"পিতা বনাম পূত্রগং"পর্বঃ-২৪//নাটক রিভিউ
আজ - ২৬ চৈত্র| ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | রবিবার | বসন্তকাল |
আসসালামু ওয়ালাইকুম,আমি জীবন মাহমুদ, আমার ইউজার নাম @jibon47। বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
- প্রিয় কমিউনিটি,আমার বাংলা ব্লগ
- নাটক রিভিউ (পিতা বনাম পূত্রগং--২৪)
- আজ ২৬শ চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
- রবিবার
তো চলুন শুরু করা যাক...!
শুভ দুপুর সবাইকে......!!
ছবিঃ- ইউটিউব থেকে স্কিনশট নেওয়া।
নাটকের কিছু তথ্য
| নাম | পিতা বনাম পূত্রগং । |
|---|---|
| পরিচালনা | সকাল আহমেদ। |
| প্রযোজক | কাজী রিটন |
| রচনা | বৃন্দাবন দাশ |
| গল্প | রমজান আলী |
| আবহ সংগীত | অধ্যায়ন ধাড়া (কলকাতা)মেহেদি হাসান তামজিদ |
| চিত্রনাট্য | শামসুল আলম লেলিন। |
| অভিনয়ে | মাসুম বাসার,আজিজুল হক,নাদিয়া আহমেদ,শাহনাজ খুশি,প্রাণ রায়,আরফান আহম্মেদ,মৌসুমি হামিদ,শিরিন আলম,ইকবাল হোসেন,আশরাফুল আর্শিষ,শেলি আহসান,সৌম,সেতু,তৌহিদুল ইসলাম তায়েব এবং চঞ্চল চৌধুরী,সহ আরও অনেকে । |
| দৈর্ঘ্য | ১৯ মিনিট ৪৮সেকেন্ড |
| পরিবেশনায় | Maasranga TV Official |
| মুক্তির তারিখ | ০৪লা সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং |
| ধরন | সামাজিক,বাংলা ড্রামা সিরিয়াল |
| পর্ব | ২৪ |
| ভাষা | বাংলা। |
| দেশ | বাংলাদেশ |
নাটকের সংক্ষিপ্ত কাহিনীঃ-
পিতা বনাম পুত্রগং নাটকের ২৪ পর্বের রিভিউ এর প্রথম অংশে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বাসার সাহেবের ছেলেরা আসলে তার বিয়ে নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত। কেনই বা চিন্তিত হবে না কারণ তার বাবা যে বুড়ো বয়সে বিয়ে করেছে একজন যুবতী মেয়েকে যে কিনা তার মেয়ের বয়সী। এদিকে বাসার সাহেবের ছেলেরা মনের দুঃখে কষ্টে কেউ কেউ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা এ বাড়িতে আর থাকবে না। তার মেজো ছেলে তো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে যে সে বাসা থেকে চলে যাবে কারণ সে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না যে তার বাবা এ বয়সে এসে দ্বিতীয় বিয়ে করবে। এ পর্বে এসে জানতে পারলাম যে বাসার সাহেবের শুধুমাত্র পাঁচটা ছেলে সন্তানই নয় তার আরো মেয়ে আছে। কোনরকম সমস্যার সমাধান না পেয়ে তার ছেলেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা তাদের বোনকে এ কথা জানাবে।
দ্বিতীয় অংশে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, চঞ্চল চৌধুরী তার ফুফুর সঙ্গে কথা বলছেন। মূলত তাদের কথার মূল বিষয়বস্তু ছিল যে যেহেতু চঞ্চল চৌধুরীর ফুফু তার ছোট মাকে কোনভাবেই মেনে নিচ্ছে না, তাই সে তার ফুফুকে বোঝাচ্ছে যে সে যেন তাকে মেনে নেয়। এ নিয়ে তার ফুপুর সঙ্গে কিছুটা সময় কথা কাটি হয়। তবে এ পর্যায়ে এসে লক্ষ্য করলাম যে তার ফুফু হয়তো বা তাকে কখনোই মেনে নেবে না।
এদিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বাসার সাহেব খুবই চিন্তিত তার রুমে বসে রয়েছে। তার চেহারার দিকে চিন্তার ভাঁজ আসলে চিন্তা হবারই কথা এ বয়সে এসে একটা মেয়ে তাকে এরকম ভাবে অপবাদ দিচ্ছে যেটা সে করেনি। এরকম অপবাদ পেলে যে কারোর চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক। এরকম ভাবতে ভাবতে একটা সময় পরে সেখানে মৌসুমী হামিদ এসে হাজির হয়। তাকে দেখে বাসার সাহেব অনেক বেশি রেগে যায়। রেগে যাওয়ার একপর্যায়ে বাসার সাহেব তাকে বলে তুমি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাও কিন্তু মৌসুমী হামিদ এখানে এতটাই শক্তপুক্ত হয়ে বসে রয়েছে যে এখান থেকে বের করার মত কোন ব্যবস্থা আর নেই কারণ এদিকে বাসার সাহেবের ছেলেরা তাকে অলরেডি ছোট মা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে।
