নানির বাড়ি দাদির বাড়িত।
প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন বন্ধুরা,
তো প্রথমে নানি বাড়ি দিয়েই শুরু করা যাক। ছোটবেলায় আমারও একটা প্রিয় জায়গা ছিল যেখানে যেতে আমার বেশ ভালো লাগতো সেই জায়গাটা হচ্ছে মূলত নানি বাড়ি। ছোটবেলায় গরমের ছুটি পেলেই বা কোন ছুটি পেলেই বেশিরভাগই চলে যেতাম নানি বাড়িতে। যেখানে গিয়ে থাকতে আমার বেশ ভালো লাগতো। আমার একটা বন্ধুও দেখতাম অনেক নানি বাড়ি যেত আসলে নানীর বাড়ি জিনিসটা এমন যেখানে যেতে ছোটবেলায় আমাদের বেশ ভালো লাগতো । তো এমনও ছিল যখন আমি আমার নানির বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে একবার করে যেতাম। আসলে আমার নানি বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে খুব একটা দূর না ছয়,সাত কিলোমিটার হবে। তাই আগে কি করতাম বৃহস্পতিবার স্কুল শেষ করেই চলে যেতাম নানি বাড়ি তারপর শুক্রবার সারাদিন নানির বাড়ি কাটিয়ে আবার শনিবার সকাল বেলায় ফিরে আসতাম। তবে সব সময় ফিরে আসতে ভালো লাগতো না। তাই মাঝে মাঝে থেকেই যেতাম কিন্তু যেহেতু স্কুল তাই এর জন্য সবার কাছ থেকে বেশ ভালোই বকা শুনতে হতো আমাকে। আসলে ছোটবেলায় না জানি কি পেতাম নানি বাড়ি গিয়ে তবে সেখানে থাকতে আমার বেশ ভালো লাগতো।
এরপর আস্তে আস্তে বড় হতে শুরু করলাম আর যত বড় হচ্ছি তত নানি বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছাটাও কমে গেল। এখন হয়তো বা বছরে দুই একবার যাওয়া হয়। আর এখন নানা নানী ও বেছে নেই তাই এখন আর নানি বাড়ি বলা যায় না। তারপরও সেখানে গিয়ে এখনো সময় কাটাতে খারাপ লাগে না। তবে সেখানে গিয়ে সব সময় যে ভালো লাগে তা কিন্তু নয়। যখন সবাই সবার কাজে বিজি থাকে তখন আমি যেখানে গিয়ে একটি একা ফিল করি। তখন মনে হয় আমি এখানে কি করতে আসলাম এর থেকে বাড়ি থাকলেই তো ভালো হতো। আসলে এরকমই হয় যত বড় হয় সবাই নিজের মতো ব্যস্ত হয়ে যায়। আমার নানা নানি কে আমার বেশ ভালো লাগতো। ওনাদের সাথে সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগতো। যদিও বা নানি বাড়িতে গেলে বেশিরভাগ সময়ই মামা ছেলেদের সাথে কাটাতাম তারপরেও মাঝে মাঝে নানির ঘরে গিয়ে বসে নানির সাথে গল্প করতে খারাপ লাগত না।
তো এবার বলা যাক দাদি বাড়ি নিয়ে। আসলে দাদীবাড়ি বিষয়টা নানি বাড়ির থেকে অনেকটাই আলাদা। কারণ যারা যৌথ পরিবার তারা তো দাদা দাদির সাথেই থাকে তাই তাদের কাছে দাদী বাড়ি বলতে তেমন কিছুই নেই। তবে যারা আলাদা থাকে বছরে একবার দুইবার যাই তাদের কাছে একটু অন্যরকম। কারণ নানী বাড়িতে যেমন মামার ছেলেরা আছে তেমনি দাদি বাড়িতেও চাচার ছেলেরা আছে। চাচাতো ভাইদের সাথে সময় কাটাতে বেশ ভালোই লাগে। তবে এই ক্ষেত্রে আমার বিষয়টা একদম ভিন্ন। কারন আমার জন্মের আগে আমার দাদা দাদি দুজনেই মারা গিয়েছে। আমি ওনাদের কে কখনো দেখিওনি। তাই দাদি বাড়ি বলতে আমি তেমন কিছুই অনুভব করতে পারিনা। আর চাচাতো ভাই বোন যারা আছে তারা সবাই আমার থেকে অনেক বড়। আর ছোটবেলা থেকেই তাদের থেকে দূরে থাকার কারণে খুব একটা তাদের সাথে পরিচয় নেই। তবে দেখা হলে মোটামুটি কথাবার্তা হয় এই যা।
