শীতের রাতে হঠাৎ করে পিকনিকের আয়োজন।

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago (edited)
আস-সালামু আলাইকুম

প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন বন্ধুরা,

আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি।

20221213_011845_0000-01.jpeg

Canva দিয়ে তৈরি

আজকে আমি আপনাদের মাঝে নিয়ে চলে আসলাম আরও একটি নতুন পোস্ট। গতকাল সন্ধ্যার সময় হঠাৎ আমার বন্ধু ফোন করে বলে যে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টে চলে আই,ছোটখাটো একটা পিকনিক হবে। আমি তো জেনে পুরাই অবাক কারণ এভাবে হঠাৎ করে এর আগে তো কখনো পিকনিক করিনি। যাই হোক যেহেতু অনেকদিন পিকনিক করা হয়নি তাই আমি রাজি হয়ে গেলাম। এসে দেখি সব বন্ধুরা প্রায় চলে এসেছে। তার মধ্যে থেকে কয়েকটা বন্ধু চলে গেল বাজার করতে। আর যেহেতু পিকনিকটা আমরা ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টে করতে চলেছি। তাই আমরা যারা বাজার করতে গিয়েছিলাম না তারা ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু করে দিলাম। এখানে আরো একটা কথা বলতে হচ্ছে পিকনিকে শুধু আমরা না আমাদের সাথে কিছু বড় ভাই এবং ছোট ভাইও ছিল। যাইহোক কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি আমার বন্ধুরা বাজার নিয়ে হাজির হয়ে গেছে। যেহেতু ব্রয়লার মুরগির মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করার প্লান ছিল। তার জন্য সে অনুযায়ী বাজার করে নিয়ে এসেছে।প্রথমে আমি আর আমার একটা বন্ধু এবং দুইটা ছোট ভাই মিলে চলে গেলাম ডেকচিটাকে ধুয়ে আনতে।

IMG_20221210_220400-01.jpeg

তারপর আমরা সবাই মিলে রসুন পেঁয়াজের খোসা ছাড়াতে শুরু করে দিলাম। অনেকদিন পর সব বন্ধুদের সাথে কাজগুলো করতে বেশ ভালই লাগছিল।

IMG_20221210_215319-01.jpeg

যাইহোক সবকিছু গুছিয়ে নেয়ার পর আমরা চুলাই জ্বাল ধরিয়ে দেওয়া হলো। আমাদের একটা বড় ভাই রান্না করতে পারে। তাই রান্নার দায়িত্বটা তিনি নিলেন।

IMG_20221210_235116-01.jpeg

রান্নাটা বড় ভাই করলেও রান্নার ধরনটা একই ছিল। মানে আমরা আগে যেভাবে খিচুড়ি রান্না করতাম তিনিও ঠিক সেভাবেই রান্নাটা করলেন। আমরা যেভাবে রান্না করতাম সেই ধরনটা হলোঃ প্রথমে আমরা মাংসটাকে কষিয়ে রেখে দিতাম। তারপর খিচুড়ি রান্না করতাম এভাবে রান্নার প্রায় শেষের এক পর্যায়ে মাংসগুলো খিচুড়ির মধ্যে ঢেলে দিতাম। এটাই মূলত আমাদের প্রতিবারের পিকনিকের রান্নার ধরন। বড় ভাইও ঠিক এভাবেই রান্নাটা করছিল।

IMG_20221210_212648-01.jpeg

যাই হোক আপনারা তো জানেন বন্ধুরা মিলে পিকনিক করলে কেউ কাজ করে আবার কেউ কাজ করতেই চায় আমাদের পিকনিকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আসলে যেহেতু আমরা পিকনিকটা ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টে করছিলাম। তার জন্যই অনেকেই কাজে ফাঁকি দিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলতে চাচ্ছিল। এর জন্য মাঝে মাঝে একটু রাগারাগিও হচ্ছিল। যাই হোক সবার মন মানসিকতা তোর এক নয় তাই এরকম হবে এটাই স্বাভাবিক।

