রহস্যজনক এক মৃত্যুর দ্বিতীয় এবং শেষ পর্ব
আজ - ০৯ বৈশাখ| ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | শনিবার | বসন্তকাল |
আসসালামু ওয়ালাইকুম,আমি জীবন মাহমুদ, আমার ইউজার নাম @jibon47। বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
- প্রিয় কমিউনিটি,আমার বাংলা ব্লগ
- রহস্যজনক মৃত্যু
- আজ ০৯ম বৈশাখ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
- শনিবার
তো চলুন শুরু করা যাক...!
শুভ দুপুর সবাইকে......!!
এইতো গত কয়েকদিন আগে আমি আপনাদের মাঝে রহস্যজনক এক মৃত্যুর প্রথম পর্ব শেয়ার করেছিলাম। প্রথম পর্বেই আমি আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম যে আমাদের বাসা থেকে একটু দূরে একটি মেয়ে কোনরকম কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। আর যখন সেই মেয়েটা গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে তখন আমি কুষ্টিয়া পলিটেকনিকে লেখাপড়া করতাম যার কারণে বাসায় থাকা হতো না। আমি যখন বাসায় থাকতাম তখন সেই মেয়েটাকে আমি দেখেছিলাম খুবই ছোট কিন্তু হঠাৎ করেই মেয়েটা বড় হয়ে গিয়েছিল তবে বড় হবার পরে আর কখনোই তাকে সে রকম ভাবে দেখিনি। যখন কুষ্টিয়া থেকে বাসায় যেতাম তখন লোকের মুখে শুনতাম যে অমুক জায়গাতে ওই মেয়েটা খুবই ভদ্র মূলত এই মেয়েটার প্রশংসা আমি কয়েকজনের কাছে শুনেছিলাম তবে জানতাম না যে এটাই সেই মেয়ে যাকে আমি ছোটবেলায় দেখেছিলাম।আসলে মানুষ কখন কি করে বসে সেটা বলে বোঝানো সম্ভব নয় মানুষের মনের মধ্যে কখন কি চলে সেটা সেই মানুষটা ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি আর বুঝতে পারে না।
সেই মেয়েটা কেনই বা মৃত্যুবরণ করল কেনই বা নিজেই নিজের মৃত্যুর কারণ হলো সেটা এখন পর্যন্ত অজানা যদিও লোকে মুখে অনেক মিথ্যে গুজব শুনেছি তবে পরবর্তীতে অনেক খোঁজখবর নেওয়ার পরে জানতে পেরেছি পুরোটাই মিথ্যা। একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখবেন যে বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে এই বিষয়টা অনেক বেশি পরিলক্ষিত করা যায় সেটা হচ্ছে যে, কোন মেয়ে যদি কোন কুকর্ম করে অথবা কোন কারণ ছাড়াই কোন মেয়ের মৃত্যু হয় তাহলে আশেপাশের মানুষগুলো সেই মেয়েটাকে নিয়ে অনেক রকম আজেবাজে চিন্তাভাবনা করে। তাকে নিয়ে সবার আগে এটাই চিন্তা ভাবনা করে যে হয়তো বা কারো সঙ্গে প্রেম ভালোবাসা করেছিল হয়তোবা তার সঙ্গে কোন একটা খারাপ কিছু হয়েছে পরবর্তীতে হয়তো বা সেই ছেলে মেনে নেয়নি যার কারণে আত্মহত্যা করেছে।
তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই বিষয়টা পুরোই মিথ্যে, কোন কিছু সম্পূর্ণরূপে না জেনে তার উপর মিথ্যা দোষারোপ করাটা আমার মোটেও পছন্দ নয় এবং মানুষেরা কেন করে সেটা আমার বোধগম্য নয়। যদিও এই মেয়েটার ক্ষেত্রেও এরকম অনেক গুজব শুনেছি। তবে পরবর্তীতে জানা গিয়েছে যে এই গুজব রটিয়েছে সেও কোনো না কোনো কারো কাছ থেকে এরকম কথা শুনেছে যে কথার কোন ভিত্তি নেই।
সমাজের বুকে এরকম অনেক মানুষ আছে যাদের কথার কোন ভিত্তি নেই তারা কোন কিছু জেনেছে সেই বিষয়টাই মানুষের সামনে গিয়ে রটিয়ে বেড়ায়, কিন্তু কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যে সেটা কখনোই জানার চেষ্টা করে না।