তবে যাই হোক শেষে একটা কথা বলতেই হচ্ছে নানিবাড়ি এবং দাদি বাড়িতে সময় কাটাতে ছোটবেলায় প্রায় সবারই ভালো লাগতো। আপনাদের নানি বাড়ি এবং দাদী বাড়িতে সময় কাটাতে কেমন লাগতো অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আর এখন আপনাদের নানিবাড়িতে বা দাদি বাড়িতে গিয়ে সময় কাটাতে কেমন লাগে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। তবে আমার কাছে মনে হয় ছোটবেলায় সবাই এই জায়গাগুলোতে যেতে একটা কারণেই ভালোবাসতো সেটা হচ্ছে সবাই একসাথে থাকত তার জন্য। কিন্তু আস্তে আস্তে যত বড় হতে থাকে তত সব পরিবারগুলো আলাদা হতে থাকে সবাই যে যার মত শহরে বা কেউ অন্য জায়গায় চলে যায়। তাই আর সেখানে যেতে ইচ্ছা করে না। আর সেখানে গেলেও খুব বেশিক্ষণ থাকতে ইচ্ছে করে না। তবে কোনো উৎসবে যদি আমরা সবাই এক জায়গায় হয় তাহলে বেশ ভালো লাগা কাজ করে।
তো প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাই বোন বন্ধুরা, এই ছিল আমার আজকের পোস্ট। আমার আজকের লেখাগুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। তো আজকের মত এটুকুই। আবারো খুব শীঘ্রই নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে ইনশা-আল্লাহ। ততক্ষণ সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন নিজের খেয়াল রাখবেন।
যাই বলেন ভাই নানী বাড়ি আর দাদি বাড়িতে বেড়ানোর মজাই আলাদা। সবাই মিলে আডডা বাজির মজা তো আর বলে শেষ করা যায় না। তবে এখন আর আগের সেই মজাটা নেই এখন সবাই সবাই কে নিয়ে ব্যস্ত। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সেই ছেলেবেলার সময়গুলো।
হ্যাঁ ছোটবেলার সাথে সাথে এই সব মজা গুলোর শেষ হয়ে যায়।
ছোটবেলার মধুর স্মৃতি কখনো ভুলার মতো নয়। আমি তো ছোট বেলায় অনেক বছর নানু বাড়ি ছিলাম। অবশ্য এখন আমার নানা নানু কেউ বেঁচে নেই তবে সেই স্মৃতি গুলো এখনো মনে পড়ে। আমার মনে হয় ছোট বেলায় দাদা বাড়ি থেকে সবার কাছে নানা বাড়ি বেশি ভালো লাগে। যাই হোক খুব সুন্দর পোস্ট শেয়ার করেছেন পড়ে ভালো লেগেছে। তবে আপনার পোস্টে ছোটখাটো কিছু ভুল রয়েছে। ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপু আপনাকে আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার জন্য।
এমনও মধুর স্মৃতি জীবনে রয়ে যায় যা সহজে ভোলা যায় না। আমার জীবনে এমন অনেক স্মৃতি রয়েছে যেগুলো সহজে মন থেকে মুছতে পারি না। কারণ কেউ কোন কিছু গল্প করলে বা শুনলে ভেসে ওঠে মনের মধ্যে আমার সেই স্মৃতিগুলো। হোক সেটা নানীর বাড়ি অথবা দাদির বাড়িতে। তাই আপনার পোস্টটি আমার খুবই ভালো লেগেছে।
ঠিক বলেছেন ভাই কিছু কিছু স্মৃতি রয়েছে যেগুলো ভোলা যায় না।