কৃষকের কৃষিকাজ দেখার মুহূর্ত
কেমন আছেন আপনারা? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবেসে উপস্থিত হলাম সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য। আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ প্রধান আমাদের দেশ। তবে নদী না থাকলেও মাছ রয়েছে আমাদের এলাকায়। তবে আমাদের যেখানে পুকুর সেখানে ধানের বা ফসলের মাঠ খুবই কম। পুকুরপাড়ে মাছ ধরার জন্য অথবা সবজি তোলার জন্য উপস্থিত হলেই ফসলের মাঠে কৃষকদের কাজ করতে দেখলে সেগুলো ফটো ধারণ করতে ভালো লাগে। ঠিক তেমনি কৃষকের ধান লাগানোর ফটো আপনাদের মাঝে নিয়ে উপস্থিত হলাম।
বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের মাঠের একটি পুকুর ছ্যাঁকা কাজ চলছিল। আর এই জন্য পুকুরপাড়ে উপস্থিত হতে হয়েছিল অনেকবার বেশ কয়েকদিন ধরে। কারণ প্রথমে মাছ ধরা চলেছিল। এরপর মাছ ধরার শেষে মোটর লাইন যুক্ত করেছিল। আর এভাবেই তিন-চার দিন পর সম্পূর্ণ পানি ফুরিয়ে যায় পুকুর থেকে। আর সেই মুহূর্তে আমি লক্ষ্য করেছিলাম পুকুরের পাশের ধানের জমিগুলোতে কৃষক ভাইয়েরা বিভিন্ন কাজ করেন। প্রথমে একদিন লক্ষ্য করলাম টেকটার দিয়ে চাষ করলো ধানের জমি। পাশের জমিগুলো সব চাষ করে চলে গেল। এরপর একটি মোটর থেকে ধানের জমিগুলো খুব সুন্দর করে পানি পরিপূর্ণ করা হয়েছিল। পানিতে ধানের জমিগুলো পরিপূর্ণ হয়ে থাকলো এক দুই দিন। এমন মুহূর্তে আমি যখন ফটো ধারণ করেছিলাম মনে হচ্ছিল কৃত্তিম ভাবে এবং প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে এই পরিবেশ। কারণ আকাশের পরিবেশটাও বেশ দারুন ছিল, ছিল শরতের আকাশের মেঘের মতো।
এরপর খাবার পানি দিতে গিয়ে লক্ষ্য করে দেখলাম ধানের জমিতে কৃষক ভাইয়েরা ধান লাগানোর কাজে ব্যস্ত। আমি ছোটবেলা থেকে আমার বাবার গ্রামে এমন কৃষি কাজ দেখে অভ্যস্ত। তবে এখন তো আর বাবার গ্রামে সেভাবে দেওয়া হয় না দেখা হয় না। আমরা গ্রামের মানুষ গ্রামের ঐতিহ্য দেখে আসতে ছোট থেকে তবে অনেকদিন যেগুলো লেখা হয় না হঠাৎ চোখে বাঁধলে খুবই ভালো লাগে। কত না রোদ বৃষ্টিতে কষ্ট করে কৃষকেরা। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম কখনো মেঘ কখনো আধো ছায়া। আর এখন তো বৃষ্টি হচ্ছে গত পরশুদিন থেকে না জানি কত কৃষকেরা এই বৃষ্টিতে ভিজেও এভাবেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আমি সৌন্দর্য উপভোগ করেছিলাম একদিকে পানি আরেকদিকে কৃষকের ধান লাগানো জায়গায় জায়গায় ধানের চারা ফেলে রাখা, আশেপাশে গাছগুলোতে দারুণভাবে ক্যাপচার হয়েছিল ফটো। আর এই দিকে পুকুরে চলছিল মাছ ধরা। মাছ ছাড়ার ফটোগুলো আপনাদের মাঝে পরবর্তীতে শেয়ার করব। তবে আমার কাছে বেশি আশ্চর্য মনে হয়েছিল যারা পুকুরের মধ্যে মাছ ধরছিল তারা কৃষক ভাইদের কৃষিকাজ দেখতে পারছিল না। আবার কৃষক ভাইরা যারা ধান লাগা ছিলেন তারা কিন্তু জেলে ভাইদের মাছ ধরা দেখতে পারছিল না। আর পুকুরপাড়ের উপর থেকে আমি দুইটা উপভোগ করেছিলাম। আরো উপভোগ করছিলাম আকাশের সুন্দর মেঘগুলো।
আমি যখন আমাদের মোটরের পাইপ লাইনের কাছে উপস্থিত হলাম,তখন আরো ভালোভাবে ফটো ধারণ করতে পারলাম। কারণ সকালের সূর্য যখন পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে আলো দিয়েছিল,তখন পশ্চিম সাইডে ফটোগুলো ফ্রেশ হচ্ছিল। আর কৃষক ভাইয়েরা তখন ধান লাগাচ্ছিল আমাদের পশ্চিমের পুকুরটার নিচে। আর এভাবেই তাদের ধান লাগানো দেখলাম। তবে এই মুহূর্তে আরো বেশি ভালো লাগছিল জায়গায় জায়গায় চারার বান্ডিল গুলো রেখে দিয়েছে দেখে। কারণ ধানের জমিতে পানি পরিপূর্ণ আর জায়গায় জায়গায় বান্ডিল গুলো আরো সুন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছে। এদিকে আরেকটু ভালো লাগা ছিল কৃষকের মুখের গান। আমরা জানি কৃষকেরা ফসলের মাঠে কাজ করার মুহূর্তে গান বলে থাকে। তবে তারা এখনকার যুগের ভালোবাসার আবেগের এসব গান বলে না। তারা একদম প্রাণ খুলে আগেকার যুগের গান বলতে থাকে। কৃষকদের গলার সুরটাও কিন্তু দারুণ। তারা এত জোরে গান বলছিল যেন মনে হচ্ছিল এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তেও শোনা যাবে। সম্ভবত এগুলো ভাটিয়ালি গান হবে। তবে কি গান বলেছি তা কিন্তু আমার স্মরণে নেই। শুধু এটুকুই জানি পুরাতন গান।
