ছোটবেলায় নৌকা চালাতে গিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়ার একটি ঘটনা।
প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন বন্ধুরা,
আমাদের এদিকে তেমন কোনো নদী নেই বললেই চলে। যেগুলা আছে সেগুলো আমাদের এলাকা থেকে অনেকটাই দূরে তাই কখনো নদীতে ঘোরাঘুরি করা হয় না বললেই চলে। আর নদী ছাড়া তো নৌকায় চড়ার অনুভূতিটাও পাওয়া যায় না। কিন্তু ছোটবেলায় আমার অনেক ইচ্ছে করত নৌকায় চড়তে এবং নৌকায় চড়ে অনেক ঘোরাঘুরি করতে। কিন্তু ওই যে বললাম আশেপাশে কোনো নদী নাই তাই নৌকায় চড়া হতো না। কিন্তু চোখের সামনে যদি কখনো নৌকা দেখতাম তাহলে সেটাতে চড়তে খুব ইচ্ছে করত। কিন্তু কখনোই চড়ার সুযোগ হতো না।
যাই হোক ছোটবেলায় আমার নানির বাড়িতে অনেক বেশি বেড়াতে যাওয়া হতো। একদিন শুনলাম নানিদের এলাকায় নাকি একটা পার্ক তৈরি হয়েছে। তো যেহেতু পার্কটি নানীদের বাড়ি থেকে কাছেই। তাই নানি বাড়িতে গেলেই মাঝে মাঝে মামার ছেলেদের সাথে সেখানে ঘুরতে যাওয়া হতো। তো একদিন সেখানে গিয়ে একটা বড় ঘাটের মধ্যে একটি নৌকার দেখা পাই। তো নৌকা দেখার পর থেকেই আমার সেটাতে চড়ার খুব ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু তখন যেহেতু ছোট ছিলাম তাই ওটাতে ওঠার সাহস পেতাম না কারণ কেউ যদি কিছু বলে। আর যেহেতু চালানোর কোন লোক থাকত না তাই নৌকাতে উঠলেও সেটা আমাদের নিজেদেরকেই চালাতে হবে। তার জন্য আর সাহস পেতাম না।
কিন্তু একদিন সাহস করে আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে নৌকাতে উঠে পড়লাম। তবে সেদিন আমি নৌকা চালাইনি আমার মামাতো ভাই নয়ন নৌকাটা চালাচ্ছিল। কিন্তু ও খুব বেশি দূর নিয়ে যাচ্ছিল না যার জন্য আমার খুব একটা ভালো লাগছিল না। আর কিছুক্ষণ ঘুরিয়েই ও বলল চল এবার চলে যাই। কিন্তু আমি বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য মোটে প্রস্তুত ছিলাম না। তারপরেও তখন বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছিল। কিন্তু পরে একবার নয়নকে না নিয়ে আমি আমার আরেকটা মামাতো ভাইকে নিয়ে চলে যায় নৌকায় চড়ার জন্য। সাথে হয়তোবা আরেক জনও ছিল কিন্তু সেটা কে ছিল আমার ঠিক মনে নেই আসলে তখন অনেকটাই ছোট ছিলাম। যাইহোক আমি পার্কে গিয়ে সোজা নৌকার কাছে চলে যায়।
এবং ওদেরকে বলি চল নৌকায় চড়ে আসি। কিন্তু ওরা প্রথমে রাজি হচ্ছিল না কারণ যেহেতু সবাই ছোট তাই ওরা খুবই ভয় করছিল। কিন্তু আমার যেহেতু চড়ার খুব ইচ্ছা তাই ওদেরকে জোর করেই নৌকায় উঠিয়ে আমি বৈঠা নিয়ে চালাতে শুরু করলাম। যদিবা নৌকা চালানোর আমার কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না। তারপরেও কোন রকমে চালানোর চেষ্টা করছিলাম। তো নৌকাটা আমি একটু ঘাটের মাঝখানের দিকে নিয়ে যেতে চাইলেই ওরা অনেক ভয় করছিল। তারপরেও আমি বললাম কিছু হবে না। আপনারা হয়তোবা ভাবতে পারেন আমার এত সাহস কোথায় থেকে আসলো। আসলে সাহস পাওয়ার একটাই কারণ সেটা হচ্ছে আমি ওদের থেকে একটু বড় ছিলাম এবং আমি সাঁতার কাটতে জানতাম তাই আমার অতটা ভয় লাগছিল না। যাই হোক তারপর নৌকাটা একটু ঘাটের মাঝখানের দিকে যাওয়ার পর হঠাৎ করে আমার হাত থেকে বৈঠাটা ছেড়ে যায়। আর ছেড়ে যাওয়ার সময় মাটির সাথে জোরে করে ধাক্কা দিয়েছিলাম যার কারণে নৌকাটা একটু দূরে চলে যায় এবং বৈঠাটা আমাদের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। আর বইঠাটা ছেড়ে যাওয়ার মূল কারণ মাটির সাথে জোরে চাপ দেওয়ার কারণে বৈঠার মাথাটা মাটির সাথে গেছে গিয়েছিল এর কারণে মূলত হাত থেকে ছেড়ে গিয়েছিল।