IMG_20221211_000812-01.jpeg

IMG_20221211_005251-01.jpeg

যাই হোক দেখলাম সালাদ বানানোর জন্য বন্ধুরা টমেটো ও ধনেপাতা কিনে নিয়ে এসেছে। তার জন্য আমার একটা বন্ধু বসে পড়ল ঝাল,পিঁয়াজ ও টমেটো কাটার জন্য। দেখলাম সে একাই সবগুলো কেটে নিল এবং সালাদ টাকেও সেই বানালো। যদিও বা টমেটোর সালাদ আমি খাই ছিলাম না তবে এক পিস টেস্ট করে দেখছিলাম সালাদটা খেতে বেশ ভালোই ছিল।

IMG_20221210_235504-01.jpeg

যেহেতু শীতের রাত তাই একপর্যায়ে দেখছি বেশ কয়েকজন চুলার পাশে বসে আগুন পোহাচ্ছে। যেন শীতটা একটু কম লাগে।

IMG_20221211_005332-01.jpeg

রান্নাটা প্রায় শেষের দিকে তখন দেখছি খিচুড়িটা ঝুরঝুরি হয়নি। তখন আমাদের এলাকার এক বড় ভাই একটা কাজ করল। কাজটা এমন ছিল যে প্রথমে ডেকচি টা চুলা থেকে নামিয়ে তারপর ডেকচির ঢাকনার উপরে জ্বলন্ত কয়লা গুলো দিয়ে দিল। দেখলাম এরকম করাতে মোটামুটি কাজ হলো।

IMG_20221211_005950-01.jpeg

IMG_20221211_010330-01.jpeg

যাই হোক যেহেতু এবার খিচুড়ি রান্না কমপ্লিট তাই সবাই মিলে বসে পড়লাম খাওয়ার জন্য। দেখলাম খিচুড়িটা বেশ ভালই টেস্ট হয়েছিল। আর একটা কথা যখন খাওয়ার জন্য বসি তখন দেখি ঘড়ির কাটায় রাত একটা বেজে গিয়েছে। যাই হোক মেনুতে হয়তো তেমন কিছু ছিল না। কিন্তু সবাই মিলে একসাথে বসে খাওয়ার মজাটাই আলাদা। একটা কথা বলতে হচ্ছে মুহূর্তটা বেশ ভালই কাটিয়েছিলাম।

তো প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন ও বন্ধুরা, এই ছিল আমার আজকের পোস্ট। আজকের লেখাটা আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আজকের মত এটুকুই। আবারো খুব শীঘ্রই নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে ইনশা-আল্লাহ। ততক্ষণ সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন নিজের খেয়াল রাখবেন।

আল্লাহ হাফেজ
Sort:  
Loading...

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

 4 years ago 

দুই বছর আগে পর্যন্ত আমরাও এভাবে কোর্টে পিকনিক খেতাম।সেই দিন গুলো মনে পড়ে গেল ভাই। এখন র‍্যাকেট খেলাও নেই পিকনিক ও নেই।ঠিকই বলেছেন,প্রতিটা পিকনিকেই এমন কিছু লোক থাকবে যারা কাজ করবে না,আবার কিছু লোককে প্রচুর কাজ করতে হয়।খিচুড়ি দেখে জিভে জল চলে আসল। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার সুন্দর মুহুর্ত গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 4 years ago 

আমরা কাজ করব আর একজন কাজ করবে না এটা দেখে এমনিতেই খারাপ লাগে। কি বলবো ভাই কিছু লোক আছে যারা সব কাজেই মোটামুটি একটু আড্ডু ফাঁকিবাজি করেই থাকে। যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

 4 years ago 

হঠাৎ করে পিকনিকের আয়োজনে করেছেন, আসলে আমার মনে হয় পিকনিকটা হঠাৎ করলেই ভালো। আপনারা কয়েকজন বন্ধু মিলে ব্রয়লার দিয়ে দারুণ সুন্দর খিচুড়ি রান্না করেছেন। এটা সত্যি বলেছেন ভাইয়া পিকনিক কেনো কোন কিছুতেই সবাই কাজ করতে চায় না, অনেকেই আছেন ফাকি দেয়। আসলে সবাই তো এক হয়। আপনাদের খিচুড়ির কালারটা দারুণ এসেছে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর মূহুর্তে শেয়ার করার জন্য।

