রাস্তায় যানজট (তিক্ত এক অভিজ্ঞতা)
আজ - ৩০ বৈশাখ| ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | শনিবার | গ্রীষ্মকাল |
আসসালামু ওয়ালাইকুম,আমি জীবন মাহমুদ, আমার ইউজার নাম @jibon47। বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
- প্রিয় কমিউনিটি,আমার বাংলা ব্লগ
- রাস্তায় যানজট
- আজ ৩০শ বৈশাখ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
- শনিবার
তো চলুন শুরু করা যাক...!
শুভ রাত্রি সবাইকে......!!
আমরা সকলেই যানজটের সঙ্গে খুবই ভালোভাবে পরিচিত। কারণ রাস্তাঘাটে বের হলে আর কোন সমস্যাই আমাদের পড়তে হোক বা না হোক যানজটের সমস্যায় মাঝে মাঝেই পড়তে হয়। এই যানজটের কারণে আমরা অনেকেই নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। অনেকটা সময় অনেকের সঙ্গে এমনও হয়েছে যে বেশ কিছু সময় হাতে রেখে বাসা থেকে বের হয়েছে যে আনায়াসে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাব কিন্তু বাসা থেকে বের হবার পরে এতটা বেশি যানজটে পড়ে গিয়েছে যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো তো দূরের কথা অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে রাস্তায়। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় বাংলাদেশের ঢাকা শহর অনেকটাই যানজট দিয়ে পরিপূর্ণ। আমার মনে হয় এই ঢাকা শহরের যানজট কখনোই শেষ হবে না এখানে প্রচুর গাড়ি বাস ট্রাক সিএনজি এরকম অনেক যানবাহন রয়েছে যার কারণেই হয়তোবা রাস্তাঘাটে এতটা যানজট দেখা যায়। এটা থেকে পরিত্রাণের উপায় আছে কিনা সেটা আমার এখন পর্যন্ত জানা নেই। তবে আমার এই ছোট্ট বুদ্ধি তেযা বলে সেটা হচ্ছে যে, মানুষ দিনে দিনে নিজেদের চলাফেরা করার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি কিনবে এটাই স্বাভাবিক। অনেকের এরকম ব্যক্তিগত দু একটা গাড়ি থাকার কারণেই আমার মনে হয় যানজট অনেক বেশি।
বর্তমানে ঢাকা শহরে যার একটা বাড়ি আছে ঠিক একই রকম ভাবে বাড়ি থাকার পাশাপাশি সবারই একটা করে গাড়ি আছে। হোক সেই গাড়ি ছোট অথবা বড় তবে এখন ঢাকা শহরে প্রায় সকলেই চার চাকায় ঘোরাঘুরি করতে অনেক বেশি পছন্দ করে। যেহেতু বর্তমান সময়ে সকলের ঘরেই একটা করে গাড়ি রয়েছে যার কারণেই এই যানজটের এরকম বেহাল দশা আর এটা থেকে যাবে চিরদিনের জন্যই কখনোই হয়তোবা এই যানজট থেকে আমরা মুক্তি পাবো না।
যানজটের এই বেহাল দশা অনেকদিন পরে আজ একটু নিজ চোখে পরিলক্ষিত করতে পারলাম। যেটা আমাকে অনেকটাই কষ্ট দিয়েছে এবং নিজের কাছে অনেক বেশি খারাপ লেগেছে। খারাপ লাগার পাশাপাশি খুবই রাগান্বিত হয়েছি বটে। এরকম যানজট দেখলে আমার মনে হয় কারোরই তেমন একটা ভালো লাগে না সকলেই ইতস্তবোধ করবে এটাই স্বাভাবিক।
ঈদের পর থেকে এতদিন পর্যন্ত বাসায় ছিলাম। যেহেতু ঢাকায় তেমন কোন কাজ ছিল না তাই ঢাকায় আসার কোন প্রশ্নই থাকেনা। আর বাসায় থাকার মাঝে কোন রকম ভালোলাগা কাজ করে সবসময়ই এটা হয়তোবা সকলের ক্ষেত্রেই। বাসায় থাকতে ভালো লাগে কিন্তু হয়তোবা কোন কাজ অথবা পারিপার্শ্বিক চারিদিকের পরিবেশের অবস্থা বিবেচনা করে আমাদেরকে হয়তোবা নিজেদের বাসা ছেড়ে অন্যের থেকে চলে যেতে হয় আমার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে। গতকাল বিকেল বেলা ঢাকায় এসে পৌঁছেছি যদিও ঢাকায় আসার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু আজ আমার একটা চাকুরীর পরীক্ষা ছিল যার কারণেই খুব তাড়াতাড়ি করে ঢাকায় চলে এসেছি। গতকাল বিকেল বেলা ঢাকায় আসার পর থেকেই শরীরের মধ্যে তেমন একটা ভালো লাগছিল না কেমন যেন অসহ্য এক যন্ত্রণা অনুভব করছিলাম যেহেতু অনেকদিন বাসায় ছিলাম তাই হয়তোবা এমনটা মনে হয়েছে এটা ভেবেই নিজেকে বুঝ দিয়েছি। ভেবেছিলাম খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বো কিন্তু বাংলাদেশের খেলা থাকার কারণে আর দ্রুত ঘুমাতে পারিনি ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় রাত আড়াইটা বেজে গিয়েছিল। যাইহোক, যেহেতু আজ আমার পরীক্ষা ছিল ঘুম থেকে খুব সকালবেলায় উঠেছিলাম ঘুম থেকে উঠে একটু লেখাপড়া করলাম।