যদিও ছোট মা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পিছনে একটা কারণ আছে কারণটা হচ্ছে, তার সন্তানেরা মনে করছে যে তাকে যদি আমরা ছোট মা হিসেবে স্বীকৃতি দেই তাহলে হয়তো বা সে তাদেরকে বিয়ে দিয়ে দেবে। এজন্যই তারা তাকে মা হিসেবে মেনে নিয়েছে।
এদিকে আমি আপনাদের আগেই বলে রেখেছিলাম যে বাসার সাহেবের মেজো ছেলে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না যে তার বাবা এই বয়সে এসে বিয়ে করবে। তাই সে বাসা থেকে বের হয়ে এসেছে সে বাসা থেকে বের হয়ে শাহনাজ খুশির কাছে গিয়ে তার ননদের ব্যাপারে কথা বলছে। যেহেতু শাহনাজ খুশি এর আগে বাসর সাহেবের বড় ছেলের সঙ্গে তার ননদের বিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্তু বাসার সাহেবের বড় ছেলে রাজি না হওয়ায় মেজো ছেলে রাজি হয়েছিল, আর এ ব্যাপারে আপনারা অবগত আছেন। কিন্তু শাহনাজ খুশি মাঝে মাঝে এ ব্যাপারটা নিয়ে একটু অন্যরকম কথা বলছে সে আসলে এখন তারা ননদের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে কিনা এটা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
যেহেতু বাসা সাহেবের ছেলে রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে এসেছে তাই সে ভেবে চিন্তেই রেখেছে যে শাহনাজ খুশির ননদকে বিয়ে করে সেই বাড়িতেই থাকবে। কিন্তু এটা ভেবে সাহানাজ খুশি হয়তবা মেনে নিচ্ছে না। পরবর্তী পর্বে কি হবে সেটাই দেখার বিষয়।
এর পরের অংশ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বাসার সাহেবের ছোট ছেলে হঠাৎ তার প্রেমিকার কাছে গিয়ে অনেক বেশি খুশি খুশি ভাবে কথা বলছে। তোর কথার ভাব দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে অনেক বেশি খুশি যদিও তার খুশি হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তার খুশি হওয়ার কারণ হচ্ছে তার ছোটমাতাকে বলেছে যে তাকে তার প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবে। যখন সে তার প্রেমিকার কাছে গিয়ে এ কথা বলে ঠিক তখনই তার প্রেমিকা মনটা অনেক বেশি খারাপ করে বসে থাকে এরকম দেখে সে একটু রাগান্বিত হয়।
রাগান্বিত হবারই কথা মনে করুন আপনি যখন কাউকে ভালোবাসবেন আর তখন তার কাছে গিয়ে আপনি যখন বিয়ের কথা বলবেন, সে যদি খুশি না হয়ে মন খারাপ করে বসে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি রেগে যাবেন। তার ক্ষেত্রেও হয়তোবা সেটাই ঘটেছে।
এরপরে তার প্রেমিকা তাকে বলে যে তোমার বাসা থেকে আমাদের বিয়ে মেনে নিলেও আমার বাসা থেকে কোনভাবেই মেনে নেবে না। মিনি না নেওয়ার কারণ হচ্ছে তার বাবা বৃদ্ধ বয়সে এসে এক যুবতী মেয়েকে বিয়ে করেছে আর এই কথা সারা এলাকায় রোটে গিয়েছে। এরকম পরিবারের সঙ্গে আমার বিয়ে দেবে না। একথা শুনে তার মনটা অনেক বেশি খারাপ হয়ে যায় সে কান্না করতে থাকে।
আসলে এই বিষয়টা আমার কাছে একদম বাস্তবধর্মী মনে হয়েছে কারণ গ্রামবাংলায় এরকম কোন বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অনেক বিয়ে ভেঙে যায়। যেগুলো আসলেই অনেক তুচ্ছ একটা বিষয় তবে খুবই খারাপ লাগছে যে মেয়েটা বাসার সাহেবের ছোট ছেলের কথা একটুও চিন্তা করল না। যেটা সত্যিই অনেক বেশি দুঃখজনক ছিল।
এটাই ছিল আমার আজকের পিতা বনাম পুত্রগং নাটকের ২৪ পর্বের রিভিউ। আশা করছি এই রিভিউ আপনাদের খুবই ভালো লেগেছে। আজ আর না এখানেই শেষ করছি সকলের সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন এবং আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি পরিবারের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ সকল....!!