একটি মুহূর্তে আমি মোবাইল জুম করে লাগানো ধানগাছ ফটো ধারণ করলাম। এছাড়াও কিছুটা ধানের জমির কাছে নেমে ফটো ধারণ করলাম। খেয়াল করে দেখলাম এদের মধ্যে অনেকে আমাদের পাড়ার মানুষ রয়েছে। উনাদের মধ্য থেকে একজন আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ফটো তুলে কি করবা ফেসবুকে দিবা। আমি বলেছিলাম না ফেসবুকে দিব না। এরপর আর তারা বেশি কিছু না বলে আবারও তাদের মত লাগানোর কাজ করছিল আর গান বলছিল। এদিকে হঠাৎ লক্ষ্য করে দেখলাম মেঘ হয়ে আসছে বৃষ্টি নামতে পারে। তাই আমি মাছ ধরা দেখাব বন্ধ করে ফটো ধারণ করা বন্ধ করে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। তবে এই মুহূর্তটা কিন্তু আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছিল। মাছ ধরা তো প্রায় দেখা হয় এবং নিজেও মাছ ধরার পাশে থাকি, কারণ আমাদের বাড়িতে দুইটা পুকুর আছে। এভাবে অনেক দিন অতি নিকট থেকে ধান লাগানো দেখা হয় না। যেন প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে এক অন্যরকম ভালোলাগা অনুভব করেছিলাম পুকুর পাড়ে এসে।
সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
| বিষয় | কৃষকের কৃষিকাজ |
|---|---|
| What3words Location | Gangni-Meherpur |
| মোবাইল | Huawei P30 Pro-40mp |
| ক্রেডিট | @jannatul01 |
| ব্লগার | আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি |
আমার পরিচয়
আমার নাম মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশী। আমার বাসা গাংনী মেহেরপুর, বাংলাদেশ। আমি আপনাদের সুপ্রিয় বিদ্যুৎ জিরো ওয়ান এর পরিবার। আমি একজন গৃহিণী। স্বামী সন্তান সহ আমাদের যৌথ পরিবার। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির চারজন সদস্য রয়েছে আমাদের পরিবারে, তার মধ্যে আমি একজন। এইচএসসি পাশ করার পর নার্সিং কোর্স করে বিয়ে হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার লেখাপড়া স্থগিত হয়। আমার ইচ্ছে আমি এই কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ব্লগ করব। পাশাপাশি আমার নিকটস্থ প্রিয়জনদের সহায়তা করব এই কমিউনিটিতে কাজ করার জন্য।
বর্তমান সারা বাংলার কৃষকেরা ধান চাষ করার জন্য মাঠের মধ্যে নেমে পড়েছে।আপু আমাদের এলাকায় তো বৃষ্টি নেই, তাই আমাদের কে জমি সেচ দিয়ে জমি চাষ করতে হচ্ছে। আপনাদের এলাকার মধ্যে দেখছি বেশ ভালোই বৃষ্টিপাত হয়েছে।আর কৃষকদের কষ্টের কোন শেষ নেই, কৃষকেরা সব সময় কষ্টের মধ্যে লেগে থাকে।
আজ কয়দিন বৃষ্টি হচ্ছে আমাদের এখানে।
আপু আজ আপনি কৃষকের ক্ষেতে ধান লাগানো দেখার সুন্দর অনুভূতি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। এটি হলো মহান আল্লাহর সৃষ্টি আমাদের জন্য এক ঐতিহ্য। তবে আপনারা গ্রামে থাকেন সুন্দর মুহূর্তগুলো দেখতে পান। হ্যাঁ আপু কত রোদ বৃষ্টিতে কষ্ট করে কৃষকেরা এ কাজ করে আমাদের জন্য ফসল ফলায়। খুব সূন্দর করে কৃষকের কৃষিকাজ দেখার অনুভূতি পাশাপাশি সুন্দর কিছু প্রকৃতির ফটোগ্রাফি শেয়ার করলেন। ভালো লাগলো আপু ধন্যবাদ আপনাকে।
আমার এই জাতীয় ফটো ধারণ করতে খুব ভাল লাগে
আপনি আজকে অনেক সুন্দর একটি বিষয় আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। আসলে কৃষকদের নিয়ে লেখালেখির বিষয়টা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। তাদের যে ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন প্রতিটি ফটোগ্রাফি দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে।
ধন্যবাদ আপু, আমিও পছন্দ করি।
আমাদের মাতৃভূমি কৃষির উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। আজকে আপনি অনেক সুন্দর একটি মুহূর্ত আপনার পোষ্টের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এই ধরনের দৃশ্যগুলো শুধু গ্রাম বাংলাতে দেখা যায়। খুবই মনমুগ্ধকর পরিবেশ দেখেই মনটা ভিরে গেলো। আপনিও নিশ্চয়ই খুব উপভোগ করেছেন এই মুহূর্তটা ।
হ্যাঁ ভাইয়া, ঠিক বলেছেন।
শুকরিয়া আপু।