যাইহোক রাত্রেবেলা সেই মেয়ের মৃত্যুর কথা শুনে নিজের কাছে অনেক বেশি খারাপ লাগছিল, প্রথমে ভেবেছিলাম বাসায় আসব না কিন্তু আমার আব্বু ফোন দিয়ে বলল যে বাসায় এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করে যা প্লাস মেয়েটা মারা গিয়েছে তাকেও দেখে যা। আপুর কথা শুনে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে বাসায় চলে আসলাম সেদিন আকাশে প্রচন্ড মেঘ ছিল মাঝে মাঝেই বৃষ্টি হচ্ছিল আবার হঠাৎ করেই বৃষ্টি গায়েব হয়ে যাচ্ছিল। অনেকটা বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে ভিজতেই বাসায় এসে হাজির হলাম দুপুর ১ টায়। এদিকে বাসায় এসে পৌঁছানোর সাথে সাথে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই বৃষ্টির জন্য আর কোনোভাবেই থামছে না। ততক্ষণে আমি ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে রুমের মধ্যে শুয়ে আছি কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম বুঝতেই পারিনি।হঠাৎ ঘুম ভাঙতেই দেখি যে বৃষ্টি শেষ হয়ে গিয়েছে হাঁটতে হাঁটতে সেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম আমাদের বাসা থেকে অনেকটা দূরেই পাঁচ থেকে সাত মিনিট হেঁটে যেতে হয়।
এরপরে হাটতে হাঁটতে সেই বাসায় গিয়ে পৌঁছায় গিয়ে শুরুতেই দেখি অনেকেই বসে বসে কান্নাকাটি করছে। বিশেষ করে তার বাবার কান্না দেখে আমি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি দুচোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছিল। মেয়ের মৃত্যুতে তার বাবা কতটা গভীর আহত হয়েছে কতটা ক্ষত হৃদয় জমেছে সেটা বোঝা যাচ্ছিল। চারিদিকে যেন শোকে কাতর হয়ে পড়েছে সবাই শুধু কান্না আর রাহাজানি কিন্তু গিয়ে কিছুতেই বুঝতে পারলাম না যে কেনই বা মৃত্যুবরণ করেছে। খুব ইচ্ছে ছিল সেই মেয়েটাকে দেখার কিন্তু পরবর্তীতে আর নিজের তেমন একটা ইচ্ছে হয়নি নিজ থেকেই আর দেখার প্রয়োজন বোধ মনে করিনি।
একটা মেয়ে যে কিনা দশম শ্রেণীর ছাত্রী সে নিজেই নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী সে নিজেই নিজের মৃত্যু ঘটিয়েছে এর থেকে খারাপ কাজ আর এই পৃথিবীতে কি হতে পারে। মেয়েটার জন্য খুবই খারাপ লাগছিল সেই সাথে রাগও হচ্ছিল কেনই বাসে এরকম কাজ করলে। একটা সময় সেই বাড়িতে ছিলাম ওই বাড়ির অনেকের সঙ্গেই আমার অনেক ভালো একটা সম্পর্ক ছিল যার কারণে সেখানে অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম যার প্রতিটা মুহূর্তই আমার কাছে অনেক বেশি কষ্ট ছিল।
খুব ইচ্ছে ছিল মেয়েটার দাফন কাফন থেকে শুরু করে একদম মাটি দেওয়া অব্দি তার পরিবারের সঙ্গে থাকার। কিন্তু হঠাৎ আমার ফোনে একটা মেসেজ চলে আসলো যে মেসেজটার কারণে আমি আর তার দাফন কা ফোন থেকে শুরু করে মাটি দেওয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। কারণ হচ্ছে আমার তখন সপ্তম পর্বের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা চলছিল কিন্তু এই প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা কবে নাগাদ শুরু হবে সেটা তখন পর্যন্ত আমরা কেউই জানতাম না। আমি মেসে বসে বসে অ্যাসাইনমেন্ট করাই অনেক বেশি ব্যস্ত ছিলাম যার কারণে বাসায় তেমন একটা আসা হতো না। মেসেজে লেখা ছিল যে আগামীকাল সকাল ৯ টা থেকেই আমাদের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা শুরু হবে তাই আমি আর সেখানে দেরি না করে খুব দ্রুতই কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলাম। যদিও মনটা অনেক বেশি খারাপ ছিল মোটেও যেতে মন চাইছিল না কুষ্টিয়াতে অনেকটা নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলাম।