শিক্ষণীয় দিক-
পিতা বনাম পুত্রগণ নাটকটি মূলত একদম বাস্তবতা অবলম্বনে নির্মিত করা হয়েছে। অনেক আগে গ্রাম অঞ্চলের লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে পিতা মাতারা তাদের সন্তানদেরকে বিয়ে দিতে মোটেও চাইত না। মূলত তারা বিয়ে দিতে চাইতো না কারণ তারা ভাবতে হয়তো অন্য ঘরের মেয়েরা সংসারে আসলে তারা সংসারটা নষ্ট করে দেবে বা তাদের ছেলেরা তাদেরকে ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু ছেলেদেরকে বিয়ে না দিলে তারা যে কতটা উতোলা হয়ে পড়ে সেটা এই নাটকটা দেখলে বোঝা যায়। নাটকের মধ্যে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বিয়ে করার জন্য বাসার সাহেবের পাঁচ সন্তান খুবই উৎফুল্ল কিন্তু বাসার সাথে তাদেরকে বিয়ে দিচ্ছে না। মূলত এই নাটকের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, সন্তানদেরকে পর্যাপ্ত বয়সে বিয়ে না দিলে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
ব্যক্তিগত মতামত-
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই সকাল আহমেদ স্যারকে এত সুন্দর একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। পিতা বনাম পুত্রবাগ নাটকের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি এবং শিখছি। আমার মনে হয় এটা একটা বাস্তবধর্মী নাটক যেটা কিনা বর্তমান সময়ের সঙ্গেও কিছুটা মিল রয়েছে। বর্তমান সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা কিনা সন্তানদেরকে দিয়ে দেয় না কিন্তু তার সন্তানেরা বাবা মার কাছে বলতেও পারে না যে তারা বিয়ে করবে। এটাই মূলত নাটকের মূল বিষয়বস্তু। আমি মনে করি এই নাটকটি সকল পিতা-মাতার দেখা উচিত এতে করে তারা এই নাটকের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবে।
ব্যক্তিগত রেটিং-
আমার পোষ্ট দেখার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্ট খুবই ভালো লেগেছে। আমার এই পোস্ট পরে সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করবেন বলে আশা রাখি। আপনার সুন্দর মন্তব্যই আমার কাজ করার অনুপ্রেরণা
| বিভাগ | নাটক রিভিউ |
|---|---|
| বিষয় | পিতা বনাম পূত্রগং (২৪ তম পর্ব) |
| রিভিউ এর কারিগর | @jibon47 |
| অবস্থান | [সংযুক্তি]source |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
নাটকটির অনেকগুলো পর্বই আমি আপনার রিভিউতে দেখেছি। আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে নাটকটি। এ ধরনের হাস্যকর নাটক গুলো দেখতে আসলেই অনেক ভালো লাগে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ নাটকের এই পর্ব শেয়ার করার জন্য।
আসলেই নাটকটি অনেক বেশি হাস্য রশিক ধন্যবাদ।
পিতা বনাম পুত্র গং নাটকটির রিভিউ খুবি চমত কারেছেন।নাটকটির মধ্যে শিক্ষনীয় অনেক কিছু আছে।অনেক পরিবারে রয়েছেন এ ধরনের ভাবনা-চিন্তা করে থাকেন ছেলেদের বিবাহ দিলে ছেলেরা পড় হয়ে যাবে ও অন্যর বাড়ির মেয়ে অশান্তি সৃষ্টি করবে। যেখানে ছেলেদের বিরহ বেদনা কিন্তু ছেলেরা উতালা হয়ে থাকে বিবাহের জন্য। সুন্দর একটি নাটক রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
বর্তমান সমাজে এমন অনেক পরিবার আছে যারা ঠিক এমনটাই মনে করে আসলে বাস্তবতা নিয়ে এই নাটকটি নির্মিত করা হয়েছে।