 4 years ago 

আমি মনে করি পিকনিক করার অন্যতম এবং সুন্দর মুহূর্তটা হচ্ছে শীতের সময়। শীতের সময় বিক্রি করতে অনেক বেশি ভালো লাগে আর এই সময়টাতে যদি বন্ধুরা পাশে থাকে তাহলে তো আর কোন কথাই নেই। গত বছর পিকনিক করেছিলাম কয়েকবার এ বছর যদিও এখন পর্যন্ত বিক্রি করা হয়নি তবে পিকনিক করার সময় অনেকেই কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠে আর অন্যরা আড্ডা দিতে হাপিয়ে ওঠে। আসলে সকলেই তো আর এক না তবে আমি ওই কাজ না করার মধ্যে একজন হাহাহা। ভালো লাগলো আপনার এই সুন্দর মুহূর্তটা দেখে।

 4 years ago 

শীতের রাতে সব বন্ধুরা মিলে এভাবে পিকনিক করার মজাই আলাদা। সবাই একসাথে বসে এভাবে খিচুড়ি খেতে আরও বেশি ভালো লাগে। যদিও এভাবে পিকনিকের মজা কখনো পাইনি কিন্তু আপনার পোস্ট দেখে বুঝতে পারছি অনেক আনন্দ করেছেন আপনারা। শীতের সময় আসলে আমার ভাইয়াকে দেখেছি মাঝে মাঝেই পিকনিক করার জন্য চলে যেত। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 4 years ago 

পিকনিকে মজা আপনি কখনোই পাননি যেনে অবাক হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্যটি করার জন্য।

 4 years ago 

শীতের রাতে ব্যাডমিন্টন খেলা শেষ করে আপনারা পিকনিক করেছেন দেখে বেশ ভালো লাগলো।আর খিচুড়ি খেতে অনেক মজা বন্ধুরা মিলে রাতে রান্না করে।তাছাড়া খিচুড়ি ঝুরঝুরে করার দারুণ পদ্ধতি জানলাম ,ভালো লাগলো ভাইয়া।ধন্যবাদ আপনাকে।

 4 years ago 

বন্ধুরা মিলে খুব সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। শীতের রাতে পিকনিক করার আনন্দটাই অন্যরকম হয়ে থাকে। খিচুড়ি তৈরি করেছেন সবাই মিলে খুব সুন্দর ভাবে খিচুড়ি খেয়েছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। আসলে এমন মুহূর্ত জীবনে বারবার ফিরে আসে না। স্মৃতির পাতায় এই মুহূর্তগুলো রয়ে যাবে। এত সুন্দর মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

 4 years ago 

শীতের রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে অনেক ভালো লাগে। আপনারা কিছু বন্ধু এবং ছোট ও বড় ভাই মিলে পিকনিকের আয়োজন করলেন। বয়লার মুরগি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করলেন। দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনারা অনেক মজা করে খিচুড়ি খেয়েছেন। মনে হয় অনেক সুন্দর সময় উপভোগ করলেন এবং মজা করে খিচুড়ি খেলেন। সুন্দর করে উপস্থাপনা করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।

পিকনিক করলে আসলে খিচুড়ি দিয়েই করা উচিত, এতে করে ঝামেলা কম হয়। হা হা হা... খিচুড়ি দেখতে কিন্তু খুব সুন্দর হয়েছে। খিচুড়ি রান্নার স্টাইল অনেকটা বিরিয়ানি রান্না করার মত।

পিকনিকের সব থেকে যে বিষয়টা ইরিটেটিং লাগে সেটা হল কিছু কিছু বন্ধু আছে যারা কাজ করতে চায় না, যেটা আপনার ক্ষেত্রেও হয়েছে। তবে আমি পিকনিক করলে এই সুযোগ কাউকে দিই না, সবাইকে দিয়েই টুকটাক কাজ করিয়ে নেই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.101
BTC 66176.50
ETH 1938.39
USDT 1.00
SBD 0.38