পরবর্তীতে অনেকের কাছ থেকেই অনেক রকম অনেক কথা শুনেছি মেয়েটার মৃত্যুর কারণ হবার। কেউ কেউ বলছে যে তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল কিন্তু চাচাতো ভাই যখন তাকে বিয়ে করতে চাইনি সেই রাগে ক্ষোপে এসে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে এ ব্যাপারটা আমার কাছে একদমই ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছিল মানুষ অনেকেই অনেক রকম কথা ছড়িয়েছে যেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আসলে এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায়নি যে সেই মেয়েটা কেন মৃত্যুবরণ করেছে কি কারণ-ই বা ছিল তার এরকম মৃত্যুর। মৃত্যুটা এখন পর্যন্ত রহস্যজনক যেহেতু তার মৃত্যুর কারণটা এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে কেউ তদন্ত করতে পারেনি তাই আমার কাছে মনে হয় এই মৃত্যুটা একদমই রহস্যময়।
এটাই ছিল আমার আজকের সংক্ষিপ্ত পোস্ট আশা করছি আমার এই পোস্ট আপনাদের খুবই ভালো লেগেছে। আজ আর নয় এখানেই শেষ করছি। সকলেই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন এবং আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি পরিবারের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ সকলকে....!!
আমার পোষ্ট দেখার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্ট খুবই ভালো লেগেছে। আমার এই পোস্ট পরে সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করবেন বলে আশা রাখি। আপনার সুন্দর মন্তব্যই আমার কাজ করার অনুপ্রেরণা
| বিভাগ | ছোটগল্প |
|---|---|
| বিষয় | রহস্যজনক এক মৃত্যু,শেষ পর্ব |
| পোস্ট এর কারিগর | @jibon47 |
| অবস্থান | [সংযুক্তি]source |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
প্রথম পর্ব পড়া হয়নি কিন্তু দ্বিতীয় আর শেষ পর্ব পড়ে মেয়েটির জন্যই অনেক খারাপ লেগেছে। মানুষ কিছু হলেই কেন এই পথ বেছে বুঝি না। তারা কেন অন্য ভাবে এর সমাধান করতে পারেনা না তাও বুঝিনা। তবে এটা ঠিক যে এই পরিস্থিতিতে পড়ে সেই বুঝে তখন তার মনের অবস্থা কেমন থাকে। আমরা সবাই জানি আত্মহত্যা মহাপাপ কিন্তু যখন আমরা বিপদে পড়ি তখন এই কথা ভুলে গিয়ে সেই খারাপ রাস্তা বেছে নেই। যদি কখনো সম্ভব হতো তাহলে আমি তাদের কাছ থেকে জানতে চাইতাম তারা কেন আত্মহত্যার মতো খারাপ পথ বেছে নেয়। যাই হোক আপনার পোস্ট পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
যদিও আত্মহত্যা করা অনেক মহাপাপ তবে মানুষ কোন কোন সময়ে এই মহাপাপের কাজটা করে ফেলে। হয়তোবা এটা বয়সের দোষ অথবা বুদ্ধিমত্তা অনেক কম থাকায় এমন কাজ করে থাকে যেটা খুবই দুঃখজনক। আমার এই পোস্ট পড়ে আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।