কেমন আছেন আপনারা? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবেসে উপস্থিত হলাম সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য। আসলে মানুষের জীবনটা বৈচিত্র্যময়। কখন কোন পরিস্থিতির শিকার হতে হয় কেউ জানে না। হাসি খুশির মুহূর্ত হঠাৎ নিরাশায় পরিণত হয়। ঠিক তেমনি স্মৃতি স্মরণ করব এই পোস্টের ফটোগুলোর পাশাপাশি।

এই মাছ ধরার আনন্দঘন মুহূর্ত আমি আপনাদের মাঝে ইতোমধ্যে শেয়ার করেছি। তবে এখনো বেশ কিছু ফটো রয়ে গেছে আমার মোবাইলের গ্যালারিতে। আজকে আবারো উপস্থিত হয়েছে সেই সুন্দর দিনের স্মৃতি স্মরণ করে। শুধু এক কথাই বলতে চাই,মানুষের জীবনে কখন কোন অবস্থা সৃষ্টি হয় কেউ জানে না। আমাদের এই পুকুরটা চারবার পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। আর যখন সুযোগ পেয়েছি ভালো লাগার মধ্যে ফটো ধারণ করেছে। আর এই ভালোলাগাটা যেন ছিল সীমাহীন। তখন আমাদের পরিবারের সকল সদস্য বাড়িতেই ছিল। বেশ আনন্দের সাথে আমরা উপভোগ করেছি পুকুরে পানি নিষ্কাশন ও মাছ ধরা। তবে বড় দুঃখের বিষয় বেশ অনেকদিন আমরা পরিবারের সকল সদস্য একসাথে নাই। ভাইয়া কত সুন্দর করে মোটর লাইন সেট করে দিয়েছিল। তারা দুই ভাই দেখাশোনা করে পুকুরের পানি নিষ্কাশন করেছিল মোটরের মাধ্যমে। কত হাসি আনন্দই কথা বাত্রা। যেন সেই দিন কোথায় হারিয়ে গেল এখন। দীর্ঘ এক মাস বাড়ির সকল সদস্য একসাথে নয়। ভাইয়া রাজের দাদিকে নিয়ে ঢাকাতে রয়েছেন অসুস্থতার জন্য।

বাড়ির সম্পূর্ণ মানুষ ছিল পাশাপাশি আমার ছোট ভাই বোন এসেছিল মাছ ধরার সময়। যেন বাড়িটা মানুষে মানুষে পূর্ণ ছিল। কিন্তু এরপর এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আম্মা বাড়িতে যেন অন্যরকম খারাপ এক কষ্ট লাগা দিন শুরু হয়ে গেল। আমার ছোট ভাই বোন আমার বাবু যেখানে বসে রয়েছে ঠিক এই জায়গাতেই আমরা সবাই বসে আপনাদের সাথে কাজ করতাম চ্যাটিং কমেন্ট পোষ্ট। আমরা আমাদের কাজ করতে আর পাশাপাশি সময় সুযোগে গরমের মুহূর্তে সবাই এখানে বসে গল্প করতাম। এক কথায় সব সময় কেউ না কেউ এখানে অবস্থান করতো। রাতে ভাইয়া ওখানে বসে কাজ করতো মশারি টাঙিয়ে। এখন জানালা দিয়ে যখনই তাকায় তখনই জায়গাটা শুধু ফাঁকা পড়ে থাকে দেখি। ভাবতেই চোখে জল চলে আসে।

মোটর লাইন সেটাপে মাঝে মাঝে সমস্যা করত, পানি নেমে যেত। কারণ পুকুরের পানি শেষ হয়ে যাওয়ার মুহূর্তটা একটু ঝামেলা হয়। তাই রাজের আব্বু পানির মধ্যে নেমে যায় আর ছোট ভাইয়া উপরে। দুইজন থেকে এভাবেই দেখাশুনা করে কাজ শেষ করত। যে কয়বার পানি জমেছে পুকুরের নিচের অংশে সেই কয়বার এভাবে ছেঁকে দিয়েছে। এদিকে আমি কাজের মাঝখানে সুযোগে সুযোগে তাদের দিকে তাকিয়েছি, এই সেই হুকুমের এগিয়ে গেছি।



