভাঁজ ছেড়ে দিলাম। তারপর আবার দুইটা কোণা সমান করে উপরের দিকে ভাঁজ করে দিলাম।
ষষ্ট ধাপ-
এই পর্যায়ে নিচের অংশটা উল্টো দিকে টেনে নিয়ে মাথাটা আবার উপরের দিকে ভাজঁ করে দিলাম। এই কাজটা একটু সতর্ক ভাবে করতে হবে। জোরে টান দিলে দুই পাশ দিয়ে ছিড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সপ্তম ধাপ-
তারপর মাথার অংশটা জোড়া লাগানোর জন্য নিচে এক ফোঁটা আঠা লাগিয়ে দিলাম। তারপর সমান করে আরেকটি ভাঁজ দিলেই প্রজাপতি হয়ে যাবে। আমার প্রজাপতি বানানোর কাজ শেষ। তারপর আরো তিন কালারের তিনটি রঙিন পেপার দিয়ে প্রজাপতি বানালাম। সর্বমোট চারটি প্রজাপতি বানিয়েছি।
উপস্থাপনা-
বন্ধুরা এই হলো আমার আজকের আয়োজন। সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করছি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে। প্রজাপতি খুবই সুন্দর একটি প্রাণী। এই প্রজাপতি নিয়ে অনেক গল্প উপন্যাস আর গান রয়েছে। প্রকৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে প্রজাপতি খুব কম দেখা যায়। যায়হোক এসব কথা বলে লাভ নেই। কারন বাঙ্গালী এসব কথার পাত্তা দেয় না। সবাই ভাল থাকবেন,সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।।
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ,আল্লাহ হাফেজ।।
ফটোগ্রাফির বিবরণ:
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| মডেল | রেডমি নোট-৮ |
| শিরোনাম | রঙিন কাগজ দিয়ে প্রজাপতি তৈরী।।।। |
| ক্যাটাগরি | ডাই পোষ্ট |
| স্থান | নিজ বাসা, নারায়নগঞ্জ, ঢাকা,বাংলাদেশে। |
| তারিখ | ০৮-০৯-২০২৩ |
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
| ফটোগ্রাফার | @joniprins |
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
আপনি ঠিক বলছেন প্রকৃতি নষ্ট হওয়ার কারনে প্রজাপতি এখন তেমন দেখা যায় না। আগে প্রচুর প্রজাপতি দেখা যেতো।আপনার তৈরি করা প্রজাপতি দেখে খুব ভালো লাগলো। প্রজাপতি দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটা পোস্ট করার জন্য।
জী ভাইয়া কত দিন ধরে যে প্রজাপতি দেখি না। তার কোন হিসাব নেই। ধন্যবাদ।
রঙিন কাগজ দিয়ে চারটি প্রজাপতির অরিগামি দারুন হয়েছে ভাইয়া। এরকম সুন্দর প্রজাপতি গুলো আমি ও রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি করেছিলাম। কাগজের এই প্রজাপতি গুলো তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া
জী আপু রঙিন কাগজ দিয়ে বানালে দেখতে খুবই ভালো লাগে। ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া প্রকৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে আগের তুলনায় প্রজাপতি এখন খুবই কম দেখা যায়। আপনার তৈরি প্রজাপতিগুলো দারুন হয়েছে এবং প্রত্যেকটি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। রঙিন কাগজ দিয়ে প্রজাপতির সুন্দর এই ডাই আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু। আশা করি সবসময় সাপোর্ট করবেন। ধন্যবাদ।
আসলে যারা চাকরি করে তাদের একমাত্র শুক্রবার ছাড়া তেমন কোন সময় হয় না। আপনিও দেখছি অনেক বেশি ব্যস্ত থাকার কারণে ডাই প্রজেক্ট তেমন একটা তৈরি করতে পারেন না অবশেষে শুক্রবারে প্রজাপতির অরিগামি তৈরি করেছেন জেনে ভালো লাগলো। প্রজাপতি আমার অনেক বেশি পছন্দের বিশেষ করে যখন গায়ের উপর এসে বসে তখন অনেক বেশি ভালো লাগে। রঙিন কাগজ দিয়ে আপনার তৈরি এই প্রজাপতির অরিগামী দেখে আমি মুগ্ধ, আপনি দারুন ভাবে এটা তৈরি করেছেন, শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
জী ভাইয়া চাকরি করলে সময় কখন যে চলে যায় বুঝাই যায় না। ধন্যবাদ।
রঙিন কাগজ দিয়ে খুবই সুন্দর সুন্দর কিছু প্রজাপতি তৈরি করে ফেলেছেন আপনি৷ এরকম একটি প্রজাপতি দেখতে পেরে খুবই ভালো লাগলো৷ রঙিন কাগজ দিয়ে এ প্রজাপতিগুলো তৈরি করার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিভাকে খুবই ভালোভাবে তুলে ধরেছেন৷
জী ভাইয়া মাঝে মাঝে কাগজ কেটে কোটে বিভিন্ন জিনিষ বানাতে ভালোই লাগে। ধন্যবাদ।
ভাইয়া আপনি চমৎকার ভাবে প্রজাপতির ডাই পোস্টটি শেয়ার করলেন। খুব ভালো লাগলো। আপনি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত চমৎকার ভাবে ধাপগুলো তুলে ধরেছেন। এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু। সুন্দর কমেন্ট করেছেন।
কি আর করা যাবে ভাই শুক্রবার ছুটির দিন ছিল বলে তাও আমরা এই ধরনের জিনিসগুলো তৈরি করতে পারছি। খুবই ভালো লাগলো আপনার তৈরি করার রঙিন কাগজের এই প্রজাপতি দেখে।
আপনি তো টিচার মানুষ সাপ্তাহে দুইদিন ছুটি পান। আর আমি একদিন। ধন্যবাদ।