আমার পরীক্ষা ছিল বিকেল তিনটায়। যেহেতু বিকেল তিনটায় পরীক্ষা ছিল তাই আমি যথারীতি দুপুরের আগেই গোসল খাওয়া-দাওয়া শেষ করে নিয়েছিলাম যাতে করে সঠিক সময়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে পারি। আমার যে জায়গাতে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল সেই জায়গার নাম উইল লিটিল স্কুল এন্ড কলেজ। যদিও এর আগে কখনোই আমি সেখানে যায়নি জায়গাটি আমার কাছে একদমই নতুন। যেহেতু নতুন জায়গা তাই আমাকে একটু আগেই যেতে হবে কারণ খোঁজাখুঁজির একটা ব্যাপার আছে। এটা মাথায় রেখে আমি দুপুর সাড়ে বারোটায় বাসা থেকে রওনা দিলাম পরীক্ষার হলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। যাওয়ার আগে আমি গুগল ম্যাপ থেকে সবকিছু দেখে নিলাম কিভাবে যেতে হবে।
আমি প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা আগে বাসা থেকে রওনা দিয়েছিলাম পরীক্ষার হলে যাওয়ার জন্য। বর্তমানে আমি ঢাকায় মিরপুরের শেওড়াপাড়া তে অবস্থান করছে। আমি শেওড়াপাড়া বাস স্টপ থেকে উঠলাম কাকরাইল বাসস্টপে যাবার উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে শুরু হল বিশাল এক যানজট একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে রয়েছে সামনে আগানোর কোন অবস্থা নেই। সেই সময়টাতে একই যে খারাপ লাগছিল বলে হয়তো বোঝাতে পারবো না।
কতটা সময় যে সেখানে দাঁড়িয়েছিলাম হিসেব রাখেনি হবে হয়তোবা আধাঘন্টা থেকে ৪৫ মিনিট। এখন আপনারাই বিচার করুন যে একটা জায়গাতে যদি এরকম আধাঘন্টা থেকে ৪৫ মিনিট গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে সামনে যদি অগ্রসর না হয় তাহলে নিজের কাছে কতটা খারাপ লাগে। সব থেকে বেশি খারাপ লেগেছে সেই সময়টাতে যখন চারিদিকে গাড়ির শব্দের সাথে সাথে প্রচন্ড গরম। শরীর পোড়া ঘেমে গিয়েছে শার্ট ভিজে গিয়েছে শরীরের প্রতিটি লোমকূপ দিয়ে পানি পড়ছে। কিন্তু সেই সময়টাতে আমি বড্ড অসহায় ছিলাম আমার কিছুই করার ছিল না। না আমি গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে সেখানে যেতে পারতাম না আমি কাউকে উচ্চস্বরে কথা বলে সেখান থেকে গাড়ির যানজট কমিয়ে দিতে পারতাম। এখানে আমি সত্যিই একজন অসহায় ব্যক্তি যার কোন ক্ষমতা নেই, এটাই বর্তমান ঢাকা শহরের অবস্থা। যে অবস্থার জন্য আমরা সকলেই দায়ী শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি কখনোই এই দায়ভার নেবে না।
এরপরে আমি প্রায় পাঁচ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে পৌঁছাই। পরীক্ষা মোটামুটি আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে যদিও তেমন কোন প্রস্তুতি ছিল না, এই প্রথমবার কোন পরীক্ষা দিলাম যে পরীক্ষার আগে কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করিনি শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য পরীক্ষাটা দেওয়া। পরীক্ষা শেষ করে ভেবেছিলাম হয়তোবা খুব শীঘ্রই বাসায় পৌঁছে যেতে পারবো যেহেতু অনেকটাই বিকেল হয়ে গিয়েছে আর বিকেলবেলা হয়তোবা তেমন একটা যানজট থাকবে না রাস্তাঘাটে। কিন্তু আফসোস আমার এই চিন্তা-ভাবনা একদমই ভুল প্রমাণিত হলো। বাসায় আসার উদ্দেশ্যে যখন গাড়িতে উঠলাম তখন প্রথম কয়েক মিনিট গাড়ি খুব জোরে যাচ্ছিল নিজের কাছে খুবই ভালো লাগছিল,ভেবেছিলাম হয়তোবা তেমন একটা যানজট পাবেনা। কিন্তু আফসোস আবার সেই যানজট...!!
