কেমন আছেন আপনারা? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবেসে উপস্থিত হলাম সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য। পোস্টের টাইটেল পড়ে বুঝতে পারছেন আজকে আমি কি বিষয়ে আপনাদের মাঝে পোস্ট উপস্থাপন করতে চলেছি। আপনার ঠিক আইডিয়া করছেন। পুকুর পাড়ে কিছুটা মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলাম ঠিক এমনই একটি সময়ের ফটোগ্রাফি শেয়ার করতে চলেছি। আশা করি আমার এই শাক সবজির ফটোগ্রাফি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে।
এখানে আপনারা যে সবজিটা লক্ষ্য করছেন তা হচ্ছে পুকুরপাড়ের ঝিঙে। প্রথমত ঝিঙে গাছের সুন্দর ফটো ধারণ করার চেষ্টা করেছিলাম। এবার আমাদের পুকুর পাড়ে অনেক ঝিঙে হয়েছিল। তাই মাঝেমধ্যে পুকুরপাড়ের সবজি উত্তোলনের জন্য উপস্থিত হতাম, আর এই গাছ থেকে অনেক অনেক সবজি উঠাতাম। পাশাপাশি ফটো ধারণ করার চেষ্টা করতাম। তবে বেশ খারাপ লাগতো পুকুরপাড়ে বড় বড় ইদুর এসে ঝিঙে নষ্ট করে দিয়ে যেত দেখে। ফটো ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন জায়গায় জায়গায় কিছু ঝিঙে রয়েছে ইঁদুরে কামড়ানো। মাঝে মাঝে সবজি উঠাতে গেলে দেখতাম সম্পূর্ণ গাছে যত ধরেছে, সবই ইদুর এমন করে নষ্ট করে গেছে। এমন অবস্থা দেখে বেশ খারাপ লাগবে। তবুও তার মধ্য থেকে যথেষ্ট সবজি উত্তোলন করে আনতাম।




এদিকে আপনারা লক্ষ্য করে দেখতে পাচ্ছেন এগুলো আমাদের পুকুর পাড়ে ঢেঁড়সের ফটোগ্রাফি। আমাদের পুকুর পাড়ে অন্যান্য শাকসবজির পাশাপাশি বেশ ঢেঁড়স বা ভেন্ডি লাগানো হতো। আমার কিন্তু খুবই ভালো লাগে এই সবজিটা। কারণ মাছের সাথে রান্না করে খেতে যেমন ভালো লাগে, শুধু শুধু ছেনা করে খেতে আরো ভালো লাগে। জানিনা আপনারা কখনো ছেনা করে খেয়েছেন কিনা। তবে আপনারা চাইলে নরম নরম ভেন্ডি গুলো ছানা করে খেয়ে দেখতে পারেন। এটা কিন্তু খাওয়ার প্রতি বেশ রুচি সৃষ্টি হয়।


এখন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমাদের পুকুরপাড়ের পুয়ের শাক। পুঁই শাক আমি খুবই পছন্দ করি। কারণ এর ডাটা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শুরু করে অনেক সমস্যার সমাধান করে ফেলে এক নিমিষে। তাই প্রত্যেক সপ্তাহে অত্যন্ত দুই দিন করে যদি এই শাক খাওয়া যায় বা ডাটা খাওয়া যায় এতে কিন্তু শরীরের খুব উপকার হয়। আমি তো খুবই পছন্দ করি বিভিন্ন ভাবে রান্নার চেষ্টা করি এই শাক পুকুর থেকে উত্তোলন করে এনে। আর সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে এটা যে টাটকা তুলে এনেই রান্না। আর বেশি ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে পুকুরপাড়ে একদিকে মাছ বরশি দিয়ে ধরতে গেলে পাশাপাশি সবজি উঠিয়ে আনা হয়।



এবার দেখতে পাচ্ছেন পুকুরপাড়ের লাউয়ের ফটোগ্রাফি। যখন পুকুর পাড়ে লাউ ধরে ঠিক এভাবেই অনেক অনেক ধরতে থাকে। পাশাপাশি এমন জোড়া লাউ দেখতে খুবই ভালো লাগে। তাই কোন এক মুহূর্তে সবজি উত্তোলনের সময় এই ফটো ধারণ করেছিলাম। আমরা যেমন ফুলের বাগানে যেয়ে ফুলের মাঝে কিছুটা সময় থাকতে ভালবাসি, ঠিক তেমনি আমাদের পুকুর পাড়ার সবজি বাগান। পুকুর পাড়ের সবজি বাগানের মধ্যে উপস্থিত হয়ে প্রথমত সবজি উত্তোলন করতে মন বলে না, শুধু মন চায় ফটো ধারণ করতে বা এর ভেতরে কিছুটা সময় ঘুরে বেড়াতে। যেন অন্যরকম এক পরিবেশের মধ্যে চলে আসে সারা দিনের ক্লান্তি শেষে। তাই ঘুরে বেড়ানোর মুহূর্তে ফটো ধারণ করতে ভালো লাগে, পরবর্তীতে সবজি উঠানোর কাজ শুরু করি।

হয়তো কলা দেখেই বুঝতে পারছেন এগুলো রান্না করে খাওয়া করা। আমাদের পুকুর পাড়ে কিন্তু অনেক কলা গাছ রয়েছে। তাই বলতে গেলে সারা বছর সব সময় কম বেশি রান্না করে খাওয়া কলা পাওয়া যায়। আর বুঝতে পারছেন মাছ ধরলে এখান থেকে কলা নিয়ে যাওয়া হয়। কলা ছাড়া যেন মাছের রেসিপি জমে না।