পুকুরের পানি সরানো হয়ে গেলে তারা দুই ভাই সহ আমার ছোট ভাই বোন একসাথে মাছ ধরেছিল কত আনন্দ করে। কতটা যে আনন্দঘন মুহূর্ত ছিল তা বলে আপনাদের বোঝাতে পারবো না। এমনিতে আমরা সবাই জানি মাছ ধরা খুবই আনন্দের বিষয়। আর ওই মুহূর্তে সবাই হাসিখুশি মনে মাছ ধরেছিলাম।

পুকুরের সমস্ত মাছগুলোর মধ্যে চ্যাং বা টাকি মাছগুলো ভাইয়ার খুবই প্রিয়। তবে এই সে মাছগুলো এখনো ফ্রিজেই পড়ে আছে ধরে দেখা হয় না। তারা বাড়িতে আসবে আসবে এমন ভাবে চেয়ে থাকতে থাকতে এক মাস পার হয়ে গেল। মাছগুলা সেভাবে ফ্রিজে রয়ে গেছে তাদের আশায়। কত না আনন্দের সাথে পুকুর থেকে ধরেছিলাম। এরপর টিউবয়েলের পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে দিয়েছিল। যে কয়টা দিন পাশে ছিল,রান্না করে দিব কিন্তু দেয়া হয়নি। সত্যি জীবনটা কতই অদ্ভুত! কখন কোন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়, কেউ জানে না। সবাই রাজের দাদির জন্য দোয়া করবেন। আমরা পূর্ব দিনের মতো সবাই যেন সুস্থ-সবল অবস্থায় বাড়িতে হাসিখুশি ভাবে চলতে পারি এবং আপনাদের সাথে কাজ করতে পারি।


ধন্যবাদ সকলকে
আমার পরিচয়
আমার নাম মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশী। আমার বাসা গাংনী মেহেরপুর, বাংলাদেশ। আমি আপনাদের সুপ্রিয় বিদ্যুৎ জিরো ওয়ান এর পরিবার। আমি একজন গৃহিণী। স্বামী সন্তান সহ আমাদের যৌথ পরিবার। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির চারজন সদস্য রয়েছে আমাদের পরিবারে, তার মধ্যে আমি একজন। এইচএসসি পাশ করার পর বিয়ে হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার লেখাপড়া স্থগিত হয়। আমার ইচ্ছে আমি এই কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ব্লগ করব। পাশাপাশি আমার নিকটস্থ প্রিয়জনদের সহায়তা করব এই কমিউনিটিতে কাজ করার জন্য।


পুকুরের পানি শুকিয়ে অনেকগুলো টাকি মাছ ধরেছেন দেখছি। তবে সত্যিই আপনাদের আমতলায় ওই বসার জায়গাটি অনেক সুন্দর একটি জায়গা। ওখানে বসে আপনারা কাজ করেন বা গরমে আরাম করেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। তবে আপনার শাশুড়ির জন্য অনেক অনেক দোয়া রইল উনি যেন দ্রুত একদম সুস্থ হয়ে যায়। ধন্যবাদ আপু।
বাড়ির কেউ অসুস্থ থাকলে সত্যি অনেক খারাপ লাগে। পুকুর থেকে মাছ তোলার অনুভূতিটা সত্যি দারুন ছিল আপু। এরকম দৃশ্যগুলো গ্রামের দিকে গেলে অনেক দেখা যায়। আর যখন একবারে পুকুর থেকে পানি তুলে ফেলা হয় তখন মাছ ধরতেও ভালো লাগে।
নিজের পুকুরের পানি নিষ্কাশন করে মাছ ধরার অনুভূতি অন্যরকম হয়। এগুলো লিখে বা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। শুনেছি আপনার শাশুড়ি সুস্থ থাকার কারণে সুমন ভাই অনেকদিন যাবত ঢাকাতে রয়েছেন। আশা করি একদিন আবার আনন্দঘন মুহূর্ত আপনাদের মাঝে ফিরে আসবে। ধন্যবাদ।