আমি আবারও অসহায়ের মত গাড়ির মধ্যে বসে থাকলাম। এবার সিট পেয়েছিলাম একদমই শেষে যার কারণে মাঝে মাঝে প্রচুর ঝাকি লাগছিল তার ওপরে প্রচন্ড গরম সবমিলিয়ে খুবই তিক্ত একটা দিন অতিবাহিত করেছি পুরোটা সময়। নিজেকে মাঝে মাঝে অনেক বেশি অসহায় মনে হয়েছে আবার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে বোকা আবার মাঝে মাঝে চারিপাশের মানুষের প্রতি প্রচুর ঘৃণা রাগের সৃষ্টি হয়েছে। এরপরে আমি রাত্রি সাড়ে আটটায় বাসায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে যেখানে বাসায় পৌঁছানোর কথা ছিল আমার বিকেল পাঁচটায় অথবা সাড়ে পাঁচটায়। এবার তাহলে আপনারাই ভাবুন ঢাকা শহর কতটা যানজট পরিপূর্ণ। হয়তোবা নিজেদেরকে এভাবেই মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে তবে মানিয়ে নিতে নিতে আজ অনেকেই হয়তো বা বড্ড বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এই ক্লান্তির শেষ কোথায়...?? হয়তোবা এই ক্লান্তির শেষ কোথায় এটা কেউ জানে না।
এটাই ছিল আমার আজকের তিক্ত এক অভিজ্ঞতা। হয়তোবা অনেকেই এরকম তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে গিয়েছেন। আশা করছি আমার আজকের এই পোস্ট আপনাদের খুবই ভালো লেগেছে। আজ আর নয় এখানেই শেষ করছি, সকলেই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন এবং আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি পরিবারের সঙ্গে থাকুন। ধন্যবাদ সকলকে.....!!!
আমার পোষ্ট দেখার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্ট খুবই ভালো লেগেছে। আমার এই পোস্ট পরে সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করবেন বলে আশা রাখি। আপনার সুন্দর মন্তব্যই আমার কাজ করার অনুপ্রেরণা
| বিভাগ | সাধারণ লেখালেখি |
|---|---|
| বিষয় | রাস্তায় যানজট |
| পোস্ট এর কারিগর | @jibon47 |
| অবস্থান | [সংযুক্তি]source |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
টুইটার লিংক:--
https://twitter.com/jibon472?t=qXGpZ4B-aNGW3U06U8ipag&s=09
এই জন্যই তো ঢাকা শহরকে যানজটের শহর বলা হয়ে থাকে। আপনি খুবই ভালো কাজ করেছিলেন যে পরীক্ষার থেকেও অনেক আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। ঢাকা শহরের রাস্তাতে বের হলেই যেন তিন-চার ঘন্টা হারিয়ে যায় বুঝতেই পারা যায় না।
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন রাস্তায় যানজট নিয়ে একটি পোস্ট। আমি মনে করি বাংলাদেশের সব থেকে বেশি যানজট হয় ঢাকা শহরে। আপনি খুব ভালো কাজ করেছিলেন ভাই বাড়ি থেকে পরীক্ষার অনেক আগে বের হয়ে। ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
ঢাকা শহরে বসবাস করতে হলে যানজট কে সঙ্গী করেই বসবাস করতে হয়। আর কোন কাজের উদ্দেশ্যে বের হতে হলে একটু হাতে সময় নিয়ে বের হতে হয়। বিশেষ করে পরীক্ষার হলে যেতে হলে তো অনেক বেশি সময় নিয়ে বের হতে হয়। তারপরও তো মানুষ ঢাকাতে বসবাস করে। মানুষের তিল পরিমাণ জায়গা নেই তারপরও মানুষের ভিড় লেগেই আছে।
আর বললেন না ভাই রাস্তার যানজটের কথা। আজকে কোন ভিআইপি আসবে তার জন্য প্রায় এক ঘন্টা জ্যামের মধ্যে বসে ছিলাম। ঢাকা শহরে কি যে এক অসহ্য জ্যাম। এই যে জ্যাম কি আসলে লাগে না লাগায়। আসলে ঢাকা শহরে যেমন বেড়েছে মানুষ কেমন বেড়েছে গাড়ি তেমন বেড়েছে বাড়ি।।তাহলে তো জ্যাম পড়বে। হি হি
ঢাকা আমার কাছে নোংরা একটা শহর লাগে রে ভাই। কিন্তু কিছু করার নাই। প্রয়োজনের তাগিদে সেখানেই ছুটতে হয় বার বার। আর এই যানজট থেকে আমার মনে হয় না ঢাকা কখনো উদ্ধার পাবে। ভালো যে পৌঁছাতে পারছিলেন । একবার আমার বন্ধু তো মাঝ রাস্তা থেকে ঘুরে চলে আসছিল। শেষমেষ পরীক্ষাই দেওয়া হয় নি। ভাবেন অবস্থা টা।