এ মুহূর্তে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন পুকুরপাড়ের বেগুন। তবে দুঃখজনক বিষয় হলেও সত্য অনেক অনেক ধরে পোকা কম লাগে কিন্তু ইঁদুরে খেয়ে যায়। সবকিছুর সাথে পেরত দেওয়া যায় কিন্তু ইদুরের সাথে পারা যায় না। দেখা যাচ্ছে পুকুর পাড়ে অবস্থান করছি সবজি গাছে আশেপাশে,তখনই ইঁদুর এসে কাঁটা শুরু করে দেয়। তবে যাই হোক তার মধ্য থেকেও কিন্তু বেশ অনেক এই সবজি হয়ে থাকে।

ধন্যবাদ সকলকে
আমার পরিচয়
আমার নাম মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশী। আমার বাসা গাংনী মেহেরপুর, বাংলাদেশ। আমি আপনাদের সুপ্রিয় বিদ্যুৎ জিরো ওয়ান এর পরিবার। আমি একজন গৃহিণী। স্বামী সন্তান সহ আমাদের যৌথ পরিবার। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির চারজন সদস্য রয়েছে আমাদের পরিবারে, তার মধ্যে আমি একজন। এইচএসসি পাশ করার পর বিয়ে হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার লেখাপড়া স্থগিত হয়। আমার ইচ্ছে আমি এই কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ব্লগ করব। পাশাপাশি আমার নিকটস্থ প্রিয়জনদের সহায়তা করব এই কমিউনিটিতে কাজ করার জন্য।


খুব সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছেন। এর আগে একটি পোস্টে আপনি কি কি সবজি হয়েছে সেগুলো দেখিয়ে ছিলেন। আজকে সবজির ফটোগ্রাফি গুলো দেখালেন। বেশ অনেক রকমেরই তো দেখছি সবজি হয়েছে। খুব সুন্দর ভাবে কথাগুলো উপস্থাপনা করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার পোস্ট দেখার কোন অসংখ্য ধন্যবাদ
ভাইয়ার পোস্টগুলো এর আগে আমি দেখেছিলাম আপনাদের পুকুরপাড়ে অনেক সুন্দর সবজির বাগান তৈরি করেছে তারা দুজনে। আসলে তারা দুজনেই অনেক পরিশ্রমী যার কারণে এত সুন্দর সবজি বাগান তৈরি করতে পেরেছে। একদিন খাওয়ার জন্য দাওয়াত দিয়েন খেয়ে আসব আপনাদের পুকুরের সবজিগুলো।
আচ্ছা এবার হলে পারে অবশ্যই বলব
আপনি আজকে চমৎকার কিছু সবজির ফটোগ্রাফি করেছেন। প্রতিটা ফটোগ্ৰাফি আমার কাছে ভালো লেগেছে। তবে ঢেঁড়স ভাজি করে খেতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। পুকুরের পারে সবজি চাষ গ্ৰাম অঞ্চলে এগুলো বেশী দেখা যায়। যাই হোক ধন্যবাদ ফটোগ্রাফি গুলো সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য জন্য।
আমারও প্রচন্ড ভালো লাগে।
আজ আপনি আপনার পুকুর পাড়ের বেশ কিছু সবজির ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার পুকুরপাড়ের সবজির ফটোগ্রাফি গুলো ছিল বেশ চমৎকার। আপনি দেখছি পুকুরপাড়ের পাশ দিয়ে অনেক সবজি লাগিয়েছেন। আমার কাছে নিজের হাতে সবজি লাগানো এবং সেই সবজি গাছ থেকে উঠিয়ে রান্না করে খেতে খুব ভালো লাগে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর সবজির ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আমাদের পুকুরপাড়ের বাগানে অনেক সবজি লাগানো হয়
বাহ পুকুর পাড়ে এত শাকসবজি,আপনাদের তো বাজার থেকে সবজি কেনা লাগে না। নিজের চাষ করা সবজি খেতে পারলে অনেক ভালো। এখানে দেখলাম একটি ঝিঙে ইঁদুরে কামড়ানো। পুকুর পাড়ে আবার ইঁদুর থাকে। পুই শাক গুলো বেশ তরতাজা। ধন্যবাদ।
বাজার থেকে শুধু আলু কিনতে হয়
আপনাদের পুকুরপাড়ে তো অনেক ধরনের তাজা সবজি দেখা যাচ্ছে। আপনি বিভিন্ন ধরনের তাজা সবজির ফটোগ্রাফি করেছেন। আপনাদের পুকুর পাড়ের তাজা সবজি গুলো যদি খেতে পারতাম তাহলে বেশ মজাই লাগতো। তবে আপনার সবগুলো ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে। বেশ চমৎকারভাবে ফটোগ্রাফি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। এই ধরনের ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সারা বছর কমবেশি এগুলো থাকে।
আজকাল বড় বড় ইঁদুরগুলো সব কিছুই নষ্ট করে দেয়। ফল থেকে শুরু করে সবজি সবকিছুই তারা একেবারে নষ্ট করে দেয়। আপু আপনি পুকুর পাড়ে গিয়ে বিভিন্ন রকমের শাক সবজির ফটোগ্রাফি করেছেন আর আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
হ্যাঁ আমাদের খুবই ক্ষতি করে।