তখন সবাই অনেক ভয় পেয়ে গেলাম। আর চারি পাশে কেউ নেই যে আমরা তার কাছ থেকে সাহায্য চাইবো। আর চারি পাশে কেউ থাকলে হয়তো বা আমাদের নৌকায়তে উঠতে দিত না। যাই হোক ওরা তো রীতিমতো কাঁদতে বসেছিল। কিন্তু আমি বললাম কিছুই হবে না। প্রথমে তো আমি চাচ্ছিলাম যে আমি পানিতে নেমেই সাঁতার কাটতে কাটতে নৌকাটাকে ডাঙ্গাতে নিয়ে যাব। কিন্তু পানিতে নামতেও সাহস হচ্ছিল না। আর এর একটাই কারণ সেটা হচ্ছে আমি পানিতে নামলেই শরীর ভিজে যাবে আর এতে করে সবার অনেক প্রশ্নের শিকার হতে হবে। আর মূল ঘটনাটা জানতে পারলে তো অনেক বকা শুনতে হতো। তাই আরকি পানিতে নামিনি। তো যেহেতু পানিতে নামা হলো না কিন্তু নৌকাটাকে তো ডাঙ্গায় নিয়ে আসতে হবে,তার জন্য প্রথমে সবাই মিলে হাত দিয়ে পানিতে ঢেউ কেটে নৌকাটাকে ডাঙ্গাতে নিয়ে আসার চেষ্টা করলাম। কিন্তু নৌকাটা খুবই আস্তে আস্তে এগোচ্ছে ছিল। কিন্তু এভাবে আগালে তো চলবে না। তাই তারপর আমি সবাইকে বললাম যে সবার নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে চেষ্টা করলে হয়তোবা একটু দ্রুত এগোতে পারবো।
তো তারপর সেই অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করে দেখি যে নৌকাটা একটু দ্রুত এগোচ্ছে। তো বেশ কিছুক্ষণ এভাবে চেষ্টা করার পর এক পর্যায়ে নৌকাটা পারে চলেই আসলো। যখন নৌকাটা ডাঙ্গাতে আসে তখনই আমরা নৌকা থেকে নেমেই বাড়ির দিকে দৌড়। তো বাড়ি আসার পর সবাই জিজ্ঞেস করছিল এতক্ষণ কোথায় ছিলা কিন্তু প্রথমে কিছুই বলিনি। পরে অবশ্য আস্তে আস্তে সবাইকেই বলে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আর কেউ কেমন কিছুই বলেনি।
তো প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাই বোন বন্ধুরা, এই ছিল আমার আজকের পোস্ট। তো আমার ছোটবেলার এই স্মৃতিটা আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আর হ্যাঁ যেহেতু এটা অনেক আগের স্মৃতি তাই সবটা হয়তোবা মনে ছিল না তারপরও যতটা সম্ভব আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। তবে মূল ঘটনাটা এটাই ছিল। তো আজকের মতো এটুকুই আবারো খুব শীঘ্রই নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে ইনশা-আল্লাহ। ততক্ষণ সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন নিজের খেয়াল রাখবেন।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
https://twitter.com/MdJohir65/status/1732089512170488318?t=9D5AKvvWwoF_GUwAsv_eIw&s=19
বাড়িতে আসার পর ঘটনা শুনে আপনাকে বকা দিয়েছে?
পুকুরে হলে তো এত ভয় পাওয়ার কথা না। পুকুর মারাতো বাড়ির ব্যবহারের পুকুর। আশেপাশের বাড়ি থাকার কথা। যাইহোক ছোট ছোট ভাইরা ছিল তাই। যাই হোক খবর আসে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন এটাই বড় কথা।
পরে শুনে কেউ আর তেমন কিছুই বলেনি।
আর হ্যাঁ ওটাকে আমার পুকুর বলা ভুল হয়েছে, ওটা আসলেই ঘাট হবে। আর আমি বলেছি ওটা একটা পার্ক ছিল পার্কের আশেপাশে তো বাড়ি থাকার কথা না।
পার্কটি মনে হয় খাল কিংবা নদীর পাড়ে অবস্থিত। পুকুর হলে তো পানিতে স্রোত থাকার কথা না। স্রোত না থাকলে তো বৈঠা আপনার হাত থেকে ছুটে দূরে ভেসে যেতো না সাথে সাথে। আপনারা ঘাট দিয়ে নেমেই নৌকায় চড়েছিলেন। নৌকায় চড়তে আমারও ভীষণ ভালো লাগে, কিন্তু সাঁতার পারি না বিধায় নৌকায় বেশি চড়া হয় না। যাইহোক অবশেষে পায়ের জুতাকে বৈঠা বানিয়ে পাড়ে ভিড়তে সক্ষম হয়েছেন,এটা জেনে ভীষণ ভালো লাগলো। বুদ্ধিটা দারুণ ছিলো। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
না ভাই ওটাও একটি বড় ঘাট ছিল। যাইহোক আপনাদের সঠিক মন্তব্যের কারণে জানতে পারলাম আমার পোষ্টের মধ্যে অনেক ভুল ছিলো। এডিট করে ঠিক করে নিয়েছে আশা করা যায় এখন আর কেউ ভুল বুঝবে না।